মাঈন উদ্দিন জাহেদ এর সাতটি কবিতা

গোলাপ কথন

ইদ্রিস নবীর উম্মতেরা খোদাকে নাকি গোলাপ দিতো;
অদৃশ্য থেকে আলো এসে কাঙ্খিতটা ছুঁয়ে নিতো।
গোলাপ! তোমার এমন কদর জানে কি কেউ এমন করে?
তাইতো তার নামটা আমি পাল্টে দিলাম গোলাপ বলে।
গোলাপ আমার অদৃশ্য হলো,মন ছুঁয়েছে খোদার বুঝি?
সে গোলাপের জন্য আমি দিবস-রজনী জেগে খুঁজি।
গোলাপ তুমি কোথায় আছো? আমার মাঝে,না অন্য কোথাও?
আমার মত এমন সুবাস! কেউ পেয়েছে তোমার কী কেউ?
তোমার জন্য মেঘকে আমি তুলো করেছি ঘুম বালিশের,
তোমার জন্য হাওয়ার মাঝে খাট বিছিয়েছি স্বপ্ন সাধের;
তোমার জন্য লেপ বানালাম বসন্তেরই পুবাল হাওয়ায়।
তুমি এখন মন ছুঁয়েছো, কার কাছেগো ?কোন গোপনে ?
তোমার জন্য থরো থরো, তোমার জন্য দ্বিধা কাতর;
তোমার জন্য মন উদাসী তোমার জন্য প্রগলভতা;
তোমার জন্য টলোমলো তোমায় নিয়ে স্বপ্ন বোনা
গোলাপ তুমি আমার আছো,গভীর গোপন বুকের ভেতর।

বাসনাগুলো

আমাদের সুপ্ত বাসনাগুলো রাহুলকে প্রকাশ্যে চুমুর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে
আমাদের সুপ্ত বাসনাগুলো স্বস্তিকার নগ্ন অভিনয়ের খবর খুঁজতে খুঁজতে বেড়িয়ে পড়ে
আমাদের সুপ্ত বাসনাগুলো তসলিমা নাসরিনের রমনের গল্প বলায় নিশপিশ করে
হায় বাসনা ! তুমি কী জোড়া কমলা লেবু? কামনার ছোট বোন?
তোমাকে গোপন করে দিন দিন আমরা ভব্য হয়ে উঠি!
বাসনা! তোমাকে চুমুয় চুমুয় ভড়িয়ে দেবো যদি তুমি কথা দাও-
তোমার আমার মাঝে সূক্ষ্ম পার্থক্যটুকু তুমি একটু একটু তুলে দাও,
আমার আমি হয়ে প্রকাশিত হবো তোমাদের আমির কাছে;
আমার আমিটুকু তোমার তুমিটুকু থেকে ফারাক হয়ে যাক কতটুকু ।

ভুল জোনাকি

এখন আমি অন্ধকারে ভীষণ রকম আৎকে উঠি;
অন্ধকারে ভুল জোনাকির অংককষি।
অন্ধকারে হাতরে বেরাইস্মৃতির তুমি;
কে যে তুমি? কোন সে তুমি?ভুল জোনাকি!
এখন শুধু স্মৃতির খড়গ দাবরেবেড়ায়;
কিশোর-তরুণ-যৌবনেরই গল্পগাথায়;
কি আনন্দ! কি যে শোক ! কি যে ক্ষরণ!
এক এক স্মৃতি রোম্থনে স্মৃতির পীড়ণ।
ভুল জোনাকির পিছু নেয়ার জীবনশীলা-
লিখতে গেলে কাব্য গাথায় শোকের মাতম।
ভুল জোনাকি! ভুল জোনাকি! কেন এখন পিছু নেয়া?
ভুল জোনাকি! ভুল জোনাকি! মধ্যযামের সু্খ কেরো না।

জীবন নাকী অন্য রকম দৌড় পর্বে

হাহ হা হা জীবন নাকী অন্য রকম দৌড় পর্বে
হাহ… হা… হা…মানুষ এখন ভীষণ ব্যস্ত মুখ লুকাতে
ভীষণ রকম অভ্যস্ত অভিনয়ে
হাহ হা হা জীবন নাকী অন্য রকম দৌড় পর্বে
ভীষণ রকম ত্রস্ততা তার দিন যাপনে।
আসল চেহারা ভীষণ রকম কুৎসীত তার
আসল রূপ ভীষণ রকম না দেখানোর
হঠাৎ যদি অনভ্যস্ত বেরিয়ে পরে
তাইতো এখন ভীষণ ব্যস্ত সং সাজতে ।
তাইতো এখন ভীষণ রকম অভিনেতা
মায়ের সাথে অভিনয় বাবার এখন
বাবার সাথে অভিনয় ছেলের ভীষণ;
ছেলের সাথে অভিনয় মেয়ের ভীষণ
প্রেম পর্বের আসল গল্প খুব অচেনা
কিন্তু ভীষণ সাজ পোশষাকে ঝলোমলো।
হাহ হা হা আমরা এখন ভীষণ রকম ব্যস্ত শুধু মুখ ঢাকতে
মুখ ঢেকে যায় আসল রূপের ভেংচি দেখে
মুখ ঢেকে যায় আসল রূপের আসল রূপে
অভিনয়ের ভীষণ ফাপর- হাপিয়ে ওঠা
অভিনয়ে ভীষণ বিজ্ঞাপিত না মানুষের
মনুষগুলো ভীষণ এখন দূর-অচেনা
মনুষগুলো ভী-ষণ এখন নামানুষই।

দু’জনের পথ দু’দিকে গিয়েছে

স্বর্ণা একবার দিয়েছিল সব
আমি বার বার চেয়েছিলাম;
সময় দিয়েছে ফাঁকি
জীবন দিয়েছে তাড়া-
তোমার সাথে হলো না আমার
যাপিত জীবনে ফেরা।
দু’জনের পথ দু’দিকে গিয়েছে,
মাঝখানে সিঁথি রেখা;
কোনদিকে ভুল, ছিল বেশী-কম
সে আজ মিছিমিছি দেখা।
তুমি আর আমি ছিলাম দু’জনের
এটাই সত্য মূল।
আজি বসন্ত দিনে
স্বর্ণার যত মানে-
আমি আর তুমি স্মৃতি কাতরতা,
তুমি-আমি দু’জনে।

ঝিঁঝিঁপোকারা আমাকে চেনে

রাতের ঝিঁঝিঁপোকারা আমাকে চেনে
চেনে কাঠপোকা – অনড় আলামিরার অজস্র কালো কালো অক্ষর
চেনে শজনে গাছের ছায়া -দেবদারু গাছ-ইউকিলিপ্টাস শিশির
নিরালা রাস্তার হাওয়া সুনসান বিকেল কিংবা একান্ত উইন্ডোশপিং
কত না সময় গেছে আমাদের ‘ভালোবাসি’ কথাটি বলার প্রস্তুতি নিতে।
সময় গিয়েছে চলে ,তার সাথে গিয়েছে চলে দেবদারু গাছ
বৈস্য ভাবনায় গেছে রসাতলে আমাদের ভালবাসা বাসি।
আমি বেঁচে আছি –
কিছু অলোক পাখির মুখ দেখে দেখে, মুখ দেখে দেখে
ঝিঁঝিঁরা সঙ্গে থাকে আর কেউ থাকে আর।

০৭.০৩.১৯৯৭

খু-উ-ব বেশী মনে পড়ছে তোমাকে।
স্পর্শের জন্য এগিয়ে দেওয়া হাত-
কত হাজারবার উচ্চারিত হয়েছে মাইকেল এঞ্জেলোর কথা ।
দশটি আঙ্গুল,তার কম্পন- আমার বুকের মাঝে কি দারুণ ঢেউ তুলেছিল,
ছূয়ে যাওয়া একগুচ্ছ তারুণ্যের হাওয়া ফুলার রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে
নীলখেত-নিউমার্কেট-কত না উইন্ডো শপিং।
প্রতিটি উচ্চারিত শব্দগুলো হয়ে যাচ্ছিল কবিতা।
তুমি ছিলে লাবণ্যের প্রভা-কবিতার কল্পরূপ।
আরও কত কিছু।
কত মুহূর্ত-কত ক্ষণ- আজ শুধু রোমন্থন…আজ শুধু কবিতা।