Author: মোফাজ্জল করিম

আমজনতার কণ্ঠ

ঘন কুয়াশায় ডুবে যাওয়া পারাবারে কোন নৌযানের যাত্রীর মত আমারও জানতে ইচ্ছে করে, ‘আমরা এখন কোথায় আছি?’ মুণ্ডুকাটা কবন্ধ মুরগির মত দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য দেশটা কোথায় ছুটে চলেছে? আমরা কি দেশটাকে মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের বারান্দায় ট্রলিতে শুইয়ে দ্রুত ঠেলে নিয়ে যাচ্ছি ‘ঠাঁই নাই-ঠাঁই নাই ছোট সে’ ইউনিটের ভেতর? আমার মুমূর্ষু রোগী- আমার দেশ, আমার মা, বাঁচবে তো ডাক্তার? বলুন, বাঁচবে তো আমার দেশ? বলুন ডাক্তার। জবাব দিন। জবাব দিন মন্ত্রী? নেতা, জবাব দিন? সত্যি করে বলুন, আমার দেশ কি বেঁচে আছে? তার কি শ্বাস উঠেছে? তাকে কি আপনারা লাইফ-সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন? সেই সাপোর্ট খুলে নেয়ার কথা কি ভাবছেন আপনারা? সত্যি করে বলুন তো, আমিও কি বেঁচে আছি? প্লিজ, কিছু লুকোবেন না। আমি কি এখনো সেই জ্বলন্ত বাসের ইনফার্নোতে, না বাইরে…

মি. অ্যান্ড মিসেস হান্ড্রেড পারসেন্ট

সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে, বাংলাদেশে নানা ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড গড়ার হিড়িক পড়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক দুটি রেকর্ড অবশ্যই বিশ্বদরবারে আমাদের মাথা উঁচু করেছে। এর একটি হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আকৃতির জাতীয় পতাকার প্রদর্শনী ও অপরটি সর্বাধিকসংখ্যক মানুষের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া। আমাদের বিজয়ের মাসে এ দুটি ঘটনা নিঃসন্দেহে আমাদের শ্লাঘার বিষয়, বড় রকমের অর্জন। তবে এই অর্জনের পিঠেপিঠে আরেকটি ‘অর্জন’- তাও বিশ্বরেকর্ড বটে- আমাদের উঁচু মাথা নিচু করে দিয়েছে। ওই ঘটনাটিও কিনা ঘটল, আর সময় পেল না, এই বিজয়ের মাসেই। ৩০০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন ১৫৪ জন। মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি আসনে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছেন তাঁরা। ছোটবেলায় বাচ্চাদের ফুটবল টুর্নামেন্টে দেখতাম, যেদিন খেলা সেদিন কোনো দল নির্ধারিত সময়ে মাঠে না এলে রেফারি একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন…