Month: December 2013

স্বপ্নের রাজকুমারের শেষ পরিণতি ও আজকের বাংলাদেশ

আমার কৈশোরবেলার স্বপ্ন পুরুষ তিনি। এক অদ্ভুত মায়া লাগে আজো তার জন্য। তাঁর তিন তিনজন অসাধারণ সুন্দরী, অভিজাত, আর শিক্ষিতা সম্রাজ্ঞীর মায়াবী বদন এবং একমাত্র রাজকন্যা প্রিন্সেস ফারাহনাজ ও দুই রাজপুত্র রেজা এবং আলী রেজার সঙ্গে স্বপ্ন জগতে ঢুকে মাঝে মধ্যে কথাবার্তা বলা ছাড়া হতদরিদ্র বাংলাদেশের এক উৎসুক তরুণের আর কিই বা করার ছিলো। আমি যার কথা বলছি- তিনি হলেন আধুনিক ইরানের শেষ শাহ অর্থাৎ সম্রাট মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী। তাবৎ দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী আর প্রভাবশালী শাহী রক্তের ধারক ছিলেন তিনি। তার বংশ গত আড়াই হাজার বছর ধরে কালকে এবং কখনো সকনো মহাকালকে অবাক করে দিয়ে জমিনের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করছিলো…

বাদশাহি গণতন্ত্র

সৌদি বাদশা খুবই চিন্তিত। চিন্তায় তার মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছে। পারছেন না। মাথায় চুল নাই। থাকেই বা কি করে। এই টেনশনে নিয়মিত প্রকৃতির ডাক আসে না। পেট থাকে অন্ধকার , মাঝে মাঝে বর্য পাত হয়। মাথা দিয়ে গরম ভাপ বের হয়। ভাপের সাথে চুলগুলো উঠে গেছে। ঘটনা খুবই গুরুতর। সৌদি বাদশার চিন্তার কারন হল নির্বাচন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশে গণতন্ত্র দিবেন। দেশের মানুষকে চড় থাপ্পড় দিতে পারছেন আর গণতন্ত্র দিতে পারবেন না এইটা কেমন কথা। তার এই কাজে মার্কিন মুল্লক তো আনন্দে বারোখানা। বলা হয়েছে একবার নির্বাচন হয়ে গেলে তাকে নোবেল পুরস্কার দিয়ে দিবে। ঘরে এনে এই পুরস্কার যত্ন করে রাখতে হবে। তিনি আগ পাছ না ভেবেই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন। জিতবেন তো তিনি। চিন্তা নেই। কিন্ত ঘটনা হল উল্টা। তার বিরোধী দল এসে হাজির। চিৎকার চেচামেচি করতে লাগলো। এরাও নির্বাচন করবে। এইটা তাদের জন্মগত অধিকার। এই অধিকার ছাড়া যাবে না। এর মধ্যে গোয়েন্দা বাটপার গুলা তাকে জানালো নির্বাচনে তার দল হারবে। জনগন তার মুখে থুতু দেয়ার জন্য গত এক মাস ধরে থুতু ফেলেনি…

মকবুল ফিদা হুসেনের সাক্ষাৎকার

mahabharata by mfh

শেখর গুপ্ত: এম.এফ হুসেন দুবাইতে কি করছেন? এটাতো নিয়্যুর্ক বা প্যারিস, শিল্পকলা বিকশিত কোন পরিচিত স্থানও নয়!
মকবুল ফিদা হুসেন: আসলে আমি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করি। গত পঞ্চাশ বছরে আমি পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমার কোথাও কোন স্টুডিও নাই। আমি কেবল রঙ সাথে রাখি এবং উঠে পড়ি কোন হোটেল রুম অথবা কোন বন্ধুর বাড়ি অথবা যে কোথাও এবং শুধু ছবিই আঁকতে থাকি। আমার ধারণা, আমার কাজ করার ধরন একজন শিল্পীরই ধরন… ৩/৪ বছর হলো আমি এখানে এসেছি, আমার কাছে এর কারণ মনে হয়, এটা এমন এক শহর, যেটা দ্রুত সমৃদ্ধ হচ্ছে। গত ২৫ বছর ধরে আমার ভাইয়ের এখানে বসবাসের কারণে প্রায়ই এই শহরে আমার আসা হয়েছে। মরুভূমি থেকে একটা শহরে পরিণত হতে দেখেছি এখানটিকে। […] তারা পুরা স্বাধীনতা দেয়। আইন শৃঙ্খলা না ভেঙে এখানে তুমি যা খুশি করতে পারো…

ফরাসি কবি আর্তুর র‌্যাঁবো’র দু’টি কবিতা

যখন রক্তমুখো মেশিনগানেরা ধ্বনি তোলে
প্রসারিত দিবসের আদিগন্ত, অবারিত বুকে;
যখন সৈনিক দল কর্তব্য শেষে যায় চলে
সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজায় কুর্ণিশরাশি ঠুকে,
এবং, যখন ছোটে জনতার উল্লসিত ভিড়,
হাজার হাজার লোক গড়ে তোলে ধুম্র পাহাড়-
আহা, কী আহম্মক! ম’রে ভূত! গ্রীষ্মঘাস নীড়,
প্রকৃতি বুকেই পাতে শেষ শয্যা! হাসি নেই আর।
সুবর্ণবলয় ঘেরা, সদা হাস্য, ‘ঈশ্বর’ নামের
আছেন একজন প্রভু। তিনি শুধু প্রার্থনা জপেন
আধো ঘুমে ঢুলু ঢুলু। বাতাসেরা সুগন্ধি সফেন।
মহা প্রভু ‘ঈশ্বর’ এর ঘোর কাটে সুখ-আরামের
মাত্র একটু ক্ষণ, শোকে আর্ত মায়েরা যখন
ফেলে তার দানবাক্সে ফুটোকড়ি, কেবলই তখন।

হোটেল রুয়ান্ডা: জাতি বিদ্বেষের নৃশংসতার ছবি

Hotel Rwanda

জাতিগত বিদ্বেষের ইতিহাসের শিকড়ের গভীরে থাকে ঔপনিবেশিক শাসনের রাজনীতি-কুটনীতি। অন্তত রুয়ান্ডার ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। “হোটেল রুয়ান্ডা” ছবির প্রত্যেকটা মুহূর্ত্ত তাই দর্শক এক স্থির-অচঞ্চল উত্তেজনা থেকে রেহাই পায়না। স্তব্ধ দৃষ্টিতে ছবির পর্দায় একের পর এক জাতি বিদ্বেষের নৃশংসতা দেখে দর্শক বিস্ময়ে হতবাক হতে থাকেন। হোটেলের লবিতে বসে জাতিসংঘ থেকে আগত সাংবাদিক যখন রুয়ান্ডার সাংবাদিক বেনেডিক্টের কাছে হুতু-তুতসি দুই জাতির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য জানতে চান, তখন বেনেডিক্ট মাত্র কয়েটি সংলাপে এর উত্তর দিয়ে দেন। বেনেডিক্ট বলেন “বেলজিয়ান কলোনির মতে তুতসিরা লম্বা, সুরুচিপূর্ণ। এই বেলজিয়ানরাই মূলত এই পার্থক্য তৈরি করেছে।” সাংবাদিকের প্রশ্ন “কীভাবে?” বেনেডিক্টের উত্তর…

করিডোর

corridor

ভোরেই রওয়ানা হয়েছিলো সে। সিটিং-সার্ভিসের ডাইরেক্ট বাস। সাথে কোনো বাক্স-পেটরা নেই। পলিথিন ব্যাগে শুধু দু’তিনটা জামাকাপড়, ব্যস্। মহাখালিতে নেমে লোকালে করে সোজা শাপলা চত্বর। তারপর সেনাকল্যাণ ভবনের সিঁড়ি বেয়ে পঞ্চম তলায়। উঠতেই নাক বরাবর পেয়ে গেছে সাইনবোর্ড। কোনো ঝামেলাই বাঁধেনি। আগে পিওনকে ধরে সাহেবের ব্যক্তিগত সহকারীর টেবিলে গেছে, তারপর সুন্দরী সেই রমণীর মাধ্যমে ছাড় পেয়েছে চেম্বারে প্রবেশের। যাকে বলে…

ফুলে-ফেঁপে উঠেছে সম্পদ

corrupt mps

মন্ত্রী-সাংসদদের একটি অংশ পাঁচ বছরে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছে। ক্ষমতা নামের আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ বদলে দিয়েছে তাঁদের স্ত্রীদেরও। অথচ দৃশ্যমান তেমন কোনো আয় অনেকেরই নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শর্ত হিসেবে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা থেকে তাঁদের স্বেচ্ছায় ঘোষিত এই সম্পদের হিসাব জানা গেছে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে এসব তথ্য সাধারণের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। নতুন এই তথ্যের সঙ্গে আগের নির্বাচনের সময় ২০০৮ সালে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়…

চিনুয়া আচেবের গল্প: যুদ্ধে মেয়েরা

তাদের প্রথমবার রাস্তা ধরে চলার সময় উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই ঘটেনি। তখন ছিল যুদ্ধ প্রস্তুতির উন্মাদনাকালীন সময় যখন হাজার হাজার যুবককে (এবং মাঝে মাঝে যুবতী নারীদেরকেও) যুদ্ধে নাম লেখানোর কেন্দ্র থেকে প্রত্যেকদিন সরিয়ে নিয়ে আসা হত। কারণ এদের অনেকেই নতুন গড়ে-ওঠা জাতিকে রক্ষা করতে উত্তেজিত অবস্থায় সাথে সাথে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে দলে দলে সামনের দিকে এগিয়ে আসছিল। দ্বিতীয়বার যাত্রার সময় তারা সম্মুখীন হয় আওকাতে অবস্থিত তল্লাশি কেন্দ্রের। তখন অবশ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে এবং ধীরে ধীরে দূরবর্তী উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্র হতে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সে অনিস্থা থেকে এনুগুর দিকে গাড়ি চালিয়ে আসছিল এবং ঐ সময় তার বেশ তাড়া ছিল। যদিও তল্লাশি চালানোর কেন্দ্রগুলোর ভেতর দিয়ে বিনা বাঁধায় চলে যাওয়ার অনুমোদন তার ছিল, তারপরও তাদের কাছে অনুবর্তী হতে সে সর্বদা মানসিকভাবে অস্বস্তি বোধ করত। বিষয়টাকে সে খুব একটা পাত্তা দিত তা নয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল এরকম: তোমাকে যদি তল্লাশির ভেতর দিয়ে যেতে হয় তাহলে তুমি নিশ্চয় বড় মাপের মানুষদের…

ঢাকায় আর্মেনীয়রা

বৈশাখের রাধাচূড়া-বাগানবিলাস-জারুল ও রক্তবর্ণ কৃষ্ণচূড়ার পুষ্পহারে শোভিতা নগরী যখন চারশ’ বছর পার হয়েও পা দিলো মনে হয় আরো একটি বছরে, পাঠক… চলুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর নাজিমুদ্দিন রোড পার হয়ে আর একটু এগোলেই আমরা পেয়ে যাব আর্মেনীটোলার আর্মেনীয় গীর্জা! পুরনো ঢাকার ছোট ছোট গলি আর নর্দমার পাশেই শুঁকতে শুঁকতে আপনি দেখতে পাবেন বয়সিনীর মতো সামনের দেয়ালে কিছুটা জীর্ণতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর্মেনীয় গীর্জা। গীর্জা স্থাপনার সন ১৭৮১| গীর্জার প্রবেশ দরোজায় একটি বড় তালা। বাইরে থেকে লোহার শিকের ভেতর দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়ালে কলিং বেল অনেকক্ষণ ধরে টিপলে ঢাকার শেষ আর্মেনীয় মার্টিন মার্টিরোসেনের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়ক শঙ্কর বা গীর্জার প্রহরী হিনু দরোজা খুলে দেবে। ভেতরে ঢুকতেই সার সার কবর। কবরের একপাশে উপাসনাগৃহ। কবরগুলো বহু অতীতের সাক্ষী। গত আড়াইশো বছরে মৃত প্রায় শ দেড়েক আর্মেনীয় নর-নারীর কবর এখানে…

বাংলা-বসন্ত

চাচা বললেন, আরব-বসন্তের আদলে আমরা এখন বাংলা-বসন্তের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। বাংলাদেশ এতদিনে একটা আন্তর্জাতিক অবস্থানে উন্নীত হলো।
চাচা! এটাকে আপনি খুশির ব্যাপার মনে করছেন! বিশ্বসমপ্রদায় আমাদের দেশ নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন, তা কি বুঝতে পারেন? তুমি সব কিছুই নেতিবাচক দৃষ্টি দিয়ে দেখতে ভালোবাসো। এই যে বললে, বিশ্বসমপ্রদায় আমাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন, এর মানে হচ্ছে, আমরা বিশ্ব সমপ্রদায়ের দৃষ্টির সামনে চলে এসেছি। যে বাংলাদেশকে আগে কেউ পাত্তা দিতো না, সেই বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রীকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন পর্যন্ত বারবার চিঠি পাঠাচ্ছেন। বিরোধীদলীয় নেত্রী আগের চিঠির জবাব…