কাঁচা মরিচের গুড়া

abstract_by_ileana_600px
সামছুদ্দিন অনেক দিন আমেরিকায় ছিলেন। দেশের বাইরে একটানা কিছুদিন থাকলে বাংলাদেশের মানুষের কয়েক ধরণের মানসিক রোগ দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু রোগের লক্ষণ হল – এক) এরা কথায় কথায় বলবে বাংলাদেশের সব লোক খারাপ, দুই) বাংলাদেশের লোক গুলো আসলে ভালো, রাজনীতিবিদরা খারাপ বলেই দেশের আজ এই অবস্থা, তিন) তার হাঁতে ক্ষমতা দিলে তিনি তিন দিনের মধ্যে এই সেই করে ফেলতেন (ধান গাছে গমচি ধরানো তাদের কাছে কোন ব্যাপারই নয়), চার) সারাক্ষণ দেশের জন্য একটা কিছু করতে হবে বলে সবসময়ই স্নায়ু চাপে ভুগেন, যার যত বেশী টাকা তার স্নায়ু চাপ তত বেশী, যাদের টাকা কম তাদের স্নায়ু চাপ কম হলেও কথা অনেক বেশী বলেন, পাঁচ) কথায় কথায় বিদেশের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করতে থাকেন, রাস্তায় গরু থাকলে নাকি পুলিশ এসে গরুকে থানায় নিয়ে যেত, এদেশের পুলিশরা কি করে, একটা গরুও কি রাস্তা থেকে সরাতে পারে না, এক ঘণ্টার জন্য কারেন্ট না থাকলে নাকি রাস্তায় লোক নেমে সরকারের পতন ঘটাত, রাস্তা খারাপের জন্য এক্সিডেন্ট হলে নাকি ইঞ্জিনিয়ার জেলে যেত আর যে কোম্পানি রাস্তা বানিয়েছে সেই কোম্পানিকে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হত, ছয়) …। সবকিছুর মূলে একটি কথাই থাকে – বিদেশ ফেরত লোকটি আর এই দেশের লোক নেই। সে এখন হাইব্রিড প্রজাতির উন্নততর মানুষ।

সামছুদ্দিন আমেরিকায় কি করতেন তা এখানে একেবারেই বিবেচ্য নয়। তার হাঁতে অনেক টাকা আছে। দেশে আসার পর থেকেই মানুষ জন যে ভেজালের যাঁতাকলে আটকা পড়ে আছে তা দেখে তার মন নিয়ত হুহু করে কাঁদে। জীবনে খাবারটা সবচেয়ে জরুরী। ভালো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো খাবার। আমেরিকায় কোন ভেজাল খাবার দিলে কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিতে দিতে দুই দিনেই দেওলিয়া হয়ে যেত। মানুষের জন্য তিনি কিছু করবেন। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন। চালে ভেজাল, ডালে ভেজাল, তেলে ভেজাল, মসলায় ভেজাল, পেঁয়াজে ভেজাল, …। তিনি ভেজাল ছাড়া কিছুই খুঁজে পেলেন না। তখন ভাবতে লাগলেন কিসে ভেজাল কম আর কিসে সবচেয়ে বেশী। এরকম কয়েকদিন ভেবে চিনতে ঠিক করলেন তিনি মরিচের গুড়া বানাবেন; বাংলাদেশের মানুষ আর মরিচ নাকি একই সূত্রে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। শুকনা মরিচের গুড়া না, কাঁচা মরিচের গুড়া। শুকনা মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ভালো না, আলসার জাতীয় নানা ধরণের পেটের অসুখ হয়।

তিনি নিজের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে কোম্পানি দিবেন ঠিক করলেন। এতে নিজের মানুষের কর্ম সংস্থান হবে। তিনি কোম্পানির সব কিছু শেষ পর্যন্ত করতে পারলেন। এদিক থেকে সামছুদ্দিন একেবারেই আলাদা। অন্যরা শুধু বলে, কিন্তু কিছু করা দূরে থাক, করার জন্য মাঠে নামতে পর্যন্ত পারে না। এই কোম্পানি দিতে গিয়ে সামছুদ্দিনের একটি ভয়ংকর উপলব্ধি হল – এদেশের মানুষের মধ্যেই সবচেয়ে বেশী ভেজাল। মানুষের কথায় ভেজাল, কাজে ভেজাল, চরিত্রে ভেজাল, রক্তে ভেজাল, …, মানুষের সবকিছুতেই ভেজাল। কিন্তু তাই বলে তিনি থেমে গেলেন না। মানুষকে পথ দেখাবেনই। পথ দেখাতে না পারলেও ভাতের প্লেটে ভেজাল মুক্ত গুড়ো মরিচ দেয়ার ব্যাপারে তিনি বদ্ধপরিকর।

কোম্পানি হওয়ার পর তিনি কিছু লোক নিয়োগ দিলেন। আত্নিয় থেকে একটু দূরে থাকলেন। আত্নিয় থাকলে কোম্পানির চেইন অফ কমান্ড ভেঙে যাবে। প্রয়োজনে তাদেরকে টাকা দিতে তার আপত্তি নেই, কিন্তু মানুষের প্লেটে যে কোম্পানি ভেজাল মুক্ত মরিচের গুড়া দিবে, সে কোম্পানির কিছু হোক এটা তিনি মানতে পারবেন না। যাহোক নিয়োগী লোকদের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি হলেন সোবহান, যিনি কাঁচা মরিচের গুড়ার অ্যাড তৈরি করবেন। এখনকার দিনে সাধু সন্ন্যাসীরাও নিজেদের গুণ নিয়ে অ্যাড দিয়ে থাকেন। জিনিষ ভালো হলেই লোকে কিনবে সেই দিন অনেক আগেই শেষ। এখানে তিনি আরেকটি সত্য উপলব্ধি করতে পারলেন – যে কোকের দাম পনের টাকা, তা বানাতে লাগে এক টাকা, দশ টাকা খেয়ে ফেলে অ্যাড-এর তারকারা, বাকিটা দিয়ে কোম্পানির লোকজনের বেতন, আর মালিকের লাভ। তিনি ভাবলেন যে করেই হোক তিনি এই অনুপাত কমিয়ে আনবেন।

সোবহান কে ডেকে বললেন মরিচের জন্য একটি সুন্দর অ্যাড বানাতে। সোবহান বললেন অ্যাড আগেই বানানো হয়ে গেছে, শুধু ওদের বিলটি দেয়া বাকী। তিনি একটু পরেই পেন ড্রাইভে করে অ্যাড এনে সামছুদ্দিন কে কম্পিউটার মনিটরে দেখালেন। সামছুদ্দিন কোন ভাবেই এডটি পছন্দ করতে পারলেন না। পুরো এড জুরেই একটি সেমি ফিরিঙ্গি মেয়ের হাঁটুর কাছে প্যান্ট আর উপরে গেঞ্জি পরে লাফানো ছাড়া আর কিছু নেই। সাথে প্রচণ্ড জোরে কিছু হিন্দি মেশানো বাংলা শব্দ। ইচ্ছে হল সোবহান কে খুব জোরে একটি চটকানা দিতে। অফিস বলে তিনি খুব গম্ভীর গলায় বললেন – এতে কাঁচা মরিচের কি আছে? আর আমাদের বাঙালি কালচারই বা কোথায়? সোবহান সবগুলো দাঁত বের করে বলল – স্যার, কাঁচা মরিচ দেখিয়ে যদি মরিচের গুড়া বিক্রি করতে হয় তাহলে পাবলিকরে কাঁচা মরিচের ভিডিও দেখানো লাগবে। সারাদিন নানা ঝামেলায় থেকে রাতে যখন টিভি ছাড়ল তখন যদি টিভিতে কাঁচা মরিচ দেখে তাহলে স্যার ওরা ক্ষেপে যাবে। এই ফিরিঙ্গী মেয়ের দিকে দর্শকের চোখ আটকে যাবে, জোরে ড্রামের শব্দে ওদের কানা তালা লাগবে, আর আধা হিন্দি আধা বাংলা বুঝতেই ওদের বুদ্ধি ব্যয় করবে। যখন পুরো কথাটি বুঝতে পারবে, তখন নিজের বুদ্ধির তারিফ করতে গিয়ে অ্যাডেরও তারিফ করবে। আমাদের গুড়া বিক্রি হবে দেদারসে। সামছুদ্দিন আবার একটু বলার চেষ্টা করল – বাঙালি কৃষ্টি? স্যার ওটা তো রমনায়, আগামি বছর আপনাকে বৈশাখী মেলায় নিয়ে যাব। আর আমরা তো কিছুতে না কিছুতে স্পন্সরও হব। সামছুদ্দিন আরো একটি প্রশ্ন করে বসল – এই এড বাংলাদেশে চলবে? স্যার পাবলিক এই এড খুব খাবে। এই মেয়েটারে দেখছেন, এ হচ্ছে এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল। আর স্যার পাবলিকরে যা খাওয়াবেন তাই খাবে। এখানে শুকনা মরিচের গুড়া বলে ইটের গুড়া দিচ্ছে, পাবলিক তাই দেখেন কিনে কিনে খাচ্ছে। সামছুদ্দিনের কোন ভাবেই খাওয়া শব্দটি পছন্দ হল না।

সামছুদ্দিনের ইচ্ছে ছিল রবীন্দ্রনাথের একটি গান দিয়ে একটি অ্যাড বানাবেন। গানটিও ঠিক করে রেখেছিলেন – “আমি কান পেতে রই আমার আপন হৃদয় গহন দ্বারে …”। একটি লম্বা ফর্সা শাড়ি পরা মেয়ে কোন প্রসাধন ছাড়া এই গানটি গুনগুন করে গাইবে আর রান্না করবে। তার মতে বাঙালি মেয়ে মানেই শাড়ি, হৃদয়, আর রান্না; আবহকালের এক শান্তির দূত। কিন্তু এখন আর সম্ভব না। কিছু হওয়ার আগেই অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। এডের জন্য সে সেমি ফিরিঙ্গী মেয়েকে নাকি অনেক টাকা দিতে হবে।

কাঁচা মরিচ গুড়ার কোম্পানি রেডি। কিছুদিনের মধ্যেই চালু হবে। সবাইকে নিয়ে মিটিং-এ বসেছেন সামছুদ্দিন। তার প্রথম কথাই হল কাঁচা মরিচের গুড়ায় কোন ভেজাল দেয়া হবে না। সবাই শুনে খুব খুশী, প্রকিউর ম্যানেজার সামছুদ্দিনের কথাকে আরো জোর দিয়ে বললেন – আমি বেঁচে থাকতে কোন ভেজাল জিনিষ এই কোম্পানি থেকে বের হবে না। সামছুদ্দিন খুশি হয়ে বললেন – হ্যাঁ তাই, আমরা দরকার পরলে একটি একটি করে মরিচ কিনব। একটুও ভেজাল থাকতে পারবে না। এবার প্রকিউর ম্যানেজার কেশে উঠেন – স্যার, কাঁচা মরিচের ব্যাপারটা আমার উপর ছেড়ে দিন। আপনি বাকী গুলো নিয়ে কথা বলুন। সামছুদ্দিন রেগে গিয়েও প্রকাশ করে না। জিজ্ঞেস করে – কেন মরিচ নিয়ে কথা বলব না?
– স্যার আপনি তো অনেক দিন বিদেশ ছিলেন, তাই মরিচ নিয়ে আপনার কোন আইডিয়া নেই।
– আমি বাইরে থাকলেই মরিচ নিয়ে কেন আইডিয়ার অভাব হবে?
– স্যার আসলে আমি সেটা মিন করিনি। আমি বলতে চেয়েছি কোম্পানির জন্য যে মরিচ কিনতে হবে তা নিয়ে আপনার কোন ধারণা নেই।
সামছুদ্দিন রাগে না। শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করে
– আমার ধারণা নেই, তো আপনি আমাকে বুঝিয়ে বলুন।
– স্যার কোম্পানির জন্য আমরা মরিচ কোথা থেকে কিনব, এলাকার লোকদের কাছ থেকে কিনতে হবে। বাজারে এখন মরিচের কেজি ষাট টাকা। আমরা কোম্পানির জন্য কিনতে গেলে পাঁচশ টাকা করে চাইবে।
– কেন?
– এলাকার নেতারা এর বাইরে হতে দেবে না।
– আমরা অন্য বাজার থেকে মরিচ কিনব।
– তাদের কাছ থেকে ছাড়া আমরা মরিচ কিনতে পারবো না।
– এত টাকা দিয়ে মরিচ কিনে কোম্পানি চলবে?
– চলবে স্যার। আমরা মরিচ পাঁচশ টাকা দরেই কিনব। কিন্তু কম কিনব। বাকিটা পাতা মিশাব।
– পাতা, এই না আপনি বললেন মরিচে কোন ভেজাল দিবেন না?
– জি স্যার, পাতা তো আর ভেজাল না, পাতা ন্যাচারাল। আমরা কোন ক্ষতিকর কেমিক্যাল দেব না।
– শুধু যদি মরিচ দিতে চাই?
– তাহলে স্যার আমাদের হাসপাতালের জন্য মরিচের পুড়িয়া বানাতে হবে। তিন গ্রামের পুড়িয়ার দাম এক হাজার টাকা। পাবলিকে মরার আগে মরিচের স্বাদ নিয়ে মরতে হবে, জ্যান্ত থাকতে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। স্যার একটি কথা মনে রাখবেন, যে জাতি যেমন তাকে তেমনি করেই চালাতে হয়, এটাই লিডারশীপ। ঘাষ খাওয়া জাতিকে আপনি পোলাও দিয়ে চালাতে পারবেন না।

সামছুদ্দিন আর পারে না। তিনি উঠে চলে আসেন নিজের রুমে। মিটিং-এর লোকজন চলে যায়। তিনিও বিকালে বেড়িয়ে বাজারের দিকে হাঁটতে থাকেন। একটি চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে যেতেই শুনলেন – মুরুব্বী সালাম। সামছুদ্দিন তাকিয়ে দেখেন বিশ একুশ বছরের একটি ছেলে চা খাচ্ছে। সালামটি তাকেই দেয়া। এই অভদ্রটা অন্যদিন হলে তিনি রেগে একটা কিছু করে বসতেন। আজ অনেক ধকল গেছে বলে সামছুদ্দিন সবই যেন মেনে নিতে পারেন। তাই এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন – তুমি কে?
– আমি মুরুব্বী এলাকার সব দেখে রাখি, এই আর কি! ত চাচা আপনার কোম্পানির জন্য মরিচের যা লাগে আমারে বলবেন। আমি সব দেখব আপনি চিন্তা করবেন না।
সামছুদ্দিন বসে পড়েন। ছেলেটি দোকানদার কে বলে – এই মুরুব্বীরে খুব গরম এক কাপ চা দে।
এক কাপ চা খেয়ে সামছুদ্দিন উঠে চলে আসেন। তিনি যেন ইঁদুর মারা কলে আটকা পড়ে গেছেন। পরের দুই দিন আর কোম্পানিতে যান না। তৃতীয় দিন গিয়ে দেখেন সবাই নিজের মতই কাজ করছে। তিনি প্রকিউর ম্যানেজার কে ডেকে নিজের অসহায় অবস্থা খুলে বলেন। ম্যানেজার খুব শান্ত ভাবে বুঝিয়ে বলেন – কোম্পানি স্যার চলবে। এখানে মরিচের সাথে আমরা মরিচের পাতা সহ গাছ দেব। কোম্পানির প্রয়োজনে ঘাসও দিব। পাবলিকের পেটে সব সইবে। আমরা না দিলে অন্যরা দিবে। সবই এক। তবে আমরা চেষ্টা করব বিষাক্ত কোন কেমিক্যাল না দিতে। আরো অনেক কথা বলে তিনি চলে গেলেন।

সামছুদ্দিন চুপচাপ বসে মনিটরে তাকিয়ে আছেন। সেখানে সেমি ফিরিঙ্গী মেয়েটা লাফাচ্ছে। তার মাথাটা একেবারে শূন্য। কিছুই দেখছেন না, কিছুই শুনছেন না। এমন সময় সামনের দরজা খুলে ঢুকে পড়ে তার পিএ, একটি অল্পবয়স্ক মেয়ে। মেয়েটি কেন জানি মুখে অনেক পাউডারের সাথে আরো কি কি জানি দিয়ে আসে। ওর দিকে তাকালেই সামছুদ্দিনের মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের একটি লাইন – “ভূতের মতন চেহারা যেমন”। মেয়েটি চেয়ারে বসে বলে – স্যার আপনাকে আমি কিছু বলতে চাই। সামছুদ্দিন এত ছোট একটি মেয়েকে কিছু বলতে পারে না। শুধু মাথা নাড়ে। মেয়েটি বলতে শুরু করে – স্যার আমি জানি আপনি কোম্পানির সততা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। এখন স্যার কোন উপায় নেই। সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা – এটা স্যার বইয়ের কথা। এর জন্য সবাইকে অনেক চর্চা করতে হয়। একটি জাতিকে অনেক সময় ধরে এর জন্য তৈরি হতে হয়। আপনি হঠাৎ করে চাইলেই হবে না। স্যার এইযে আমি মুখে অনেক কিছু দিয়ে আসি, যা আপনার দিকে তাকালেই বুঝি এ আপনার পছন্দ নয়। কিন্তু কি করব। আমাকে অনেক জায়গায় যেতে হয়, প্রয়োজনে কিনা জানিনা, না গেলে ওরা অন্যভাবে ঠিকই নিবে। আমার বিয়ের কথা হচ্ছে, আমি বলে দিয়েছি এখন বিয়ে করব না। আমি যদি সব সত্য সবাইকে বলে দেই, আমি সমাজে থাকতে পারব না। আপনি কোম্পানির সুনামের জন্য আমাকে চাকরিতে রাখবেন না। স্যার সততা মানে কি সত্যের প্রকাশ, নাকি মিথ্যেকে ঢেকে রাখাও সততা? সামছুদ্দিন কিছু বলতে পারে না, এত ছোট একটি মেয়ের কাছে কোন ভাবেই জীবনের এত ভয়ংকর কিছু আসা করেন নি। সাদা পাউডার দেয়া গালের উপর চোখের কাজল এসে মেয়েটিকে এখন সত্যিই একটি ভূতের মত মনে হচ্ছে। সামছুদ্দিনের দেখা সবচেয়ে সুন্দর একটি ভূত। নিজের অজান্তেই মেয়েটিকে সামছুদ্দিন তুই করে ডেকে ফেলেন – তুই ঠিকই বলেছিস। আমি তোর মত এত বুদ্ধিমান আর সুন্দর নই। মেয়েটি চোখ না মুছেই দরজা খুলে বেড়িয়ে গেল। সামছুদ্দিন তখনই ঠিক করে ফেলে – এ জাতিকে তিনি একদিন গোবর খাওয়াবেন। যে দেশের ছোট একটি মেয়ে এত সুন্দর করে কষ্টের কথা বলতে পারে, সে জাতির ভাগ্যে গোবর ছাড়া আর কিছু থাকতে পারে না।