Author: ফ্লোরা সরকার

নৃশংসতা, ক্ষমা ও স্বাধীনতার কোলাজের চলচ্চিত্র “কিনিয়ারওয়ান্ডা”

kinyarwanda_kid

“হোটেল রুয়ান্ডা” যদি হলিউডি ঘারাণার চলচ্চিত্র হয়ে থাকে, “কিনিয়ারওয়ান্ডা” (Kinyarwanda) আফ্রিকার যাদু বাস্তবতা বা ম্যাজিক রিয়ালিজামের স্বদেশীয় আলপনায় আঁকা এক অনবদ্য চলচ্চিত্র। ‘হোটেল রুয়ান্ডা’ য় গৃহযুদ্ধে আক্রান্ত ভীত-সন্ত্রস্ত নাগরিক বিশেষত তুতসি গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল যদি হয়ে থাকে একটি…

স্বৈরশাসদের প্রামাণ্য দলিল মার্কেজের “কূলপতির শরৎ”

gabriel garcia marquez

সাধারণত শিল্প ও সাহিত্য জগতের বরণীয় শিল্পী ও লেখকেরা মৃত্যুর পর কিংবদন্তীতে পরিণত হন। কিন্তু গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কোয়েজ ছিলেন একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। নোবেলজয়ী এই লেখকের উপন্যাসের বিষয়বস্তু, রচনাশৈলী ( যা সাধারণভাবে যাদু বাস্তবতা বলে পরিচিত) শুধু লাতিন…

বিসিবির সেলিব্রেশন কনসার্ট এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীগণ

world-cup-t20-2014-opening-ceremony-in-bangladesh

আমাদের দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম.সুলতান তার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন “আমাকে শিল্পকলা একাডেমি একটা মুক্তিযুদ্ধের ছবি আঁকতে বলেছিলো। আমি সেখানে রাইফেল-বন্দুক আঁকিনি, লাঠি, সড়কি, বল্লম এসব এঁকেছি। এ সবই এখনো আমাদের অস্ত্র। স্টেগান, রাইফেল আমি তৈরি করিনি, আমার হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি যা অর্জন করিনি, তা আমার না। ধার করা জিনিস নিয়ে…

ইতিহাস বিকৃতির এক অনন্য ছবি “গুন্ডে”

gunday-600px

সাধারণত যার মাথা তারই ব্যাথা হবার কথা, কিন্তু বলিউডের সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ইয়াশ রাজ ফিল্মস্ এর ব্যানারে নির্মিত ও আলী আব্বাস জাফরের চিত্রনাট্য ও পরিচালিত ছবি “গুন্ডের” ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটতে দেখা গেলো। ছবিটি নির্মিত হলো ভারতে আর তার প্রতিক্রিয়া ঘটলো বাংলাদেশে। ইতিহাস যখন শুধুমাত্র মিথ্যে দিয়ে নয়, বিকৃত করে চিত্রিত বা রচিত হয় তখনই…

টুয়েলভ ইয়ারস অ্যা স্লেভ: দাসত্বের ভূত আজও তাড়া করে বেড়ায়

12-years-a-slave

ঔপনিবেশিক শক্তির আধিপত্যবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিলো যারা উপনিবেশবাদের শিকার তাদের মানসিক জগত। উপনিবেশ শোষিত সমাজ কিভাবে,কোন্ দৃষ্টিতে নিজেদেরকে দেখে এবং জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে কোন্ সংস্কৃতির মাধ্যমে অবলোকন করে তার নিয়ন্ত্রণ নেয়াটাও ছিলো ঔপনিবেশিক শক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য। মানসিক নিয়ন্ত্রণকে…

দ্য কোলেবরেশন: একজন স্বৈরাচার এবং তার দোসরদের সত্য উন্মোচন

পৃথিবীর প্রায় সব স্বৈরতন্ত্রের ইতিহাস মাঝে মাঝে মনে হয় কোনো মহাফেজখানার হিমাগারে জমাট বেঁধে আছে। হয়তো অনুদঘাটিত তার অনেক ঘটনা উদঘাটনের দিকে কেউ মনোনিবেশ করছে না বা করবে না। পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিপুল বিনোদনের মাঝে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার, ভিডিও গেমের চাকচিক্যময় গোলক ধাঁধায় মানুষ বেশ আছে। চিন্তাভাবনাহীন এক অনিশ্চিত গন্তব্য। কিন্তু কেউ কেউ থাকেন, যারা মহাফেজখানার সেই হিমাগারে বিচরণ করেন…

নির্বাচন নিয়ে নির্মিত “সিক্রেট ব্যালট”

Secret Ballot (2001)

একদিনের গল্প। নির্বাচনের দিন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট গ্রহণ। ভোট গ্রহণ শেষ, ছবিও শেষ। কিন্তু ২০০১ সালে ইরানের চলচ্চিত্রকার বাবাক পায়ামি নির্মিত “সিক্রেট ব্যালট” ছবিটি দর্শককে তিনটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় – ১. গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত বা ২. গণন্ত্রের পথে সংগ্রামরত বা ৩. আমজনতার কাছে গণতন্ত্র তাৎপর্যহীন একটি বিষয়। ছবিটি দেখার সময় এই তিনটি প্রত্যয়ের কোনটিতেই দর্শক কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেননা। অথচ একদিনের ভোট গ্রহণের মধ্যে দিয়ে পরিচালক বাবাক পায়ামি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন অর্থাৎ প্রতিনিধিত্বশীতার এই আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা…

হোটেল রুয়ান্ডা: জাতি বিদ্বেষের নৃশংসতার ছবি

Hotel Rwanda

জাতিগত বিদ্বেষের ইতিহাসের শিকড়ের গভীরে থাকে ঔপনিবেশিক শাসনের রাজনীতি-কুটনীতি। অন্তত রুয়ান্ডার ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। “হোটেল রুয়ান্ডা” ছবির প্রত্যেকটা মুহূর্ত্ত তাই দর্শক এক স্থির-অচঞ্চল উত্তেজনা থেকে রেহাই পায়না। স্তব্ধ দৃষ্টিতে ছবির পর্দায় একের পর এক জাতি বিদ্বেষের নৃশংসতা দেখে দর্শক বিস্ময়ে হতবাক হতে থাকেন। হোটেলের লবিতে বসে জাতিসংঘ থেকে আগত সাংবাদিক যখন রুয়ান্ডার সাংবাদিক বেনেডিক্টের কাছে হুতু-তুতসি দুই জাতির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য জানতে চান, তখন বেনেডিক্ট মাত্র কয়েটি সংলাপে এর উত্তর দিয়ে দেন। বেনেডিক্ট বলেন “বেলজিয়ান কলোনির মতে তুতসিরা লম্বা, সুরুচিপূর্ণ। এই বেলজিয়ানরাই মূলত এই পার্থক্য তৈরি করেছে।” সাংবাদিকের প্রশ্ন “কীভাবে?” বেনেডিক্টের উত্তর…

আলব্যেয়ার কামু’র “দ্য প্লেগ”: স্বৈরতন্ত্রের এক উন্মুক্ত দলিল

১৯৪৭ সালে আলব্যেয়ার কামু’র “দ্য প্লেগ” উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে, ফ্রান্সের প্রথিতযশ চিন্তাবিদ ও সমালোচক রোলা বার্ত তৎকালীন ফরাসি পত্রিকা “ক্লাব” এ উপন্যাসটির ওপর একটি সমালোচনা লেখেন। সেই সমালোচনার জবাবে কামু, বার্তকে একটি চিঠিতে জানান “দ্য প্লেগে আমি চেয়েছিলাম, বইটির নানাস্তরিক পাঠ চলুক…।” এবং বলাই বাহুল্য দ্য প্লেগ মূলত নাৎসীবাদের বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রতিরোধ আন্দোলনের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হলেও তা মানবতাবিরোধী অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শক্তির এক সর্বজনীন দলিল হিসেবে দেখা দেয়। দ্যা প্লেগকে তাই যেকোন দেশে, যেকোন সময়ে, স্থাপন-পুনঃস্থাপন করে অবলীলায় পাঠ করা যায়। এ যেন এক নিত্যবর্তমান, নিত্যবহমান এক অনন্ত গল্প…