Author: ফারজানা মাহবুবা

ভালবাসার সেকাল-একাল

অনেকেই আমাদের বাবা-মা এবং নানী-নানা, দাদী-দাদা’দের সম্পর্কের মধ্যকার ভালবাসার কথা বলেন; কীভাবে বুড়া হয়ে যাওয়ার পরও নানী নানার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে আনেন, অথবা বাবা বাইরে যাওয়ার সময় মা এখনো চশমা-মানিব্যাগ ইত্যাদি খুঁজে এনে এগিয়ে দেন। বাবা-মা বা তাদের আগের জেনারেশনের জামাই-বউ’র মধ্যকার সম্পর্ককে এভাবে রোমান্টিসাইজ করাটা শুনতে ভালই লাগে, মনের ভিতর কেমন ‘সত্যিকার’ ভালবাসা-ভালবাসা অনুভূতি জেগে উঠে, নিজেদের সময়ের ‘ভালবাসা’কে অনেক কৃত্রিম মনে হয়। কিন্তু আমি বিষয়টাকে ভাবি অন্যরকম করে…

পতাকা-ফোবিয়া

অনেকেই আমাকে অনেক সময় জিজ্ঞেস করে আপনার ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট এক্সেপ্ট করার ক্রাইটেরিয়া কী? কী দেখে আপনি রিকোয়েষ্ট এক্সেপ্ট করেন? এর আংশিক উত্তর দেয়ার আগে একটা কথা বলে নেই, শাহবাগ আন্দোলনকারীরা আর কিছু পারুক আর না পারুক, তারা আমার ভিতর পতাকা-ভীতি তৈরী করতে পেরেছে। আমি সেদিন অবাক হয়ে টের পেলাম এই পতাকা-ফোবিয়া ভার্চূয়াল জগৎ ছেড়ে আমার রিয়েল লাইফে পর্যন্ত এফেক্ট করা শুরু করেছে। মেয়েকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। তখন ১৬-ই ডিসেম্বরের আমেজ চারিদিকে (হ্যা, সিডনীতেও)। অপজিট থেকে দু’টো ছেলে হেঁটে আসছিলো, দেখেই বুঝা যায় বাংলাদেশী। একজনের টী-শার্টে সবুজ রং’র উপর মাঝখানে লাল গোল, বাংলাদেশের পতাকা স্টাইলে। আমি স্রেফ দেখলাম আর মেয়েকে নিয়ে নেক্সট প্যাডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হয়ে অন্যপাশে চলে এলাম। রাস্তা পার হয়ে যাওয়ার পর টের পেলাম, আরে, আমি রাস্তা পার হলাম কেনো?! আমি কি ছেলে দু’টোকে ভয় পেয়েছি?! আশ্চর্য্য, কেনো ভয় পেলাম?! আর ভয় পেলেও এমন সাবকনশান্স মাইন্ডে কিছুই চিন্তা ভাবনা না করে রাস্তা পার হয়ে গেলাম! একী অবস্থা? এরপর সারাটা বিকেল অনেক ভেবে চিনতে বের করলাম, আমি আসলে পতাকা-ফোবিয়াতে ভুগছি। পতাকার একটু লাল-সবুজ দেখলেই কেমন যেন ভয়ে পেয়ে যাই, বিশ্রী গালি গালাজ, কথাবার্তা শোনার ভয়। নীচু মনের মানুষদের সাথে মেশার ভয়…