Author: অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সংস্কৃত নামক একটি ভাষার অপমৃত্যু এবং একটি আশঙ্কাজনক পোস্টমর্টেম রিপোর্ট

sanskrit-large

ভুল, এক্কেবারে ভুল তত্ত্ব মিথ হয়ে আছে। সংস্কৃত ভাষা মানুষের মুখের ভাষা নয়, দেবতাদের মুখ-নিঃসৃত ভাষাও নয় – তাই এটি দেবভাষাও নয়, সংস্কৃত লিপিও দেবনাগরী নয়। সংস্কৃত ভাষা অখণ্ড ভারতবাসীর আদি ভাষা নয় । সংস্কৃত বহিরাগতদের সৃষ্ট একটি কৃত্রিম বা বানানো ভাষা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। সংস্কৃত ছিল এই প্রাকৃত যুগের সমসাময়িক সাহিত্যিক ভাষা মাত্র। পতঞ্জলির কথিত শিষ্ট বা ব্রাহ্মণ্য সমাজে এর প্রচলন থাকলেও জনসাধারণের মধ্যে যে এর কোনোই ব্যবহার…

হিপ্নোটিজম বা সম্মোহন কী বিজ্ঞানসম্মত, নাকি সবটাই বুজরুকি!

Anirban Bandopoddhay

সম্মোহন আর হিপ্নোটিজম বিষয়টি পুরোপুরি একই না-হলেও অনেকটাই কাছাকাছি বিষয়। গ্রিক Hupnoo শব্দটি থেকে হিপ্নোটিজম শব্দটির উৎপত্তি। Hupnoo মানে ঘুম(to make sleep)। Oxford Dictionary বলছে, “an unconscious state in which somebody can still see and hear and can be influenced to follow commands or answer questions…

সরস্বতী কি যৌনপ্রতিমা?

sarasvati-v2

মা সরস্বতী দেবী সাদা বসনে সজ্জ্বিত, মনের সকল মলিনতা দূর করে পুজো করতে হয়। পুজোর দিন ছাত্রছাত্রীরা সকালে পূজার অঞ্জলি দেওয়ার জন্য সববেত হন। পুজোর পরদিন পুনরায় পুজোর পর চিড়ে ও দই মিশ্রিত করে দধিকরম্ব বা দধিকর্মা নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায়…

সমকাম, সমকামী এবং সমকামিতা: চোখ বন্ধ রাখলে প্রলয় থেমে থাকবে না

Anirban Bandopoddhay

ভারতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্রের শীর্ষ আদালত জানাল, সমকামিতা অপরাধ৷ বদলে গেল ২০০৯ -এ দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের পর তৈরি হওয়া ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বিলোপের আশা৷ কোনও ব্যক্তির নিজের পছন্দমতো যৌন সঙ্গী বেছে নেওয়ার একান্ত মৌলিক অধিকারে সুপ্রিম কোর্টের রায় বড়সড় এক আঘাত বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল৷ কারও কারও মত, শীর্ষ আদালতের রায় কার্যত ধর্মীয় মৌলবাদীদের কাছেই আত্মসমর্পণ৷ কারণ, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মৌলবাদী সংগঠনগুলি দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতায় কোমর বেঁধেছিল৷ তারাই সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি হাইকোর্টের রায় বাতিলের আর্জি পেশ করেছিল৷ ২০০০ সালে প্রকাশিত ল’ কমিশনের ১৭২ নম্বর রিপোর্টেও ৩৭৭ ধারা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল৷ কিন্তু সরকার এক দশকেরও বেশি সময়ে এ বিষয়ে…

নিছক গোরুর রচনা, গো-মাতা এবং হিন্দুগণের রসনা বিড়ম্বনা

সম্প্রতি স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা সমগ্র পড়ে আমি চমকে গেলাম। গ্রন্থের একটি অংশে স্বয়ং বিবেকানন্দ বলেছেন, একদা হিন্দুগণ গো-মাংস ভক্ষণ করত। আর দেরি নয়, খোঁজ-তালাশ লাগানো শুরু করে দিলাম। কে দেবে এই তথ্যের সত্য সন্ধান ? অবশ্যই প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ এবং সাহিত্যগুলি সেই উত্তর দিতে পারে, এটা আন্দাজ করে বেদ সহ অন্যান্য বইপত্তর নিয়ে বসে পড়লাম। ও হরি! এ তো দেখছি কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! আসুন, শেয়ার করি: বাল্মীকি বিরচিত রামায়ণের আদি ও অযোধ্যাকাণ্ড খুলে দেখুন সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে — “রাম গোমাংস ভক্ষণ করিতেন”| বনগমনের পথে রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে উপস্থিত হলে মুনিবর বৃষ এবং ফলমূল দিয়ে তাদের ব্যবস্থা করেছিলেন (বাল্মীকি রামায়ণ ২:৫৪)| পৌরাণিক যুগে গোরুর মাংস খাওয়ার প্রত্যক্ষ এবং বিস্তারিত প্রমাণ রামায়ণের তুলনায় মহাভারতে অনেক বেশি। বলা হয়েছে…