দিল্লীর খুশী আর নেই

khushwant-singh-02

খুশবন্ত সিং। মাই হিরো। জীবনের সাফল্যের সংজ্ঞা ভেঙ্গে দিয়ে তিনি চলে গেলেন অমরতার পালকিতে। খুশীদার ছিল উড়ুক্কু মন, কখনো সিভিল সার্ভিস, কখনো রাজনীতি, আমৃত্যু সাংবাদিকতা। কিন্তু মূলতঃ মানুষের মুক্তির প্রতীক। একজন অলরাউন্ডার লেখক।

ভারতের বিধান সভায় বসে পাশে বসা নিও লর্ডের দক্ষিণ এশীয় বায়ু নির্গমনে বিরক্ত হয়ে স্পীকারকে বলেছিলেন; সংসদে বায়ূ নির্গমন কী নিষিদ্ধ করা যায়!

ভারতের রাজনীতিতে এই নিয়ত বায়ু নির্গমনের লীলায় তাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেয়নি কংগ্রেসের গুন্ডারা। বিজেপি তাকে ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ উপন্যাসে ৪৭ এর মুসলমান হত্যার প্রামাণিক উপস্থাপন করার অপরাধে সারাজীবন পাকিস্তানের দালাল বলে ট্যাগিং করেছে।

লাহোর কলেজের ছাত্র, খুশীদার মন পড়ে থাকতো কলেজে, লেখার উদ্দীপনা নিতে বারবার জন্মভূমিতে গেছেন তিনি। করাচী প্রেসক্লাবে দেখেছি তাকে রুহ আফজার পাত্র হাতে মওদুদীর গুষ্টি উদ্ধার করতে। কাউকে ছেড়ে কথা বলার পাত্র নন খুশীদা। তার একটি রস বুলেট দিল্লীর সিং হাসন নড়িয়ে দিতো। ইন্দিরা গান্ধী খুশীকে গুড হিউমারে খুশী রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। মানেকা গান্ধীর সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর দুর্ব্যবহারের নীরব সাক্ষী খুশীদা। স্টার প্লাসের এই মাদার ইন ল হেজিমোনি দেখে বিরক্ত হয়েছেন।

ভালই হয়েছে খুশীদাকে মোদির অন্ধকার ভারত দেখতে হলো না। উনি একটি অসাম্প্রদায়িক দক্ষিণ এশিয়ার আকাংক্ষা নিয়ে আবে হায়াতে একটি ছোট্ট চুমুক দিয়ে হাসিমুখে বললেন, বিদায় কমরেড।

আমরা সেই অসাম্প্রদায়িক-সাম্যবাদী ভাবনার ঋজু কলম খুশীদার বিদায়ে অশ্রুপাত করবো এটা উনি চাননি। উনি চেয়েছেন; জামাত-শিবসেনার মানুষ পোড়ানোর ক্যানিবালিজম আর কথিত সেকুলার দলগুলোর দুর্নীতির ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা জারী থাকুক।

প্রেম ছিল খুশীদার জীবনের অনুপান। মুম্বাই-এ একটি পত্রিকার সম্পাদক হলে উনার বন্ধুতা হয়েছিল (স্ট্রিক্টলি প্লেটোনিক) ফাহমিদা নামের এক মুন্নী কুসুম তেল আত্মকেন্দ্রিক অবমানবীর সঙ্গে। সম্পাদককে তেল দেয়ার জন্য প্রতিদিন টিফিন বাটিতে চিকেন কড়হাই নিয়ে আসতো। খুশীদার যে দিন চাকরীটা গেলো অশিক্ষিত মালিকের সঙ্গে সংবাদ-নৈতিকতার লড়াই-এ; ফাহমিদা যোগ দিলো মালিকের দলে। সে তখন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের জন্য চিকেন কঢ়াই রান্নায় ব্যস্ত; মতিমধু ও শক্তি দই মিশিয়ে।

খুশীদা দিল্লী ফিরে যাচ্ছেন; কতজন দেখা করে গেলো, ফাহমিদা এলোনা; উলটো খুশীদার বিরুদ্ধে বানোয়াট স্টেটমেন্ট দ্যায়। এই কষ্টটা খুশীদা সহ্য করতে পারেন নি। আত্মজৈবনিকে লিখে গ্যাছেন। তবে জীবনে পাখী মিলেছে অনেক; খুশীদা যে জীবন দায়ী গোপ্পী। পাখী তার কফি টেবিলে চৌম্বক আবেশে সেঁটে যেতো। খুশীর গল্পের প্রেমে পড়েনি এমন ইন্দিরা গান্ধী দক্ষিণ এশিয়ায় নেই। পশ্চিমের ফরাসী নারী খুশীর গল্প পড়ে খুশীই হতো।

খুশীদা এতো ঘন ঘন চাকরী বদলাতেন, আর ঘরে বসে লিখে ডলার কামাতেন যে এভারেজ মানুষেরা তাকে জবলেস ভাদাইমা ভাবতো। উনি হাসতেন। না হেসে উপায় নেই।

খুশীদা রামগোরুড়ের ছানাদের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করে গেছেন। একটা কৌতুকের বই পর্যন্ত লিখেছেন যা অনবদ্য। সুতরাং অমরতার পালকি যাত্রার আগে, বন্ধুদের প্রতি খুশওয়ান্ত সিং-এর একটাই অনুরোধ শিরোধার্য ,

গোমড়া মুখ করে থেকোনা; প্লিজ হাসো, আর দূরে দূরে থেকে পাখী ভালোবাসো।