মোহাম্মদ এন মজুমদার: মানবসেবাই যার জীবনের ব্রত

mnmjaumder

মোহাম্মদ এন মজুমদার। নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে অতি পরিচিত একটি নাম। সুপরিচিত মুখ। কমিউনিটির সকল কর্মকান্ডে তার উপস্থিতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদান থাকে। শুধু কমিউনিটির কর্মকান্ড নয়, মূলধারার রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি এবং বাংলাদেশী আমেরিকানদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার জন্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নিরহঙ্কার, সদা হাস্যময় এন মজুমদার কমিউনিটিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে চলেছেন কখনো নিরবে, কখনো তাদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয়ে। কোন পদ-পদবীর জন্যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে অবস্থান করেও এসবের আকর্ষণমুক্ত হয়ে মানবসেবার ব্রতই তার জীবনের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়সে তিনি তরুণ নন, কিন্তু তার কাজে কর্মে তারুণ্যের উদ্যম। পেশায় আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার তার কর্মকর্তৎপরতার স্বীকৃতি হিসেবে মূলধারায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার উপর অর্পিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির প্ল্যানিং বোর্ডের প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশী ভাইস চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইমিগ্রান্ট রাইটস প্রতিষ্ঠার জন্য এবং ইমিগ্রান্টদের ক্ষমতায়নের জন্য তিনি কখনো আইনী সহায়তা, কখনো কর্মসংস্থান, সাধ্যের মধ্যে আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার প্রয়োজনীয় পরামর্শ বিনামূল্যে দিয়ে যাচ্ছেন তার নিজের নিজস্ব অফিসের মাধ্যমে। ইমিগ্রান্টদের ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কারণে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ২০১০ সালে তাকে ‘চ্যাম্পিয়ন ফর ইমিগ্রান্টস রাইটস’ প্রক্লেমেশন দিয়ে সম্মানিত করেছে। এছাড়া তিনি তিনি নিউইয়র্ক লীডারশীপ ইন্সটিটিউট থেকে ‘ইমিগ্রান্ট লীডারশীপ ফেলোশিপ’ লাভ করেছেন।

Majumder

১৯৬৩ সালে বাংলাদেশের ফেনী জেলার যে গ্রামে মোহাম্মদ এন মজুমদারের জন্ম, সেই প্রত্যন্ত গ্রামের অধিবাসীরা তাকে নিয়ে গর্বিত। কারণ তিনি তার গ্রাম, গ্রামের মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবকে বিস্মৃত হননি। নিবিড়ভাবে সবাইকে জড়িয়ে রেখেছেন তার স্মৃতিতে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি পড়াশুনা করেছেন, দেশে গেলে তিনি সেসব স্থানে যান পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে উদারভাবে সহায়তা করেন মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। তিনি মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনা করেছেন আনন্দপুর হাইস্কুলে। ফেনী সরকারি কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে মাষ্টার্স ও আইনে ডিগ্রি নেন। ফেনী বারে কিছুদিন কাজ করার পর ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম ডিষ্ট্রিক্ট কোর্টে যোগ দিয়ে আইন পেশায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। তার পেশা জীবন ছিল দরিদ্র ও অসহায় লোকদের কল্যাণের জন্য নিবেদিত। ১৯৮৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান এবং নবাগত অন্যান্য অভিবাসীর মতোই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কর্মস্থল ছিল আমেরিকান চেইন ষ্টোর ‘ডুয়েন রীড’, চেইজ ব্যাংক, নিউইয়র্ক সিটির হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি ম্যানহাটানে ব্যারি সিলবারউইগ এর আইন অফিসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

At Law Office

ব্যারি সিলবারউইগ এর আইন অফিসে এন মজুমদার কর্মব্যস্ত সময় কাটালেও পেশাগত পড়াশুনার প্রতি তিনি অত্যন্ত মনোযোগী এবং ব্যস্তাকে জয় করে ২০০৬ সালে তিনি লং আইল্যান্ডের টরো ল’ সেন্টার থেকে মাষ্টার্স অফ ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। ক্লাস পারফর্মেন্সে চমৎকারিত্বের জন্য তিনি ‘সিএএলআই’ এওয়ার্ড লাভ করেন।

মোহাম্মদ এন মজুমদার তার ব্যক্তিত্বগুণে এবং কমিউনিটির জন্য তার ভূমিকার কারণে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। ইংরেজিতে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ বা ‘জীবনের চেয়েও বড়’ বলে যে কথাটি প্রচলিত আছে এন মজুমদারের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।

With Dr Yunus

শুধু বাংলাদেশী কমিউনিটির কাজেই যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন তা নয়, মূলধারায় সম্পৃক্ত থাকার কারণে, বিশেষত ব্রঙ্কসে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে তাকে কাজ করতে হয় বলে অন্যান্য ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির সদস্যরাও অনেক ক্ষেত্রে তার শরণাপন্ন হন এবং তিনি তাদের সমস্যা দূর করতে কার্পণ্য করেন না। যুক্তরাষ্ট্রে এবং দেশে তার নিজ জিলা ফেনীর বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক অবদান রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য তার পক্ষ থেকে রয়েছে বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা। ফেনীর বাইরে সিলেট ও কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। আমেরিকার মূলধারায় ডেমোক্রেটিক পার্টির সাথে তিনি সক্রিয় এবং পার্টির একজন ডোনার। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের তিনি লাইফ মেম্বার ও প্রতিষ্ঠাতা। রোটারিয়ান হিসেবে নিবেদিতপ্রাণ। তিনি তিন মেয়াদে রোটারি ক্লাব অফ ব্রঙ্কসের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। রোটারি ক্লাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তিনি সর্বোচ্চ হিউম্যানিটারিয়ান এওয়ার্ড “সার্ভিস এবাভ সেলফ” ও “পল হ্যারিস ফেলো” এওয়ার্ড লাভ করেন।

With Mozena

তিনি নবাগত ইমিগ্রান্টদের যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সাথে সম্পৃক্তকরণ, জব সেমিনার ও আইনগত তথ্য প্রদানের জন্য ২০০৫ সাল থেকে পার্কচেষ্টারে নিজ অফিসে একটি তথ্য কেন্দ্র চালু রেখেছেন। তিনি ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির ক্ষমতায়নে ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার চালুকৃত তথ্য কেন্দ্র থেকে প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নবাগত ইমিগ্রান্টদের ইমিগ্রেশন, সাধ্যের মধ্যে আবাসিক সংস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধার জন্য মেডিকেইড কিভাবে পাওয়া সম্ভব এবং স্বল্প আয়ের ইমিগ্রান্টদের জন্য খাদ্য সহায়তার জন্য পাবলিক সুবিধাদি পেতে হলে কি করতে হবে এসব পরামর্শ ও তথ্যাদি সরবরাহ করে। বহু ইমিগ্রান্ট এই কেন্দ্রের সহায়তা নিয়ে উপকৃত হয়েছেন। ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির কাজে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল তাকে “চ্যাম্পিয়ন ফর ইমিগ্রান্টস রাইটস” হিসেবে স্বীকৃতি ও অফিসিয়াল প্রোক্লেমেশন দেয়া ছাড়াও ২০১১ সালে তাকে নিউইয়র্ক লীডারশীপ ইন্সটিউিশন থেকে “ইমিগ্রান্ট লীডারশীপ ফেলোশীপ এওয়ার্ড” প্রদান করে।

Daughter's graduation

এন মজুমদার বর্তমানে বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের (বিএসিসি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এয়াড়াও তিনি পার্কচেষ্টার ট্যাক্স ইমিগ্রেশন এন্ড লিগ্যাল সার্ভিসেস এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট। স্ত্রী রেক্সোনা মজুমদার, কন্যা নাসরীন ও পুত্র রাশেদকে নিয়ে তার পরিবার। নাসরীন একজন জেডি পরীক্ষায় সম্মানের সাথে উল্টীর্ণ হয়ে পরবর্তী পর্যায়ের ডিগ্রি গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুত্র রাশেদ জন জে স্কুল অফ ক্রিমিনাল জাষ্টিসে ফ্রেসম্যান। ভবিষ্যতে দু’জনই আইন পেশাকে বেছে নেবেন বলে আশাবাদী।

IMG_0746

সম্প্রতি অনলাইন ম্যাগাজিন ‘নতুন ঢাকা ডাইজেষ্ট’ এর পক্ষ থেকে মোহাম্মদ এন মজুমদারের একটি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আমেরিকার মূলধারায় নিয়ে আসতে তিনি যে কাজ করে যাচ্ছেন সে সম্পর্কিত তার চিন্তাভাবনা ও কর্মকান্ডের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারি তার সাথে আলাপচারিতায়। নতুন ঢাকা ডাইজেষ্ট এর পাঠকদের জন্য এবং বিশেষভাবে বিশ্বের সর্বত্র বাংলাদেশী কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে তা তুলে ধরা হলো, যাতে তার কর্মদ্যোগ সকলকে তার মতো একাগ্রতা নিয়ে এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত হন।

With NYC Mayor

নতুন ঢাকা ডাইজেষ্ট এর প্রশ্নের উত্তরে জনাব এন মজুমদার বলেন, কমিউনিটির বিকাশের জন্য অবশ্যই তাদের ক্ষমতায়নের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের কমিউনিটি সদস্যরা এখন পর্যন্ত যেসব কাজের মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করেছেন তা নিজেদের অঞ্চল ভিত্তিক, বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভিত্তিক, যা নি:সন্দেহে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু আমরা যদি শুধুমাত্র নিজেদেরকে এসব কাজের মধ্যে মধ্যে ব্যস্ত ও সীমাবদ্ধ রাখি তাহলে আমরা মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাবো এবং অন্যান্য কমিউনিটি, যাদের সদস্য সংখ্যা আমাদের চেয়ে কম, তারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কমিউনিটির বিভিন্ন প্রয়োজনের দিকগুলো তুলে ধরছেন, দাবীদাওয়া উত্থাপন করছেন, এবং মূলধারায় যারা কাজ করছেন তাদেরকে ও বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে দাবীদাওয়া এগিয়েও নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দাবীগুলো তিমিরেই রয়ে যাচ্ছে। তিনি তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল (বিএসিসি) এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, আমরা আমাদের কমিউনিটিকে তাদের অধিকার সম্পর্কে জানাতে ও তাদের মধ্যে সচেনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছি। এজন্য বিএসিসি’র উদ্যোগে বিভিন্ন জরুরী বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন করা ছাড়াও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরামর্শ প্রদানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এসব সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব, কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাদের বক্তব্যে দিকনির্দেশনা থাকছে যে, আমেরিকার নাগরিক অথবা স্থায়ী বাসিন্দা, এমনকি আনডকুমেন্টে ইমিগ্রান্ট হিসেবে আমরা কিভাবে আমাদের আইনগত অধিকারের সুফল লাভ করতে পারি। তিনি বলেন, আমেরিকায় স্থানীয় পর্যায় থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিরাই সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সেজন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া এদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি নির্বাচনে আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে। সেজন্য বিএসিসি বাংলাদেশী আমেরিকানদের ভোটার হিসেবে রেজিষ্ট্রেশন করানোর কাজকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। ভোটাররা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নিয়ামক ও প্রধান শক্তি। এদেশে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ও যারা নির্বাচিত হন, তারা ভোটারদের সাথে অনেকটা স্থায়ী সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন, কারণ তারা জানেন যে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও তাদেরকে আবার ভোটারের কাছে ফিরে আসতে হবে। শুধু ভোটদান নয়, প্রার্থীদের তহবিল সংগ্রহে অবদান রাখলেও প্রার্থীরা ভোটারদেরকে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান ও মূল্যায়ন করেন। সেজন্য ফান্ড রেইজিং এ সহায়তা দান, ভোটার হিসেবে অন্তর্ভূক্তি ও ভোট প্রদান, প্রতিটি পর্যায়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কমিউনিটির সদস্যদেরকে আমরা এসবের সাথে সম্পৃক্ত করতে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

With ex-NYC Mayor Bloomberg

এক প্রশ্নের উত্তরে এন মজুমদার বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ থেকে যারা যেভাবেই আমেরিকায় এসেছেন তারা তাদের ব্যক্তিগত ও যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে নিজেদের, কমিউনিটির সমৃদ্ধি সাধন করে মূলধারায় স্থান করে নিতে পারেন। আমরা যদি একটি অন্তত একটি বিষয়ে একমত হতে পারি যে, আমরা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি নিয়ে এখানে দলাদলি ও অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হয়ে আমেরিকার রাজনীতির সাথে নিজেদেরকে জড়িত করবো, তাহলে আমরা অনায়াসে এদেশে আমাদের অবস্থানকে আরো মজবুত করতে পারি। একথা সত্য যে আমরা আমাদের শেকড় ছিন্ন করে এখানে আসিনি। এখনো বাংলাদেশে আমাদের বাবা মা, ভাইবোন, অন্যান্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব আছেন, আমাদের বাড়িঘর, জমিজিরাত রয়েছে। পাশাপাশি আমরা হয়তো বাংলাদেশের কোন না কোন রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা ও আদর্শের অনুসারী। কিন্তু এদেশে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামালে, প্রতিটি দলের যুক্তরাষ্ট্রের শাখা কর্তৃক দেশে ওইসব দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে, পদপদবী দখল নিয়ে ব্যস্ত থাকলে মূলধারার সাথে আমাদের নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করা ও সমন্বয় সাধনের কাজ বিলম্বিত হবে। দেশের রাজনীতি এখানে নিয়ে আসার কারণে অনেক সময় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার ফলে আমাদের দেশের এবং এখানে প্রবাসীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে তাদের শেকড় ভুলে না যায়, সেজন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, কিন্তু একথা দিবালোকের মতো সত্য যে, তারা কিছুতেই এদেশে অবস্থান করে নিজেদেরকে বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে জড়িত করবে না এবং তাদের অভিভাবকদের জড়িত থাকাও স্বাভাবিক
বলে মেনে নিতে পারছে না। এদিকটি বিবেচনা করেও আমাদের উচিত কমিউনিটিকে মূলধারায় আরো বেশি জড়িত করতে আত্মনিয়োগ করা। অনেক শিক্ষিত মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসে কোনভাবে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই ও খাবার সংস্থান করার জন্য ‘অড জব’ শুরু করতে বাধ্য হন, যা আমি নিজেও করেছি। কিন্তু ‘অড জব’কে স্থায়ী করে না নিয়ে আমি নিজের অবস্থানকে উন্নত করতে একের পর এক কাজ পরিবর্তন করেছি। পাশাপাশি পড়াশুনা করেছি। নিজের গন্ডিকে সম্প্রসারণ করতে সবসময় চেষ্টা চালিয়ে গেছি। আল্লাহর অসীম ইচ্ছায় আমি যে অবস্থানে নিজেকে আনতে পেরেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমার নিজের দৃষ্টান্ত স্মরণ করে আমি প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহবান জানাই যাতে তারা বাংলাদেশে তাদের অর্জিত ডিগ্রি মূল্যায়ন করিয়ে জেনে নিতে চেষ্টা করেন যে তার ডিগ্রি কোন পর্যায়ের এবং এদেশে তার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি পেতে কি করতে হবে। অনেক সময় সংক্ষিপ্ত কিছু কোর্স সম্পন্ন করে, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কিছু প্রশিক্ষণ নিয়ে উচ্চ বেতনে কাঙ্খিত চাকুরি পাওয়া সম্ভব। মানুষের আয় বৃদ্ধি পেলে তার সামাজিক অবস্থানের যেমন পরিবর্তন ঘটে তেমনি তার সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়ে যায়। সেদিকটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘এইচ-১বি’ ভিসার উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবছর আমেরিকায় ‘এইচ-১বি’ ক্যাটাগরির ভিসায় বাইরের দেশ থেকে উচ্চ দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। আমরা এই সুযোগগুলো সম্পর্কে প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশে তাদের উচ্চ শিক্ষিত আত্মীয় ও বন্ধুদের জানানোর ব্যবস্থা করে থাকি, যাতে এই সুযোগগুলো থেকে আমাদের লোকজন বঞ্চিত না হয়।

At NY state senat

কি চেতনা আপনাকে এধরনের কল্যাণমূলক কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে, এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, আমি কোন পদপদবীর জন্য এসব করি না। আমি কোন পদ গ্রহণ না করেই নেতৃত্ব দেয়ায় বিশ্বাসী। আমি সব সংগঠনের কর্মকান্ডে স্বত:স্ফূর্তভাবে এবং সম্ভব হলে সপরিবারে অংশগ্রহণ করি। সকলের কাছে একই আবেদন করি যে তারা যাতে গন্ডিবদ্ধ না থেকে আমেরিকার সংবিধানে স্বীকৃত ও আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ অধিকার উপভোগ করে নিজেদেরকে ও কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করেন।