Author: সাদিয়া মাহজাবিন ইমাম

খুশবন্ত সিংয়ের তৈরি চরিত্র

খুশবন্ত সিং (ফেব্রুয়ারি ২, ১৯১৫ - মার্চ ২০, ২০১৪)

পরিপূর্ণ লেখকরা চলে গেলে পাঠকের শূন্যতা হয়। সেই শূন্যতায় থাকে নতুন লেখা না পাওয়ার আক্ষেপ এবং ব্যক্তি লেখকের জন্য মায়া। বিদায় মানেই এক কঠিন স্তব্ধতা। খুশবন্ত সিংয়ের চলে যাওয়ার খবরে এই স্তব্ধতা শুধু কি তার প্রিয় পাঠকের? তার সমালোচকদের ভেতর তৈরি হয়েছে আরও বেশি। খুশবন্ত সিং তেমনই লেখক, যার বই নিন্দুকরাও হাতে পেলে পৃষ্ঠা না উল্টে…

খুশবন্ত সিং ও তার বইয়ের বাংলা অনুবাদ

khushwant-singh-01

একটি বই অনেক ভাষায় অনুবাদ হয় তখনই যখন তার ভেতর সার্বজনীনতা থাকে। আবার নিজ দেশে জনপ্রিয় হওয়া অনেক সাহিত্যেরই সকলের হয়ে উঠার গুনটা থাকেনা। শিল্প সার্বজনীন, সুর সীমানা ছাড়িয়ে যায় আর সংস্কৃতি জাতীয়। কিন্তু সাহিত্য? সাহিত্যে আসলে এর সবগুলো বিষয় রয়েছে। নির্ভর করে সে সাহিত্যের মান কেমন? আন্তর্জাতিক ভাষায় কোন সাহিত্য পাঠ…

সংবাদ শিরোনাম

পত্রিকায় চোখ রেখে চমকে ওঠার মানুষ মোফাজ্জেল না। অন্তত তার নিম্নমধ্যবিত্ত জীবনে দেশের-দশের খবর নিয়ে মাথাব্যথার কিছু নেই। কিন্তু রোববার সকালে কমলাপুর স্টেশনে এসে চার টাকা দামের পত্রিকার শিরোনাম দেখে মনে হলো, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতিদিন সকাল আটটায় স্টেশনে আসে মোফাজ্জেল। যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন পৌঁছায় সকাল নয়টার মধ্যে। এই সময়ে স্টেশনের চেহারাই বদলে যায়। পিলপিল করে গেট দিয়ে মানুষ বের হতে শুরু করে। তাদের ব্যাগ নেওয়ার জন্য পিছে পিছে ঘোরে কুলিরা। তখন রিকশা-সিএনজিচালিত অটোরিকশার দরদামও শুরু হয়। মোফাজ্জেল এই ট্রিপটা মিস করতে চায় না। এ সময় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছার জন্য মরিয়া থাকে। এক শ’ টাকার ভাড়া ঝগড়াঝাঁটি না করেই দুই শ’ টাকাতেও উঠে যায়…

মাছ বাজারের ফুল আর আলস্টারের দুপুর

এই মুহূর্তে যে কাজটি করছি তা শুনলে আমার পাশের বাড়ির দিদিমা নির্ঘাত ছ্যাঁ ছ্যাঁ ত করতেনই আমাকে ¯œান না করে গৃহ প্রবেশের অনুমতি দিতেন কিনা সন্দেহ। স্ট্রবেরি আর স্যালাড দিয়ে পর্ক খাচ্ছি মাছ বাজারের মাঝখানে বসে। এখানে প্রতি রোববার সকালে লাইভ কনসার্ট চলে, ক্রেতারা কান্তি কাটাতে সেই মিউজিক শুনতে শুনতে বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দেয়। শুধু খাবার নয় বাজারে বসে রীতিমত প্রেমও করছে কাপলরা, এটি হচ্ছে ‘সনকত পাউলি ফিশ মার্কেট’। হামবুর্গের ‘এলবে’ নদীর পাশে এ মাছ বাজারের বয়স তিনশ বছর। পৃথিবীর আর কোথাও এত পুরনো বাজার আছে কিনা জানিনা। শুধু মাছের বাজার বললে ভুল হবে, এটি বাণিজ্যিক বন্দর, প্রমোদের স্থান একই সাথে দারুন শপিং সেন্টারও…

জঙ্গলের দিন-রাত

রাতে জঙ্গলের ভেতর এই বাড়িটাতে আসার সময় সত্যি একটু ভয় পেয়েছি। দুর থেকে দেখা যায় একটা ৪০ পাওয়ারের রুগ্ন বাতি বিশাল এক শাল গাছের মাথায় ঝুলছে এ ছাড়া চারপাশটা অন্ধকার। এরই মধ্যে শীত আর অন্ধকারের ঘ্রান জমে একটা মাদকতা ছড়িয়ে পরেছে আশেপাশে। মানুষহীন শূণ্য একটা বাংলোতে একা থাকতে হবে। এরপর আবার ব্যাগ নিয়ে ঘরে ঢোকার সময় এখানকার কেয়ারটেকার সিরাজ ভাই খনখনে কণ্ঠে বললেন, রাতে নিচে নামা নিষেধ, বারান্দার বাইরে যাইবেন না। একবার ভেবেছি ফিরে যাই কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলে গ্রীন টেক রিসোর্টে না থেকে এসেছি এই বাংলোতে এখন আবার ফিরে যাওয়ার কথা বলা অসম্ভব। কোনমতে রাতটা পার করে দিয়ে সকালে যা হোক একটা কিছু করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু একটা সকাল যে আমাকে অপ্রত্যাশিত এমন এক…

ফলসিফিকেশন উইথ ওউন সোল

গল্পটা শুক্রবার ভোরের। ঠিক ভোর হয়ত নয় কিন্তু খানিকটা কুয়াশা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে সকাল পৌনে আটটাকে ঠিক সকাল বলা যায়না তারপর আবার সরকারি ছুটির দিন। কাওরান বাজার জনমানুষহীন প্রায়। কি গান শুনছিলাম মনে নেই তবে কানে এয়ার ফোন দিয়ে আমি এক মনে গান শুনতে শুনতে হাঁটছি কাওরান বাজারের রাস্তায়। আপন মনে হাটায় হটাৎ অস্বস্তি হলো, পায়ে তরল কিছু লেগেছে…