সংখ্যালঘুদের শাপমোচন কি হবেই না

mina farah ম্যালকমের অমিয় উক্তি: মনটা যখন খুব খারাপ থাকে, সিভিল রাইটস আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ ‘ম্যালকম এক্সের’ একটি উক্তি আমাকে বাঁচিয়ে দেয়Ñ ‘তুমি কারাগারে গিয়েছ কি না প্রশ্ন করে কী লাভ, যে মুহূর্তে তুমি কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে জন্মেছ তোমার জন্মই হয়েছে কারাগারে।’ যখন আমার দণিা কালীমন্দিরসহ পৈতৃক বসতভিটাটি দখলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা রাজনৈতিক দানবদের সহায়তায় এর বিক্রি এবং হস্তান্তর বন্ধ করতে ট্র্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইনজাংশন দিলো তখন আমিও মনে করেছিলাম, যে দিন সংখ্যালঘু পরিবারে জন্মেছি সে দিনই আমাদের ভাগ্যে নির্যাতন নির্ধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্ন করে কী লাভ! রামু, রমনা কালীমন্দির, বিশ্বজিতের মতো সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর জন্য বিচার পাওয়ার আশা সংখ্যালঘুরা ৬৭ বছরেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। ’৭১-পরবর্তী ধর্মনিরপেতার আন্দোলনে কোনো সরকারই জনগণের মতামত আমলে নেয়নি, বরং নিজেদের সুবিধামতো সংবিধানে যোগ-বিয়োগ করে এমন সব স্ববিরোধী শব্দ চাপিয়ে দিয়েছে, যাতে সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গিবাদ দুটোই ফুঁসে উঠেছে। রমনা কালী থেকে পাকশি, বহুপ্রজাতির সংখ্যালঘুদের দেশে ৪৩ বছর ধরে গণতন্ত্রের নামে যে পরিমাণ সাম্প্রদায়িকতা হয়েছে, বিশ্বে নজিরবিহীন। অন্যেরা যারা অত্যাচার করে, ধর্মনিরপেতার দাবি করে না, ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। যা লিখেছি শুনে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং তথ্য-উপাত্তনির্ভর। শাসকগোষ্ঠী বারবার অস্বীকার করলেও বিষ্ঠার গায়ে ঢাকনা দিলে লাভ হয় না, প্রতিদিনকার মিডিয়াই প্রমাণ। সমস্যাটি দুই দেশের সীমান্ত। মাইগ্রেশনের অন্যতম কারণ নির্যাতন, নির্যাতনের মূলে ভূমি দখল। তাই যত দিন না ভূমি সমস্যার সমাধান চাইবে দিল্লি, তত দিন পর্যন্ত কোনো ডিপ্লোমেসিতেই নির্যাতন বন্ধ হবে না। সুজাতা-সুষমারা কেন সমাধানের বদলে সমস্যা, বুশ বিধ্বস্ত ইরাকের মতো আরো কয়েক দফা ঘা খাওয়ার পর টের পাবে বাংলাদেশীরা। সুজাতা ডিপ্লোমেসির কারণেই এরশাদকে সিএমএইচে রিমান্ডে নিয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আদায়। আমেরিকার নাম বিশ্বপুলিশ, কিন্তু পোস্ট কলোনিয়াল ভারতে বাংলাদেশের পুলিশ দিল্লি। ফরেন পলিসি বিষয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা এতটা স্থূল বলেই টকশোগুলোর ভয়ঙ্কর চেহারা। দিল্লি মনে করুক, কিন্তু সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ নয়। বিভিন্ন প্রজাতির সংখ্যালঘুরা কেন লঘু হতে হতে প্রায় মূল্যহীন, সেই আলোচনাই করব।
২০০১ সালে ১২ হাজার মাইল দূরে বসে যখন প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবর পেতাম, জোট সরকারের পতন চেয়েছি। স্যাটেলাইটের কল্যাণে এবার সরাসরি দেখছি সংখ্যালঘু নির্যাতন আরো কত নৃশংস! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বাহিনী একই নির্যাতন চালাত ইহুদিদের ওপর। রমনা কালী থেকে পাকশি, যতই দেখছি, প্রমাণ হচ্ছে, ধর্মনিরপেতার দোহাই দিয়ে তিন টার্ম আওয়ামী শাসনামলে এরা কত বেশি সাম্প্রদায়িক, এদের ওপর দ্বিতীয়বারের মতো ভর করেছে নাৎসি আদর্শ। ভূমিই সংখ্যালঘুদের এক নম্বর শত্র“। এই শাপমোচন কোনো সরকারের আমলেই হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না, কারণ দিল্লি-ঢাকা এদেরকে মানুষই মনে করে না। ৬৭ বছরে বাংলাদেশের প্রায় ৭ শতাংশ জমি অর্পিত হওয়ার মূলেও তাই। সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ভূমিদস্যুরা এতটাই বেপরোয়া, যেকোনোভাবেই হোক, উচ্ছেদের মাধ্যমে দখলই ওদের কাজ, এভাবেই স্বাধীন বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে মাফিয়া শ্রেণী, এই পদ্ধতিতেই প্রায় পাঁচ লাখ মুরগি ব্যবসায়ী রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হয়েছে। জোট সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য ভূমি দখল হলেও মহাজোটের আমলে সেটা ভূমি এবং নির্বাচন দুটোই দখল। ৬৭ বছরে ওপারের সংখ্যালঘুরা বেড়েছে কয়েকগুণ, এপারের সংখ্যালঘুরা সঙ্কুচিত হতে হতে প্রায় অদৃশ্য। পাকিস্তানের ২৪ ভাগ সংখ্যালঘু কমে ১ ভাগ হওয়ার কারণ ওরা সাম্প্রদায়িক, কিন্তু আমাদের অসাম্প্রদায়িক দেশে বারবার জঙ্গি হামলার মতো ঘটনাগুলো ঘটছে কেন? বুঝলাম জোট সরকার খারাপ, কিন্তু তিন টার্ম আওয়ামী আমলে লাখ লাখ হিন্দু কেন ভারতে গেল, আসুন গোড়ায় খুঁজি।

জায়োন বনাম বাংলা ভূমিদস্যুরা : জায়োনদের কবলে পড়ে ফিলিস্তিন আর বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা এক ও অভিন্ন। দুই দেশেই দখল, উচ্ছেদ, হত্যা। পার্থক্য একটাই, এখানে সাম্প্রদায়িকতা হয় ধর্মনিরপেতার নামে আর জায়োনরা খোলামেলাই বলে মুসলমানেরা তাদের শত্র“, জঙ্গিবাদ নিয়ে আমাদের মতো মিথ্যাচার নেই। এ দিকে মমতা-হাসিনার সংখ্যালঘু দরদের একমাত্র উদ্দেশ্য, ভোট। শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ সংখ্যালঘুর পশ্চিমবঙ্গে কোনো ঝুঁকিই নেবেন না মমতা। তবে মোদির পুশব্যাকের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ঘোষণা বনাম তিস্তার পানি আটকে দেয়ার মধ্যে ‘স্যাটানিক’ চরিত্র। শক্ত মেরুদণ্ডের সংখ্যালঘুদের দেশে বাবরি মসজিদের ঘটনার পর গুজরাটের ঘটনা হিন্দুত্ববাদী মোদিকে সমান বিতর্কিত এবং জনপ্রিয় করেছে; কিন্তু হিন্দুদের আওয়ামীনির্ভরতার কোনোই কারণ নেই, সেই পরিমাণ ভোটও তাদের নেই। তবু আওয়ামীপ্রীতির মূলে বরাবরই এই গোষ্ঠীকে ভুল বোঝানো হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ছাড়া এরা এতিমতুল্য। ফলে এরাও কী ভীষণ কাপুরুষ, দেশপ্রেমহীন, ৫০ বছরেও মেরুদণ্ড সোজা হলো না। শতাব্দীর নতুন ক্রীতদাস, সব অধিকার একটি দলের পায়ে সমর্পণ করে হাতে-পায়ে অদৃশ্য শিকল পরেছে। সংখ্যালঘুদের এ দেশে থাকার জন্মগত অধিকারের সাথে যুক্ত হয়েছে ভোটের ১০০ ভাগ শর্ত। ভোট দিলেও জ্বালাও-পোড়াও, না দিলেও। ম্যালকমের কথাই ঠিক, জন্মই হয়েছে বাংলাদেশে নির্যাতনের প্রশ্ন করে কী লাভ! ৪৩ বছরেও স্পষ্ট নয়, কে ধর্মনিরপে, কে জঙ্গি। অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশে ‘জঙ্গিবাদের’ উপস্থিতি কেউই ল করছে না। এই গণতান্ত্রিক জঙ্গিবাদ বর্তমান সরকারের নতুন আবিষ্কার। তবে খালেদাকে এ জন্য ধন্যবাদ, অন্তত খুব বেশি জোরগলায় ‘ধর্মনিরপেতার’ দাবিটি তিনি কখনোই করেননি, বরং আদর্শের অবস্থানে মুসলমান জাতীয়তাবাদ স্পষ্ট। তার মানে এই নয়, তিনি অসাম্প্রদায়িক নন। তবে এই দফায় যা ঘটল, কেষ্ট বেটাকে চিহ্নিত না করাটা বিএনপির জন্য মারাত্মক ভুল। ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে মন্দির ভাঙা এবং জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনাগুলো জনসমে তুলে ধরার দায়িত্ব ছিল বিরোধী দলের। এত প্রমাণ হাতে রেখেও খালেদা কেন নীরব, অন্তত আমার বোধগম্য নয়। তাদের উচিত উন্নত বিশ্বের মতো অপরাধগুলো ফাঁস করা। ডিজিটাল যুগে সব সম্ভব।

ভাওয়াল এস্টেটের দান করা রমনা কালীর ভূমি দখলে রাখা, বৌদ্ধবিহারে আগুন, মালোপাড়া, কালশী… প্রমাণ হলো সংখ্যালঘুরা কত বেশি মূল্যহীন ও অস্পৃশ্য। পুড়ে কাবাব হলেও ভোটের অভিশাপ থেকে মুক্তি নেই, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে যা ঘটল, জঙ্গিদের বারবার চিহ্নিত করছে মিডিয়া, কিন্তু কী লাভ? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় আরো সক্রিয় ভূমিদস্যুরা অধিক অপরাধে লিপ্ত। বহু নাটকের পর খালেদার হুঁশ ফিরেছে, তবে মা দুর্গা গজে নাকি ঘোড়ায় চড়ে বাংলাদেশে আসবেন, সেটাও বলে দেন হাসিনা। আর মমতার নামাজিদের সাথের ছবি পত্রিকায়, বিশাল হাজী ক্যাম্প বানিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সি-অফ করেন। এসবের উদ্দেশ্য কখনো ভোট, কখনো জমি কিংবা দুটোই। ভারতীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থা এ দেশের মতো নিকৃষ্ট না হওয়ার কারণ ভিন্ন আলোচনা। আমাদের জন্য ম্যালকমের কথাই ঠিক, এ দেশে হিন্দু হয়ে জন্মালে নির্যাতনের জন্য বিশাল কারাগারে জানমাল দুটোই বিছিয়ে রাখতে হবে। ৬৭ বছর ধরে প্রত্যেক শাসকের আমলেই সংখ্যালঘু নির্যাতন ধাপে ধাপে বেড়েছে। তবে বারবার মন্দির ভাঙার ঘটনা ৬৫-কেও হার মানিয়েছে। তখন বিরতি দিয়ে ভাঙত, এখন বিরতিহীন। উর্দিপরা শাসকেরা সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে কখনোই মিথ্যাচার করেনি। পরিত্যক্ত বাড়িঘর, মন্দিরে তালা দিয়ে ঘোষণা করেছে শত্র“সম্পত্তি; কিন্তু উর্দির বদলে এবার শাড়িপরা শাসকেরা সংখ্যালঘু নির্যাতন হলেই ধর্মনিরপেতার প্রোপাগান্ডা চালায়। আর এ কাজটিতে আওয়ামী লীগ অনন্য ও অদ্বিতীয়।

৬৪-৬৫তেও এত সংখ্যালঘু নির্যাতন দেখিনি। তখন পানাম সিটি, নোয়াখালী, বরিশাল, পুরান ঢাকার মতো দাঙ্গার ঘটনাগুলো সীমিত আকারে, বরং অধিক হিন্দু দেশ ছেড়েছে ’৭১-এর পর। প্রফেসর বারকাতের বইটিতে অর্পিত সম্পত্তি আর মাইগ্রেশনের ভয়াবহ পরিসংখ্যানগুলো ৬৭ বছরের নির্যাতনের বিশাল ক্যানভাস। আমাদের সমস্যা আমরা এমন অশিতি, গণতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্রকে খদ্দের বনাম স্বামীর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছি। আমাদের চোখে স্বৈরতন্ত্রই এখন গণতন্ত্র। আর সেই সুযোগেই ফেরাউনরা এতটা অত্যাচারী। আমরা জানি, এপারের হিন্দুরা বরাবরই মেরুদণ্ডহীন; কিন্তু কেন এমন হলো, দিল্লি কখনোই জানতে চায়নি। বাস্তবে দেখা গেছে, একমাত্র আওয়ামী শাসনামলেই সংখ্যালঘু নির্যাতকেরা অসম্ভব বেপরোয়া হয়েও সরকারের আনুকূল্য পায়। এরা জাদুর কাঠি দিয়ে বোঝাতে পেরেছে একমাত্র আওয়ামী লীগই সংখ্যালঘুদের বন্ধু, বাকিরা শত্র“।

বাস্তবে ’৭১-এর পর আওয়ামী লীগই সর্বপ্রথম মাঠে। অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণার মাধ্যমে তত দিনে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুটপাট করা শেষ। রমনা কালী থেকে পাকশি… প্রতিটি ঘটনার উদ্দেশ্যই ভূমি দখল। সংখ্যালঘুদের গায়ের জোরে দুর্বল বানিয়ে ওরা দোর্দণ্ড প্রতাপশালী হওয়ায় দেশত্যাগের সাথে ভূমি দখলের পরিসংখ্যান প্রায় সমান। বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের ভূমির মূল্য আকাশচুম্বী, ম্যানহাটনের চেয়ে বেশি। সুতরাং সংখ্যালঘু উচ্ছেদ করে দখলই রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়। ’৭১-পরবর্তী রানা প্লাজার মতো হঠাৎ গজে ওঠা গার্মেন্ট শিল্প যার ভিত্তিই প্রতিযোগিতা দিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখল। প্রায় ৯০ ভাগ শিল্পকারখানার জমিই হয় পানির মূল্যে, নয় দখলকৃত। প্যালেস্টাইনিদের ভূমিও ক্রমাগত দখল করে বসতি গড়ছে জায়োনিস্টরা আর রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করে ভূমি দখলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বুদ্ধবাদীরা। মৌন থেকে আশকারা দিচ্ছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অশান্তির রানী, অং সান সুকি। বলছি, সংখ্যালঘু নির্যাতনের আন্তর্জাতিক ক্যানভাসে ’৭১-পরবর্তী বাংলা জায়োনিস্টরা ইহুদিদের চেয়ে কোন অংশে কম? তুলনামূলকভাবে এ দেশের ইতিহাস অনেক বেশি জটিল ও সাম্প্রদায়িক। রানা প্লাজার দখল করা জমি নিয়ে ভিকটিম পরিমল বাবুর কত কেচ্ছা-কাহিনী মিডিয়ায় এলো, কিন্তু অসাম্প্রদায়িক চেতনার সরকার কোনটার বিচার করল? সংবিধানকে স্ববিরোধী বানিয়ে জঙ্গিবাদের মুখোশে এভাবেই চলছে নির্যাতন।

ক এবং খ তফসিলের রচনা : উর্দিপরা ৬৪-৬৫ বুঝি, কিন্তু ’৭১-পরবর্তী সংখ্যালঘুদের অনিরাপত্তার ব্যাখ্যা চাই। দেশ বিভাগের পরও এই অঞ্চলে ভূমির মালিক বলতে তখন সংখ্যালঘুরাই। ’৭১ শেষ হতেই চামচিকার দেশে হাতেগোনা ভুঁইফোড় বিলিয়নিয়ার শিল্পপতিদের একেকজনের দখলে হাজার হাজার বিঘা, কারো পকেটে আশুলিয়া-গাজীপুরের বিরাট অংশ। কারো অর্ধশত গার্মেন্ট, কেউ আবাসন ব্যবসার টাকা রাখতে সুইস ব্যাংকে দৌড়ায়, কেউ পাঁচ হাজার বিঘা দখলে রাখতে নামমাত্র বৃদ্ধাশ্রম আর হাসপাতাল বানিয়ে রেখেছে। আমার প্রশ্ন, এই সম্পত্তি কি পৈতৃক সূত্রের? ’৫০-এর আইনে সরকারের দখলে বিপুল খাস জমির পর একদা হিন্দু মুখরিত দেশটিতে ’৬৫-এর শত্র“সম্পত্তি হজম করা শেষ না হতেই ’৭১-এর মাইগ্রেশনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় অর্পিত সম্পত্তি লুটপাটের শিরোমণি ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যরা, সংখ্যায় যারা প্রায় ৮৫ ভাগ, ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে রাজনীতি করে। পশ্চিমের বাঘা পত্রিকাগুলো আমাদের শিল্পপতিদের লুটপাটের খবর ছাপায়। সংসদে বাংলা দাউদ ইব্রাহিমদের স্বার্থে ইচ্ছামতো আইন যোগ-বিয়োগ হয় যেমন, ক. এবং খ. তফসিলের আইন। যে উদ্দেশ্যে আইন বানানো হলো, সাথে সাথে বুমেরাং। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর মতো প্রায় পাঁচ লাখ মামলার সৃষ্টি হলে মাইনাস হলো খ, বাকি থাকল ক। ক-এর তেমন মুরোদ নেই যত দিন না গডফাদাররা থাকবে কি থাকবে না মীমাংসা হয়। এই মীমাংসা জীবনেও হবে না, কারণ সর্ষের মধ্যে ভূত। ঢাকা থেকে শ্রীপুর যাওয়ার পথে ভাওয়াল রাজার এই যে হাজার হাজার বিঘা সরকারের দখলে, একদা হিন্দু অঞ্চল আশুলিয়া বা সাভার যেতে ডানে-বাঁয়ে যা কিছু, এই যে লাখ লাখ সরকারি বাড়ি, অফিস-আদালত এবং জবরদখল মালিকানা… কাদের জমি? ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য ভোগ করেও হিন্দুরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমায় আর ক্রমাগত অস্তিত্বের পে লড়াই করে জিতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা, ক্যাপিটাল হিলের চোখে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, স্থান হয়েছে জাতিসঙ্ঘে। এই যে শত শত মালোপাড়া আর সাঁথিয়ার ঘটনা, কী করতে পেরেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সংগঠন? এরা ব্যস্ত আত্মপ্রচারে। এদের ধর্মীয় চর্চায় ঢাকের শব্দ আছে, ধর্মের শক্তি নেই। কয়েক দিন আগে টেলিভিশনে দেখলাম, এক চ্যানেলের মালিক নাকি ভাওয়ালের ১৫০ বিঘা জমি দখল করেছেন। আমি আর আশ্চর্য হই না কারণ, বিলিয়নিয়ার ভূমিদস্যুদের কাবে সব ক’টা গডফাদার না হলে ’৭১-পরবর্তী প্রায় পাঁচ লাখ মুরগি ব্যবসায়ীর এত দ্রুত সম্পদ কী করে সম্ভব? আর সংসদে মিনিটে জনগণের ৪৮ হাজার টাকা ধ্বংস করে সিলমারা গডফাদারদেরকেই সমর্থন জোগাচ্ছে শাড়িপরা উর্দি শাসকেরা। কুলাঙ্গারদের রার্থে এমন সব বক্তব্য রাখছে, সুবিচার প্রয়োগে আদালত পর্যন্ত বিব্রত। ইহুদি বংশোদ্ভূত বাম চিন্তাবিদ নোয়াম চমোস্কি বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের নামে পশ্চিমারা সবচেয়ে বড় ডাকাত, এদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কখনো শান্তি আসবে না।’ আমি বলব, সংখ্যালঘু ইস্যুটি নিয়ে আমি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যেকোনো রথী-মহারথীর সাথে বিতর্কে যেতে রাজি। আমি জানি, আমি জিতব এবং ওরা হারবে। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে কারো দেনা-পাওনা নেই।

৬৭ বছরে ওরা খুব ভালো করেই জেনেছে কিভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন করতে হয় (বাঙালি-অবাঙালি)। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকেরা যখন মন্দিরে দাঁড়িয়ে অসাম্প্রদায়িকতার ভাষণ দেন, ১০ হাজার মাইল দূরে বসেও আমার প্রচণ্ড হাসি পায়, কখনো কখনো রাগে গায়ে যন্ত্রণা হয়। ওরা ইংরেজদের মতো সুবিধাবাদী, এই ইস্যুতে কথা বলার যোগ্যতা নেই। আজ পর্যন্ত রমনা কালীকে ’৭১-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে না দিয়ে, মা দুর্গা গজে কিংবা উটে চড়ে বাংলাদেশে এলে সংখ্যালঘুদের কী লাভ? দেবী থাকবে কোথায়? তার তো স্থায়ী একটি ঘরও নেই। অর্থাৎ বিএনপি নয়, বরং আওয়ামী লীগই এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জনক। রমনা কালী দিয়ে শুরু, পাকশী দিয়ে আপাতত শেষ। কংগ্রেস সরকার আমাদের সর্বনাশ করেছে, প্রণব মুখার্জিদের উসকানিতেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও নির্যাতন দুটোই ঘটেছে। তারা যদি নির্বাচন পণ্ড না করত, মালোপাড়া, সাঁথিয়ার ঘটনা কখনোই কেন ঘটত না আমি সেই বিতর্কে যেতে রাজি। মুজিবই সর্বপ্রথম রমনা কালীর ভূমিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে আজ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত। এই উদাহরণ সাম্প্রদায়িকতার সবচেয়ে বড় প্রতীক, যা জামায়াত-শিবিরের গলায় আছে বলে দাবি করতে পারবেন না মুনতাসীর মামুনরা। ‘সরকার আওয়ামী হলে মন্দিরটি আজ পর্যন্ত কেন রাষ্ট্রের দখলে, কে জানতে চায়?’

এ দিকে বাবরি মসজিদ ভাঙার পরও সাম্প্রদায়িক মোদিকে সঙ্গত কারণেই ভোট দিয়েছে শক্ত মেরুদণ্ডের সংখ্যালঘুরা। আর মতায় থাকার জন্য মরিয়া হাসিনা যখন প্রতিটি ধর্মীয় নির্যাতনের পরেই বিচারের বদলে কোটি টাকার চেক নিয়ে হাজির হয়ে যান, আমি তখন এপারের মেরুদণ্ডহীনদের জন্য বিজেপির মতো আদর্শের রাজনীতির প্রয়োজন অনুভব করি। বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণেই ওপাড়ের সংখ্যালঘুরা আরো বেশি উজ্জীবিত, মোদিকে চেক-ব্যালেন্সে আসতে বাধ্য করেছে। ভোটের আগে বিজেপি তার ভুলের জন্য মা চেয়েছে; কিন্তু এত বড় সাম্প্রদায়িক ঘটনার পরও আমরা কি আজ পর্যন্ত বলতে শুনেছি, ‘রমনা কালীমন্দির ফিরিয়ে না দেয়ার জন্য দুঃখিত! বলতে পেরেছি কি, স্থায়ী মন্দির না হওয়া পর্যন্ত একটি ভোটও নয়’! কয়েকটা বড় পোস্টে চাকরি আর সুরঞ্জিত মার্কা মন্ত্রী বানালেই কি ইতর অবস্থা ঢাকবে? বিষয়টি এমন, এ দেশের সংখ্যালঘুরা পালিত শূকরের মতো, এদেরকে দিয়ে যা খুশি করানো সম্ভব। এই যে সারা দিন মাইকে ঘোষণা দিয়ে রামু-উখিয়ার দুর্ঘটনা ঘটাল, বিএনপি-জামায়াত যদি সত্যিই জড়িত থাকে তাহলে বিচার করল না কেন? হাসিনার সরকার তো আদালতপাড়ায় যেতে যেতে গিনিস বুকের রেকর্ড ভেঙেছে। অর্থাৎ হাসিনা জানেন (মহামতি লেনিনের ভাষায়), খোঁয়াড়ের সব ক’টা শুয়োরই তাদের।

দায়ী কে? সংখ্যালঘুদের দুরবস্থার জন্য দায়ী কি শুধুই তারা? যতবারই রামুর ঘটনা ঘটে, জঙ্গিদের নাড়ি-নত্র জানার পরও কামরুল আর মায়ার মতো লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বিএনপি-জামায়াতের ওপর। এই আচরণ একমাত্র জঙ্গিরাই করে, তাহলে আওয়ামী লীগ কি জঙ্গি! আগুন আসলেই কারা দেয়, একমাত্র অন্ধ ছাড়া মিডিয়ার কল্যাণে ১৭ কোটি মানুষ দেখেছে, কিন্তু তার পরও সব দোষ জজ মিয়ার। আমি কোনো দলের নই, কিন্তু আজ আমার একটি নৈতিক প্রশ্ন আছে। ’৭১-পরবর্তী জামায়াত-শিবির যদি রমনা কালীর জমি দখল করে নিজের ঘরে রিফিউজি বানিয়ে রাখত, ঘাদানির মতো লাখ লাখ ধর্মনিরপেতাবাদীরা কী ব্যাখ্যা করত? মন্দিরের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস না করার জন্য বহু তদবির সত্ত্বেও ’৭২-এর সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে জমিটি পার্কের হাতে কেন হস্তান্তর করল, উত্তর আওয়ামী লীগ কোনো দিনও দিতে পারবে না। তাহলে কে সাম্প্রদায়িক, কে গণতান্ত্রিক? এমনকি শিবির পর্যন্ত রমনা কালীর জমি দখল করেনি। অসাম্প্রদায়িক দেশে একটি রমনা বা বৌদ্ধবিহারের ঘটনা সরকার উৎখাতের জন্য যথেষ্ট বিস্ফোরক। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন গুম করতে কারা নির্যাতন করল, বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হওয়ায় বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো আর বিষ্ঠার গায়ে ঢাকনা দেয়া সমান। একমাত্র নির্যাতনের মাধ্যমেই তারা কাক্সিত ল্েয পৌঁছেছে অর্থাৎ সারা বিশ্ব জানল সংখ্যালঘু নির্যাতন করেছে বিরোধী দল। মন্দির ভাঙা কিংবা হিন্দুসম্পত্তি জ্বালিয়ে দিলে কিছু মানববন্ধন হয়, বানকি মুনকে চিঠি লেখে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান নামের অপদার্থ সংগঠনটি, তিগ্রস্তদের জন্য কিছু ঢেউটিন এবং কয়েক বান্ডেল টাকা দেয় সরকার, সেই সাথেই শেষ করে দেয় বিচারের প্রয়োজন। অন্যথায় হেটক্রাইমের জন্য ৪০-৫০ বছরের জেল হবেই। মিডিয়ায় বহুবার দেখেছি ছাত্রলীগ, এমপি-মন্ত্রীদের নেতৃত্বে জঙ্গি স্টাইলে জ্বালাও-পোড়াও। এর পরেও যারা নিজেকে অসাম্প্রদায়িক দাবি করে, অবশ্যই মুখোশধারী। তাহলে এই দেশে কি সংখ্যালঘুরা আর থাকবে না? এ দেশ হিন্দুশূন্য হলে গডফাদারদের লাভ। গত সাড়ে পাঁচ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর এই পরিমাণ বুলডোজার চালানোর উদ্দেশ্যই তা-ই। আর এই সুযোগে প্রতিপকেও নির্মূল করা, অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখি। সরকার যখন কাউকে জঙ্গি বানানোর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তখন আসল জঙ্গিদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, আর এই ঘোড়া রোগে আক্রান্ত বাংলাদেশ।

অস্বীকারের উপায় নেই, ৬৭ বছর ধরেই সব সরকারই কম-বেশি সাম্প্রদায়িক। ৪৩ বছরেও স্বপ্ন ভঙ্গ হয়নি সংখ্যালঘুদের। ভুলে গেলে চলবে না প্রায় ৮৫ ভাগ সংসদ সদস্যই ব্যবসায়ী, ব্যবসার ফাঁকে সময় পেলে রাজনীতি করে, মিলিয়নিয়ার হওয়ার জন্যই রাজনীতিতে আসে, আমার দৃঢ়বিশ্বাস, মাফিয়া হওয়ার সুযোগ না থাকলে দেশের সাথে এই পরিমাণ বেঈমানি তারা করত না। ’৭১-পরবর্তী অবাঙালিদের জমি ভূমিদস্যুদের জন্য আরেকটি চমকপ্রদ সুযোগ হওয়ায় অসম্ভব পৈশাচিক কাণ্ড ঘটছে। কালশীর ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, ভদ্রলোকদের আমরা চিনি। মূলত হিন্দুরা ভারতে পালিয়ে গেলেও জেনেভা ক্যাম্পেই ৪৩ বছর অমানবিক জীবন ভোগ করছে অবাঙালিরা। ক্যাম্পের বিষাক্ত জীবন নিজ চোখে দেখেছি, ৮ বাই ৮ ঘরে গাদাগাদি করে চার প্রজন্ম, মরলে ঠিকমতো লাশ বের করার জায়গা পর্যন্ত নেই। দিন যতই যাচ্ছে, হিন্দু-বিহারি বাছ-বিচার নেই, ভূমিদস্যু জায়োনিস্টদের হাত ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। পার্থক্য একটাই, স্টেটলেস বিহারিদের কেউ নেবে না; কিন্তু ভারতে যাওয়া হিন্দুদের অবস্থা জামাই আদরের মতো। সীমান্ত পার হলেই রেশনকার্ড এবং ভোটার হওয়ার সুযোগ, জ্যোতি বসু এবং মমতারা এ দেশের সংখ্যালঘুদের সর্বনাশ করেছেন। ’৬৫-এর অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও ’৭১-এর পর রিফিউজিদের বিষয়ে গান্ধীর এমন উদাসীনতার কারণ কলোনিলিয়ানিজম, প্রমাণ ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি। তাদের কারণেই এপারের সংখ্যালঘুরা ুদ্র হতে হতে এখন প্রায় মূল্যহীন।

এসব বলার অন্যতম কারণ, পুশব্যাক নিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদী নেতা মোদি আর মমতাহীন মমতার বাকযুদ্ধের অন্তরালে শুধ্ইু মতা। বরং সুষমার সফরের অন্যতম প্রোপট হতে পারত, সবার আগে মাইগ্রেশন নিরুৎসাহে ঢাকার সাথে আলোচনা। এ ছাড়াও অত্যাচারিত হিন্দুদের তালিকা তো দিল্লির হাতে আছেই। শুদ্ধ রাজনীতি করলে পুশব্যাকের প্রয়োজন হয় না, বরং পরিত্যক্ত হিন্দুসম্পত্তি এবং ভুয়া মালিকানায় লাখ লাখ বিঘা এনবিআরের মাধ্যমে ভূমি অফিসে তালিকা বানিয়ে জন্মগতভাবে দেশত্যাগী নাগারিকদের স্বদেশে পুনর্বাসিত করা। দেশজুড়েই যখন লাখ লাখ একরের ছিটমহল, ১৫ হাজার একরের জন্য যুদ্ধ করে কী লাভ? বাংলাদেশের জমির দাম ম্যানহাটনের চেয়ে বেশি আর এটাই হিন্দুদের অভিশাপ। মোদির উচিত সে দিকেই দৃষ্টি দেয়া, অন্যথায় মূল্যহীন সংখ্যালঘুরা ুদ্র হতে হতে বিলীন হয়ে যাবে।

বস্তি আর ক্যাম্পে আগুন: অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেয়ার চেষ্টা সাম্প্রদায়িক বিস্ফোরণের জন্য যথেষ্ট, ফলে মুরোদে না কুলোতে পেরে খ তফসিল বাতিল। ক তফসিলটি এখনো বাতিল হয়নি, কিন্তু এর তেমন শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তবে এর অন্তর্ভুক্ত যারা (বাঙালি-অবাঙালি) সবাই এই সুযোগের অধিকারী। প্রশ্ন হলো, দেশ অসাম্প্রদায়িক হলে এসব ঘটনা ঘটছে কেন? রামু-উখিয়ার পর কালশীর ঘটনা যদি চোখ না খোলে, কিছুই খুলবে না। পরিত্যক্ত জমির ওপর বস্তি এবং জেনেভা ক্যাম্পগুলোতে বারবারই আগুন লাগার কারণ উচ্ছেদ ও ভূমি দখল। সংসদে এবং বাইরে দুইখানেই গডফাদাররা যত দিন খেতে পারবে, সরকার তত দিন মতায় থাকতে পারবে। আমার বিবেচনায়, আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার বাক্যবাণ চতুর্থ পর্যায়ের ক্যান্সারের মতো। ইলিয়াস মোল্লা আর শামীম ওসমানদের মতো গডফাদাররা প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদ করেও সমর্থন পাচ্ছেন সংসদের। কালশীর আগুনে ইলিয়াস মোল্লার সম্পৃক্ততা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো বারবার বস্তিতে কেন আগুন লাগে। এই বদমাশ গডফাদারের নদী দখলের সংবাদ পত্রিকায়। ১২ খুনের বিচারসাপেে খুনি ইলিয়াস মোল্লার ফাঁসি না হওয়ার কোনোই কারণ নেই, বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আগে এসব জঙ্গির বিচার হওয়া উচিত। ৪৩ বছর আগের ঘটনায় চাুষ প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রামু-পাকশীর ঘটনার সাথে জড়িত জঙ্গিদের প্রমাণ ক্যাপিটল হিল থেকে ইইউ পার্লামেন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। জায়োনিস্টরাও এভাবেই বারবার ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে ইহুদিদের জন্য বাড়ি বানায়, মোল্লারাও সেই গোয়ালের গরু। ঘটনা ঘটামাত্র তদন্ত চলছে, কমিটি গঠন… মুখস্থ রাবিশ। শুনছি ইলিয়াস মোল্লা বিহারিদের সাথে সমঝোতায় যেতে চায়। এই যখন সরকারের অবস্থা, তখন দাউদ ইব্রাহিমদের দোষ কোথায়! বিএনপি-জামায়াত জোট মন্দির ভাঙলে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু কালশী-মালোপাড়ার ঘটনাও কি প্রমাণ করতে হবে?

নিউ ইয়র্ক প্রবাসী

farahmina@gmail.com