Category: কবিতা

মাঈন উদ্দিন জাহেদ এর সাতটি কবিতা

635316881050537260-paysage-semi-abstrait-semi-abstract-landscape

ইদ্রিস নবীর উম্মতেরা খোদাকে নাকি গোলাপ দিতো;
অদৃশ্য থেকে আলো এসে কাঙ্খিতটা ছুঁয়ে নিতো।
গোলাপ! তোমার এমন কদর জানে কি কেউ এমন করে?
তাইতো তার নামটা আমি পাল্টে দিলাম গোলাপ বলে…

ফেব্রুয়ারী মাসের কবিতা

সক্রেটিস তোমার জন্মের বহু আগেই
আদি অন্ধ কবি হোমার বপন করেছিল
মানুষের সভ্য হবার ইতিকথা, তার পর তুমি এলে
হেমলক বিষ পানে নিজেকে দিয়ে গেলে পৃথিবীর জন্য
মিসিসিপি, আলেকজান্দ্রিয়া, সিন্দু, রোম আর এথেন্সের
পথে পথে এগিয়ে চলা মানুষ পিছনে ফেলে রাখেছিল

বিচ্ছিন্নতাবাদির কবিতা

বিচ্ছিন্নতাবাদিদের মুখ পরে আছি
লৌহতারকাদের বনে গুলি ফুটছে,
খা- খা সীমান্ত ছেনে রক্তপিপাসুর ক্যামেরা।
দুরে লাল দেখা যায়- ট্রিগার চেপে গোলাম হয়ে আছে
বন্ধুর রাইফেল!
আমি ফাঁদে আটকানো শিকার
হা করে আছে শত্রু কবলিত রণক্ষেত্র!
জমে বেয়নেট-মুখ, দলত্যাগীদের প্যারাসুট…

সরওয়ার ফারুকীর ৩টি কবিতা

sarwar fariquee

মধ্য দুপুরে আমি গুনে গুনে পা ফেলতে
অভ্যস্ত নই।
কাটফাটা রোঁদের দাপটে জীবন যতই ধূসর হোক
সমুদ্র সিঞ্চনের জন্যে আমি হণ্যে ছুটে যাবো
জোরে… জোরে… জোরকদমে।

বুলবুল সরওয়ারের এক গুচ্ছ কবিতা

জিব্রিল:
হে রাসুল, যদি অনুমতি দিন তবে,
তায়েফবাসীকে দুই পাহাড়ের মাঝে পিষে ফেলা হবে।
রাসুল:
না-না জিব্রিল, ও কথা বোল না আর
ওরা নির্দোষ! অভাব রয়েছে আমার-ই যোগ্যতার
কন্ঠে রয়েছে জড়তার জ্বালা, শব্দের সরনীতে
সত্যকে আমি পারিনি পৌঁছে দিতে।
সারা পৃথিবীর মানুষ মগ্ন-ভুলে…

তার মুখ তার সুষমা

বিষ্ময় আর বিষ্ময়বোধের নাম। পাখি ও পালক। রক্তকলমের ধ্যান।
আলো অধ্যয়ন। শিখরে রূপ, তুরূপের তাস। পাহাড় আর পাথর ফুঁড়ে
কালামের গাছ। ভাসে ফুল, কোমল পদ্মযোনি। মন্দ্রমুগ্ধ নিষাদের ভাষা।
তার জিন ধরে শেষ শহীদের চার্বাক। থাকে শুধু তামা আর লিপি।

ফরাসি কবি আর্তুর র‌্যাঁবো’র দু’টি কবিতা

যখন রক্তমুখো মেশিনগানেরা ধ্বনি তোলে
প্রসারিত দিবসের আদিগন্ত, অবারিত বুকে;
যখন সৈনিক দল কর্তব্য শেষে যায় চলে
সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজায় কুর্ণিশরাশি ঠুকে,
এবং, যখন ছোটে জনতার উল্লসিত ভিড়,
হাজার হাজার লোক গড়ে তোলে ধুম্র পাহাড়-
আহা, কী আহম্মক! ম’রে ভূত! গ্রীষ্মঘাস নীড়,
প্রকৃতি বুকেই পাতে শেষ শয্যা! হাসি নেই আর।
সুবর্ণবলয় ঘেরা, সদা হাস্য, ‘ঈশ্বর’ নামের
আছেন একজন প্রভু। তিনি শুধু প্রার্থনা জপেন
আধো ঘুমে ঢুলু ঢুলু। বাতাসেরা সুগন্ধি সফেন।
মহা প্রভু ‘ঈশ্বর’ এর ঘোর কাটে সুখ-আরামের
মাত্র একটু ক্ষণ, শোকে আর্ত মায়েরা যখন
ফেলে তার দানবাক্সে ফুটোকড়ি, কেবলই তখন।

কেউ ভাল নেই

কেউ ভাল নেই ভাল লাগা মৃতের কংকাল, স্পর্শের অতীত ! দ্যাখো-চাঁদে আর চালাকিতে ফেটে গেছে ছাদ সবুজ পথ দৌড়ুচ্ছে ঠিকই- দেখছে না কেউ মধ্যরাতে বিভৎস ক্ষুরের ধ্বণি ঘুম ভেঙে দেয় অবিকল দেখায় সাপ পরাবাস্তব সপে । কেউ ভাল নেই ভালগুলি…

স্বপ্নহীন

বিশ্বাসের ভাঙ্গা হাঁতুড়ি দিয়ে ওরা প্রতিনিয়রত আঘাত করে আমার শিল্পবোধে, ফেটে চৌচির হয় বিবেকের ফুলগুলো, যন্ত্রণায় কাঁতরাতে কাঁতরাতে হয়ে উঠে অন্ধ. ফিরে আসে, হয়তো আবার মেলতে চায় পাখা নীলাকাশে। গতরাতে গভীর মানবিকতায় ডুব দিয়েছিলাম— আচানক মাথায় আঘাত পেয়ে চোখ খুলে…