রঙের বায়োস্কোপ

Bioscope1
জজকোটের মহামান্য হাকিম সাহেব বাদী-বিবাদি দুপক্ষের সাক্ষীনুযায়ী মোমেনাকে পাঁচ বছর কারাদন্ড এবং সারে তিন হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদন্ড সাব্যস্ত করে। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ আসামীর সকল দিক বিবেচনা মাথায় রেখে এবং নারী কল্যাণ সমিতির তকবীরে দু’ বছর আগেই মোমেনাকে বেকুসুর খালাস করে দেয়। কেন্দ্রীয় কারাগারের গেইটে আসে সাইদুর, চার টাকা দামের কাগজের মালা হাতে আর স্থানীয় এক মিষ্টান্ন’র দোকান থেকে বড়-বড় খান দুই চমচম নিয়ে, মোমেনাকে আর ওর দুই বছরের শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যেতে। শিশুটি খিলখিল করে হাসছে মুক্ত বিহঙ্গের মতো, আজ যেন ওই সত্যসত্যিই স্বাধীন। এই শিশু সাইদুরের ঔরষজাত, আটকুড়া নাম ঘোচাতে ওর তাই আগমন, স্বয়ং খোদাপ্রদক্ত একটা নিষ্পাপ প্রাণী। যেন বা সৃষ্টিসুখের উল্লাসে সাইদুরের বুকের ভেতর আনন্দের নদী খলবল করে ধেই- ধেই নাচতে-নাচতে দিকবিদিক ছুটে যেতে চাইছে,তাকে থামাবে কে নিজেই জানে না আজ। সমস্ত ভাষা কোথায় গিয়ে যে আটকে গেছে, শিশুটির দিকে তাকিয়ে সুখানুভবে চোখ জোড়া কেমন ছলবল করে ওঠে মুহূর্তে। এলোমেলো কতো কথা বুক ঠেলে বের হতে চায়, আজ সে সত্যি একজন বিশুদ্ধ মানুষ, যাকে দেখে কেউই আর মুখ ঘুরিয়ে রাখবে না অকল্যাণ ভেবে, কতো খুশি যেন বয়ে যায় আকাশে-বাতাসে, মনকে আর ধরে রাখা যায় না। মোমেনার দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে মুখের আদল।

ট্রেন এখন চলছে, ষ্টেশন থেকে অনেকক্ষণ আগেই ছেড়েছে, মোমেনা জানালার ধারে বসে বাইরের চলমান দৃশ্যাবলী বিমূগ্ধ নয়নে উপভোগ করছে এখন। কোলে ওর একটুকরো রক্তমাংসের মানব শিশু, যেন আকাশের লাল টকটকে সূর্য, তন্দ্রায় ঢুলুঢুলু চোখ, রক্তগোলাপ কে যেন ছড়িয়ে রেখেছে ওর লাজুক ঠোঁটে। মোমেনার এলায়িত চুলেরা উড়াউড়ি করছে ভারী, বাতাসেরও চরম শক্তি আছে,সাইদুর বারবার মোমেনার চোখ-মুখ ঘুরেফিরে দেখে, এ’দেখার যেন শেষ নেই। কতো বছর হলো, কিন্তু ওর কাছে মনে হচ্ছে কতো যুগ কেটে গেছে, জেলের ভাতে শরীর একটু যেন বেড়েছে, তবে ভালোই লাগছে দেখতে। একটু আবার রাশভারী ভাবটা চেহারায় ফুটে উঠেছে, চোখ দুটো বড় মায়াবী ছড়ানো, ঠিক যেন শেষ রাত্রের শুকতারাটি আকাশের এককোণে চুপটি মেরে বসে আছে, কেউ তার খোঁজ করুক বা না করুক তাতে তার কি আসে যায়, সে যেন নিজেই একটা আলোময় পৃথিবী।

সাইদুরের সঙ্গে এখনো তেমন একটা কথা-বার্তা হয়নি, বেদনাবিঁধূর মোমেনা আকাশের মাঝে কি যে অন্সেসান করে বুঝে পায় না সে। ট্রেন ছুটছে নদী-মাঠ-ঘাট পেরিয়ে অজানা গন্তব্যে, আলুলায়িত মোমেনা, স্বামী নামের ওই সাইদুর ব্যক্তিটি পাশে বসে আছে নিঃশব্দে। বিচলিত হয়ে ওঠে সে, মনের মধ্যে অপরাধবোধ নিয়ে কি তাহলে জর্জরিত, কোনো কথায় বলতে পারে না। অশোভন একটা শব্দ করে অকস্মাৎ ট্রেনটা বিরান মাঠের মধ্যে থেমে যায়, চিন্তার সুতো ছেড়ার মতো তানপুরার তার কেটে যায় যেন, এমন হোঁচটে খেয়ে সচকিত হয়ে ওঠে মোমেনা। নির্নিমেষ নয়নে তাকিয়ে আছে একজন মানুষ, এতোক্ষণে যেন ঠাওড় করে সে। নির্লিপ্ত থাকার অপরাধে বুকের ভেতরটা কেমন যেন কিলবিল করে ওঠে তার। আচমকা হাতের ওপর হাত রেখে সাইদূর গাঢ় কন্ঠে বলে ওঠে, তোমার গায়ে আর কোনোদিন হাত দেবো না শপথ নিয়েছি, তুমি আমাকে আটকুরার অপরাধ থেকে বাঁচিয়েছো, নির্বংশ থেকে রক্ষা করলে।

কমলার রোয়ার মতো টলটলে ঠোঁট চিড়ে নির্মল হাসি ছড়িয়ে পড়ে মোমেনার। চোখের তারায় বিদ্যুৎ খেলে যায় ওর। আরো মহারহস্য লুকিয়ে থাকে, মহীরুহ বৃক্ষের বুকের সবটুকু কথা কি শোনা যায়। যায় না কখনো, সাইদূর উল্লাসিত হয়ে জানায়, এ’ ছেলে আমার খুব পয়মন্ত রে, ভ্যান চালিয়েই তো জীবনটা শেষ করতাম, এর জন্যেই তো ফকিরচাঁদের…

মোমেনার কোলে শিশু সন্তান, নিজেই যেন এক মহীরুহ, শিশুটি এখন ঘুমে অচেতন, ট্রেনের অন্য যাত্রিরা ওদের দিকে কেউ দেখছে অথবা কেউই দেখছে না, নীরবে কে কি বলছে বোঝা যায় না। কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে কথা হয় চোখেচোখে, তারপর মোমেনা অন্যমনস্ক হয়ে যায়। চোখ ওর অনেক দূরে, ট্রেনটা কেনো ওমনভাবে থেমে আছে আন্দাজ করা যাচ্ছে না, সবাই ফিসসিসিয়ে মন্তব্য করছে শুধু, কখন যে ট্রেন চলবে কেউ বলতে পারছে না। যান্ত্রিক কোনো গোলযোগ কি না কে জানে। মোমেনার চোখ দুটো আরো বেশ ভাসাভাসা হয়ে উঠছে, শরীরে মাংস বেড়েছে বেশ খানিক। জেলে মানুষ সুখে-শান্তিতেই থাকে তা অবশ্যই সাইদূর জানে অনেক আগে থেকে। গতবছরের আগের বছর সাবেক এমপি’র ছোটভাই ইউ.পি চেয়ারম্যান গম চুরির অপরাধে বেশ কয়েকমাস জেলে ছিলো, তখনই সে দেখেছে পূর্বের তুলনায় নাজমুলের চেহারা-সুরোত আরো যেন নাদুসনুদুস হয়ে উঠেছে, তাছাড়া ফজল গাজী জমি-জিরাত সংক্রান্ত মামলায় একেবারে ফাসিয়ে দেয় ওর ছোটভাই নেয়ামতপুর ঘাটের ইজারাদার নকির গাজীকে। ঠিক দু’বছরের কিছু বেশি সময় জেলহাজত খেটে গ্রামে ফিরে এলে সাইদূরও হঠাৎ ভুল করে বসে। সে কি স্বাস্থ্য রে বাবা, মস্ত পালোয়ান যেন। তারপর ফেচু মাঝির মেজো জামাই ভন্ডুল ঘরামি টাকার তবিলের জন্য চালের আড়ৎদার রথীন্দ্রনাথকে খুন করলো, জজকোটের বিচারে রায় হলো দশ বছর কারাদন্ড, কারা ভোগ করে গ্রামে ফিরলে মানুষজন ভড়কে গেলো ওমন দশাসই একজন অপরিচিত মানুষকে দেখে।

আচমকা ট্রেনটা আবার চলতে থাকে। কেন্নর মতো বিয়াল্লিশটা পা দিয়ে গুটিগুটি হাঁটছে যেন, মোমেনার চোখ এখনো বাইরে, উদাসিন চোখের দৃষ্টি প্রত্যক্ষ করে সাইদূর। জেলের মধ্যে এতোগুলো দিন কাটিয়ে আজ অনেক চুপচাপ-শান্ত আর গম্ভীর, কথা বলার সাহস হয় না তার। সহজ হয়ে সাইদূর বললো, তো ওই ফকিরচাঁদের কাছে ড্রাইভারিটা শেখার জন্য জাপটে ধরলাম। একটু থেমে আবার জানালো, হ্যাঁ রাজী হয়ে গেলো, হেলপারি করতে হবে প্রথমে বলতেই আমিও ঝুলে পড়লাম।

মোমেনা একটুখানি ফিকে হাসি ঠোঁটের কোণে এনে জানাই, তারপর…

সাইদূর স্ত্রী’র সম্মতি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বললো,হেলপারি ছয় মাস, তারপর কনটাকটারি আর এখন পাকা লোকাল বাসের ড্রাইভার। বুক উচিঁয়ে কলাট ঝুঁকিয়ে কথাটা বলাতে বেশ খানিক গর্ব ফুটে ওঠে সাইদূরের মধ্যে। মোমেনাও লক্ষ্য করে মনে-মনে হাসে একটু। ছেলের গালে টোকা মেরে অহং ফুটিয়ে আবার জানালো, বুঝলি রে, তোর বাপ মরদ একখান আস্তো মরদ বটে, এখন আর তোদের মা-বেটার ভাতের কষ্ট হবে না।

মুহূর্তে কি একটু ভেবে মোমেনার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আচ্ছা ছেলের নাম কি রেখেছো গো?

দূরের আকাশে একঝাঁক পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে মালার মতো, নীল-শাদা আকাশের গায়ে কোনো শিল্পী যেন রঙের প্রলোপে লাগিয়ে দিয়েছে, মোমেনা ওদিকে থেকে চোখ ফেরাতে পারে না কোনোভাবে। বৈদ্যুতিক তারের ওপর কয়েকটা শালিক পাখি বসে আছে, দুপুরের রোদের তাপে পুড়ে মরছে জমির ফসল। আবার কথাটা উচ্চারণ করতেই মোমেনা ভারী গলায় জানাই, মানিক…

তারপর আচমকা হোঁচট খায় সে। মানিক নামের সঙ্গে মালেকের নামটা কেমন একটা যোগসূত্রের গন্ধ খুঁজে পাবে না তো লোকটা। ভয়ে নাকি লজ্জায় নিজের ভেতর একটু যেন সেঁদিয়ে যায়, ফস করে ওভাবে ছেলের নাম মানিক শব্দটা বলা উচিৎ হলো কি না ভেবে পায় না। সাইদূরের মুখে কেমন একটা ঘন কালো ছায়া পড়ে, মোমেনা সেদিকে লক্ষ্য করে জানালো, হিরা-পান্না-মানিকের মতো এই ছেলেও তো তোমার-আমার জীবনের পরম সম্পদ বলেই নাম রেখেছি মানিক…

কথাটা শুনে সাইদূরের মুখে খুশির আলো জ্বলে ওঠে। ঠোঁট চিড়ে সূর্যাদয়ের মতো সোনালী হাসি ঝরে পরে, দূরের নদীর মতো নিরবধি সুর ধরে চলে যেতে সাধ হয় তাকে এখন। কৃষাণী মেয়েদের ঘাটে গোসল আড় চোখে দেখে নিজেকে অন্য কোথাও হারিয়ে ফেলে। বুকটা কেঁপে-কেঁপে ওঠে শুধু,কতো বছর পর আজ মোমেনা মুক্ত বিহঙ্গ, একজন বীর মহিলা।

মোমেনা অনেক পেছনে হারিয়ে যায়, মালেক নামের লোকটা অকস্মাৎ চোখের সামনে ভেসে ওঠে, মালেক যেন হাসছে, আর চোখে-চোখে কি যেন বা বলতে চাইছে। ওমন হাসি মোমেনাকে লাগামহীন করেছিলো আর সেজন্য বুকের মধ্যে খলবল করলো সোনালী মাছের ঝিলিক।

ট্রেন ছুটছে, মাথার মধ্যে কতো স্মৃতি ছুটে-ছুটে আসছে মোমেনার। নিজের মধ্যে নিজেই হেসে ওঠে। পাশের বাড়ির ছেলে মালেক সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা সাইদূরের অনুপস্থিতিতে হাসি-তামাসা ঠাট্টা-রসিকতা করতো, মোমেনা প্রথম-প্রথম আনন্দ পেতো তবে গায়ে তেমনভাবে মাখতো না। সাইদূরের অবিরাম অত্যাচার আর নির্যাতনে নিজেকে বেঁধে রাখতে পারতো না মোমেনা। তারপরও স্বপ্ন দেখতো,ভালোবাসার ঘরটিকে আনন্দে ভরিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতো, হাতিডোবা পুস্কুনিটার কাছে গিয়ে সানবাঁধানো ঘাটে দাঁড়িয়ে পানির নমনীয়তা উপভোগ করতো, কিন্তু মন তার মানতো না। সাইদূরের শরীর ছিলো শীতল, বরফ আর পাথর একটা বস্তু, রাত্রের অন্ধকারে ছটফট করতো মোমেনা। কোনো-কোনো রাত্রে ঘরের বাইরে এসে অর্নিমেষ নয়নে আকাশ দেখতো, পূর্ণিমার আকাশে ঝলমলে তারারা তাকে ডেকে কতো-শত গল্প করতো, আবার অমাবশ্যার ঘোর কালো রাত্রে মোমেনাকে সান্ত্বনা দিতো বুকের মধ্যে জড়িয়ে।

এমন এক অমাবশ্যার রাত্রে মালেকের হিরন্ময় হাতছানি পেয়ে মোমেনা ছুটে যায় ভাঙা স্কুল ঘরটার কাছে হাটখোলার দিকে। মালেক অনেক-অনেক ভালোবাসা উজার করে দেয় তারপর। নদীর মতো সুর ধরে নৌকার মাঝি, বাদাম উড়িয়ে ছুটে যায় অজানায়, আকাশগঙ্গায় তখন ফুটে ওঠে রাজ্যের সেতারা। সেই তারার মেলায় মোমেনা হারিয়ে ফেলে নিজেকে, কোথায় সে যাচ্ছে ভুলে যায়, ভুলে যায় নিজের কাছে। তারপর অনেক-অনেক রাত্রি নেমে আসে আনন্দের নদী হয়ে, বাতাবী লেবু গাছে বাতাস খেলে।

সাইদূর বুকে জড়িয়ে নিয়ে ভালোবাসা ঢেলে দিতে চায় মোমেনাকে। কিন্তু তার সাধ থাকলেও সাধ্যে তো কুলোয় না। শিয়াল ডেকে যায় অনেক দূরে, বাতাসের ইথার তরঙ্গে ভেসে আসে সেই মরণ ডাকটা। সাইদূরের শরীর শীতল থেকে আরো হিম-শীতল হয়ে যায়। শ্বশুর-শ্বাশুড়ী আর পাড়া-পড়শীরা ফেটে পড়ে তারপর। বাড়ির বউয়ের কেনো কোনো বাচ্চা আসে না। সাইদূর নির্বাক থাকে। নিস্তব্ধ হয়ে যায় ওর চোখ। কথা আটকে যায় তারপর। নিশির ডাকে মোমেনা ছুটে যায়, শুকতারার মতো মালেক যেন সেই নিশি পাওয়া নক্ষত্র। সেই নক্ষত্র বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে আদর করে, নিজের মধ্যে নিবিড়ভাবে নিয়ে মেঘ-মেঘ হয়ে যেতে চায়।

একদিন অনেক রাত্রে মালেক ছুটে আসে মোমেনার দরোজায়। সাইদূর বাড়িতে ছিলো না, নয়নহাটির খবিরের মোকামে গিয়েছিলো, মালেক ফিসফিস করে জানায়, মোমেনা তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি, চলো আজ আমরা পালিয়ে…

মোমেনা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। আকাশের শুকতারাটির মতো নির্মিনেষ তাকিয়ে দেখে। কি বলতে হয় জানে না। সাইদূরের ভালোবাসা না থাকুক, হিম-শীতল শরীরের অত্যাচার অসহৃ মনে হলেও একটা স্থায়ী আবাস তো আছে, মালেকের কি আছে! কিন্তু ওই যদি ওমন করে টানাহেঁচড়া না করতো তাহলে ওমন কান্ডখানা হতো না। মাথাটা যেন কেমন করে ওঠে, বটিখানা হাতে নিয়ে আর সামলানো গেলো না। মোমেনা আর ভাবতে পারে না। সত্যিই কিভাবে যেন সব কি হয়ে গেলো তখন।

ট্রেন চলছে মাঠ-ঘাট নদী ভেঙে, মোমেনার মাথার মধ্যে অনেক স্মৃতি খলবল করে, অনেক কথা গল্প হয়ে যায়। মানুষ এভাবেই অনেক-অনেক গল্প নিয়ে বেঁচে থাকে। সমস্ত অন্ধকার একে একে স্মৃতি হয়ে যায় তখন সেই স্মৃতির মধ্যে হাতড়ে বেড়ায় অনেক-অনেক চেনা মানুষ। চেনা মানুষও একসময় বড় অচেনা হয়ে যায়। দূর থেকে অনেক দূর অবধি হেঁটে যাওয়া মানুষকে যেমন চেনা যায় না, স্মৃতিভষ্ট মানুষও চিনতে পারে না সময়কে।

ঘুমের ভেতর কেঁদে ওঠে মানিক। সাইদূর উঁকি দিয়ে দেখে হেসে বলে, ঘুম বুঝি ভাঙলো নবাবপুত্রের।

মোমেনা হাসিটুকু ঠোঁটের কোণে জমা রেখে উত্তর দিলো, ট্রেনটা বড় শব্দ করে চলছে, আমার মানিক তাই জেগে গেলো।

অনেক তো ঘুমোলো নবাব, জেগে উঠুক না—

থাকুক আরেকটু সময় ঘুমিয়ে, যা দুষ্টু ছেলে শান্তিতে বসতে দেবে কি!

আমার কোলে দাও না, দেখি কেমন দুষ্টু হলো আমার মানিক।

মোমেনার ঠোঁটের রক্তিমাভা হাসি যেন প্রথম সূর্যাদয়, চোখে দুষ্টুমীর ইশারা। সাইদূরের কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো, তোমার মতো দুষ্টু না, তোমার চেয়ে অনেক বেশি ওর দুষ্টুমি!