গিনেস বুকে নাম ওঠাতে পরবর্তী আওয়ামী প্ল্যান

Shafik Rehman শফিক রেহমান
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে গিনেস ব্রুয়ারির ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে কাজ করতেন স্যার হিউ বিভার। তিনি ছুটির দিনে তার বন্ধুদের নিয়ে পাখি শিকার করতে ভালোবাসতেন। তারা যেতেন বনে জঙ্গলে এবং পাহাড়ি এলাকায়। নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য খুজে বেড়াতেন নতুন জাতির পাখিকে।

১০ নভেম্বর ১৯৫১-তে এমনই এক শুটিং টৃপে আয়ারল্যান্ডের নর্থ স্লব নামে একটি জায়গায় গিয়েছিলেন স্যার হিউ এবং তার বন্ধুরা। স্লেনি নদীর তীরে এই জায়গাটি গাছপালায় ভর্তি। এক সময়ে গাছের ডালে বসা একটি গোলডেন প্লোভার (Golden Plover)-এর দিকে বন্দুক তাক করলেন স্যার হিউ।

কিন্তু তার লক্ষ্য ব্যর্থ হলো।

তিনি বন্ধুদের বললেন, তার মিস করার কারণ হলো গোলডেন প্লোভার-ই ইওরোপের সবচেয়ে দ্রুতগামী পাখি। বন্ধুরা দ্বিমত প্রকাশ করে বললেন, ইওরোপে সবচেয়ে দ্রুতগামী পাখি হচ্ছে রেড গ্রাউস (Red Grouse)।

শুটিং টৃপের শেষে তারা সবাই ফিরে গেলেন কাসলবৃজ হাউজে। কিন্তু তর্কের শেষ হচ্ছিল না।

এক পর্যায়ে স্যার হিউ বুঝলেন, শুধু পাখি বিষয়েই নয়, অন্যান্য বহু বিষয়েও নিশ্চয়ই এ রকম অনেক প্রশ্ন আছে যার উত্তর আয়ারল্যান্ড তথা ইওরোপে অমীমাংসিত আছে। চায়ের দোকানে, বিয়ার খাওয়ার পাব (Pub)-এ, অফিসে লাঞ্চ আওয়ারে অথবা বাড়িতে ডিনার পার্টিতে এ রকম তর্ক নিশ্চয়ই প্রতিদিনই হয়। সুতরাং এমন একটা বই যদি হয় যেখানে বিভিন্ন রেকর্ডের সব লিস্ট থাকবে তাহলে সেটি নিশ্চয়ই জনপ্রিয় হবে।
যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। পরদিন স্যার হিউ লন্ডনে অবস্থানরত তার দৌড়বিদ ইংরেজ বন্ধু কৃস্টফার চ্যাটাওয়ে-কে ফোন করলেন।

তুমি তো মাটিতে মিডল আর লং ডিসটান্স রানিংয়ে অন্যতম দ্রুতগামী মানুষ হিসেবে বিশ্বজোড়া নাম করেছ। কিন্তু বলতে পারো আকাশে সবচেয়ে দ্রুতগামী পাখি কোনটি? স্যার হিউ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন।

চ্যাটাওয়ে তার অপারগতা প্রকাশ করলেন। কিন্তু তিনি বললেন, এ বিষয়ে দুই যমজ ভাই নরিস ও রস ম্যাকহুইর্টার, সাহায্য করতে পারবেন। আমার সঙ্গে তারা ইউনিভার্সিটিতে পড়ত। তখনই দেখেছি ওরা ফ্যাক্টস ও ফিগার্স নিয়ে অনেক রিসার্চ করে। এখন ওরা লন্ডনেই ফ্যাক্টস ও ফিগার্সের একটা এজেন্সি খুলেছে।

স্যার হিউ যোগাযোগ করলেন নরিস ও রসের সঙ্গে। জানতে পারলেন তিনিই সঠিক ছিলেন। রেড গ্রাউসের চাইতে বেশি স্পিডে উড়তে পারে গোলডেন প্লোভার। তবে, লেভেল ফাইটে বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগামী পাখি হচ্ছে অ্যানাটিডে (Anatidae) নামে এক জাতির হাস। এরা ঘণ্টায় ৫৬-৬২ মাইল (৯০-১০০ কিলোমিটার) স্পিডে উড়তে পারে। আর শিকার ধরতে আকাশ থেকে নিচে সবচেয়ে বেশি স্পিডে ডাইভ দিতে পারে পেরেগন ফ্যালকন। ডাইভের সময় তার স্পিড হতে পাড়ে ঘন্টায় ১৮৬ মাইল (৩০০ কিলোমিটার)।

এরপর স্যার হিউ বিভিন্ন রেকর্ড সংগ্রহ করে একটি বই প্রকাশের জন্য নরিস ও রসকে চুক্তিবদ্ধ করলেন। লন্ডনের ১০৭ ফিট স্টৃটে দুই ভাই একটি নতুন অফিস ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করলেন। পরিণতিতে আগস্ট ১৯৫৪-তে দি গিনেস বুক অফ রেকর্ডস নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মাত্র ১,০০০ কপি ছাপা হয়েছিল এবং বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে ফৃ বিলি করেছিলেন স্যার হিউ।

বইটি বিলি করার পর স্যার হিউ আরো কপির জন্য অসংখ্য অনুরোধ পেলেন। অপ্রত্যাশিত সাড়া পাওয়ার পর বইটি বাণিজ্যিকভাবে প্রকাশের জন্য স্যার হিউ গিনেস সুপারলেটিভস লিমিটেড নামে একটি কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭ পৃষ্ঠার বাধানো দি গিনেস বুক অফ রেকর্ড ২৭ আগস্ট ১৯৫৫-তে বৃটেনে বাজারজাত হয় এবং এটি ডিসেম্বরে কৃসমাসের সময়ে বৃটিশ বেস্টসেলার লিস্টে টপে যায়।

এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে পরের বছরে বইটি আমেরিকা সংস্করণ প্রকাশ করেন স্যার হিউ। সেখানে প্রথম বছরেই বইয়ের ৭০,০০০ কপি বিক্রি হয়ে যায়।

এরপর বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর বইটি প্রকাশিত হতে থাকে। প্রতি বছরই বইটির নতুন সংস্করণ বাজারে আসা শুরু করে সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরে যেন ডিসেম্বরে কৃসমাস বাজারটা ধরা যায়। ঈদ বার্ষিকী অথবা পূজা বার্ষিকীর মতোই গিনেসের নতুন সংস্করণের জন্য কৃসমাসের সময়ে পাঠকরা আগ্রহে অপেক্ষা করে। বিশেষত কিশোর-কিশোরীরা। নতুন বইয়ে কিছু পুরনো রেকর্ড বাদ দিয়ে বিগত বছরের নতুন রেকর্ডগুলো সংযোজিত হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে যারা রেকর্ড করেন, বা রেকর্ড প্রত্যাশী, যেমন, স্পোর্টসে (অলিম্পিক, ফুটবল, কৃকেট, সুইমিং, ট্র্যাক ইভেন্টস) মুভি, বিজনেস অথবা পলিটিক্সে, তারা এই বইয়ে নিজের নাম ওঠানোর চাইতে নিজস্ব ক্ষেত্রে স্পেশালাইজড রেকর্ড বুকে নাম ওঠাতে বেশি উৎসাহী। যেমন, ক্রিকেট প্লেয়াররা চান উইসডেন (Wisden) বুকে নিজের নাম ওঠাতে যেখানে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের নাম উঠেছে। উইসডেন প্রতি বছর নতুন সংস্করণ প্রকাশ করে। অর্থাৎ যারা স্বভাবগতভাবে প্রতিযোগিতাপরায়ণ তারা গিনেস বুকের তোয়াক্কা করেন না।

ম্যাকহুইর্টার ভাই দুজন বহু বছর বইটির তথ্য সংকলক ও সম্পাদক ছিলেন। এই বইয়ের সাফল্যের পিঠে চড়ে তারা রেকর্ড ব্রেকার্স নামে একটি টিভি সিরিজ উপস্থাপন করেন। এই অনুষ্ঠানে কিশোর কিশোরীরা বিশ্বের বিভিন্ন বিচিত্র রেকর্ড বিষয়ে প্রশ্ন করত দুই ভাইকে। এই দুই যমজ ভাইয়ের স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ।

ইতিমধ্যে উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী গেরিলা দল আইআরএ (IRA) দুই ভাইকে চিহ্নিত করেছিল আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা বিরোধী রূপ। তাদের হাতে ১৯৭৫-এ নিহত হন রস ম্যাকহুইর্টার। এরপর এই টিভি অনুষ্ঠানটির নতুন নাম হয় নরিস অন দি স্পট।

নিজস্ব গুন ও বৈচিত্র এবং পাশাপাশি এই টিভি অনুষ্ঠানের ফলে দি গিনেস বুক অফ রেকর্ডস হয় একটি সুপরিচিত নাম এবং সফল পণ্য, বিশেষত বিনোদনের জগতে বা এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ডে।

গিনেস ব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ প্রথমে বইটি গিনেস সুপারলেটিভস লিমিটেডের নামে প্রকাশ করলেও দ্রুত এই কম্পানির নাম বদলে করেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস লিমিটেড। আমেরিকায় তারা স্টার্লিং বুকসের নামে বইটি প্রকাশ করেন। এরপর বইটি প্রকাশিত হতে থাকে ডায়াজিও (Diageo)-র ব্যানারে ২০০১ পর্যন্ত। তারপর বইটির কপিরাইট কিনে নেয় জুলেইন এন্টারটেইনমেন্ট (Guillane Entertainment)। মাত্র এক বছর পরেই জুলেইন এন্টারটেইনমেন্টকে কিনে নেয় এইচআইটি এন্টারটেইনমেন্ট (HIT Entertainment)। ২০০৬-এ এপ্যাক্স পার্টনার্স কিনে নেয় এইচআইটি এন্টারটেইনমেন্টকে। এর দুই বছর পরে ২০০৮-এ দি জিম প্যাটিসন গ্রুপ কিনে নেয় এপ্যাক্স পার্টনার্সকে। এখন জিম প্যাটিসন গ্রুপই গিনেস বুকের প্রকাশক। কিন্তু জিম প্যাটিসন গ্রুপের মালিক কে?

উত্তর : রিপলি এন্টারটেইনমেন্ট (Ripley Entertainment) যাদের হেড কোয়ার্টার্স হচ্ছে আমেরিকায় ফোরিডার অরল্যান্ডো শহরে। তবে তারা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের হেড কোয়ার্টার্স রেখেছে লন্ডনে। এই কম্পানি যুগপৎ গিনেস ওয়ার্ল্ড রের্কস এট্রাকশন্স নামেও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে মিউজিয়াম বা যাদুঘর চালাচ্ছে। পাশাপাশি রিপলির বিলিভ ইট অর নট (বিশ্বাস করুন বা না-ই করুন) যাদুঘরও চালাচ্ছে।

বলা যায়, ১৯৫৪-তে সিরিয়াস তথ্য এবং রেকর্ড সংকলনের জন্য প্রতিষ্ঠিত কম্পানিটি এখন ৬০ বছর পরে নতুন মালিকানায় সিরিয়াস এবং ননসিরিয়াস, হালকা ফালতু ও আনন্দদায়ক তথ্য ও রেকর্ডের বইটির প্রকাশক হয়েছে। বর্তমান গিনেস বুকের এন্টাইটেইনিং চরিত্রের সঙ্গে মিল আছে রিপলি এন্টারটেইনমেন্ট নামের। ইতিমধ্যে গিনেস বুকের নামও বদলে গেছে। এখন এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নামে বের হয়- দি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নামে নয়।

সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোতে গিনেস বেশি জোর দিয়েছে মানুষের প্রতিযোগিতা ও বিচিত্র কর্মকাণ্ডের ওপর। যেমন, কে সবচেয়ে বেশি ভার উত্তোলন করতে পারল অথবা কে সবচেয়ে বেশি হ্যামবার্গার দশ মিনিটে খেতে পারল। তবে খাওয়া এবং মদ্যপান বিষয়ে এখন গিনেস আর নতুন কোনো দাবি গ্রহণ করছে না মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে। এসব রেকর্ড ছাড়াও গিনেস প্রকাশ করেছে সবচেয়ে বড় টিউমার কার ছিল, সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ কোনটি, সবচেয়ে ছোট নদী কোনটি, সবচেয়ে বেশি সময় জুড়ে প্রচারিত টিভি সিরিয়াল কোনটি অথবা সবচেয়ে কম বয়স ব্যক্তি কে পৃথিবীর সব দেশে ঘুরে এসেছে। কে নাক দিয়ে সবচেয়ে বেশি নুডলস বের করতে পারে। কার চুল, নখ কতো লম্বা, ইত্যাদি।
১৯৯৫-এ নরিস ম্যাকহুইর্টার গিনেস প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে পদচ্যুত হন। তার বিদায়ের পর গিনেস বুক ক্রমেই বদলে যেতে থাকে। টেক্সটসহ তথ্যের বদলে ছবিসহ তথ্য গিনেসের পাতা দখল করে। এটাও একটা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ গিনেস বুকের মূল পাঠক কিশোর-কিশোরীরা লেখার চাইতে ছবি বেশি পছন্দ করে। এর একটি তাৎপর্য হচ্ছে এই যে অধিকাংশ বিশ্ব রেকর্ডই এখন আর বইতে (অথবা তাদের অনলাইন ওয়েবসাইটে) নেই। গিনেস বুকের বর্তমান প্রকাশক নিঃসঙ্কোচে তথ্য পরিবেশনের বদলে আনন্দ পরিবেশনে এগিয়ে গিয়েছেন। তবে কেউ যদি কোনো রেকর্ড প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হন তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে পারেন যদি লিখিতভাবে গিনেস বুক প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঠিকানা: www.guinnessworldrecords.com

সাধারণত এসব চিঠির উত্তর বিনা দামে মাস দেড়েকের মধ্যে দেওয়া হয়। তবে কেউ যদি দ্রুত উত্তর চান তাহলে ৪৫০ ডলার (প্রায় ৩৬,০০০ টাকা) ফিস দিতে হবে।

এটা ঠিক যে বিশ্বের বহু রেকর্ডই গিনেস বুকে পাওয়া যাবে এবং সেখানে সেটা না থাকলে গিনেস কর্তৃপক্ষের ডেটা বেইসে পাওয়া যাবে। বিভিন্ন কারণে গিনেস বুকে পুরনো রেকর্ড সরিয়ে ফেলা হয়। সেটা হতে দৈহিক বিপদ অথবা নৈতিক অথবা পরিবেশগত কারণে। একবার সবচাইতে বেশি ওজনের মাছের রেকর্ড প্রকাশিত হবার পর অনেকেই তাদের ফার্মে মাছকে বেশি খাইয়ে মোটা করার চেষ্টায় ব্রতী হন। ওয়াইন, বিয়ার, হুইস্কি জাতীয় অ্যালকোহলিক ডৃংক খাওয়ায় রেকর্ড প্রতিষ্ঠায় অনেকেই উৎসাহী হন। কেউ কেউ মোটর সাইকেল খাওয়া অথবা ব্লেড গলার মধ্যে ঢোকানোতে আগ্রহী হন। এসব এখন বন্ধ করা হয়েছে।

আরেকটি বিষয়ে গিনেস বুক রেকর্ড প্রতিষ্ঠা করে না। সেটি হচ্ছে সৌন্দর্য। গিনেস কর্তৃপক্ষ বলেন, সৌন্দর্যের পরিমাপ সম্ভব নয় Ñ সেটা নির্ভর করে যিনি দেখছেন তার চোখের ওপর। সুতরাং বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নারী অথবা সুন্দর পুরুষটি কে সেটা গিনেস বুকে জানা যাবে না।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এখন ইংরেজিসহ মোট ২৯টি ভাষায় প্রকাশিত হয়। সাধারণ এ-ফোর সাইজে এই বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা হয় ২৮০-র কম। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ২০১৪ বৃটিশ সংস্করণের পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৭২ এবং দাম ২০ পাউন্ড (প্রায় ২,৫০০ টাকা)।

বইটি নিজেই বিশ্ব রেকর্ড
বইটির নিজের সম্পর্কেই তথ্যগুলো ইনটারেসটিং। যেমন: বিশ্বে কপিরাইট থাকা বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই প্রতি বছর বিক্রি হয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। বইটির বর্তমানে সম্পাদক ক্রেইগ গ্লেনডে (Twitter: @craigglenday)। কপিরাইট মুক্ত সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বই বাইবেল।

আমেরিকার পাবলিক লাইব্রেরি থেকে সবচেয়ে বেশি চুরি হওয়া বই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

বৃটেন, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রেঞ্চ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ইটালি, নরওয়ে, পর্টুগাল, রাশিয়া, স্পেন, ব্রাজিল ও সাউথ আমেরিকার অন্যান্য দেশের কপিগুলো ছাপা হয় স্পেনের বার্সেলোনাতে।

উপরোক্ত সব সংস্করণ ছাপতে ৯৫ দিন লাগে। এর জন্য দরকার হয় ৪৮,৫০০ মিটার (১০,৬৬৮ গ্যালন) কালি যার সমপরিমাণ তেল দিয়ে চারটি ৭৪৭ জাম্বো জেটের ফিউয়েল ট্যাংক ভরা যায়।

কভারের জন্য প্রয়োজনীয় সিলভার ফয়েল-এর দৈর্ঘ্য হয় ৪৭১ কিলোমিটার (২৯২ মাইল)। কভার বাইন্ডিংয়ের জন্য দরকার হয় ৬৭২.৭ টন কার্ডবোর্ড।

বইয়ের কাগজের জন্য দরকার হয় ৩,৫০০ টন ১১০ gsm ফিনেস ২২০ পেপার যা আসে ফিনল্যান্ড ও জার্মানি থেকে।

অন্যান্য সব সংস্করণ (জার্মানি, গৃস, ইসরেল, চায়না, জাপান, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, এস্টোনিয়া, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ল্যাটভিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং আরব দেশগুলোর জন্য) কপিগুলো ছাপা হয় একযোগে বিভিন্ন দেশে। বলা বাহুল্য, এদের জন্য যে কালি, ফয়েল, কার্ডবোর্ড ও কাগজ দরকার তার হিসাব আলাদা।

মাত্র একটি বই প্রতি বছরে একবার প্রকাশের জন্য যে বিরাট কর্মযজ্ঞ চলে সেটাই আরেকটা রেকর্ড।

গিনেস, গ্রীনিচ, গ্রীনিজ
গিনেস রেকর্ড বিষয়ে যখন বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা এবং রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা উৎসাহিত হওয়া শুরু করেন তখন তাদের অধিকাংশই জানতেন না গিনেস নামটির সঠিক বানান ও উচ্চারণ এবং এই রেকর্ড সংকলনের উৎপত্তি কিভাবে শুরু হলো। দৈনিক ইত্তেফাকে লেখা হতো গ্রীনিচ বুক অফ রেকর্ডস। তাই নেতানেত্রীরা একে বলতেন গ্রীনিচ রেকর্ডস। এই ভুলটি তারা করেছিলেন কারণ তারা বিবিসির বাংলা খবরের সূচনাতেই শুনতেন, এখন গ্রীনিচ মান সময় বাক্যটি। তারই ফলে আয়ারল্যান্ডের গিনেস বাংলাদেশে হয়ে যায় গ্রীনিচ!

এই ভুল নতুন মাত্রা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কৃকেটার গর্ডন গ্রীনিজ বাংলাদেশ কৃকেট টিমের কোচ নিযুক্ত হবার পর। পত্রপত্রিকা এবং নেতানেত্রীরা বলা শুরু করেন গ্রীনিজ রেকর্ডস। অর্থাৎ, ভুল সংশোধন করতে গিয়ে আরেকটি ভুল তারা করতে থাকেন। এ বিষয়ে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন-এ একাধিকবার লেখালেখির পর ক্রমে গিনেস নামটি বাংলাদেশে চালু হতে থাকে।

মজার কথা এই যে, পশ্চিমের কোনো দেশে গিনেস শব্দটি উচ্চারণ করলে, মানুষ মনে করবে গিনেস বিয়ারের কথা বলা হচ্ছেÑ গিনেস রেকর্ডের কথা নয়। কারণ বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে উৎপাদিত এবং ১০০টির বেশি দেশে বিক্রি হওয়া গিনেস বিয়ারের জনপ্রিয়তা।

বিয়ার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন লাগার (Lager), পিলসনার, স্টাউট, ইত্যাদি। বিয়ারে এলকোহলের পরিমাণ ২% থেকে ৮% পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত বিয়ারে এলকোহলের পরিমাণ হয় ৫%। বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া হাইনিকেন ৫% এবং ফস্টার্স-এ ৪.৯% এলকোহল থাকে।
বিয়ার উৎপাদিত হয় ব্রুয়ারিতে। ১৭৫৯-এ আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে আর্থার গিনেস প্রতিষ্ঠা করেন গিনেস ব্রুয়ারি। গিনেস বিয়ার পরিচিত হয় স্টাউট (Stout) নামে এবং এর রং ও স্বাদ হয় অন্য বিয়ারের চাইতে ভিন্ন। দামও কিছুটা বেশি। গিনেসের রং গাঢ় চকোলেট বা প্রায় কালো। এটি ঘন এবং ফেনায়িত। বিভিন্ন ধরনের গিনেস স্টাউটে বিভিন্ন পরিমাণ এলকোহল থাকে এবং তার পরিমাণ হতে পারে সর্বোচ্চ ৭.৫% (গিনেস ফরেইন একস্ট্রা স্টাউট-এ)। তবে বিশ্ব জুড়ে যে গিনেস অরিজিনাল স্টাউট বিক্রি হয় সেখানে এলকোহলের পরিমাণ থাকে ৪.২% যেটা হাইনিকেন, কালর্সবাগ, ফস্টার্সের চাইতে কম।

গিনেসের স্বাদ তিতা। এর স্বাদ কষ্ট করে আয়ত্ত করতে হয়। কিন্তু কেন গিনেসপায়ীরা কষ্ট করে গিনেসের স্বাদ আয়ত্ত করেন এবং তারপর বেশি দাম দিয়ে গিনেস খেতে অভ্যস্ত হন? এই প্রশ্নের উত্তরটা হচ্ছে অনেকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, গিনেস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
১৯৫৭-তে লন্ডনে গিয়ে বড় বড় বিলবোর্ডে দেখতাম গিনেস ইজ গুড ফর ইউ (Guinness is good for you) স্লোগান সংবলিত বিজ্ঞাপন। ওইসব বিজ্ঞাপনে দেখা যেত, একজন গিনেসপায়ী পুরুষ বিশাল ভারের লোহার স্ল্যাব স্বচ্ছন্দে তুলে দাড়িয়ে আছে।

অথবা গিনেসপায়ী পুরুষ দৌড়ে, সাতারে, নৌকা বাইচে প্রথম হচ্ছে। ইংরেজ লেখিকা ডরোথি এল. সেয়ার্স এই সেøাগানটির উদ্ভাবক ছিলেন।
গিনেস যে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সেটা প্রমাণ করতে এক সময়ে গিনেস কর্তৃপক্ষ ডাক্তারদের কাছে গিনেসের বোতল (সেই সময়ে ক্যান ছিল না) পাঠিয়ে দিতেন তাদের পেশেন্টকে ফৃ দিতে।

গিনেসের এই মার্কেটিং ট্যাকটিক্সের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায় অন্যান্য বিয়ার উৎপাদনকারীরা। তখন গিনেস কর্তৃপক্ষ ওই বিজ্ঞাপনী সেøাগান বাদ দিতে বাধ্য হন।

এই বিতর্ক সত্ত্বেও এটা স্বীকৃত সত্য যে, সব বিয়ারের মধ্যে গিনেসেই এমন সব কেমিকাল মিশ্রিত আছে যা কলেস্টেরল কম রাখতে এবং দেহে রক্ত চলাচল ভালো রাখতে সহায়ক।

বাংলাদেশে গিনেস ম্যানিয়া
গিনেস ব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠাতা আর্থার গিনেস, অথবা গিনেস বুক অফ রেকর্ডসের জন্মদাতা স্যার হিউ বিভার অথবা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বইটির বর্তমান মালিক রিপলি এন্টারটেইনমেন্ট কখনো কল্পনাও করেননি যে, সুদূর বাংলাদেশে, যেখানের মানুষ কখনো গিনেস খায়নি, এমনকি গিনেসের নামও শোনেনি, তারা গিনেসে এত উৎসাহী হবে।

গত কয়েক মাস যাবৎ বাংলাদেশে গিনেস বুকে নাম ওঠানোর ম্যানিয়া সৃষ্টি করা হয়েছে।

প্রথমে এই কর্মটি করেন রবি মোবাইল ফোন কর্তৃপক্ষ। তারা বাণিজ্যিক স্বার্থে বাংলাদেশের একটি মানবপতাকা গঠনে অংশ নিতে আহ্বান জানান। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩-তে তারিখে ঢাকায় প্যারেড গ্রাউন্ডে এই মানবপতাকাটি গঠিত হয়। তবে যেহেতু এটি ছিল মানবসহ এবং স্থলভূমিতে আবদ্ধ সেহেতু সাধারণ পতাকার মতো এটিকে আকাশে ওড়ানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাতে কী? গিনেস বুকে তো নাম উঠলো।

এই আত্মপ্রসাদ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিন পরেই জানা গেল পাকিস্তান এই রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের চাইতে বড় মানবপতাকা ভূমিতে তৈরি হয়েছে।

মানবপতাকার এই রেকর্ড সৃষ্টি এবং সেটি ভঙ্গের পর প্রচার উৎসাহী আওয়ামী লীগ সরকার স্থির করে এবার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সর্বাধিক কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাইবার রেকর্ড সৃষ্টি করতে হবে।

এই প্ল্যান কার্যকর করতে রাজধানী জুড়ে বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপিত হয়। মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠান হয়। মিডিয়া জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালান হয়। বাংলাদেশের মানুষকে দেশপ্রেমের প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আহবান জানান হয়। গুজব ছড়িয়ে পড়ে ২৬ মার্চে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হলে জনপ্রতি ১,০০০ টাকা দেওয়া হবে। আবার কেউ কেউ বলেন, ১০০০ টাকা নয় মাত্র ৬০ টাকা দেওয়া হবে। তবে আসা-যাওয়া এবং দুপুরের খাওয়া ফৃ দেয়া হবে। এদের আনা নেওয়ার জন্য সরকারি নির্দেশে আন্ত:জেলা রুটের কোচগুলো দুইদিন ধরে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়। এই গিনেস প্রকল্পে মোট কত টাকা সরকার খরচ করেছে আশা করি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে অচিরেই জানা যাবে।

আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক কোটি টাকা খরচ করে আবার প্রমাণ করে ইংরেজ চিন্তাবিদ ড. স্যামুয়েল জনসন (১৭০৯-১৭৮৪) ঠিকই বলেছিলেন। তার বিখ্যাত উক্তি Patriotism is the last refuge of a scoundrel (প্যাটৃয়টিজম ইজ দি লাস্ট রিফিউজ অফ এ স্কাউনড্রেল) বা শয়তানের নিরাপত্তার শেষ ভরসা হচ্ছে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করানো।

বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা এবং দেশপ্রেমিকরা বুঝতে পারেননি গিনেস বুকে নাম ওঠানোর “সাফল্য” “কৃতিত্ব” ইত্যাদি অলিম্পিক বা ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলে সাফল্যের সাথে কোনোমতেই তুলনীয় নয় এবং সেখানে সাফল্যের মতো সম্মানিতও নয়। উল্লেখ করা যেতে পারে ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও কিউবা ও জ্যামাইকা অলিম্পিকে বহু সাফল্য অর্জন করেছে। ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও উরুগুয়ে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়েছে এবং এবারও তারা ২০১৪-র চূড়ান্ত রাউন্ডে ব্রাজিলে খেলবে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতামূলক এসব ইভেন্টে বাংলাদেশ কোথায়? উত্তর: এসব ইভেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা হাতে কিছু স্পোর্টস কর্মকর্তার উপস্থিতিতে।

গণপ্রচারণায় আসক্ত আওয়ামী লীগ
প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচন ‘বিজয়ী’ নির্লজ্জ আওয়ামী লীগ এখন শঙ্কিত চিত্তে অপেক্ষা করছে ২৬ মার্চে প্রতিষ্ঠিত গণসঙ্গীত গাইবার রেকর্ড পাকিস্তান অথবা অন্য কোনো দেশ অচিরেই ভাঙ্গবে কিনা।

মানুষ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অগ্রণী দেশ। ১৯৪৭-এ এই ভূখন্ডের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে চার কোটি। ১৯৭১-এ ছিল সাড়ে সাত কোটি। এখন ২০১৪-তে ধারণা করা হয় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ষোল থেকে আঠার কোটির মধ্যে। সঠিক সংখ্যাটি যাই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তার আর্থিক ও প্রশাসনিক শক্তি এবং আওয়ামী লীগ তার সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে সবসময়ই চেষ্টা করে যাবে, বাংলাদেশের মানবশক্তিকে প্রচারণার কাজে লাগিয়ে গিনেস বুকে তাদের নাম ওঠাতে।

বিশ্বের সপ্তম জনবহুল দেশ এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চাইতে বেশি জনবহুল ছয়টি দেশ, যথাক্রমে, চায়না, ইন্ডিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও পাকিস্তান। এদের মধ্যে পাকিস্তান বাদে আর কোনো দেশ জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে মনে হয় না।

আওয়ামী লীগের এই মহান কর্মকাণ্ডে সহায়ক হবার জন্য দুই ধরনের গিনেস রেকর্ড প্রকল্প শুরু হতে পারে। এক. যেসব ক্ষেত্রে অলরেডি গিনেস রেকর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে সেসবের দাবি করে গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে আওয়ামী সরকার। এবং দুই. নতুন কিছু রেকর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য এখন থেকেই কাজে নেমে যাওয়া, অর্থাৎ বিলবোর্ড প্রস্তুত করা এবং টাকা খরচ করা।

যেসব ক্ষেত্রে গিনেস রেকর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে তাদের অন্তত দশটি নিচে উল্লেখ করা হলো:
রানা প্লাজা দুর্ঘটনা: কোনো গার্মেন্টস ভবনে ধসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ নিহত।
তাজরীন গার্মেন্টস: কোনো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ নিহত।
ডেসটিনি: কোনো পিরামিড ফাইনান্স ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বিনিয়োগকারী প্রতারিত।
শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ: আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাসির দণ্ডে দণ্ডিত করার লক্ষ্যে আইন বদলানো দাবিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক জনসমাবেশ এবং তার প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইন বদলিয়ে ফাসির দণ্ড দিয়ে সেটা কার্যকর।
শাপলা চত্বরে হেফাজতের মে ২০১৩ সম্মেলন: ধর্মপরায়ণ মানুষের প্রতিবাদ সম্মেলনে সর্বোচ্চ সংখ্যাকের সমাবেশ এবং সেখানে সরকারি বাহিনীর গুলিচালনার পর প্রধানমন্ত্রীর দাবি সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের “পাখি হয়ে ফুরুৎ করে আকাশে উড়ে যাওয়া”।
সারা দেশ জুড়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক গণহুলিয়া জারি করা।
ব্যাপকতম প্রশ্নপত্র ফাস হওয়া।
সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা চুরি ও লুট হওয়া।
৫ জানুয়ারি ২০১৪-র নির্বাচন: নির্বাচন ছাড়াই ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়া এবং বাকি ১৪৭টি আসনে ৩% থেকে ৫% মানুষের ভোটে অংশগ্রহণে বিজয়ী হওয়া।

এবার আপনি আপনার পছন্দ মতো আরো কিছু নাম এই লিস্টে যোগ করতে পারেন। যেমন, সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা ঝুলে থাকা, সর্বোচ্চ সংখ্যক সরকারি কর্মচারিদের ওএসডি হওয়া। ইত্যাদি।

অন্তত পাচটি নিউ গিনেস প্রজেক্ট আওয়ামী সরকার শুরু করতে পারে। যেমন:
ঢাকার বেড়িবাধের পাশে তুরাগ নদীকে ভূমিদস্যুদের কবলমুক্ত করার জন্য জনসমাবেশ করা।
ঢাকার পাশে চার নদী, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা এবং বালুকে দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে জনকর্মীদের সম্মিলিত করা।
সারা দেশে শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ঢাকাস্থ ইউনিভার্সিটিগুলোর সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে তাদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে মফস্বলে অন্ততপক্ষে ছয় মাস অবস্থান ও মফস্বলের স্কুলে শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করা।
পরিচ্ছন্ন রাজধানী দিবস পালন উপলক্ষে সর্বোচ্চ সংখ্যক জনকর্মীর সমাবেশ ঘটানো।
তিস্তা এবং পদ্মাকে বাচানোর জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মিছিল করে ওই দুই নদীর তীরে যাওয়া।
পারবে কি ইনডিয়া ব্র্যান্ড আওয়ামী সরকার এসব করতে?
এসব যদি পারতো তাহলে গিনেস বুকে নাম উঠুক বা না উঠুক, বাংলাদেশের অবস্থার কিছু উন্নতি হতো।