Author: চিনুয়া আচেবে

প্রতিশোধপরায়ণ পরিচারিকা

[…] মেয়েটি খুব দ্রুত টিপটিপ করে আলো জ্বালার সঙ্গে সঙ্গে বোতাম চেপে প্রত্যেকটা জিনিসের আলাদা আলাদা মূল্য মেশিনে প্রবেশ করায় এবং মোট মূল্য ঘোষণা করে। নয় পাউন্ড পনের সেন্টস। মিসেস এমেনিকে তার হাতব্যাগটি খুলে ভেতর থেকে একটি ওয়ালেট বের করে ওটার জিপার খুলে চকচকে এবং কড়কড়ে দুখানা পাঁচ পাউন্ডের নোট বের করে মেয়েটির সামনে মেলে ধরে। মেয়েটি পুনরায় আরেকটি বোতামে চাপ দিতেই মেশিনটি খুচরা টাকা ভর্তি একটি ট্রে বের করে দেয়। মেয়েটি ম্যাডামের দেওয়া নোট দুটি অনত্র সরিয়ে রেখে বাকি খুচরা টাকা ও লম্বা একটা ফর্দ তার হাতে তুলে দেয়। মিসেস এমেনিকে লম্বা ফর্দটির নিচের দিকে একনজর তাকাতেই দেখতে পায় সভ্য মেশিনটি তার খরচের মোট পরিমাণের পাশে ‘ধন্যবাদ আবার আসবেন’ কথাটি লিখে দিয়েছে। প্রথম গোলযোগটা লাগে সেই মুহূর্তেই…

চিনুয়া আচেবের গল্প: যুদ্ধে মেয়েরা

তাদের প্রথমবার রাস্তা ধরে চলার সময় উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই ঘটেনি। তখন ছিল যুদ্ধ প্রস্তুতির উন্মাদনাকালীন সময় যখন হাজার হাজার যুবককে (এবং মাঝে মাঝে যুবতী নারীদেরকেও) যুদ্ধে নাম লেখানোর কেন্দ্র থেকে প্রত্যেকদিন সরিয়ে নিয়ে আসা হত। কারণ এদের অনেকেই নতুন গড়ে-ওঠা জাতিকে রক্ষা করতে উত্তেজিত অবস্থায় সাথে সাথে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে দলে দলে সামনের দিকে এগিয়ে আসছিল। দ্বিতীয়বার যাত্রার সময় তারা সম্মুখীন হয় আওকাতে অবস্থিত তল্লাশি কেন্দ্রের। তখন অবশ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে এবং ধীরে ধীরে দূরবর্তী উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্র হতে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সে অনিস্থা থেকে এনুগুর দিকে গাড়ি চালিয়ে আসছিল এবং ঐ সময় তার বেশ তাড়া ছিল। যদিও তল্লাশি চালানোর কেন্দ্রগুলোর ভেতর দিয়ে বিনা বাঁধায় চলে যাওয়ার অনুমোদন তার ছিল, তারপরও তাদের কাছে অনুবর্তী হতে সে সর্বদা মানসিকভাবে অস্বস্তি বোধ করত। বিষয়টাকে সে খুব একটা পাত্তা দিত তা নয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল এরকম: তোমাকে যদি তল্লাশির ভেতর দিয়ে যেতে হয় তাহলে তুমি নিশ্চয় বড় মাপের মানুষদের…