Author: মিনা ফারাহ

সংখ্যালঘুদের শাপমোচন কি হবেই না

mina farah

মনটা যখন খুব খারাপ থাকে, সিভিল রাইটস আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ ম্যালকম এক্সের একটি উক্তি আমাকে বাঁচিয়ে দেয়: ‘তুমি কারাগারে গিয়েছ কি না প্রশ্ন করে কী লাভ, যে মুহূর্তে তুমি কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে জন্মেছ তোমার জন্মই হয়েছে কারাগারে…

মুক্তিযুদ্ধ এবং শহীদের সংখ্যা

mina farah

৪৩ বছর পরও ৩০ লাখ সংখ্যাটি সমাধান না হওয়া দুঃখজনক, তবে বিষয়টিকে শুধু সংখ্যার বিতর্কে দেখলে ফল পাওয়া যাবে না, বরং প্রাসঙ্গিক আলোচনাও করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়…

উন্নতি পরে, আগে বাঁচতে দিন

mina farah

মারিও পুজোর বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘গডফাদার’ পড়েছি। কিন্তু ফেডারেল রিপাবলিক অব নারায়নগঞ্জের ঘরে ঘরে সাপের মতো বংশ বিস্তার করা গডফাদাররা ‘কারলোন’ ক্রাইম ফ্যামিলিকেও লজ্জা দেয়। এমনকি এরশাদ শিকদারের মতো ভয়ংকর গডফাদারকেও পেছনে ফেলে দিলো নারায়নগঞ্জ। এই গডফাদাররা প্রশাসনকে পুঁজি করে প্রতিদিন…

কিন্তু নির্বাচনকে ছাড় দেয়া যায় না!

mina farah

ক্রেমলিন আর হোয়াইট হাউজ যখন ঠাণ্ডা যুদ্ধে নামে, মারা যায় এমন কিছু মানুষ, যাদের মাথাপিছু আয় ২০ হাজার ডলারের বেশি। আর গণভবনের বাসিন্দারা যখন ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউজের বিলাসিতায় আক্রান্ত হয় তখন মারা যায় কুলি-মজুরনির্ভর দেশের মানুষেরা, যাদের দৈনিক মাথাপিছু আয়…

সন্ত্রাস এ দেশে আছে কি নেই

বিগত কয়েক বছর সন্ত্রাসের নামে সরকার যদি একটি বুলেটও খরচ না করত তারপরও বিশ্বকাপের মতো মহাঘটনা শান্তিপূর্ণই হতো। এই দফায় সরকারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তার আশ্রয় নিতে দেখা যায়নি কারণ, সন্ত্রাস এ দেশে নেই। কিন্তু ‘সন্ত্রাস আছে’ বলাটা গদি রায় কতটা সহায়ক, বুঝতে হলে রাজনৈতিক শিক্ষা-দীক্ষা এবং সচেতনতা প্রয়োজন, যা ৯৯ ভাগ আইনপ্রণেতা এবং মানুষের নেই। সন্ত্রাস যারা করে, বক্তৃতায় নয়, ওসব জন্তু দেখলেই টের পাওয়া যায়। বিষয়টি মাননীয় আদালতের বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন কারণ শেষ কথা তাদেরই। পদ-পদবি অস্থায়ী, স্বজন হারানোর বেদনা চিরস্থায়ী…

১২ বছর ক্রীতদাস এবং আমরা

mina farah

যারাই আমার মতো টিভির পর্দায় হীরে-জহরতে মোড়ানো বিস্ময়কর অস্কার রজনীটি উপভোগ করেছেন, নিশ্চয়ই একমত হবেন, বর্ণবাদের প-বিপ থাকলে, চেতনা নিয়ে কলঙ্কিত হওয়ার প্রশ্ন উঠলে, ফিল্ম-টিভি-বই নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির হুমকি থাকলে সবার আগে নিষিদ্ধ হতো ‘১২ বছর ক্রীতদাস’ নামের ছবিটি। তা না হয়ে বরং শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পেল, যা প্যালেস্টাইনকে ইসরাইলের স্বীকৃতি দেয়ার মতোই অবিশ্বাস্য। তাহলে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর পক্ষ বিপক্ষ সৃষ্টি করে আমরা কেন…

সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভিশাপ, মাইনাস-১

mina farah

বুঝলাম যত দোষ নন্দ ঘোষ। কিন্তু আর কোন গণতান্ত্রিক সরকার আদালতের একটি রায়ের জন্য পাগল হয়ে যায়! কোনো দেশেরই সরকার শেয়ারমার্কেটের মতো দু’বার এত বড় কেলেঙ্কারির পরও গডফাদারদের বাঁচাতে তদন্ত ধামাচাপা দেয় না। আর কোনো সরকারই পদ্মা সেতুর মতো জাতীয় উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় না। স্বৈরাচারী এরশাদ…

খালেদা ছিনতাই, এরশাদ গুম, নির্বাচনে বোমা মারল কে?

অভ্যুত্থানের অভিযোগে ১৫০টি ক্ষুধার্ত কুকুর দিয়ে ফুফাকে খাওয়াল উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন ‘৭০-এ বৈধ নির্বাচন দিয়েছিল ‘অবৈধ’ সরকার। অপর দিকে বৈধ সরকারের হাতে ৫ জানুয়ারিতে যে ‘অবৈধ’ সন্তানটি পয়দা হলো, পিতৃত্ব কায়েমে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক লবি চালিয়ে সরকারের পে থাকার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশী জনগণের বিরুদ্ধে এক রকম যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। পাঁচ কোটি ভোট এবং নির্বাচন চুরিতে সব রসদ জুগিয়ে আবারো প্রমাণ করল নিজেদের ভুয়া গণতন্ত্র। গোটা দেশকেই ষড়যন্ত্রের চাদরে ঢেকে ফেলেছে বিদেশী অপশক্তি। যে পরিস্থিতিতে এরশাদকে শপথবাক্য পাঠ করতে হলো, একমাত্র পাগল আর অবুঝ ছাড়া এই কাজে কেউ হাত দেবে না…

সক্রেটিস এবং সব জানার বিপদ

সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন একমাত্র আসমানি হস্তপে ছাড়া আর কেউই টলাতে পারবে না। এথেন্স আদালতে সক্রেটিসের শেষ বক্তব্য নিয়ে প্লেটোর লেখা ‘অ্যাপোলজি’ বইটি অনেকেরই পড়া। সেই সূত্রেই লেখাটি। সক্রেটিসের চেয়ে জ্ঞানী কেউ নেই, গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর এমন বক্তব্যের পর, দেবতাকে ভুল প্রমাণ করতে প্রথমেই বেছে নিলেন একজন জ্ঞানী রাজনীতিবিদ। এরপর সক্রেটিস বললেন সেই কথাটি, ‘এবার আমি জানি, আমিই জ্ঞানী, কারণ আমি অন্তত একটি কথা জানি যে, আমি আসলেই কিছু জানি না। আর ওই রাজনীতিবিদ মনে করেন সব জানেন, কিন্তু তিনি জানেন না যে, আসলেই তিনি কিছু জানেন না।’ জ্ঞানের ফেরিওয়ালাদের জন্য এটাই যথেষ্ট সত্ত্বেও সক্রেটিসের ২৪০০ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত পণ্ডিতের জন্ম হয়েছে, যাদের অবাধ্য জিহ্বার কারণেই মহা-অরাজক…