Month: December 2013

হিজড়া, প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের এক দুর্ভাগা শিকার

স্মৃতি হাতড়ালে এখনো যে বিষয়টা অস্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে, শৈশবের অবুঝ চোখে সেইকালে বুঝে উঠতে পারতাম না, কারো বাড়িতে সন্তান জন্ম নিলে শাড়ি পরা সত্ত্বেও বিচিত্র সাজ-পোশাক নিয়ে কোত্থেকে যেসব মহিলা এসে নাচগান বা ঠাট্টা-মশকরা করে তারপর বখশিস নিয়ে খুশি হয়ে চলে যেতো, এদের আচার আচরণ ও বহিরঙ্গে দেখতে এরা এমন অদ্ভুত হতো কেন! শৈশবের অনভিজ্ঞ চিন্তা-শৈলীতে পুরুষ ও নারীর পার্থক্যের জটিলতা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা না জন্মালেও স্বাভাবিকতার বাইরে দেখা এই অসঙ্গতিগুলো ঠিকই ধরা পড়েছে, যা প্রশ্ন হয়ে বুকের গভীরে জমে ছিলো হয়তো। পরবর্তী জীবনে তা-ই কৌতুহল হয়ে এক অজানা জগতের মর্মস্পর্শী পীড়াদায়ক বাস্তবতাকে জানতে বুঝতে আগ্রহী করে তুলেছে। আর তা এমনই এক অভিজ্ঞতা, যাকে প্রকৃতির নির্মম ঠাট্টা বা রসিকতা না বলে উপায় থাকে না! দেহ ও মানসগঠনে পূর্ণতা পেলে প্রাণীমাত্রেই যে মৌলিক প্রণোদনায় সাড়া দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সেটা যৌন প্রবৃত্তি…

ল্যারি কিং এর ‘ট্রুথ বি টোল্ড’

আমার এক ছোট প্রেমিক (বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট এক সাংবাদিক, যে মিষ্টি করে গর্বের সঙ্গে আমার মুখের উপরে বলে, ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি’) আমার হাতে দিয়ে বলল, “এর চেয়েও আরও অনেক মজার কাহিনি আপনি লিখতে পারবেন। বাংলাদেশের রাজনীতি, রাজনীতিবিদদের নানান সঙ্কটময় সময়ের কিছু স্মৃতি-কথা-দোটানা। যেগুলো আপনার সামনে ঘটেছে। টকশো করতে গিয়ে চেয়ার উল্টে পড়ে যাওয়া, আর সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সেই ‘ছেরি’ দেখার গল্পও হতে পারে… আপনি লিখেন মুন্নীদি। অনেক মজার বই হবে।” আমার এই স্বঘোষিত ছোট প্রেমিকটির কথাগুলোর মধ্যে এক ধরনের নিবেদন অনুভব করলাম। ফেসবুক-ব্লগ, বিভিন্ন আড্ডার গুজবের কল্যাণে আমি একটা ধারণা নিয়ে বসে আছি যে, আমার বয়েসী এবং আমার চেয়ে কম বয়েসী, আমার প্রফেশনের যারা, তারা তো বটেই – তাদের ফ্রেন্ডলিস্টের তাবৎ বুদ্ধিমান-চৌকষ-ইংরেজি বলতে পারা জেনারেশন আমার কাজ পছন্দ করে না। হয়তো পছন্দ করে, কিন্তু সহ্য করতে পারে না। সম্ভবত আমার চেহারা খারাপ, এ জন্যে…

আমাদের প্রিয় শিক্ষক

আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষকদের মধ্যে তাঁকে মনে হত প্রায় রাজপুত্রের মতো। তাঁর উন্নত সুদর্শন কান্তি, রুচিস্নিগ্ধ ব্যক্তিত্ব ও অভিজাত মেধা চোখে না পড়ে উপায় ছিল না। সুচারুভাষী মুরশিদ তাঁর পরিশীলিত মনন, শাণিত শিল্পরুচি ও সচেতন প্রাণনা দিয়ে অপরিচিতদেরও অনায়াসে আকর্ষণ করতেন। তাঁকে আমার প্রথম দেখা ও চেনা এমনি একজন অপরিচিত হিসেবেই। ১৯৫৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আমার ইংরেজি বিভাগের বন্ধুদের কাছ থেকে প্রথম তাঁর গুণপনার কথা শুনি। তবে তাঁকে কাছে থেকে দেখার এবং তাঁর কথা শোনার প্রথম সুযোগ হয় এর কমাস পরে, ১৯৫৮ সালের প্রথমদিকের কোনো এক সময়। তখন তিনি ফজলুল হক হলের মিলনায়তনে প্রায় একক উদ্যোগে দশ বছরের পূর্ব-পাকিস্তানী সাহিত্যের বিভিন্ন দিকের ওপর সাত দিনব্যাপী একটি সেমিনার-ক্রম পরিচালনা করছিলেন…

অ্যাপল সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য

The Apple logo is shown on the front of the company's flagship retail store in San Francisco, California

অ্যাপলের কিংবদন্তী সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের বাবা ছিলেন একজন সিরিয়ান নাগরিক। তার মায়ের নাম জোন স্কিবল ও পিতা সিরিয়ান ইমিগ্র্যান্ট আবদুল ফাত্তাহ জান্দালি। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তাদের দুজনের দেখা হয়। বাবা-মা দুজনই স্টডেন্ট থাকায় জন্মের পর স্টিভকে দত্তক দেয়া হয়েছিল। স্টিভ জবস ছিলেন পল রেনল্ড জবস ও ক্লারা জবসের পালক সন্তান। অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক বেশি পরিচিত হলেও শুরুর দিকে কোম্পানিটির তিনজন প্রতিষ্ঠাতা ছিল। বাকী একজন হচ্ছেন রোনাল্ড ওয়েন, যিনি অ্যাপলের প্রথম লোগোটি এঁকেছিলেন। কিন্তু ঋণের দায়ে ওয়েন তার ১০% শেয়ার মাত্র ৮০০ ডলারে বিক্রি করে দেন, যার বর্তমান মূল্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি! অ্যাপলের প্রথম কম্পিউটার ‘অ্যাপল-১’ এর দাম ধরা হয়েছিল ৬৬৬.৬৬ মার্কিন ডলার। এর পেছনে একটা কারণ আছে। ধারণা করা হয়, স্টিভ ওজনিয়াক সংখ্যা পুনরাবৃত্তি করতে পছন্দ করতেন, কেননা ৫০০ বা ৬৬৭ থেকে ৬৬৬.৬৬ টাইপ করা সহজ…

তার মুখ তার সুষমা

বিষ্ময় আর বিষ্ময়বোধের নাম। পাখি ও পালক। রক্তকলমের ধ্যান।
আলো অধ্যয়ন। শিখরে রূপ, তুরূপের তাস। পাহাড় আর পাথর ফুঁড়ে
কালামের গাছ। ভাসে ফুল, কোমল পদ্মযোনি। মন্দ্রমুগ্ধ নিষাদের ভাষা।
তার জিন ধরে শেষ শহীদের চার্বাক। থাকে শুধু তামা আর লিপি।

জীবজন্তর প্রতি মানবিক আচরণ

পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য জীবজন্তুর বিচরণ ও অবস্থান খুবই জরুরি। এ জন্য মহান আল্লাহ মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই পরিমিত জীবজন্তু সৃষ্টি করে ভূপৃষ্ঠে ছেড়ে দিয়েছেন। জীবজন্তু না থাকলে মানুষের বেঁচে থাকা দুরূহ হয়ে পড়ত। অথবা আমরা হয়তো বাঁচতেই পারতাম না। আমাদের খাদ্যসহ জীবনধারণের অনেক উপকরণ আমরা প্রাণীদের কাছ থেকেই পেয়ে থাকি।বিভিন্ন জীবের অল্প অল্প ভূমিকার ফলে আমাদের পরিবেশ সমৃদ্ধ হয়। এরা আমাদের এ ধরাকে বাসযোগ্য রাখার জন্য অনবরত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ কেঁচোর কথা উল্লেখ করা যায়। কেঁচোর বিচরণ ও বেঁচে থাকার ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য কেঁচোকে বলা হয় প্রাকৃতিক লাঙল। কারণ সে সর্বদা মাটি চষে বেড়াচ্ছে। কেঁচো মাটির মধ্যে নাইট্রোজেন প্রবেশে সাহায্য করে। যা না থাকলে মাটিতে ইউরিয়া দিতে হয়। কেঁচো জমি খোঁড়াখুঁড়ি করে বলে তা নরম ও উর্বর হয়। এতে ফলন বহুগুণে বেড়ে যায়। এজন্য দেখা যায়…

পতাকা-ফোবিয়া

অনেকেই আমাকে অনেক সময় জিজ্ঞেস করে আপনার ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট এক্সেপ্ট করার ক্রাইটেরিয়া কী? কী দেখে আপনি রিকোয়েষ্ট এক্সেপ্ট করেন? এর আংশিক উত্তর দেয়ার আগে একটা কথা বলে নেই, শাহবাগ আন্দোলনকারীরা আর কিছু পারুক আর না পারুক, তারা আমার ভিতর পতাকা-ভীতি তৈরী করতে পেরেছে। আমি সেদিন অবাক হয়ে টের পেলাম এই পতাকা-ফোবিয়া ভার্চূয়াল জগৎ ছেড়ে আমার রিয়েল লাইফে পর্যন্ত এফেক্ট করা শুরু করেছে। মেয়েকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। তখন ১৬-ই ডিসেম্বরের আমেজ চারিদিকে (হ্যা, সিডনীতেও)। অপজিট থেকে দু’টো ছেলে হেঁটে আসছিলো, দেখেই বুঝা যায় বাংলাদেশী। একজনের টী-শার্টে সবুজ রং’র উপর মাঝখানে লাল গোল, বাংলাদেশের পতাকা স্টাইলে। আমি স্রেফ দেখলাম আর মেয়েকে নিয়ে নেক্সট প্যাডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হয়ে অন্যপাশে চলে এলাম। রাস্তা পার হয়ে যাওয়ার পর টের পেলাম, আরে, আমি রাস্তা পার হলাম কেনো?! আমি কি ছেলে দু’টোকে ভয় পেয়েছি?! আশ্চর্য্য, কেনো ভয় পেলাম?! আর ভয় পেলেও এমন সাবকনশান্স মাইন্ডে কিছুই চিন্তা ভাবনা না করে রাস্তা পার হয়ে গেলাম! একী অবস্থা? এরপর সারাটা বিকেল অনেক ভেবে চিনতে বের করলাম, আমি আসলে পতাকা-ফোবিয়াতে ভুগছি। পতাকার একটু লাল-সবুজ দেখলেই কেমন যেন ভয়ে পেয়ে যাই, বিশ্রী গালি গালাজ, কথাবার্তা শোনার ভয়। নীচু মনের মানুষদের সাথে মেশার ভয়…

জঙ্গলের দিন-রাত

রাতে জঙ্গলের ভেতর এই বাড়িটাতে আসার সময় সত্যি একটু ভয় পেয়েছি। দুর থেকে দেখা যায় একটা ৪০ পাওয়ারের রুগ্ন বাতি বিশাল এক শাল গাছের মাথায় ঝুলছে এ ছাড়া চারপাশটা অন্ধকার। এরই মধ্যে শীত আর অন্ধকারের ঘ্রান জমে একটা মাদকতা ছড়িয়ে পরেছে আশেপাশে। মানুষহীন শূণ্য একটা বাংলোতে একা থাকতে হবে। এরপর আবার ব্যাগ নিয়ে ঘরে ঢোকার সময় এখানকার কেয়ারটেকার সিরাজ ভাই খনখনে কণ্ঠে বললেন, রাতে নিচে নামা নিষেধ, বারান্দার বাইরে যাইবেন না। একবার ভেবেছি ফিরে যাই কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলে গ্রীন টেক রিসোর্টে না থেকে এসেছি এই বাংলোতে এখন আবার ফিরে যাওয়ার কথা বলা অসম্ভব। কোনমতে রাতটা পার করে দিয়ে সকালে যা হোক একটা কিছু করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু একটা সকাল যে আমাকে অপ্রত্যাশিত এমন এক…

বারান্দার টবে তামাক চাষ

এই ৯ তলার ওপরের ফ্ল্যাটের সামনে আর কোনো উঁচু বিল্ডিং না থাকায় পুরো জায়গাটাই ফাঁকা। অ্যাপার্টমেন্টের সামনের খোলা ছাদে, যেখানে আরেকটি ফ্ল্যাট থাকার কথা ছিল, সেই খোলা ছাদটায় রুপালি আলো লুটোপুটি খাচ্ছে। ভরাট চাঁদের দিকে যতবার চোখ মেলে ধরি ততবারই মনে হয় বৃষ্টির ফোঁটা, ফোঁটা-ফোঁটা বৃষ্টি এসে পড়ছে চোখের পাপড়িতে। সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ আর ঢেউয়ের বিশাল জিব্বায় ব্যাপক ছুরির ফলা ঝলকাচ্ছে, চাঁদের আলোয় দুর্বার হয়ে ঝাপটে পড়ছে বিচে। বাম দিকে মাথা ঘুরিয়ে ইনানের এস্রাজ বাজানো শুনতে শুনতে এমন সব দৃশ্য মুভিং ইমেজ তৈরি করে যাচ্ছে। ইনান চাইলেও চোখ ঘুরিয়ে আমাকে দেখতে পারবে না, তারে তার ঘষার কোনো ফাঁকেও। আমরা পাশাপাশি বসে আছি অনেকক্ষণ। শব্দহীন।…

অপরূপের সন্ধানে

shilpakala 1

শিল্পের গোড়াপত্তন এখন-তখনকার কথা নয়, সেই কবেকার কথা। গুহার দেয়ালে আদিমানবদের শিল্পপ্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল। মাধ্যম নয়, রঙ নয়, টেক্সচার নয়, কেবলমাত্র বিষয়ের প্রাধান্য যেখানে – ঠিক এমনই নির্মলভাবে শিল্পের চর্চা করি আমরা কজনই-বা? মানুষের ভেতরে জন্মসূত্রেই কম-বেশি মাত্রায় শিল্প থাকে একটা সুপ্ত কুঁড়ির মতন। যথোপযুক্ত পরিবেশ, একাগ্রতা, চর্চার ফলে সুপ্ত কুঁড়ি পরিপূর্ণতা পায়। তবে একই আদলে এক গণ্ডির লোককে শিল্পী তৈরি করবার চেষ্টায় সকলের ভেতর হতে একই মানের শিল্পরস নিঃসৃত হবে না। কল্পনাশূন্য মানসিকতা নিয়ে একজন মানুষ কখনোই প্রকৃত শিল্পী হয়ে উঠতে পারে না। তবে মনের ভেতরের শিল্পবোধ যা সুপ্ত কুঁড়ির আদলে থাকে, তা প্রস্ফুটিত না হলেও নিঃশেষ হয়ে যায় না। কালের স্রোতে তা কখনওবা বাড়ে, আবার কখনও শুকিয়ে যায়। কাজেই শিল্পচেতনা এবং শিল্পের চর্চা কেবলমাত্র শিল্পবোদ্ধাদের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়…