Month: December 2013

অপরাজেয় বাংলাদেশ: মাটি নরম জায়গা কঠিন

[…] দেশের মানুষ এখন বুঝে ফেলেছে আওয়ামী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কোনো ক্ষমতা নেই। পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গোপন কিন্তু কথিত আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি (সৈয়দ আশরাফ) কিছু জানেন না জানেন শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসলে শেখ হাসিনাও এখন কিছু জানেন না। জানেন নতুন দিল্লিতে তার পৃষ্ঠপোষকরা। দিল্লি থেকে নির্দেশ আসছে ঢাকায় ইনডিয়ান হাই কমিশনে। যেহেতু শেখ হাসিনা যেতে পারছেন না ইনডিয়ান হাই কমিশনে এবং যেহেতু হাসিনার সঙ্গে ঘন ঘন প্রকাশ্য সাক্ষাৎকার ইনডিয়ান হাই কমিশনারের জন্য কিছুটা দৃষ্টিকটু হতে পারে, সেহেতু ইনডিয়ান হাই কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন শেখ হাসিনার আমেরিকাপ্রবাসী কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বপ্রত্যাশী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ১১ নভেম্বর ২০১৩-এর সকালে…

মৃত্যুভীতি জয় করতে পারেননি হুমায়ুন

কোন মৃত্যুই অকাল মৃত্যু নয়, ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে তো নয়ই। পাঠকনন্দিত লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যুকে তাই অকাল মৃত্যু বলে মনে করি না। মৃত্যুকে সাহসিকতার সাথে বরণ করতে পারেননি হুমায়ুন আহমেদ। মৃত্যুকে জয় করতে তিনি আমেরিকায় এসেছিলেন। কিন্তু হার মেনেছেন, নিজের অহমিকার কাছে, মৃত্যুর কাছেও। তার মৃত্যুকে ঘিরে এখন সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। কারণ আমেরিকায় বাংলাদেশীরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করে বলে স্বজাতির প্রতি সীমাহীন বিরক্তি প্রকাশ করে অমন পদ্ধতি অবলম্বন করে চিকিৎসা গ্রহণে নিজের বিবমিশা ব্যক্ত করেছিলেন।

মৃত্যুপুরী

স্বাধীনতার এতগুলো বছর পার হওয়া স্বত্তেও বাংলাদেশ এই মুহূর্তে চরম সংকটময় দিন পার করছে। চারিদিকে হত্যা, খুন, ক্রসফায়ার, অপহরণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অসুস্থ রাজনীতি অতিষ্ট করে তুলেছে জন-জীবন। আর ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে প্রতিবাদের ঝড়ো বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয় নীল। কলম দিয়ে একের পর এক প্রতিবাদী কন্ঠের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে থাকে সে। আর তাতেই সরকার ক্ষেপে ওঠে তার ওপর। দু’দিন আগে তাকে রাস্তা থেকে কয়েকজন সাদা পোশাকধারী পুলিশ তুলে নিয়ে এসে অজ্ঞান করে এখানে রেখে যায় একটা মর্গের ভেতর । অজ্ঞাত এক মর্গ। জীবন্ত নীল কে অনেকগুলো লাশের সাথে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এটা শুধু কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা ছাড়া কেউ জানে না। তবে আর একজন জানে… একটা মেয়ে…

খোলস

চিৎকার, শোরগোল আর সংগীতের আবহের মধ্যে আমি তার গলা একেবারেই শুনতে পাইনি। তার মুখ অন্ধকারে ছিল। কিন্তু ঘুরে চলা ফ্ল্যাশলাইটের আলো যখন তার মুখে পড়ল, দেখলাম, আমার দিকে তাকিয়ে আছে সে, দৃষ্টি স্থির। সেই চাহনিতে রয়েছে আমার সঙ্গে নাচার প্রবল আগ্রহ—আমার সঙ্গেই সে নাচতে চায়। আমরা সেদিন সারা রাত নেচেছিলাম। বিজয় আমাকে রাম আর কোক কিনে দিয়েছিল। একসঙ্গে সিগারেটও ফুঁকেছি আমরা। বাড়ি ফেরার আগে জিজ্ঞাসা করল, ‘আবার কবে দেখা হবে…’

ফলসিফিকেশন উইথ ওউন সোল

গল্পটা শুক্রবার ভোরের। ঠিক ভোর হয়ত নয় কিন্তু খানিকটা কুয়াশা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে সকাল পৌনে আটটাকে ঠিক সকাল বলা যায়না তারপর আবার সরকারি ছুটির দিন। কাওরান বাজার জনমানুষহীন প্রায়। কি গান শুনছিলাম মনে নেই তবে কানে এয়ার ফোন দিয়ে আমি এক মনে গান শুনতে শুনতে হাঁটছি কাওরান বাজারের রাস্তায়। আপন মনে হাটায় হটাৎ অস্বস্তি হলো, পায়ে তরল কিছু লেগেছে…

আলব্যেয়ার কামু’র “দ্য প্লেগ”: স্বৈরতন্ত্রের এক উন্মুক্ত দলিল

১৯৪৭ সালে আলব্যেয়ার কামু’র “দ্য প্লেগ” উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে, ফ্রান্সের প্রথিতযশ চিন্তাবিদ ও সমালোচক রোলা বার্ত তৎকালীন ফরাসি পত্রিকা “ক্লাব” এ উপন্যাসটির ওপর একটি সমালোচনা লেখেন। সেই সমালোচনার জবাবে কামু, বার্তকে একটি চিঠিতে জানান “দ্য প্লেগে আমি চেয়েছিলাম, বইটির নানাস্তরিক পাঠ চলুক…।” এবং বলাই বাহুল্য দ্য প্লেগ মূলত নাৎসীবাদের বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রতিরোধ আন্দোলনের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হলেও তা মানবতাবিরোধী অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শক্তির এক সর্বজনীন দলিল হিসেবে দেখা দেয়। দ্যা প্লেগকে তাই যেকোন দেশে, যেকোন সময়ে, স্থাপন-পুনঃস্থাপন করে অবলীলায় পাঠ করা যায়। এ যেন এক নিত্যবর্তমান, নিত্যবহমান এক অনন্ত গল্প…