Month: December 2013

ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি জেলায় উন্নত মসজিদ নির্মাণ করবে

একটি পদ্মা সেতু তৈরীতে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগের রেশ এখনো কাটেনি, কিন্তু আগামী পাঁচ বছরে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় কাটিয়ে দেশে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটিয়ে এখন রূপকল্প ২০২১ এর স্বপ্ন দেখানোর ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আউড়ালেও আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে সরকার গঠণ করে দেশের প্রতি জেলা উপজেলায় একটি করে উন্নত মানের মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ – এই স্লোগানে…

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ

‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ শিরোনামে শামসুর রাহমান এক কবিতা লিখেছিলেন। এ কবিতা লেখার সময় তার মাথায় ছিল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মতো ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল দল। তিনি বেঁচে থাকলে তার মাথায় যে এখন আওয়ামী লীগও থাকত এটা মনে হয়। কারণ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটও এখন একই ধরনের উদ্ভট এক উটের পিঠে চড়ে জনগণের ওপর লাঠি ঘোরাচ্ছে ও দেশের সর্বনাশ করছে। এরা যে শুধু এভাবে লাঠি ঘোরাচ্ছে তাই নয়, এদের মুখেও কোনো লাগাম নেই এবং কথা বলার সময় এদের মুখভঙ্গির মধ্যেও নেই কোনো সভ্যতার ছাপ…

মধ্যমেয়াদি সংকটের পথে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও সহিংস রাজনীতি দেশের অর্থনীতিকে ক্রমান্বয়ে দুর্বল করে দিচ্ছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ যেখানে একটি সম্ভাবনার দেশ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছিল, এখন তা ক্রমেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। দেশের নির্বাচনী অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা এখন যেভাবে চলছে, ২০১৪ সালেও যদি তা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশ একটি মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিপিডির পক্ষ থেকে আমরা গত অক্টোবরে বলেছিলাম, চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। এরপর বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বাংলাদেশ ব্যাংকও একই ধরনের প্রাক্কলন করেছে। এমনকি সম্প্রতি…

আমি লেখক হতে চেয়েছি লেখক হয়েছি: সৈয়দ শামসুল হক

Syed Shamsul Haq

২০১১ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে তার বাড়িতে এক আড্ডায় মেতে উঠি আমরা। আড্ডায় অংশ নেন কবি রহমান হেনরী, ফেরদৌস মাহমুদ, অনন্ত সুজন ও জুননু রাইন। কথার ফাঁকে ফাঁকে আড্ডায় এসে যোগ দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। তবে তিনি যতবারই আমাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন ততবারই কোনো না কোনো খাবার নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। পাঠকের জন্য সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৭৯তম জন্মদিন উপলক্ষে সেই আড্ডারই কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

ওজন কমানোর সহজতম উপায়

probioslim

খুবই পরিচিত একটি সমস্যা–নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া করলেও বা ব্যায়াম করলেও অতিরিক্ত ওজন কমে না। তাহলে প্রশ্ন আসে মোটা হওয়া বা অতিরিক্ত ওজনের কারণ কী? বয়স, জিনগত সমস্যা বা অন্য কিছু? এর পিছনের সত্যিকার কারণটি হলো পরিপাক পদ্ধতি বা ডাইজেস্টিভ সিস্টেম। অনেক চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদ পাকস্থলী সংক্রান্ত সব সমস্যার পিছনে পুরোপুরি কার্যকর নয় অথবা আংশিক কার্যকর পরিপাক পদ্ধতির কথা বলেছেন। যদি পরিপাক পদ্ধতি ঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে…

জীবনসঙ্গী নির্বাচনে যে ৭ বিষয় বিবেচনা করবেন

সুখী বিবাহিত জীবনের জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে বের করা খুবই প্রয়োজন। একজন উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে বের করা কোনো সহজ কাজ নয়। এজন্য বিবেচনা করতে হয় অনেকগুলো বিষয়। আপনার উপযুক্ত জীবনসঙ্গী নির্বাচনের আগে এ লেখায় দেয়া পয়েন্টগুলো অবশ্যই বিবেচনা করে নেবেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি যার সঙ্গে কথাবার্তা ও যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, এমন কাউকে পছন্দ করা উচিত। এমন কোনো মানুষকে নিশ্চয়ই নির্বাচন করবেন না, যার পাশে গেলে আপনি বিরক্তবোধ করেন। এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করবেন, যার সান্নিধ্য উপভোগ করেন আপনি। এমন একজনকে পছন্দ করুন, যার সঙ্গে আপনার…

সক্রেটিস এবং সব জানার বিপদ

সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন একমাত্র আসমানি হস্তপে ছাড়া আর কেউই টলাতে পারবে না। এথেন্স আদালতে সক্রেটিসের শেষ বক্তব্য নিয়ে প্লেটোর লেখা ‘অ্যাপোলজি’ বইটি অনেকেরই পড়া। সেই সূত্রেই লেখাটি। সক্রেটিসের চেয়ে জ্ঞানী কেউ নেই, গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর এমন বক্তব্যের পর, দেবতাকে ভুল প্রমাণ করতে প্রথমেই বেছে নিলেন একজন জ্ঞানী রাজনীতিবিদ। এরপর সক্রেটিস বললেন সেই কথাটি, ‘এবার আমি জানি, আমিই জ্ঞানী, কারণ আমি অন্তত একটি কথা জানি যে, আমি আসলেই কিছু জানি না। আর ওই রাজনীতিবিদ মনে করেন সব জানেন, কিন্তু তিনি জানেন না যে, আসলেই তিনি কিছু জানেন না।’ জ্ঞানের ফেরিওয়ালাদের জন্য এটাই যথেষ্ট সত্ত্বেও সক্রেটিসের ২৪০০ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত পণ্ডিতের জন্ম হয়েছে, যাদের অবাধ্য জিহ্বার কারণেই মহা-অরাজক…

মি. অ্যান্ড মিসেস হান্ড্রেড পারসেন্ট

সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে, বাংলাদেশে নানা ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড গড়ার হিড়িক পড়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক দুটি রেকর্ড অবশ্যই বিশ্বদরবারে আমাদের মাথা উঁচু করেছে। এর একটি হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আকৃতির জাতীয় পতাকার প্রদর্শনী ও অপরটি সর্বাধিকসংখ্যক মানুষের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া। আমাদের বিজয়ের মাসে এ দুটি ঘটনা নিঃসন্দেহে আমাদের শ্লাঘার বিষয়, বড় রকমের অর্জন। তবে এই অর্জনের পিঠেপিঠে আরেকটি ‘অর্জন’- তাও বিশ্বরেকর্ড বটে- আমাদের উঁচু মাথা নিচু করে দিয়েছে। ওই ঘটনাটিও কিনা ঘটল, আর সময় পেল না, এই বিজয়ের মাসেই। ৩০০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন ১৫৪ জন। মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি আসনে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছেন তাঁরা। ছোটবেলায় বাচ্চাদের ফুটবল টুর্নামেন্টে দেখতাম, যেদিন খেলা সেদিন কোনো দল নির্ধারিত সময়ে মাঠে না এলে রেফারি একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন…

বিশ্ব উপলব্ধি করছে এখানে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নেই, আছে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ

আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যদি শান্তি ফিরে না আসে এবং জনজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা যদি এর লক্ষ্য না হয়, তাহলে কিসের জন্য এবং কাদের স্বার্থে এই নির্বাচন করা হচ্ছে- তা নিয়ে প্রতিটি নাগরিকের উদ্বেগ বোধ করার কারণ রয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে যেটা হচ্ছে তা আসলে এক ধরনের প্রতারণা। এ কথা যে শুধু আমরা বলছি তা নয়, সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে যে, এটা স্বচ্ছ নির্বাচন হচ্ছে। ইতিমধ্যে আসন বিলি-বণ্টনের মাধ্যমে সংসদের অর্ধেকের বেশি আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে অবিশ্বাসের সর্বশেষ প্রকাশ আমরা দেখতে পাচ্ছি- নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কোনো দল পাঠানো হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রধান সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হবে…

নির্বাচন নির্বাসনে – জনগণ নির্যাতনে

দিন বদলের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৯ সালে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল। দিন বদলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিনা, জনগনের দিন বদলেছে কিনা, ভাগ্যের আদৌ কোন উন্নতি হয়েছে কিনা, এ নিয়ে এন্তার আলোচনা, তুমুল বির্তক, অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এসে তারা নির্বাচনের ধারনাটি বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা উপহার দিয়েছে একটি একক প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচন এবং সহিংস আতঙ্কিত বাংলাদেশ। নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সরকার এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এ কাজটি করতে…