সংসদীয় গণতন্ত্র এখন হাসির খোরাক

জাতীয় পার্টিকে নিয়ে হাসাহাসি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। তিনি তাদের নিয়ে কটাক্ষ না করার কথাও বলেছেন। গত ৩ জুলাই সংসদে বক্তব্য দেয়ার সময় এরশাদ এই অনুরোধ জানান। জেনারেল এরশাদ তাদের নিয়ে হাসাহাসি ও কটাক্ষ না করতে অনুরোধ করুন বা না করুন-এটাই হলো বাস্তবতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের সংসদে পাতানো ‘বিরোধী দল’ দিয়ে প্রতারণার রাজনীতি সংসদীয় গণতন্ত্রকেই হাস্যকর করে তুলেছে।

অন্যদিকে এই ‘বিরোধী দল’ নিয়ে গণতান্ত্রিক দেশগুলোকেও বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে। আরো দুর্ভাগ্যজনক হলো, হত্যা ও দুর্নীতির বিচারাধীন মামলার আসামী হয়েও জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ মন্ত্রীর মর্যাদায় খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। সংসদে জাতীয় পার্টির বিরোধী দলের অবস্থান নিয়ে শুধু রাজনৈতিক মহল ও জনসাধারণের মধ্যেই হাস্যরসের সৃষ্টি হয়নি, জাপার মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৫ জুন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে দলের এক অনুষ্ঠানে জাপার অন্যতম কা-ারি জিএম কাদের বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দলে জাতীয় পার্টির একসাথে অবস্থান সংবিধানের লংঘন। জাপা সরকার না বিরোধী দলে এটা পরিষ্কার করা দরকার। জাপা আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার না উরুগুয়ের গোলকিপার জাতি তা জানতে চায়।’ জিএম কাদের বলেন, ‘একই সঙ্গে স্বামী আবার একই সঙ্গে স্ত্রী-এভাবে সংসার হয় না। মানুষ জাতীয় পার্টিকে কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চায়। আমাদের নেতারা মন্ত্রিত্বের লোভে পড়েছেন। সত্যিকারের বিরোধী দল হলে জাতীয় পার্টিকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হবে।’ জিএম কাদেরের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সভামঞ্চ ছেড়ে চলে যান জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এর আগে দু’জনের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয় বলে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়।

হাস্যরসের যৌক্তিকতা
জেনারেল এরশাদের ভাষায় জাপাকে নিয়ে হাস্যরস ও কটাক্ষ করার যৌক্তিক কারণগুলো পর্যালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা। বলা হচ্ছে, জাপা একাধারে ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রধান শরীক দল। গত ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে জোট করেই নির্বাচন করেছে। যদিও সে নির্বাচনে বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছিল না। জাপা আবার সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ত্রিত্বও বাগিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দল সাজার হাস্যকর কসরত করে চলেছে। দলের দ্বিতীয় ব্যক্তি রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা খেতাব দিয়ে সেখানকার সুযোগ-সুবিধাও হাসিল করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা একে ‘গাছেরটা খেয়ে তলারটাও কুড়িয়ে নেয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালীবিধি অনুসারে ‘বিরোধী দলের নেতা’ অর্থ স্পিকারের বিবেচনা মতে যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত দল বা অধিসঙ্গের নেতা। সে অনুযায়ী বিরোধী দল হতে হলে সরকারের বিরোধিতাই হয় তার প্রধান কার্যক্রম। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণ থাকলে তা কীভাবে সম্ভব সে হিসেব মেলাতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় পার্টির একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে অবস্থান সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অভিনব ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন কোন কোন বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এ ঘটনা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন ‘অবদান’। একই দলের একসঙ্গে সরকারি দল এবং বিরোধী দল হওয়ার নজির পৃথিবীতে আছে বলে জানা নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রের কোন দেশে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর এখন আবার নতুন রেকর্ড তৈরি করতে দেখা গেল। তাদের মতে, গণতন্ত্রে এসব ‘অবদান’ উদ্ভট অবদান হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। একটি বহুল আলোচিত মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, বিরোধী দল থেকে মন্ত্রী হওয়ার বৈধতা নিয়ে একটি মামলা হয়েছিল। দেলোয়ার হোসেন বনাম রাষ্ট্রের ওই মামলায় বিচারপতি মোস্তফা কামাল একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। ওই মামলায় তিনি বলেছিলেন, একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা অনৈতিক, গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ও সংবিধানবহির্ভূত। উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টিকে ৩৩টি আসন দিয়ে তাদেরকে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখে বিরোধী দলের মর্যাদা দেয়া হয়। শপথ গ্রহণের পর রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হন। সে অনুযায়ী তার প্রটোকলসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে কথিত বিরোধী দল জাপা থেকে আবার তিনজনকে মন্ত্রী হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়। এই ঘটনা দেশের সর্বত্র ব্যাপক কৌতূহল ও হাস্যরসের জন্ম দেয়। বাইরে তো বটেই সংসদের ভেতরেও প্রশ্ন উঠে এ নিয়ে। সংসদে জাতীয় পার্টি কোন দলের ভূমিকা পালন করছে- তা নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পিরোজপুরের রুস্তুম আলী ফরাজি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি সরকারেও থাকবে আবার বিরোধী দলেও থাকবে। তাহলে তারা কিভাবে গঠনমূলক ভূমিকা নেবে? সংবিধানের ৭০ বিধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বিল উঠলে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা সংসদে থাকতে পারবেন না। তাদের সংসদ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। তারা কোনো ‘না’ ভোট দিতে পারবে না। এতে সংসদ কার্যকর হবে না। তাদের সরকার ছেড়ে পুরোপুরি বিরোধী দলে আসা উচিত।

জাপার অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনৈতিকতা
মহাজোট আয়োজিত নির্বাচনে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাপার অংশগ্রহণ নিয়েও চূড়ান্ত রকমের অনৈতিকতার আশ্রয় নেয়া হয়। এরশাদ বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেবার পর থেকে চলতে থাকে একের পর এক নাটক। জাপার মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র দেবার পরও তা কার্যকর না করা, এরশাদকে ধরে নিয়ে গিয়ে ‘অসুস্থ’ বলে সিএমএইচ-এ ভর্তি করা, জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ‘মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার’ করার চিঠি দেবার পরেও তা আমলে না নেয়া, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক ‘লাঙল’ বরাদ্দ না দিতে ইসিকে দলীয় চেয়ারম্যানের চিঠি দেবার পরও তা উপেক্ষা করা, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একটি অংশের ইশতেহার পাঠ করা প্রভৃতি ঘটনা এই অনৈতিকতাকে প্রকাশ করে দেয়। বলা বাহুল্য, এসব কর্মকা-ের পেছনে কলকাঠি নাড়ার জন্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে কাজ করেন। উল্লেখ্য, আ’লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রাজধানীর একটি প্রার্থী পরিচিতি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নৌকার মতো লাঙ্গলও এখন শেখ হাসিনার মার্কা।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় পার্টি জোটের গুরুত্বপূর্ণ দল। তাই এখন নৌকার মতো লাঙ্গলও শেখ হাসিনার মার্কা।’ জাপাকে বিরোধী দল বানাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহারের ক্ষেত্রেও এবার এক নয়া রেকর্ড সৃষ্টি করা হয়। জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ‘লাঙ্গল’ প্রতীক বরাদ্দ দেয় ইসি। বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ দিয়ে অবৈধভাবে প্রার্থীদের কারো মনোনয়নপত্র বাতিল, আবার কারো মনোনয়নপত্র বৈধ দেখায়। যে কারণে জাপার বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেয়ার পরও তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। আ’লীগের নির্বাচনী জোটের অনুকূলে ‘নৌকা’ প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কমিশন আইন মানেনি। জাতীয় পার্টি সরে পড়ায় অনেক আসনে প্রার্থীসংকট দেখা দিলে কমিশনের পরামর্শে রিটার্নিং কর্মকর্তারা অনেক প্রার্থীকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে মনোনয়নপত্র শুদ্ধ করে দেন বলে পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

আটক, নাটক, অতঃপর
জাতীয় পার্টিকে সরকারের মনের মতো করে বিরোধী দল বানানোর জন্য সরকারের চেষ্টার অন্ত ছিল না বলে অভিযোগ করেন পর্যবেক্ষক মহল। এজন্য নানান প্রকারের নাটক ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হয়। যা রাজনীতিকে এক চরম ‘নষ্টামী’র পর্যায়ে নিয়ে যায়। নির্বাচন-প্রাক্কালে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদকে ‘আটক’ বা ‘চিকিৎসার জন্য’ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহল তথা দেশবাসীকে ব্যাপকভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। অনেক স্থানে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও বুঝে উঠতে পারেনি- এটা ‘আটক’ নাকি ‘নাটক’? ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক বাসা থেকে এরশাদকে আটক করে র্যাব। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বাধা সরিয়ে র্যাব তাকে তার বাসার পেছন দরজা দিয়ে গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে যায়। র্যাব দাবি করে, অসুস্থ বোধ করায় এরশাদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ ও সুনীল শুভ রায় সে রাতেই গণমাধ্যমকে জানান, দলের চেয়ারম্যানকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের মধ্যে সরকারের কয়েকজন রওশন এরশাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন যাতে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে দলের লোকজন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। আবার এরশাদের ছোট ভাই ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এরশাদ সুস্থ আছেন এবং তিনি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় আছেন। আর রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলায় তাকে (এরশাদ) সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যেতে হয়েছে।’ এর আগে ৫ ডিসেম্বর এরশাদ হুমকি দেন, ‘নির্বাচনে যাবো না এটিই আমার শেষ কথা। আমার সঙ্গে চালাকির চেষ্টা হলে সুইসাইড করবো। আলমারি থেকে পিস্তল নামিয়ে গুলী লোড করে রেখেছি।’ এতোসব নাটকের পর এরশাদ ও তার জাপা ঠিকই মহাজোটের শরীক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়। পরে এরশাদ এমপি হিসেবেও শপথ নেন। রওশন হন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনজন আবার মন্ত্রীও হন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পান এরশাদ। সংসদে তিনি বক্তৃতা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখে কথার ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন।

হত্যার আসামী যখন মন্ত্রীর মর্যাদায়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতির দুর্ভাগ্য যে মহাজোটের অন্য শরীকদের দ্বারা স্বৈরাচার খেতাবপ্রাপ্ত এরশাদ এই জোটের ক্ষমতা অক্ষত রাখতে কা-ারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতির অন্তত চারটি মামলা আদালতে বিচারের আওতায় রয়েছে। তথাপি তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। যদিও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তার জন্য মন্ত্রীর পদের যাবতীয় খরচ-খরচা বহন করা হচ্ছে-কিন্তু দূতের কোন দায়িত্ব পালন করতে তাকে দেখা যায়নি। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা এবং দুদকের করা রাডার ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা। আর বাকি দুটি মামলা হলো দুদকের করা হলিডে ইন নামে প্রস্তাবিত পাঁচ তারকাবিশিষ্ট সরকারি হোটেল সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা আর সপ্তম সংশোধনী মামলা। হলিডে ইনের মামলাটি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত আছে। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই লালমনিরহাটে এরশাদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করায় মামলা করা হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

এরশাদের এই অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেখানে বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের কথায় কথায় মামলা দিয়ে, আটক করে সরকারের লোকদের ইচ্ছেমাফিক যে কোন একটি মামলায় আসামী দেখিয়ে রিমান্ড-নির্যাতন আর অনির্দিষ্টকাল কারাভোগের বিধিলিপি তৈরি করা হচ্ছে, লঘু পাপে গুরু দ- প্রয়োগ চলছে-সেখানে একজন খুনের জলজ্যান্ত বিচারাধীন আসামীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে জাতির কাঁধের ওপর সওয়ার করে রাখার ঘটনা নৈতিকতার চরম অবমাননা মনে করা হচ্ছে।

বোকা বানানোর চেষ্টা
এই পাতানো ‘বিরোধী দল’ নিয়ে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোকেও বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন বিশ্লেষকরা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোথাও কোন গ্রহণযোগ্যতা না পেলেও তার স্বরে এই ‘পোকায় খাওয়া’ সংসদ নিয়েই চিৎকার করে পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে একটি ‘নির্বাচিত’ সরকারি দল এবং একটি ‘সক্রিয়’ বিরোধী দল প্রদর্শনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকারি মহল। সফরকারী বিদেশী অতিথিদের সামনে কথিত ‘বিরোধী দল’কে উপস্থাপনের মাধ্যমে বৈধতা পাবার দৃষ্টিকটূ চেষ্টারও কসরত চলছে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।