সতীনের সালুনে নুন

minar rashid মিনার রশিদ এক লোকের দুই বউ। একাধিক স্ত্রী রাখার মধ্যে যে রোমাঞ্চ বা ফায়দা তা এই বেচারার কপালে খুব একটা জুটে নি । বরং দুই সতীনের দ্বন্দ্বে তার জীবনের সকল হিসাব এলোমেলো বা অসমানুপাতিক হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক মাত্রার খাবার এখন আর পেটে পড়ে না। সালুনে কখনও মরিচ বেশি, কখনও নুন বেশি, কখনও পানি বেশি।

এসব কারনে হতাশ হয়ে এই বেচারা বাংলাদেশের সুশীলদের ফর্মূলা প্রয়োগ করে। অর্থাৎ এক সঙ্গে অপরাধী নিরাপরাধী নির্বিচারে দুই বউকেই সমান হারে পেটায়।

তাতে সমস্যার সমাধান না হয়ে আরো জটিল হয়ে যায় । অবস্থা এখন সত্যিই ভয়াবহ। খাবার আর মুখে দেওয়া যায় না। এমন তিতা যে মুখে দিলেই বমি আসে। এবার মনের অবস্থা লুকিয়ে একটু ভিন্ন কৌশল গ্রহন করে। ঠান্ডা মেজাজে বলে, ‘গত কয় দিন সালুনে নুন ছিল বেশি। আর আজকে মনে হচ্ছে নুন একেবারেই দেয় নি।’

সতীন জব্দ হয়েছে ভেবে খুশীতে উৎফুল্ল হয়ে অন্যজন বলে, ‘ভাগ্য ভালো যে আমি কিছু নুন ঢেলে দিয়েছিলাম। তা না হলে তো আপনি আজ খেতেই পারতেন না।’

কুটনী ধরা পড়ে যায়। তখন চুলের মুৃঠি ধরে বলে, শালির বেটি শালি। তুই ই তাহলে সালুনে নুন ঢেলে এই কান্ডটি করেছিস?

বিরোধী দলের অবরোধের সময় যানবাহনে পেট্রোল বোমা মারা দেখে উপরের গল্পটি মনে পড়ে যায়। মিডিয়া, সুশীল সমাজ এবং মানবতার মৌসুমী ইজারাদাররা একযোগে এবং একই ফ্রিকোয়েন্সিতে কোরাস শুরু করায় সন্দেহটি কেন যেন আরেকটু বেড়ে গেছে।
সতীনের সালুনে নুন ঢালার মতই এই কাজটি সরকারের বিভিন্ন (সরকারী ও বেসরকারী) এজেন্সি করছে বলে বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে। সকল আলামত দেখে বিরোধী দলের এই অভিযোগকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিরোধী দলের আন্দোলনকে প্রতিহত করার কোন নৈতিক বল এই সরকারের আসলেই নেই। এখন একমাত্র উপায় উপরের কুটনা সতীনের কূটকৌশল।

এতে সঙ্গী হয়েছে ততোধিক চিকনা বুদ্ধির বশংবদ মিডিয়া। আগুনে পোড়ানো ঝলসানো বনি আদমদের শরীর প্রদর্শন করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ঠেক দিতে চেষ্টা করছে। কিন্তু ঠেক কতটুকু লাগবে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অবস্থা এতটুকু বেগতিক যে নানককে ইউ টিউব আর ফেইসবুকের বিরুদ্ধে মনে হয় মামলা করতে হবে। কারন মির্জা আজম ও নানকের বাস পুড়িয়ে মানুষ মারা সম্পর্কে শেখ সেলিমের স্বীকারোক্তিটি ইউ টিউব ও ফেইস বুকে ছড়িয়ে আছে। কাজেই ঝলসানো মানুষের ছবিকে মোজা বাবুরা যখন সোজা বিএনপি জামায়াতের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়েছে, তখন লীগের সোনার ছেলে বা মেয়েরা আর কি বসে থাকতে পারে?

মিডিয়ার মোজা বাবুরা সোজা নিজের দুই কান কেটে ফেলে রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এভাবে গাজর আর লাঠি (Carrot or stick policy) দিয়ে সরকার মিডিয়ার মুখ বন্ধ করে রেখেছে । কুটনা সতীনের চিকনা বুদ্ধির মত সরকারের এই চিকনা বুদ্ধিও বুমেরাং হয়ে পড়বে। কারন এটি ফেইস বুক, টুইটার ও ইন্টারনেটের যুগ। সরকার কয়েকটি হাতি (প্রিন্ট ও টিভি চ্যানেল) কে কব্জা করলেও হাজার হাজার আবাবিল পাখির আক্রমনের কাছে অসহায় হয়ে পড়বে। মিথ্যা ছাপিয়ে সত্য তার আপন শক্তিতেই বেরিয়ে আসবে।
আগুনে ঝলসানো মানুষের এইসব ভয়ানক ছবি দেখে কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষে ঠিক থাকা দায়। কারো যদি এই সব অসহায় মানুষের প্রতি সত্যিকারের দরদ থাকে তবে তাকে সমস্যার রুট কজ এনালাইসিস করতে হবে। কিছু প্রশ্নের জবাব অবশ্যি বের করতে হবে। এখানে মূল প্রশ্ন গুলি হলো, জাতিকে এই জায়গায় আজ কে বা কারা নিয়ে এসেছে?

কে বা কারা সরকার পরিবর্তনের স্বাভাবিক রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে? এদের এই সব স্বপ্ন, ফ্যান্টাসি, লোভ ও হঠকারিতার অসহায় শিকার এই নিরীহ বনি আদমগুলি।