অপার হয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়!

গোলাম মাওলা রনি ঢাকার বাতাসে এখন আর বারুদের গন্ধ তেমন একটা নেই। তবে পোড়া মানুষের গন্ধ দিনকে দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে যাচ্ছে। আগেকার দিনে গ্রামবাংলার শ্মশান ঘাটে মাঝে-মধ্যে পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যেত। হিন্দুরা মারা গেলে তাদের লাশ দাহ করা হতো। মরা মানুষের শরীরে তার আৎদীয়-স্বজনরা ঘি, তেল এবং সুগন্ধি মেখে চিতার ওপর শুইয়ে দিত। তারপর যখন জ্বলন্ত চিতায় সেই লাশ পুড়ে ছারখার করা হতো তখন লোকালয়ের বাসিন্দারা চিতার গন্ধ তেমন একটা পেত না। কারণ শ্মশানঘাট সাধারণত লোকালয় ছেড়ে বহু দূরে নদীর কিনারে এমন জায়গায় স্থাপন করা হতো সেখানকার মৌসুমি বাতাস কিংবা শীতকালীন বায়ু কোনোমতেই লোকালয়ে প্রবাহিত হতো না- চলে যেত বনবাদাড়ে, পাহাড়-সমুদ্র কিংবা ফসলি জমির দিকে। বনের পশু, নদীর কুমির এবং ফসলি জমির কীটপতঙ্গরা মানুষের লাশের পোড়া গন্ধ শুঁকতো এবং আহাজারি করত।

আমাদের ঢাকা মহানগরীর আদি শ্মশানঘাটটি কোথায় তা আমার জানা নেই। কিন্তু নতুনটি যে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট সে ব্যাপারে অন্যদের মতো আমারও কোনো দ্বিমত নেই। পুরান শ্মশানে যেত মরা লাশ আর নতুনটিতে আছে জীবন্ত লাশ। বড়ই বীভৎস, বিবর্ণ আর মর্মান্তিকভাবে পোড়ানো লাশ। ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ সব বয়সী মানব-মানবীর লাশগুলোকে একটু জায়গা করে দেওয়ার মতো স্থান বোধহয় সেখানে আর অবশিষ্ট নেই। আমার চিত্ত বড়ই দুর্বল। কোনো ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে পারি না। বেশ কয়েকবার জীবনবিরুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মহানগরীর নতুন শ্মশানঘাটে পা বাড়াতে সাহস পাইনি। পত্রপত্রিকা বা টেলিভিশনে যতটুকু দেখেছি তাতেই হৃদয়-মন ভেঙে গেছে। বার বার শুধু প্রিয়জনের কথা মনে পড়ছে আহা! ওই মানুষগুলোর প্রিয়জনেরা না জানি কতটা কষ্ট পাচ্ছে।

সরকারি ম“পুষ্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো বেশ ঘটা করে হররোজ ঘন ঘন বার্ন ইউনিটের মর্মবিদারী কান্না এবং পুড়ে যাওয়া মানুষের বেদনার্ত হাহাকার প্রচার করছে। উদ্দেশ্য- বিরোধী দলের প্রতি জনগণের ঘৃণা জাগ্রত করা। অথবা যারা এসব কুকর্ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে এমনভাবে ক্ষেপিয়ে তোলা যাতে করে বিক্ষুব্ধ জনতা দল বেঁধে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে দা-বঁটি-খোন্তা, কুড়াল-কোদাল নিয়ে বিরোধী দলের লোকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং আচ্ছামতো ধোলাই দিয়ে হরতাল-অবরোধের সাধ মিটিয়ে দেয়। মিডিয়াগুলোর ব্যাপক প্রচারের কারণে হিতে বিপরীত হয়ে যাচ্ছে। প্রথমত, জনগণ ভয় পেয়ে যাচ্ছে। তারা খুব ঠেকায় না পড়লে বাইরে বের হচ্ছে না এবং সব ধরনের যানবাহন পরিহার করার চেষ্টা করছে। ঢাকার রাস্তায় সচরাচর যে যানবাহন চলে বর্তমানে দিনের বেলায় দশ শতাংশও চলছে না। অন্যদিকে রাতেরবেলায় এই সংখ্যা নেমে আসে দুই শতাংশে।

দেশের সংকট দিনকে দিন বাড়ছে। সরকারের শক্তিমত্তা, গ্রহণযোগ্যতা, নৈতিক ভিত্তির জায়গাগুলো আলগা করে দিচ্ছে কট্টরপন্থি সরকার সমর্থক লোকজন এবং সংবাদ কর্মীরা। তারা টেলিভিশনের সংবাদ, টকশো কিংবা সংবাদ পর্যালোচনামূলক অনুষ্ঠানগুলোতে বিরোধী দলবিহীন সংসদ এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে যতবার যুক্তি প্রমাণ দিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করছে ততবারই জনগণের মনমানসিকতা সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। তা ছাড়া যেসব লোক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করছে তাদের বেশির ভাগই জাতির কাছে হয় অপরিচিত নয়তো অগ্রহণযোগ্য। তাদের যুক্তিহীন একপেশে কথাবার্তা সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকার মানুষজনরা কেমন যেন স্থবির, নিস্তব্ধ এবং দিনকে দিন বেকুব হয়ে যাচ্ছে। তারা যে কী চান তা যেমন বলতে পারছেন না, তদ্রূপ কী যে চান না তাও প্রকাশ করতে পারছেন না। একজন বুদ্ধিমান, সম্ভ্রান্ত এবং উচ্চশিক্ষিত মানুষ বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ন্যক্কারজনক অপমানের শিকার হলে তিনি যেমন কথাটি কাউকে বলতে পারেন না ঠিক তেমন অবস্থা হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশের শিক্ষিত শহরবাসীর। দুটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ধরুন আপনি ৩৩ বছরের অসাধারণ তরতাজা এক যুবক। অতীব সুদর্শন এক বাঙালি যুবক। আপনার জন্মের পর থেকেই পিতা-মাতার সঙ্গে আপনি ইংল্যান্ডে বাস করে আসছেন। আপনার বাবা-মা ইংল্যান্ডের অভিজাত সমাজের বাসিন্দা। আপনাকে পাক্কা সাহেব বানানোর জন্য অক্সেফার্ডে পড়িয়েছেন। ব্রিটিশ রয়্যাল মিলিটারিতে কমিশন রাঙ্কে চাকরি দিয়েছেন। বর্তমানে আপনি ব্রিটিশ আর্মির মেজর। আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে এক জেনারেলের মেয়ের সঙ্গে। কিন্তু আপনি বেঁকে বসেছেন- কিছুতেই বাঙালি নারী ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবেন না। ফেসবুকে বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলের এক কলেজপড়ুয়া শ্যামল বর্ণের মেয়ের সঙ্গে আপনার ভাব হয়ে গেল। মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার আপনাকে পেয়ে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো আনন্দিত হয়ে পড়ল। আপনার পিতা-মাতা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আপনার দাবি মেনে নিল।

বাংলাদেশের কৃষ্ণ সুন্দরী পল্লীবালার নাম কুসুম। আপনি সারা দিন বাংলার জাতীয় সংগীত গান আর কুসুমের কথা ভাবতে ভাবতে চোখের পানি ফেলেন। আপনার আবেগমিশ্রিত আনন্দাশ্র“ কেবল কুসুমকে কাছে পাওয়ার জন্য নয়, বাংলা মায়ের সবুজ শ্যামল দৃশ্য নিয়ত আপনার চিত্তে দোলা দিতে দিতে আপনার চোখকে অশ্র“সজল করে তোলে। আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন ইংল্যান্ড থেকে সম্পূর্ণ একাকী এসে সাধারণ মানুষের মতো পাবলিক বাসে করে আপনি কুসুমের বাড়ি যাবেন। কুসুমদের পরিবারকে আপনি বিষয়টি জানালেন না, আপনার ইচ্ছা কোনো এক পূর্ণিমার রাতে আপনি হঠাৎ করে প্রিয়তমার গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দেবেন।
পরিকল্পনা মতো আপনি পর্যাপ্ত ডলার পাউন্ড এবং বহনযোগ্য মালসামান নিয়ে বাংলাদেশে চলে এলেন। এর পর বাসে করে রওয়ানা দিলেন কুসুমদের বাড়ি- উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা জেলায়। আপনার বাস গিয়ে একটি গ্রাম্য বাজারে থামাল সূর্য ডোবার ঠিক ৩০ মিনিট আগে। আপনি জানেন যে, ওই বাজার থেকে গ্রামের মেঠোপথ ধরে টানা এক ঘণ্টা হাঁটলে আপনি কুসুমদের বাড়ি পৌঁছতে পারবেন। উত্তেজনায় আপনার হাত-পা কাঁপছিল। আপনি গ্রাম্য বাজার থেকে চা-শিঙ্গারা খেয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে টুকটাক আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে লাগলেন। উপস্থিত লোকজন আপনার ব্যাপারে প্রবল উৎসাহী হয়ে উঠল কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের কারণে কেউ কোনো প্রশ্ন করতে সাহসী হলো না। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আপনি রওয়ানা করলেন কুসুমদের বাড়ির দিকে। ইতিপূর্বে স্কাইপে কুসুমের সঙ্গে আলাপ করে আপনি তাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাঘাট সব জেনে নিয়েছিলেন। সে মতে গুগল আর্থে গিয়ে বাড়ির লোকেশনটিও দেখে নিয়েছিলেন। ফলে ভরা সন্ধ্যা রাতের ভরা পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় আপনি এগুতে থাকলেন ওই গ্রামেরই একজন অভিজ্ঞ মানুষের মতো।
মেঠোপথটি একটি জায়গায় এসে শেষ হলো। এর পর একটি বাঁশঝাড়। সেটি পেরুলেই বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। আর মাঠের ওপারেই কুসুমদের বাড়ি। আকাশে পূর্ণ চাঁদের আলো- জমিনে বসন্তের বাতাস। ফসলি মাঠের পাগলকরা দৃশ্য এবং অদূরে আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে কুসুমদের বাড়ি। আপনি মাঠের কিনারে থমকে দাঁড়ালেন। প্রাণ খুলে দরাজ গলায় গাইতে শুরু করলেন- ‘আমার সোনার বাংলা। আমি তোমায় ভালোবাসি।’ হঠাৎ অদ্ভুত এক শব্দে পেছন ফিরে দেখলেন তিনটি বেশ বড় আকৃতির রামছাগল হেলেদুলে আপনার দিকে এগিয়ে এলো। আপনাকে আশ্চর্য হওয়ার সুযোগ না দিয়ে ছাগল তিনটি মানুষের ভাষায় বলে উঠল- কিরে বলদা! কেমন আছস। ডলার পাউন্ড যা কিছু আছে তাড়াতাড়ি বাইর করে দে। বিস্ময়ের ঘোরে আপনার তখন সংজ্ঞা হারানোর মতো অবস্থা। আপনি অবোধ বালকের মতো আপনার অর্থকড়ি ছাগলগুলোকে দিয়ে দিলেন। ছাগলরা অট্টহাসি দিয়ে চলে যাওয়ার পূর্বে দুই পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়াল এবং একটি ছাগল এগিয়ে এসে আপনার বুকের ওপর সামনের দুপা রেখে আপনাকে খুব করে চেটে দিয়ে মিহি সুরে বলল- ওরে আমার পিরিতের বলদা পাখি রে! এর পর আপনি চলে গেলেন কুসুমদের বাড়ি আর রাম ছাগলরা হারিয়ে গেল বাঁশঝাড়ে। এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন আপনার এই দুর্ঘটনার কথা কাকে, কখন, কীভাবে বলবেন?

আরেকটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে মূল প্রসঙ্গে চলে যাব। শৈশবকাল থেকেই আপনি পুরুষ জাতির একটি মারাৎদক বদঅভ্যাসকে প্রচণ্ড ভয় ও ঘৃণা করে আসছেন। আপনি শুনেছেন বাংলাদেশের বিশেষ জেলায় পুরুষদের নাকি ওই অভ্যাস একটু বেশি পরিমাণ রয়েছে। আর তাই পুরুষ এবং বিশেষ করে ওই জেলার পুরুষদের সঙ্গে আপনি জীবনে কোনো দিন একান্তে কাটাননি। এভাবে আপনার জীবনের ৫০টি বছর চলে গেছে আর বর্তমানে আপনি অর্থ-বিত্ত-বৈভব এবং মানসম্মানে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আপনি একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিতে যাচ্ছেন। আলোচনার বিষয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং আৎদরক্ষার অভিনব কৌশল। যাত্রাপথে ব্যাংকক এয়ারপোর্টে এক সুদর্শন ভদ্রলোকের সঙ্গে ক্ষণিকের পরিচয়ে আপনার খুব ভাব হয়ে গেল। কানেকটিং ফ্লাইটের জন্য আপনাকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে বিধায় আপনি বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এয়ারপোর্টের অভ্যন্তরে ৮ ঘণ্টার জন্য হোটেল রুম ভাড়া করলেন। আপনার সদ্য পরিচিত বন্ধুটির ফ্লাইট তিন/চার ঘণ্টা পর। আপনি ভদ্রতা করে তাকেও রুমে নিয়ে গেলেন। এর পর কী হলো আপনার কিছু মনে নেই। আপনি হোটেলের বিছানায় শুয়ে অনুভব করলেন কোমর এবং পশ্চাৎদেশে তীব্র ব্যথা আর আপনার সঙ্গীটি উধাও। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন ফ্লাইটের মাত্র এক ঘণ্টা বাকি। তাড়াতাড়ি গোসল করে ফ্লাইট ধরলেন বটে কিন্তু কোমরের ব্যথায় আপনার তখন জান যায় যায় অবস্থা। ঘৃণা, অপমান এবং আৎদ প্রবঞ্চনার একরাশ বেদনা নিয়ে আপনি ম্যানিলা পৌঁছলেন এবং যথারীতি বক্তৃতা মঞ্চে উঠলেন। আপনার গবেষণামূলক প্রবন্ধ পাঠ করার জন্য মাইকের সামনে দাঁড়ালেন। হঠাৎ লক্ষ করলেন দর্শক সারিতে আপনার গতকালের উপকারী বন্ধুটি বসে মুচকি মুচকি হাসছে এবং আপনাকে ভি চিহ্ন দেখাচ্ছে। তখন আপনার মনের অবস্থা কিরূপ হবে এবং সেই অবস্থা কার কার কাছে বর্ণনা করতে পারবেন?

ঢাকার নব্য শ্মশানের বাসিন্দাদের বেদনা শারীরিক এবং মানসিক। কিন্তু দেশের আপামর খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের অব্যক্ত মনোবেদনা যে কিরূপ তা কেবল ভুক্তভোগীরাই অনুভব করতে পারবেন- অন্য কেউ নয়। জনগণ আজ লাঞ্ছিত, অপমানিত, প্রতারিত এবং অত্যাচারিত। তারা তাদের দুঃখের কথা কাউকে বলতে পারছে না। অধিকন্তু তাদের সব দুর্ভোগের হোতারা তাদের সামনে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে যখন বলছে- আমার জনগণের কিছু হয়নি। তারা স্বাভাবিক আছে, ভালো আছে- তখন মানুষের অন্তর হু হু করে কেঁপে উঠছে। তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আকুল ও ব্যাকুল হয়ে তারা বর্তমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছে- এমনকি সর্বনাশের মাধ্যমে হলেও তারা কিছু একটা চাচ্ছে। প্রায় এক মাস হতে চলল সারা দেশে অবরোধ চলছে। লাখ লাখ কৃষক তাদের উৎপাদিত তরিতরকারি পচিয়ে ফেলছে বিক্রি করতে না পারার কারণে। লাখ লাখ পরিবহন শ্রমিক, মালিক, কর্মচারী হাত গুটিয়ে বসে আছে। দুই/চারজন যা একটু সাহস করে বের হওয়ার চেষ্টা করছে তারাই পেট্রলবোমার আঘাতে ঢাকার নব্য শ্মশানের বাসিন্দা বনে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত খাতের ছোট ছোট দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল কারখানা থেকে শুরু করে ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক কোটি লোকের বেতন কে দেবে? দেশের আপামর জনসাধারণ আজ রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেছে- তারা মুক্তি চায়। তারা পরিত্রাণ চায়, তথাকথিত ক্ষমতা দখলের ঘৃণ্য রাজনীতি থেকে বাঁচতে চায়। কিন্তু কোথাও কোনো আশার আলো দেখতে না পেয়ে অজানা এক শঙ্কা নিয়ে সর্বনাশের আশায় দিন গুজার করছে এবং সর্বান্তকরণে অভিশাপ দিচ্ছে।