Author: এবনে গোলাম সামাদ

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা চাই

Ibn-Golam-Samad

‘সংবাদমাধ্যম’ বলতে একসময় কেবল সংবাদপত্রকেই বুঝিয়েছে। পরে এর সাথে যুক্ত হয়েছে রেডিও। সবশেষে এর সাথে যুক্ত হয়েছে টেলিভিশন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র, এ দুটি বিষয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আবার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র হয়ে পড়তে চায় অচল। কেননা, ভোটাররা যদি যথাযথ সংবাদ না পেতে পারে, তবে তারা ভেবেচিন্তে ভোট দিতে পারে না। তাই গণতন্ত্রের অন্যতম সূত্র হলো…

মনে হয় নির্বাচন একটা হয়ে যাওয়াই ভালো

Ibn-Golam-Samad

একটা দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাম্য নয়। নির্বাচন তাই একটা হয়ে যাওয়াই ভালো। নির্বাচনই দিতে পারে একটা দেশে একটা দলের হাত থেকে আরেকটা দলের হাতে শান্তিপূর্ণ…

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইতিহাস

Ibn-Golam-Samad

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক সময় ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সদস্য। তার মনমানসিকতাকে বিশ্লেষণ করতে গেলে তাই জানতে হয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইতিহাসকে। । এ ছাড়া বিজেপির ওপর এখনো সাধারণভাবে কাজ করে চলেছে আরএসএসের বিশেষ…

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস

Ibn-Golam-Samad

ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই অনেক কিছু লিখেছেন, যার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে বলে মনে হচ্ছে না। আমি এ সম্পর্কে কিছু বলতে চাচ্ছি প্রধানত আমার ব্যক্তিজ্ঞান থেকে। যখন ভাষা আন্দোলন হয় তখন আমি ছিলাম ছাত্র। এই আন্দোলনে অনেক কিছুই ঘটেছিল আমার চোখের সামনে। তাই এই প্রসঙ্গে…

জাতিসত্তা গঠনে ভাষা ও ধর্ম

রাজনীতির ক্ষেত্রে ইউরোপের কাছ থেকে আমরা দু’টি ধারণা বিশেষভাবে পেতে সক্ষম হয়েছি। যার একটি হলো জাতীয়তাবাদ আর অন্যটি হলো গণতন্ত্র। জাতীয়তাবাদ নির্ভর করে জাতিসত্তার ওপর। আবার জাতিসত্তা গড়ে ওঠে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নির্ভর করে। জাতিসত্তা গঠনে ভাষা পালন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু তা বলে জাতিসত্তা যে কেবল ভাষাকে নির্ভর করেই গড়ে ওঠে, তা নয়। একটি জাতি গড়ে ওঠে ইতিহাসের ধারায়; নানা ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে। আমরাও সেভাবেই…

গোলাপকে যে নামেই ডাকো

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টোটল (৩৮৪-৩২২ খ্রিষ্টপূর্ব) বন্ধুত্বকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন: প্রয়োজনের বন্ধুত্ব (Friendship of Utility); সুখের বন্ধুত্ব (Friendship of Pleasure); ও ভালো মানুষের বন্ধুত্ব (Friendship of the Good)। এর মধ্যে ‘প্রয়োজনের বন্ধুত্ব’ বলতে বোঝায়, একজন ব্যক্তি আর একজন ব্যক্তির সাথে নিজের প্রয়োজনে যে বন্ধুত্ব করে, তাকে। যেহেতু আমরা কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তাই বেঁচে থাকতে গিয়ে এ ধরনের বন্ধুত্ব আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ব্যবসায়িক বন্ধুত্ব হলো এই শ্রেণীভুক্ত। সুখের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে সঙ্গসুখ লাভের আকাক্সক্ষায়। অ্যারিস্টোটলের মতে, যুবকদের মধ্যে এই শ্রেণীর বন্ধুত্ব বেশি হতে দেখা যায়। কারণ যুবকেরাই সঙ্গসুখ বেশি কামনা করে থাকে। অ্যারিস্টোটলের মতে…

আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা

সেটা ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস। ঢাকা থেকে কলকাতায় যাওয়া একজন সাংবাদিক একটি পুস্তিকা লিখেছিলেন। যাতে তিনি উদ্ধৃতি দেন সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা একটি কবিতা থেকে: বন্ধু তোমার উদ্বেগ ছাড়ো, সুতীক্ষ্ম করো চিত্ত, বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি, চিনে নিক দুর্বৃত্ত। বিষয়টি আমার কাছে বেমানান মনে হয়েছিল। কারণ সুকান্ত এই কবিতা লিখেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে। জাপান বার্মা (মিয়ানমার) জয় করে এবং এসে যায় ব্রিটিশ বাংলার সীমান্তে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি জাপানকে রুখবার আওয়াজ তোলে। সহযোগিতার হাত বাড়ায় ব্রিটিশ রাজের সাথে। যেটি সেই সময় এ দেশে অনেকেরই মনঃপূত হয়নি…

বাংলাদেশে সুচিত্রা সেনকে নিয়ে উচ্ছ্বাস

সিনেমা আমি বেশি দেখিনি। না দেখার একটি কারণ হলো অর্থনৈতিক। অন্য জিনিস কিনে সিনেমা দেখার মতো পয়সা আমার পকেটে থেকেছে কম। আর সিনেমা না দেখার আরেকটি কারণ ছিল, আমি যে প্রজন্মের মানুষ, সেই যুগে বাংলা সিনেমার বিষয়বস্তু ছিল হালকা প্রেমের কাহিনী; যা আমার কাছে খুব আকর্ষণীয় মনে হয়নি। আমি সিনেমা দেখেছি বিদেশী। এ ছাড়া আমার সমবয়সীরা যখন দেখেছে সিনেমা, তখন আমি থেকেছি অন্য কাজে নিমগ্ন। আমি আমার জীবনে প্রথম যে ছবিটি দেখেছিলাম, সেটি ছিল বিদেশী। আর সেটি সবাক চিত্র ছিল না…

১৯৭১-এর যুদ্ধ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালে ৩০ মার্চ ভারতের পার্লামেন্টে বলেন, পূর্ববঙ্গের সাড়ে সাতকোটি লোক তাদের স্বাধীনতার জন্যে যে সংগ্রাম শুরু করেছেন, ভারত তাকে সাহায্য না করে পারেন না। ভারত তাই সংগ্রামে সাহায্য করেই যাবে। ১৯৭১-এর ৩ ডিসেম্বর ভরত পাকিস্তানের মধ্যে প্রকাশ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু আসলে যুদ্ধ আরম্ভ হয়েছিল ৩০ মার্চ থেকে। আমার বাড়ি পদ্মানদীর ধারে। পদ্মা পেরিয়ে পৌঁছানো যায় ভারতের সীমানায়। ভারত থেকে এক রেজিমেন্ট সৈন্য এসে ঢু মেরেছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে; পাক বাহিনী কতটা সামরিক প্রস্তুতিতে আছে সেটা ওজোন করবার জন্যে। কিন্তু তারা বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। এ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বুঝতে পারি যে, আজ হোক, কিছুদিন পরে হোক, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হওয়া খুবই সম্ভব। ১৯৬৫ সালে নভেম্বর মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বেধেছিল কাশ্মির নিয়ে। যুদ্ধ চলেছিল ২২ দিন…