ইতিহাসের প্রয়োজনে বই লিখেছি — শারমিন আহমদ

sharmin ahmad
মুক্তিযুদ্ধের অনালোচিত অধ্যায় লিখে আলোচনায় তাজউদ্দীন কন্যা শারমিন আহমদ। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি, মুজিববাহিনীর তাজউদ্দীন আহমদকে হত্যা চেষ্টা, বাকশাল গঠনে সায় না থাকাসহ নানা প্রসঙ্গে একজন ভেতরের মানুষ হিসেবেই বয়ান করেছেন তার ‘তাজউদ্দীন, নেতা ও পিতা’ বইতে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শারমিন ইতিহাসের সত্যানুসন্ধানে চষেছেন ঘটনার পেছনের ঘটনা। বইটি নিয়ে ফেসবুক, ট্যুইটার, ব্লগে নানা আলোচনা। বলা হচ্ছে, শারমিন আহমদের স্বামী মিশরের সন্ত্রাসী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য, ইকনার দেয়া অর্থে তিনি বাংলাদেশে তথাকথিত ইসলামী সন্ত্রাসী সংগঠনকে মদত দিতেই এই বই প্রকাশ করেছেন, নতুন শর্মীলা বসু হতে চান তিনি। অবশ্য শারমিন বলেছেন, ইতিহাসের প্রয়োজনেই এই বই লিখেছি। চারদিকে যখন এতো আলোচনা তখন মানবজমিন মুখোমুখি হয় তাজউদ্দীন কন্যার। বারিধারা ডিওএইচএ’র বাসায় দেয়া সাক্ষাৎকারে বইটি প্রকাশের পূর্বাপর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। চেয়েছেন পাঠকের সহযোগিতাও। সাক্ষাৎকারে ওঠে এসেছে শারমিন আহমদের বই প্রকাশের কথা, পারিবারিক জীবন, কর্মজীবনসহ আগামীর চ্যলেঞ্জও।

প্রশ্ন: ‘তাজউদ্দীন আহমদ, নেতা ও পিতা’ বইটি লিখে কেমন সাড়া পেয়েছেন?

সাড়ে চারশ’ পৃষ্ঠার বইতো দু’তিন বছরে লেখা সম্ভব হয়নি। এটি লিখতে আমার ৮ বছর সময় লেগেছে। আর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি ১৫-২০ বছর ধরে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও একটু একটু করে লিখেছি। নানাজনের প্রশ্ন, হঠাৎ বইটি প্রকাশ করতে গেলাম কেন? প্রকাশক গত বছরই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন। বইটি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বইমেলায় পাওয়া যাবে। আম্মার অসুস্থতা ও চলে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বইটির অনুপ্রেরণা ছিলেন আম্মাই। বইতে প্রকাশিত তথ্য এবং একাধিক সাক্ষাৎকার ওনার কাছ থেকেই নেয়া। আম্মা ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য। ভেতরের অনেক কথা আছে, যা তার পক্ষে বলা সম্ভব হয়নি। আম্মা চেয়েছিলেন তিনি যা বলে যেতে পারেননি; প্রকাশ করে যেতে পারেননি, তা তার ছেলে-মেয়েরা বলে যাক। আব্বু, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার নিয়ে বই লিখছি শুনে আম্মা খুশি হয়েছিলেন। শেষ সময়ে তিনি যখন ইউনাইটেড হাসপাতালে তখনও বারবার খোঁজ নিচ্ছিলেন রিপির বইটি কখন বাজারে আসবে। আম্মাকে কথা দিয়েছিলাম, চিন্তা করবেন না। আম্মা ডিসেম্বরে চলে যাওয়ায় মানসিক অবস্থার কারণে বইটির প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বিদেশ থেকেও বারবার ওনার ইচ্ছার কথাই মনে হয়েছে। পরে ঐতিহাসিক কারণেই এপ্রিলে বইটি প্রকাশের চিন্তা করি। আব্বা-আম্মার প্রথম দেখা হয়েছিল পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল। বিয়ে হয়েছিল ২৬শে এপ্রিল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল ১০ই এপ্রিল, ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল। এ কারণে এপ্রিলকেই তাৎপর্যপূর্ণ মাস মনে হওয়ায় এ সময়কে বেছে নিয়েছি। এর আগে ২০১১ সালে তাজউদ্দীন আহমদ ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠার সূচনাও করেছিলাম ১৭ই এপ্রিল। নানাজন নানা কথা বলছে। কে কি বললো, এটা আমার জানার বিষয় নয়। কিন্তু সাড়ে চারশ’ পৃষ্ঠার বই হঠাৎ করে লেখা সম্ভব নয়। বইটিতে তথ্যগুলো এসেছে ৭৯, ৮০, ৮১, ৮৪ সালের। বইটি আমি ধাপে ধাপে শেষ করেছি। বইটি লেখা শুরু করেছি ২০০৬ সালের ২রা জানুয়ারি, শেষ করেছি ২০১৪-তে।

প্রশ্ন: বইটি লেখার পেছনে আপনার প্রেরণা কি ছিল?

আমি কাজ করি শিশু-কিশোরদের নিয়ে। প্রচারবিমুখ মানুষ বলে মিডিয়ার মুখোমুখি কমই হয়েছি। নিভৃতে কাজই আমার পছন্দ। নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে কাজ করতে একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছি। যতবারই এসেছি, দেখেছি নতুন প্রজন্মের কেউই তাজউদ্দীন আহমদের কথা জানে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে দেখেছি, ক্লাস টু-থ্রির বাচ্চাকেও যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, হু ইজ জর্জ ওয়াশিংটন, হু ইজ জেফারসন, হু ইজ আব্রাহম লিঙ্কন- সবাই একবাক্যে তা বলে দিতে পারে। আমাদের এখানে চিত্র ঠিক উল্টো। এখানে দেখলাম ইতিহাস বদল হয়ে যাচ্ছে- এটাই আমাকে খুব পীড়া দিয়েছে। নিজের আগ্রহেই তথ্যগুলো যোগাড় করেছিলাম। লিখছিলাম টুকটাক। ইতিহাসের প্রয়োজনেই বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিই।

প্রশ্ন: প্রকাশনা উৎসবে বলেছিলেন বইটি নির্মোহভাবে লেখার চেষ্টা করেছেন…

সব কিছুর পরও আমি তো তাজউদ্দীন কন্যা। মোহ হয়তো কিছুটা এসে গেছে। তবু চেষ্টা ছিল প্রকৃত ঘটনার প্রকাশ। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ড. আনিসুজ্জামানের কথায় বলতে চাই, বইটি বিতর্কের সৃষ্টি করবে। লেখক সত্যের যতখানি কাছাকাছি পৌঁছানো যায়, তার চেষ্টা করেছেন; বইতে পর্যাপ্ত দলিল-দস্তাবেজ-উপাত্ত দিয়েছেন।

প্রশ্ন: বইটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে কেন?

বেশির ভাগ পাঠকই পুরো বইটি না পড়ায় এক ধরনের দ্বন্দ্ব বা বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। পুরো বইটি পড়লে দেখা যাবে, যা সত্য তাই প্রকাশ করেছি। আমার কাছে অনেকের জিজ্ঞাসা- আপনি বাইরে থাকেন তিরিশ বছর। আপনি এত কিছুর খোঁজ পেলেন কি করে? তাদের কাছে প্রশ্ন- আপনারা কেন খোঁজ পেলেন না হাজী গোলাম মোরশেদ, প্রকৌশলী নূরুল হকের। এই দু’জনের সাক্ষাৎকারে আমি একেবারেই নতুন তথ্য পেলাম। যা স্বাধীনতার ইতিহাসে একেবারেই নতুন বিষয়বস্তু। ২৫শে মার্চ দুপুর বেলায় একটি স্কিন কালারের সার্ট আর মফ কালারের স্যুট পরে পাকিস্তানের টপমোস্ট ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার নূরুল হক ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামের কাছে এসে বললেন, আমাকে বঙ্গবন্ধু একটি ট্রান্সমিটার আনতে বলেছিলেন। ট্রান্সমিটার কোথায় রাখবো? কি করবো? আমীরুল ইসলাম বললেন, তিনি তো আমাকে কিছু বলে যাননি? আমি কি বলবো আপনাকে কি বলতে হবে। তখন নূরুল হক বললেন, I know what to say, it will cost my life, but I will do it. বঙ্গবন্ধু হয় তো কৌশলগত চিন্তা থেকেই এটি করেছিলেন। গোপনে গোপনে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণার একটি বিকল্প প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন। আমার বইয়ে ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামের সাক্ষাৎকার বিষয়ে বিশদ বর্ণনা আছে। আব্বুকে উনি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দেননি; দলকে দেননি; কিন্তু দলের বাইরেও তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আমি যখন বই লিখছিলাম তখন এই তথ্যটি এলে আমি বইয়ের পুরো চ্যাপ্টারটাই বদলে ফেলি। সত্যের খাতিরে আমাকে এটি করতে হয়েছে। আমার উদ্দেশ্য কাউকে সাদা বা কাউকে কালো দেখানো নয়। প্রকৃত তথ্যটাই আমি দিতে চেয়েছি। কারণ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন ইতিহাস লিখবে তখন তারা যেন মূল ফ্যাক্টটাই লিখে থাকে বা জানে। এই তথ্যটি ক্রস চেক করতে আমি ইঞ্জিনিয়ার নূরুল হকের স্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিই। তিনি সেখানে বললেন, ২৯শে মার্চ হঠাৎ করেই পাকিস্তান আর্মি বাড়ি ঘেরাও করে। তারা তন্ন তন্ন করে চিৎকার দিয়ে ট্রান্সমিটার খুঁজতে লাগলো। আর্মি তখন বাড়ির দেয়াল-ঘর তন্ন তন্ন করে ট্রান্সমিটার খুঁজে না পেয়ে নূরুল হককে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তিনি আর ফেরেননি। এই কথাতে প্রমাণিত হয়, বঙ্গবন্ধুই প্রথম যিনি স্বাধীনতার ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দলের মাধ্যমে না করেও তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ব্যক্তিগতভাবেই। দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার নিয়েছি বঙ্গবন্ধুর পারসোনাল এইড হাজী গোলাম মোরশেদের। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাত এগারটার দিকে সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। সবাই চলে গেলেও বঙ্গবন্ধুর জোরাজুরি সত্ত্বেও হাজী গোলাম মোরশেদ থেকে গেলেন। রাত ১২টায় তিনি একটি রহস্যময় ফোন পেলেন। আমি বলধা গার্ডেন থেকে বলছি, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে চাই। বঙ্গবন্ধু ইশারায় ওনাকে ম্যাসেজ দিতে বললেন। অপরপ্রান্তের ব্যক্তিটিকে মোরশেদ বললেন, হ্যাঁ বলেন, ‘আমি বলধা গার্ডেন থেকে বলছি। ম্যাসেজ পাঠানো হয়ে গেছে। মেশিন নিয়ে কি করবো?’ বঙ্গবন্ধু হাজী গোলাম মোরশেদের মাধ্যমেই উত্তর দিলেন। বলো, মেশিনটা ভেঙে পালিয়ে যেতে। আমার প্রশ্ন ছিল, এত কিছুর পরও তিনি কেন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না। দল এত পীড়াপীড়ি করলো, আব্বু এত পীড়াপীড়ি করলেন। ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, মুজিব কাকু এমনটি কেন করলেন? তিনি বলেছিলেন, মুজিব কাকু বিকল্প রাখতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমার বইয়ে প্রথম নতুন ঐতিহাসিক দুটি তথ্য যুক্ত হলো। যা একেবারেই নতুন। আমার জানা মতে, কোথাও এই তথ্যটি পাইনি।

বইটি করার সময় আব্বুর ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে অনেক অজানা অথচ ইতিহাসের বড় বড় নায়কদের খুঁজে পেয়েছি। যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন। ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়ে ৯ মাস ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকবাহিনীর পাশবিক অত্যাচারে গোলাম মোরশেদ মারাত্মক আহত হন। এই বইয়ের মাধ্যমে আমি তাদের সম্মান দিতে চেয়েছি।

প্রশ্ন: বইটি প্রকাশের পর কোন রকমের চাপে আছে কিনা?

চট্টগ্রামে বইটির দ্বিতীয় প্রকাশনা উৎসবে গিয়ে শুনেছি, বইটির পেছনে নাকি গোয়েন্দা লেগেছে। নানা গোয়েন্দা তৎপরতার কথাও শুনেছি। অনেক মিডিয়াকে বলা হয়েছে এই বইটির কোন কভারেজ না দিতে। বইটি নিয়ে কি রিপোর্ট হচ্ছে তা দেখিয়ে নিতে। অনুষ্ঠানে আমাকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে- আপনি কি করে জানলেন, মুজিব বাহিনী আপনার আব্বুকে অ্যাটাক করতে এসেছিল। আপনিতো তখন অনেক ছোট। আমার জবাব ছিল, আমার বয়স তখন এগারো। এটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলবেন এটা কি করে হয়? কথা হচ্ছে, তখনকার এসব ঘটনাতো ১৯৮৫-৮৬ সালে প্রকাশিত লেখক মাঈদুল হাসান রচিত মূলধারা একাত্তর বইয়ের মধ্যেই আছে। এছাড়া সমপ্রতি ইউপিএল থেকে প্রকাশিত রোড টু লিভারেশন সিরিজে ড. কাইয়ুম খান লিখেছেন, মুজিব বাহিনীর সে সময়ের নানা ষড়যন্ত্রের কথা; তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা। তার মানে এটা তো কোন দলকে অ্যাটাক করা নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে গিয়ে তাজউদ্দীন আহমদ ও তার সহকর্মীদের কি ধরনের বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে- এটা তো সেই সত্য। একদিকে ছিলেন খন্দকার মোশতাক, অন্যদিকে লাখ লাখ শরণার্থীর চাপ। একদিকে আওয়ামী লীগের একাংশ চেয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর স্বীকৃতির দরকার নেই, তারা এসে দেশ স্বাধীন করে দিক। অন্যদিকে সিআইএ’র সঙ্গে খন্দকার মোশতাকের নানা ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচাইতে মর্যাদাশীল চুক্তিটিও সম্পন্ন হয় তাজউদ্দীন আহমদের দূরদর্শিতার কারণে? সেখানে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশের স্বীকৃতি অর্জন এবং বাংলাদেশ সরকার যখন চাইবে তখন ভারতের সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে চলে যাবে তা উল্লেখ ছিল। এতকিছু অতিক্রম করে একটা স্বাধীনতা অর্জন কোন খেলার কথা নয়। এটাই ছিল আমার মুখ্য বিষয়। কেউ যদি সেটা স্বার্থের দিকে দেখে তাহলে তো খুব ভয়াবহ ব্যাপার। মানুষকে তো তার দৈন্যতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। আমি পাঠককে অনুরোধ করবো- প্লিজ, আপনারা পুরো বইটি পড়ুন। ডোন্ট রিড টিটস এন্ড বিটস। এই বইতে ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম, সে সময় এনা’য় কাজ করতেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মাহমুদ উল্লাহ, গোলাম মোরশদ এবং প্রকৌশলী নূরুল হকের স্ত্রীসহ আরও অনেকের সাক্ষাৎকার রয়েছে। যাদের সাক্ষাৎকারে সে সময়ের অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা রয়েছে।

প্রশ্ন: বইটির পাঠক প্রতিক্রিয়া কেমন পেলেন? আলোচনা শুরু হয়েছে চারপাশে…

অনেক নিন্দাসূচক মেইল আমার কাছে এসেছে। আমি ইতিহাস নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছি। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন। আমি সত্য উদঘাটনে আরও তথ্য দিতে চাই। যা জাতিকে খ-িত নয়, ঐক্যবদ্ধ করবে। বইটি নিয়ে উদভূত পরিস্থিতি দেখে আব্বুর কথাই মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, আসুন আমরা এমনভাবে বাংলাদেশ গড়ি, যাতে কোনদিন কেউ আমাদের রাজাকার আলবদর না বলে। রাজাকার আলবদরপন্থিরা যেন রাজাকার না বলে। আজকে তাজউদ্দীন কন্যা হয়েও শুনতে হচ্ছে নোংরা কথা। কেউ একটিবারও বলছেন না, আমার বইতে এই তথ্য ভুল। বলছে, আমার কি সাহস, আমার কি ধৃষ্টতা!
পাঠককে অনুরোধ করবো বইটিকে যেন খ-িত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে না দেখা হয়। নোংরা ভাষায় যারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন ফেসবুক ও ট্যুইটারে- তাদের উদ্দেশে বলতে চাই- বলা হচ্ছে আমার স্বামী মিশরীয়, সন্ত্রাসী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য। এটি আমার দ্বিতীয় বিয়ে। এটি ছিল আমার আম্মার পছন্দের। তিনি অত্যন্ত মাইডিয়ার- ভাল মানুষ। তিনি জর্জ মেইসন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগে জাতিসংঘ স্বীকৃতি ইউনিভার্সিটি অব পিসের ভাইস রেক্টর ছিলেন দশ বছর। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করছেন। আমার স্বামীর নাম আমর খায়েরি আবদাল্লা। গুগলে গিয়ে amr abdalla সার্চ করলেই দেখবেন তার কর্মক্ষেত্রে তিনি বিশ্বের প্রতিভাবান শান্তি ও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অধ্যাপকদের একজন।

আমার প্রথম স্বামীর কথাও আলোচনায় এসেছে। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কারণেই ডিভোর্স হয়েছে। তার কোন নিন্দা করতে চাই না। বলা হচ্ছে- আমার প্রথম স্বামী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য টাকার যোগান দিয়েছিলেন। তখন তিনি ছিলেন ক্যাপ্টেন। কথা হচ্ছে- তিনি তো দেশেই আছেন। পালিয়ে যাননি। তার অপরাধ থাকলে তার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ আনা হলো না। ব্যবস্থা নেয়া হলো না। এটা শুধু অপপ্রচারই নয় বিরাট বড় ডিফেমেশন। এটার বিরুদ্ধে কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

বলা হচ্ছে, আমি নাকি ইকনা (ICNA) গ্রুপের সদস্য। আমাকে টাকা দেয়া হয়েছে এখানে ইসলামী গ্রুপের হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে। আমার এই বইয়ের সঙ্গে সন্ত্রাসের কি সম্পর্ক। আমিতো বাংলাদেশের ইতিহাসের সত্য অনুসন্ধান করছি। আমি তিরিশ বছর যুক্তরাষ্ট্রে আছি। নিজের গুণগান গাইলে অনেকেই আমাকে চিনতেন। আব্বু-আম্মুর আদর্শ ছিল নিঃশব্দে কাজ করে যাওয়া। আমরাও তাই করি। বিল ক্লিনটন যখন প্রেসিডেন্ট তখন দু’বার প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রিত হয়ে যাই। ১৯৯৫ সালে উইমেন ব্যুরোর ৭৫তম বার্ষিকীর সংবর্ধনায় আমিই একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে অংশ নিই। সেখানে নিশ্চয়ই ইকনা বা কোন সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য হলে আমন্ত্রিত হতাম না। একই বছর হোয়াইট হাউসে প্রথমবারের মতো ঈদে মুসলিম সমপ্রদায়ের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে যে বিশটি পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সে তালিকাতেও আমি এবং আমার পরিবার অংশ নেয়ার সুযোগ পাই। ১৯৮৫ সাল থেকে দুঃস্থ নারীদের নিয়ে কাজ করছে সংহতি নামে বাংলাদেশ উইমেন্স অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছি। বর্তমানে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য পদে আছি। সংহতির মাধ্যমে আমরা শ্রম আইনবিরুদ্ধ কার্যক্রম বন্ধে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছি। আমি জাতিসংঘে বিভিন্ন কার্যক্রমে বহুবার প্রতিনিধিত্ব করেছি। ইসলামের প্রগতিশীলতা নিয়ে অনেক কাজ করেছি মিনারেত অব ফ্রিডম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে। যারা আমার কর্মকা-ের সঙ্গে তথাকথিত ইসলামী সন্ত্রাসী গ্রুপের কর্মকা- মিলাতে চাইছেন তাদের উদ্দেশে কি বলার থাকতে পারে।

বলা হচ্ছে, আমি নাকি নতুন শর্মীলা বসু। শর্মীলা বসু বলেছিলেন, বাংলাদেশে জেনোসাইড হয়নি। আমার বইতে বাংলাদেশে যে জেনোসাইড হয়েছে তা প্রমাণ করতে কেনেডির দীর্ঘ বক্তৃতা অনুবাদ করে সংযুক্ত করেছি। বাংলাদেশে কি ভয়াবহ জেনোসাইড হয়েছে তা প্রমাণ করতে আমি প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও সাক্ষাৎকার নিয়েছি। শর্মীলা বসুর ভুল বিশ্লেষণের বিরুদ্ধে আমি লিখেছি এবং প্রচারণাও চালিয়েছি। একদল জেনোসাইড হয়নি বলছে, অন্যজন তার বইতে প্রমাণ করে যাচ্ছে ভয়াবহ জেনোসাইড হয়েছে। তাহলে কোনটি সত্য।
একজন গণজাগরণ অ্যাক্টিভিস্ট লিখেছেন, আমি নাকি পাগল, আমার নাকি মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে। আমার পরিবারের সঙ্গে, ভাইবোনদের নাকি আমার সম্পর্ক ভাল নেই। ঢাহা মিথ্যা প্রচারণা। সোহেল তো আমার পাড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকে আর আমি ঢাকায় এলে বোনদের বাসাতেই থাকি। বোনদের সঙ্গেই খাওয়া-দাওয়া। বইয়ের তথ্য-উপাত্ত যোগাতে আমার দুই বোন আমাকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছেন। সাক্ষাৎকারগুলো খেয়াল করলেই দেখা যাবে, সেখানে মা, ভাই-বোন সবার কথা রয়েছে। সমালোচনার অর্থ স্পষ্ট। তার মানে ডিভাইড এন রুল। বৃটিশরা যে নগ্নভাবে আমাদের জাতিকে ডিভাইড করে আমাদের রুল করেছে প্রতিপক্ষও ডিভাইড এন রুল পলিসিতেই জাতিকে বিভক্ত করতে এসব করছে।

যারা বলছেন, ইকনা থেকে আমি টাকা নিয়েছি। গর্ব করে বলতে চাই, ঢাকায় আমাদের পৈতৃক ভিটা ছাড়া কোন বাড়ি-গাড়ি নেই। আমি এবং আমার স্বামী দু’জনই শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রে একেবারেই মধ্যবিত্তের জীবনযাপন করছি। মার্সিডিজও চালাই না; রুলস রয়েসও চালাই না। ইকনার টাকায় ছুটি কাটাচ্ছি এমন কথাও বলা হচ্ছে। ফেসবুক প্রোফাইলে ছবিটি আমার আম্মার পছন্দ করা। সেটা পেরুতে আমি স্বামীর সঙ্গে আমাদের এনিভার্সারিতে বেড়াতে গিয়েছিলাম।

সম্মানটাই আমার বড় সম্পদ। এটা নিয়েই বাঁচতে চাই। ওয়াশিংটন পোস্ট আমাকে নিয়ে ফিচার স্টোরি করেছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে লেখা প্রকাশ হয়েছে। কাজের দক্ষতা দিয়ে সম্মান অর্জন করেছি- এটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।

প্রশ্ন: স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পরে আপনি বইটি লিখেছেন। এটা কেবলই ইতিহাসের দায় নাকি তাজউদ্দীন কন্যার যন্ত্রণা…

যদি আমার আব্বুকে নিয়ে অনেকেই লিখতো, বই বের হতো- তাহলে হয়তো এটার প্রয়োজন ছিল না। এর মানে এই নয় যে, আমি আমার আব্বুকে নিয়ে লেখালেখি হোক কেবল তা চাই, তা নয়। এটাও আমার এবং আমাদের পরিবারের আদর্শ বহির্ভূত। আমি চাই, সব মানুষ আলোচিত হোক। সবার অবদান আলোচনায় আসুক। কার স্থান কি হবে এটা যেন পারিবারিক বা কোন ব্যক্তির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে না হয়। বিদেশে যে কোন বিষয়ে কংগ্রেসে আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। সেখানে আমাদের এখানে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস বদলে যায়। আমরা যদি ইতিহাস ঠিক না করি আমাদের গন্তব্য ঠিক করবো কিভাবে? আমরা কিভাবে জানবো কোথায় যাবো? জাতি হিসেবে বড় হতে চাইলে আগে আমাদের শিকড় ঠিক করতে হবে। শিকড় দুর্বল হলে ফলও দুর্বল হবে। বইটি সত্যের ভিতিত্তে লেখা। এটা আমাদের শিকড়কে সবল করবে। ন্যায়বিচার বলেন, আর সমাজ গঠন বলেন- সবকিছুর ভিত্তিতো সত্য। এখানে সত্যের কোন অপলাপ নেই। হঠাৎ করে আমি এখানে কোন তথ্য নিয়ে এসেছি তা-ও নয়। অধিকাংশ তথ্য আগেই প্রকাশিত হয়েছে। মাঈদুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা কাইয়ুম খান, ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম তাদের বইতে মুজিব বাহিনী, খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্র, আওয়ামী লীগের কোন্দল- এগুলো নিয়ে লিখেছেন। দুঃখ হচ্ছে, আমরা কেউই বইগুলো পড়িনি। এটা আমার ভাগ্য হয়তো আমার বইয়ের মাধ্যমে ওনাদের কথা জানতে পারছে সবাই। বই নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে তা যদি জানার জন্য হতো তাহলে ভাল, কিন্তু নোংরাভাবে কেন? আমরা এতটা অসহিষ্ণু কেন?

প্রশ্ন: পাঠকদের উদ্দেশে কি বলার থাকবে…

প্লিজ, আপনারা পুরো বইটি পড়ুন। চিন্তা করুন। আমার বইতে কোন ভুল থাকলে লিখে জানান। ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে আপনারাই ছোট হবেন। পরচর্চা পরনিন্দা মানবিক বিকাশের পথে বড় অন্তরায়। এটা আমাদের নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বলাবলি আছে- আমার বইতে এত বেশি মিথ্যা কথা যে জন্য প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আমার ইতিহাস চেতনা নিয়ে অতিথিরা আমাকে কটাক্ষ-প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম, ড. আনিসুজ্জামান, ড. মইনুল ইসলাম সবাই বলছেন, বইতে ইতিহাসের বড় একটি অংশ উন্মোচিত হয়েছে। এখন নতুন কোন কিছু করতে হলে এই বইটি ধরেই এগুতে হবে।

প্রশ্ন: বঙ্গবন্ধু পরিবারের কারও সঙ্গে বইটি নিয়ে কথা হয়েছে…

রেহানা আপার সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বইটির বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। চাচী কি শুনে যেতে পেরেছিলেন বইটির কথা- এ প্রশ্নও করেছিলেন। আমি বলেছি, মা জানতেন বইটির কথা। ইতিহাসের প্রয়োজনেই আমি বইটি লিখেছি।

প্রশ্ন: সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, যেভাবে চেতনা নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে তাতে কিছুদিন পর তাজউদ্দীনের মেয়েকেও বলা হবে রাজাকার…

এটা তো বলা হচ্ছেই। যে ধরনের সমালোচনা হচ্ছে তাতে তা আর বাকি থাকলো কোথায়? এ ধরনের ঘটনা বা বক্তব্য নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত নই। আমি বিচলিত, আমার দেশের মানুষের এই অবস্থা দেখে। এটা ভেবে কষ্ট লাগছে আমি তো ব্যক্তিবিশেষ। আমার আব্বু-মুজিব কাকু ওনারা তো স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কি ছিল, মানবিক মর্যাদাবোধ, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার- এই তিনটির ভিত্তিতে বাংলাদেশ। আজকে আমরা কোথায়? এটা কি অর্জন করতে পেরেছি- এই মানসিকতা থাকলে তো এটা আমরা অর্জন করতে পারবো না। আমাদের সাহস কোথায় গেল? সাহস আশাবাদ এবং পরিবর্তন ঘটায়। ভয় স্থবিরতা এবং মনের মৃত্যু ঘটায়। এত এত মানুষের ত্যাগ দেশটার জন্য, দুই লাখ মা বোন ইজ্জত দিয়েছেন স্বাধীনতার জন্য। আমাদেরকে আবার সেই সাহস ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকে যদি আমি কথা বলি, আপনি কথা বলেন, তাহলে দেখবেন জাতি আবার সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। আমাদের কিসের এত ভয়, ইতিহাসের সত্য চেতনার বিরোধীরা ক’জনকে দমাবে।

প্রশ্ন: কেমন দেখছেন বর্তমান বাংলাদেশকে?

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এটাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমাদের এখানে আমরা এখনও আইনের শাসন প্রবর্তন করতে পারিনি। সেই দিন কবে আসবে, যখন এদেশে অর্থ আর পেশিশক্তি দিয়ে আইন ঘুরানো যাবে না। অন্যায় যেই করুক শাস্তি তার হবেই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশের চাকা ঘুরে যাবে।

প্রশ্ন: দেশে ফেরার সম্ভাবনা আছে কিনা? রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবেন কিনা?

আমি নিয়মিতই দেশে আসা-যাওয়া করি। বই প্রকাশের পর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। এখন আরও বেশি বেশি আসতে হবে। কখনও ইচ্ছা ছিল না রাজনীতিতে যোগ দেয়ার। আমার বোনকে এমপি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে আমি খুব ক্ষুব্ধ হয়ে লেখাটি লিখেছি এমন কথাও এসেছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে- মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী দুজনই আমাদের তিন বোনের মধ্যে যেই মনোনয়ন চাইবো দেয়া হবে বলে বলেছিলেন। পত্রিকাতেও এসব কথা এসেছে। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে আমার ওপরও প্রচ- চাপ এলো মনোনয়ন চাইবো কিনা? আমি, সাফ বলে দিয়েছি, আমার সামান্যতমও রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। আমি রাজনীতি করি। তবে তা হচ্ছে, নতুন মানুষ গড়ে তোলার রাজনীতি। আমরা হয়তো একদিন থাকবো না। নতুন প্রজন্ম কিভাবে দেশকে গড়ে তুলবে এটাই আমার কাজ।

প্রশ্ন: বইটি নিয়ে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ অবুভব করছেন? আর কোন বই লিখছেন কি?

এই বইটি প্রকাশের পর খুব স্বাভাবিকভাবেই আমার চ্যালেঞ্জ অনেকগুণ বেড়ে গেছে। ‘মুক্তির কণ্ডারি তাজউদ্দীন, কন্যার অভিবাদন’ এই বইটি প্রকাশের ঘোষণা দিয়েই রেখেছি। এটির কাজ প্রায় শেষের পথে। যত বাধাই আসুক আমি পিছপা হব না। আমি সাহসী বাবা-মায়ের সন্তান। আমি অবাক হচ্ছি এটা ভেবে সন্ত্রাসী মুসলিম ব্রাদারহুড কি করে আমাকে দিয়ে লেখাবে বাংলাদেশের ইতিহাস। আমি তো বাংলাদেশের অনালোকিত একটি অংশের কথা লিখেছি। যে ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের কাছে অজানাই থেকে যেত। আবারও যারা বইয়ের সমালোচনা করছেন তাদের বলবো- আমার বইতে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে কথা বলুন, আমার স্বামী, আমার পরিবারকে নোংরাভাবে আক্রমণ করবেন না। আসুন আমরা সত্যের ভিত্তিতে ইতিহাস রচনা করি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার প্রেরণা এবং তাজউদ্দীন তার সফল বাস্তবায়ক।