সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভিশাপ, মাইনাস-১

mina farah বুঝলাম যত দোষ নন্দ ঘোষ। কিন্তু আর কোন গণতান্ত্রিক সরকার আদালতের একটি রায়ের জন্য পাগল হয়ে যায়! কোনো দেশেরই সরকার শেয়ারমার্কেটের মতো দু’বার এত বড় কেলেঙ্কারির পরও গডফাদারদের বাঁচাতে তদন্ত ধামাচাপা দেয় না। আর কোনো সরকারই পদ্মা সেতুর মতো জাতীয় উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় না। স্বৈরাচারী এরশাদ অভ্যুত্থানে যে ফর্মুলা খাটে, খালেদা মাইনাসে একই ফর্মুলা খাটে না। একমাত্র আফ্রিকার কয়টি মিলিটারি হুন্টা বাদে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এই পরিমাণ গোলাবারুদ আর অস্ত্র ব্যবহার কেউই করে না। যারাই উচিত কথা বলবে, তাদেরকেই মাইনাস! চার দিক থেকে সমালোচনার ঢাকঢোল বেজে উঠলে কটাকে থামাবে সরকার! তারচেয়ে এটাই কি ভালো নয়, এমন কিছু করবে না যেজন্য এই পর্যায়ে সমালোচনা হবে। একাধিক টিভি চ্যানেল আর খবরের কাগজ না হয় বন্ধ করা গেল, কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই যে সামাজিক মাধ্যম আর অনলাইন ট্যাবলয়েডের সমালোচনা… গলাচিপে ধরার সামর্থ্য সরকারের নেই। আমাদের দুর্ভাগ্য, প্রশংসার প্রতিটি পথে তালা মেরেছে সরকার নিজেই।

দেশটা মগের মুল্লুক নয় যে, যা খুশি করে পার পাওয়া যাবে। তবুও ৫ জানুয়ারির দায় ভোটারদের ঘাড়ে জোরজবরদস্তি চাপিয়ে নির্বাচন বৈধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার, যা হতে দিলে গণতন্ত্রই ধ্বংস হয়ে যাবে। ১৫৩টি সিটের ভোটারবিহীন নির্বাচনের চালাকির রাজনীতিতে কাক্সিত নোবেলটি পেতে পারে আওয়ামী লীগ। বোবার শত্রুর নেই। আমার শত্রুর কোনো শেষ নেই। যদি বলি, সংখ্যাগরিষ্ঠতাই বাকশাল সৃষ্টির জন্য দায়ী, বাড়িয়ে বলেছি! যদি বলি, বাকশালই রাজনৈতিক কালচার নষ্ট করে দিয়েছে! সংখ্যাগরিষ্ঠ নামের এক দানবের ছুরিতে মাইনাস-২ এখন মাইনাস-১।

৫ জানুয়ারির আগে ও পরে জনতার আদালতে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন, যা বলেননি, এ নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে। বলেছিলেন, সংবিধান রার্থে নির্বাচন করতেই হবে। সেজন্য এক চুলও ছাড় না দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভালো কথা। কিন্তু তখন বলেননি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য নির্বাচন করতে হবে। বলেছিলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে না রাখলে সন্ত্রাসীরা মতায় এসে উন্নয়ন নষ্ট করে দেবে এবং শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই উন্নতি হয়, মানুষ কিছু পায়। সুতরাং উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের মতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। বাস্তবে যা ঘটল, ৫ জানুয়ারিতে সংবিধান নয় বরং উন্নয়নের গদির ধারাবাহিকতার জন্যই যেনতেন একটা নির্বাচন এত জরুরি ছিল। বিষয়টি সত্য হলে গণতন্ত্র বনাম শ্যাডো-মিলিটারিইজমের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করতে হবে।

গণতন্ত্র ছাড়াই উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন ইরানের শাহ এবং সাদ্দাম হোসেনরা। সুতরাং উন্নয়নের জন্যই ধারাবাহিকতার প্রয়োজন হলে জিন্নাহ-নেহরুরা মিলে ব্রিটিশ তাড়িয়ে কি ভুল করেছেন? কারণ ব্রিটিশ শাসন এনেছিল বিস্ময়কর উন্নয়নের বন্যা। গণতন্ত্রের দাফন-কাফন শেষে আমরা মিলিটারিইজম দেখতে চাইনি! তাহলে পুরো সংলাপই কি নাটক ছিল! সুতরাং আওয়ামী লীগ জিতবে বলে সজীবের কাছে যে তথ্য ছিল সেটাই বোধহয় ঠিক। কলকাতার টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তার একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাজনিত সংবেদনশীল বিষয়টির মর্মার্থ কেউই খুঁজল না।

গরিষ্ঠ বনাম লঘিষ্ঠ
সংখ্যাগরিষ্ঠ বনাম সংখ্যালঘিষ্ঠের অভিশাপে লণ্ডভণ্ড দেশ। মধু যখন সংখ্যা, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ এবং অবস্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়, যদুর মৌলিক অধিকারকে বিষ্ঠার চোখে দেখে। যদু যখন মধুুর গদি দখল করে মধুর চোখে মানবাধিকার তখন সোনার হরিণ। নিজের মানবাধিকার তবিত না হওয়া পর্যন্ত এর অভাব কিংবা সৌন্দর্য কোনোটাই বুঝতে অম লঘিষ্ঠরা। এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ধারালো ছুরির তলে ফেলে পার্লামেন্ট থেকে জবরদখল মাইনাস করে দেয়া হলো লঘিষ্ঠকে। মস্তিষ্কহীন মানুষেরা মহাখুশি। রঙ্গরসের নমুনা, ‘সব হারিয়ে গোলাপি এখন হারুয়াপার্টির ট্রেনে।’ সংখ্যালঘু বলেই তো খালেদাকে সে ট্রেনে উঠাতে পারলেন। সংখ্যালঘুত্বের অভিশাপ বড়ই নির্মম।

ক্রেস্ট নয়, চিফ হুইপকে ক্যাশই দেবো, কিন্তু তার আগে বলতে হবে, এটাও কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা! তা হলে আমার কিছু বলার আছে। সংখ্যালঘু খালেদাকে মাইনাস করে ক্যাশ চাঁদাবাজদের এনে সংসদ ভরানোর সাথে কি সংখ্যা এবং চাঁদার কোনো যোগসূত্র আছে! খালেদাকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিলেন আরেক ফাউ এমপি (বিনা ভোটে/ইউটিউব ভিডিও)। অতীতের এত কেচ্ছা-কাহিনী জানার পরও নারায়ণগঞ্জের এক গডফাদারকে এমপি হয়ে যেন আরো সন্ত্রাসের লাইসেন্স দেয়া হলো। তার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে আওয়ামী লীগ। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যার শাস্তি হওয়ার কথা, ২০১৪ সালের সংসদে বসানোর জন্য দায়ী কে!

প্রধানমন্ত্রীর ই-মেইল আমাকে কেউ দিলে, তার দলের ব্যাপারে এমন কিছু ভিডিও কিপ পাঠাতাম, যাতে তার সন্ত্রাসী ধরার কাজটা শতভাগ সহজ হতো। যা বলতে চাইছি, ‘গদি নিশ্চিত করতে শাওন, বদি, ওসমানদের দিয়ে পাবলিকের জীবন অনিশ্চিত করা ঠিক হয়নি।’ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংসদে যাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সংখ্যালঘিষ্ঠ তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠদের চাপে ডিসকাউন্টেড হয়ে গেলেন।

খালেদা নেই তো কী!
সংসদে খালেদা জিয়া নেই, তাতে কী! রানা প্লাজা, শেয়ারবাজার, পদ্মা সেতু, ইউনূস একাই তো পাঁচজন খালেদা জিয়ার সমান। খালেদা হয়তো কখনোই এত কথা বলার জন্য ফোর পেতেন না। এক দিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। দারুণ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে মিডিয়াগুলো। উন্নত দেশে হলে জার্নালিজমের জন্য অনেকেই নামী-দামি পুরস্কার পেতেন। রুদ্ধশ্বাসের পাঁচটি বছরে এক বছরের সমান দুর্ঘটনা এক দিনে। কখনো কখনো মাত্র এক দিনের দুঃসংবাদগুলোও মৃত মানুষকে জাগিয়ে দেয়ার মতো অবিশ্বাস্য।
মধ্যনদীতে সরকার টের পেল, অন্য কাউকে না দিলেও জনগণ নৌকাকে ভোট দেবে না। সবার আগে সিটি করপোরেশনই ৯ নম্বর বিপদ সঙ্কেতটি দিলো। সুতরাং স্বাভাবিক নির্বাচন দিয়ে খাল কেটে কুমির না এনে বরং বাকশালের পথে হাঁটা। এই বাকশালও তাদের উত্তরাধিকার। ’৭২-এর ১০ জানুয়ারির পরপরই নেতাকে বলা হলো একটি জাতীয় সরকারের কথা। সেটা নাকচ করে দিয়ে শুরু হলো বিরোধী দলশূন্য সংসদের যাত্রা। সাথে ছিল অতি মানব বানানোর ডেঞ্জারাস কারিগর- সংবিধান, যার আকৃতিটা নাবলার মতো। বিরোধী দলে যে কজন ছিলেন, আমেরিকায় বলে ‘লেম ডাক’ অর্থাৎ গুড ফর নাথিং। দরবার থেকে ইস্তফা দিলেন এম এ জি ওসমানী, ব্যারিস্টার মইনুলরা।

’৭৩ থেকে ’৭৫, একটি অসম্ভব রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল যেখানে পছন্দের চারটি দৈনিক বাদে প্রায় সব মিডিয়া, আওয়ামী লীগসহ সব দল বন্ধ। বাকশালকে যা কিছু অমর করল, মানুষ সব জানে। অথচ ২৮ অক্টোবর ১৯৭০, এই মুজিবই বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে একদলীয় শাসন রুখে দিতে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ল্েক্ষ আমাদের সংগ্রাম শুরু হয়েছে।’ এক ভোটার, এক ভোটে বাধ্য করলেন ইয়াহিয়াকে। আর মুজিবই একবার ভোটাধিকার রায় অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন, আবার বাকশাল গঠনের মাধ্যমে গণমানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিলেন। যুগে যুগে এভাবেই মনুষ্যত্বকে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

নবম এবং দশম পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভিশাপে অভিশপ্ত সুরঞ্জিত বাবুরা বলতে চাইছেন, ওয়েস্টমিনিস্টার গণতন্ত্রে বিরোধী দলের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। নির্বাচনের জন্য নাকি ভোটের প্রয়োজন নেই। পার্লামেন্টে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরও প্রয়োজন নেই। তাই রাস্তা থেকে টম ডিক হ্যারি ধরে এনে বিরোধী দল বানিয়ে নির্বাচন বৈধ করার প্রয়াস। কিছু স্বীকৃতি আদায়ে সে কী আত্মতৃপ্তি! তবে আমার স্কুল অব অ্যাক্টিভিজমের মতে, গণতন্ত্র এরা বোঝে না, বুঝলে ‘গ্রহ থেকে এলিয়েন’ এনে দশম সংসদ ভরত না। সুরঞ্জিতদের চোখে সব কিছুই তামাশা! ম্যাডাম রওশন, যিনি দুর্নীতিশ্রেষ্ঠ এবং চুরির টাকার গোডাউন বানিয়ে কুখ্যাত হয়েছিলেন, সংসদে তিনিই নাকি বিরোধীদলীয় নেতা! ’৯০-তে ঢাকায় যখন স্বৈরাচারবধ চলছে, নিউ ইয়র্কে বসে খবর পেলাম, হেলিকপ্টার থেকে জাল ছুড়ে মারা হচ্ছে এরশাদকে ধরার জন্য। অপারেশনের নেতৃত্বে খালেদা-হাসিনা। তখন সেলফোন ছিল না, বাংলা টিভিও ছিল না। এরশাদ বধের খবর শোনার জন্য কলবুক করে হাপিত্যেশে বসে থাকতাম ফোনের কাছে। এই কথাই যদি সত্যি হয়ে থাকে, ‘এরশাদ খারাপ না গণতন্ত্র খারাপ’! সুতরাং ‘সাপ-জোঁক-বিছার’ বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে যুদ্ধ করতে যাকে সবচেয়ে প্রয়োজন, ছলে-বলে-কৌশলে তাকেই মাইনাস। এখন চলছে সমূলে মাইনাস প্রক্রিয়া। ফলে বিএনপি হয়তো বিপর্যস্ত হবে। তার আগেই যেনতেন বিরোধী দল খাড়া করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মনোবিজ্ঞানী না হয়েও বলতে পারি, একটি ফোনকলে এ কথা বিশ্বাস করার কোনোই কারণ নেই যে, কলটি আন্তরিক ছিল! খালেদা নির্বাচনে আসুক, চাননি হাসিনা। এবার নতুন নির্বাচন না হওয়ার জন্য আবারো রসদ জোগাচ্ছে পড়শি। কেউ বুঝুক, না বুঝুক নেত্রী বোঝেন, সে ছাড়া মতার খুঁটি নেই। সাধারণ জ্ঞানের জন্য দরকার নেই বিশেষজ্ঞ হওয়ার। দেশ বিভাগের প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ যাওয়ার সময় এই ভূখণ্ডের অনেকের মগজ কংগ্রেসের কাছে বন্ধক রেখে পালিয়ে গেছে। সেটাই প্রমাণ করল বিরোধী দলশূন্য প্রথম, নবম ও দশম সংসদ।

গালিগালাজ সংস্কৃতি
এমন নয় যে, দেশে নেই তাই ভাড়া করতে হবে। দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল আছে, ভোটার সংখ্যাও প্রায় সমানে সমান। তাহলে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে কথায় কথায় ভারত যাত্রার কারণ কী! উপসর্গগুলো সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর। নবম সংসদের সমালোচনা সত্ত্বেও দশম সংসদের শুরুতেই তীর্থের কাকের মতো আবারো দিল্লি যাত্রা অব্যাহত। যেন না গেলে বিরাট সমস্যা হবে। ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপি কেন হারল সেই বিতর্কে যাচ্ছি না। তবে এই দাগে বিরোধী দলকে মাইনাস করতে যৌথ অভিযান অতীত স্মরণ করিয়ে দেয়। সিরাজের বিরুদ্ধে ‘রায়দুর্লভরা’ও কাইভের সাথে একাত্মা ছিলেন। ‘পলাশীর’ বহু আগেই গোপনে সিরাজের পতন ঘটিয়েছিলেন মীরজাফর আর লর্ড কাইভ। আজ বন্ধুহীন রাষ্ট্রে দিল্লিই একমাত্র কার্যকরী টনিক। বর্তমানে ৩৫০ টনের ভারতীয় পণ্যবাহী ১৫০ চাকার ট্রাক চলছে আমাদের ১৫ টনের রাস্তার ওপর দিয়ে (দেখুন, একুশে টিভির প্রতিবেদন)। আর এসব কিছুর বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে যারা প্রশ্ন তুলবে, আগেভাগেই সে বিরোধী কণ্ঠগুলো (মিডিয়া এবং দল) মাইনাস করা শেষ। যা বলতে চাইছি, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরপরই সীমান্তের চেহারা বদলে গেছে। ৯/১১-এর অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বিডিআর এবং চৌকস সেনা হত্যাকাণ্ড অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র কি না সন্দেহ। পশ্চিমা বিশ্ব হলে হয়তো সন্ত্রাসী আক্রমণ সন্দেহে ইরাক-আফগানের মতো যুদ্ধ বাধিয়ে দিত। ওই হত্যাকাণ্ড সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে সার্বভৌমত্ব নিয়ে চক্রান্তের শামিল। ১১ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট, ‘হাসিনার আমলে ভারতের এটা সোনালি সময়।’ এর মানে কী? প্রত্যদর্শীদের অভিযোগ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে বিএসএফ, অসহায় বিজিবি। যারা প্রতিবাদ করে, মামলা ঠুকে দেয় সরকার। প্রতিবাদ করায় খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলল। যা হোক, যে খবর সজীব আগাম জানতেন, সেটাই সত্য হয়েছে, জিতেছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের ভাগ্য ভালো যে, বেশির ভাগ বাংলাদেশী যা কিছু হচ্ছে, বোবার মতো সহ্য করে যাচ্ছে। এ কথাও সত্য, বোবার শত্র“ নেই। মগজবিহীনদের ঝড়ের কবলে দেশ। এতে লণ্ডভণ্ড হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের জায়গাগুলো। মান-সম্মানবোধ তো পুরোপুরিই গেছে। মুখ এত খারাপ যে, অকথ্য বাক্যবাণে মরা মানুষ পর্যন্ত কাবাব হয়ে যায়। করের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে গালাগালের সংস্কৃতি ম্যানিফেস্টোতে ছিল কি (সংসদে এক মিনিটের খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা)? কোনো কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন, পশ্চিমে হলে কয়েক শ’ কোটি টাকার মানহানি মামলা হতো। প্রতিপ ভদ্র হওয়ায়, এত মুখ খারাপের প্রয়োজন একেবারেই ছিল না। এতে নষ্ট হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য। গালাগাল স্কুলের নবীন ছাত্র তরিকত ফেডারেশনের মাইজভাণ্ডারির সমালোচনার আগে পাবনা ঘুরে আসা দরকার। খালেদাকে তিনি পাগলা গারদে পাঠিয়ে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ভারসাম্যহীন মানুষ জানেন না, পাগলা গারদ সুস্থদের জন্য নয়। মাইজভাণ্ডারির দোষ নেই। তিনি জানেন না, কারণ তার মতো দলের অনেকেই জানেন না। গালাগালের অলিম্পিক হলে সব কটা স্বর্ণপদক পেত আওয়ামী লীগ।

আমি কোনো মনস্তত্ত্ববিদ বা রাজনীতিবিদ নই, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের গ্লোবাল পুঁজিবাদ এবং বিশ্বরাজনীতির অঙ্গনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নিরিখে বলছি, একমাত্র আফ্রিকান স্বৈরাচাররাই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এই মাপের মিলিটারিইজম চালায়।

দেশে দেশে বাকশাল
ইরান ও বাংলাদেশের এক দল, এক জাতি, এক নেতার আদর্শ এবং সময়কাল এক। নির্যাতনও এক রকম। ইরানকে এই পথে ঠেলে দেয়ার জন্য এক শ’ ভাগ দায়ী শাহ। বিশ্বের জন্য রেখে গেছেন স্বৈরাচারের এক ভয়ানক দৃষ্টান্ত। ৩৯ বছর পর আমাদের গন্তব্য কোন পথে? ১৯৭৫ সালে সব দল বিলুপ্ত করে বাকশালের মতো ‘রাস্তখিজ’ নামে একদলীয় শাসন কায়েম করলেন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাহ। ইরানি বাকশালের মূলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। শাহকে মতায় রেখে ইরানের তেলভাণ্ডার চুষে খাচ্ছিল পশ্চিমারা। ১৪ বছর ফ্রান্সে নির্বাসিত আয়াতুল্লাহর একাধিকবার অভ্যুত্থানে ব্যর্থ হওয়ার মূলে সিআইএ। ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি শাহের পতন হলে রাস্তায় ১৫ দিন ধরে চলে আনন্দ-উল্লাস আর মিষ্টি বিতরণ। যা বলতে চাইছি, বিপ্লব তখনই সম্ভব হলো যখন সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে আমজনতা রাস্তায় নামল। ইরানের কতটুকু উপকার হয়েছে, বলবে ইরানিরাই। কিন্তু ইতিহাসের এই শিক্ষাও জরুরি- মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। সপরিবারে শাহকে নিয়ে বিমানটি যখন আকাশে, শাহের নির্যাতনে পঙ্গু এক সাংবাদিক খুশিতে চিৎকার করল, ‘স্বৈরাচার গেছে, এবার আমরা মুক্ত!’ …স্বপ্নভঙ্গের ছয় মাস পরের ঘটনা। এই সাংবাদিকই অন্য দেশ থেকে লিখলেন, নতুন ইতিহাস যা বলতে চাইছি, ভারত এখন সেই সাম্রাজ্যবাদেরই আসনে। ইরানের ওই সাংবাদিকের মতো আমরাও এখন রাজপথে হায় হায় করি। ৩৯ বছর পর লণগুলো ভালো নয়, ইরানের পথে যাওয়া কারোই কাম্য নয়। কিন্তু কেউ যদি জোর করে ঠেলে দেয়, তাহলে কী করা!

পথে পথে মীরজাফর
৫ জানুয়ারির নির্বাচন যেন জল্লাদের ছুরি। আমার বিশ্বাস, মুজিবও শিউরে উঠতেন। এমনকি আওয়ামী লীগের মধ্যেও অস্বস্তি। বয়োজ্যেষ্ঠ দলটির অধঃপতন দুঃখজনক। অবশ্য এটা ’৭৩-এর উত্তরাধিকার। তবে সহ্য-ধৈর্যের পুরস্কার থাকলে গণতন্ত্রের অন্য পাল্লা খালেদাকে নোবেল দিতাম। কারণ পাঁচ বছর ধরে তিনি মিলিটারিইজমের যে যন্ত্রণা ভোগ করলেন, তার পরও ২৭৩ দিন হরতাল কিংবা ‘জনতার মঞ্চের’ মতো পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তি না করে সংযত আন্দোলনে ছিলেন। এ কারণেই যারা আমার মতো খালেদা-সমালোচক, তারাও ব্যথিত হয়ে পে দাঁড়িয়েছে। কারো মানবাধিকার চুরি হলে পাশে দাঁড়াব, এটাই মানবতা। তবে খালেদার অস্বস্তিকর নীরবতাই প্রতিপরে পাল্লা ভারী করেছে। সময়োচিত পদপে ও প্রত্যুত্তর বজায় রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকত। সজীবের কথায় টনক নড়লে এত সহজে নির্বাচনও খোয়া যেত না। ১৮ দলীয় জোটকেই মতায় দেখতে চেয়েছিল আমজনতা। কিন্তু খালেদার পথে পথে মীরজাফর না থাকলে এখানে দিল্লিরও কিছু করার ছিল না। দিল্লির বহু বার্তাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ খালেদা। তার সাঙ্গোপাঙ্গরা সুবিধাবাদী এবং কাপুরুষ, কেউ কেউ পলাশীর ভূমিকায়।

এত ভাগ্য কারোই নেই
পূর্বের একটি রাজনৈতিক পরিবারের মতা বিশ্বজুড়ে। সত্যিই এত ভাগ্য কারোই নেই। কিনটন বা গান্ধীরও নেই। এখন শুনছি মুজিবের আদর্শ ব্রিটেনেও চালু করা হবে। কিভাবে? সাম্প্রতিককালে দেখছি, প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি ‘টিউলিপ’ খোদ গণতন্ত্রের আঁতুড়ঘরে রাজনীতি করছেন। লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়ে এমপি হওয়ার পথে। এসব কথা তিনিই বলছেন। আমার বিশ্বাস, তিনি ওয়েস্টমিনিস্টার গণতন্ত্র বোঝেন বলেই জানেন, ওয়েস্টমিনিস্টার গণতন্ত্রের ‘বাই-ল’তে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বালুর ট্রাক আর জলকামান ব্যবহারের কোনো আর্টিকেল নেই। বহু বছর আমেরিকায় থেকেও তার খালাতো ভাই গণতন্ত্রের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হয়ে বিষোদগার করছেন। আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাপ্রাপ্ত কারো এমন আচরণ দুঃখজনক। সুতরাং টিউলিপকেই প্রশ্নটি রাখছি, ‘বালুর ট্রাক গণতন্ত্র’ কি ব্রিটেনে চালু করা যায় না! কেন নয়? প্রধানমন্ত্রী তো বারবার বলছেন, এটাই ওয়েস্টমিনিস্টার গণতন্ত্র। গণতন্ত্র রার জন্য বালুর ট্রাক থেকে টম-ডিক-হ্যারি কোনোটাই বাকি রাখেননি। যদি ভুল না বুঝে থাকি, সবই হয়েছে ‘ওয়েস্টমিনিস্টার গণতন্ত্রের নিয়ম মেনে’। সুতরাং সবিনয়ে একই প্রশ্ন সপরিবারে ব্রিটেনবাসী শেখ রেহানাকেও, যিনি দুই দেশেরই রাজনীতির সাথে প্রত্য ও পরো জড়িত। সজীব, পুতুল, টিউলিপ, ববি অর্থাৎ বর্ধিত পরিবারের সদস্যরা দুই গোলার্ধের রাজনীতির সাথে বিভিন্ন মাত্রায় সরাসরি সম্পৃক্ত। এমন সৌভাগ্য পৃথিবীতে আর কোনো রাজনৈতিক পরিবারেরই নেই! কিন্তু বাস্তব খুব কঠিন। সত্য বলার জন্য আমার শত্রর শেষ নেই। ফলে ‘বালুর ট্রাক’ গণতন্ত্রের ঘরের খবর জানা টিউলিপ নিজেও বিশ্বাস করেন কি না, দশম সংসদ নৈতিক! আর অনৈতিক হলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে দ্রুততম সময়ে ১১তম নির্বাচন চাইতে হবে। গণতন্ত্র রায় তার এই প্রয়াস ইতিহাস সৃষ্টি করবে। আমার স্কুল অব অ্যাক্টিভিজম বলে, ভাগ্নি টিউলিপ ‘ইংল্যান্ডের এমপি’ হতে চান, একদিন প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন। কিন্তু তার খালা ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসির’ মতো পাবলিক ডেমোনেস্ট্রেশন রুখে দিয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কি ক্রুসেড ঘোষণা করেননি?

ইতিহাস বলে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে বরাবরই ঈশ্বরের শক্তিতে নিজেদের মতো করে গণতন্ত্র সাজানো হয়। অনেকের মতে, ৩৯ বছর আগে যা বাকশাল, এখন সেটা হাতে বানানো দশম পার্লামেন্ট। দশম পার্লামেন্ট থেকে গজাবে নতুন ধারা। মহাসচিব আশরাফের কথা সত্যি হলে, তা দেখার জন্য অপো আরো পাঁচ বছর। তবে যে যাই ভাবুক, আমার স্কুল অব অ্যাক্টিভিজম বলছে, মাইনাস খালেদা এক দিনের পরিকল্পনা নয়, এক দেশেরও ষড়যন্ত্র নয়। বহু পরিকল্পিত ১/১১ এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সাথে বহু দেশের স্বার্থ জড়িত। সজীবের বেফাঁস কথায় কারোই টনক নড়ল না। আসলে তিনি জানতেন, আমরা যা জানতাম না। ব্রিটিশ-ভারতের সাম্রাজ্য লুটপাট নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথম ধাপে লর্ড কাইভ আনলেন ৮০ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য। এরপরই অবিভক্ত ভারতের নাম হলো ব্রিটিশ-ভারত। বলতে চাইছি, এবার দেশের ভেতরে ‘অচেনা’ মুখের অভিযোগ তুললেন খালেদা। ব্রিটিশরা শুধু লুটপাটই করেনি, দেশ বিভাগের প্রতিশোধ নিতে এই ভূখণ্ডের বাঙালিগুলোকে পুরোপুরি মেধাহীন করে দিয়েছে। কারণ দেশ বিভাগ হয়েছিল এদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অর্থাৎ ৯৬ শতাংশ বনাম পাকিস্তানিদের ৪৯ শতাংশ। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের মগজ এখনো কংগ্রেসের সিন্দুকে। শত চেষ্টা করেও শেরেবাংলা ও ভাসানী সাহেবরা মগজ উদ্ধারে ব্যর্থ থেকেই ইহলোক ছাড়লেন, আমরা তো কোন স্যার। এ দেশের মাটিতে আবারো পলাশীর গন্ধ। ‘গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন, নাকি গদির জন্য গণতন্ত্র! কিংবা গদির ধারাবাহিকতার জন্য গণতন্ত্র এবং নির্বাচন দুটোই- প্রশ্ন এটাই।’ বলছি, সজীবের কথায় কেন নড়েচড়ে বসা উচিত ছিল, ‘হারুয়া’ বিএনপিকে সেই বার্তা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ নিজেই।

আমি ছোট
আমি ছোট, দয়া করে আমাকে মারবেন না’ ঢাকার রাস্তায় বেবিট্যাক্সির গায়ে এই সতর্কবাণীটি দেখলেই মনে হতো, ছোট বলে ওকে মারবে কেন? কিন্তু ক্ষুদ্রতার ভয় ওকে তাড়া করছে। বৃহত্তর অর্থে, ছোট হলেই মারতে হবে কেন! তবে সবাই যে আমার মতো করে ভাববে, এটাও ঠিক নয়। অর্থনীতিতে শুধু গরিবের ভাত মারলেই বড়লোক হওয়া যায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে ছোটদেরকে হত্যা করে বিজয়ী হতে হয়। পৃথিবীর ৪০০ বিলিয়নিয়ারের পকেটে সারা বিশ্বের মানুষের অর্ধেক সম্পদ। বেশির ভাগ মানুষ গরিব বলেই মুষ্টিমেয় কজন ধনী। ুধার্তদের সংখ্যা বাড়ে বলেই মজুদদারেরা বড়লোক। ছোট বলেই বড়রা তুচ্ছ করে, সমক হলে পারত না। বিএনপি পেরেছে? ছোট হওয়ার গ্লানি অনেক। ওয়ালস্ট্রিটের ভাষায়, ‘লোভ খুব ভালো জিনিস।’ লোভ ওয়ালস্ট্রিটকে দিয়েছে অসীম সাম্রাজ্য। ওদের লোভের হাত সেন্ট্রাল আফ্রিকার হত্যাকাণ্ড থেকে রানা প্লাজার লাশের পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। আর আমাদের লোভের হাত, উন্নয়ন + গদি স্ট নির্বাচন – খালেদা দ্ধ দিল্লি = দশম পার্লামেন্ট। বরং ওয়ালস্ট্রিটের প্রসাদ খেলাম আমরাও। সাম্রাজ্যবাদীদের লুটপাটের জন্য কত রক্তই না ঝরাল রানা প্লাজা। কিন্তু ওদের কি কিছু আসে-যায়? যেমন যায়নি আওয়ামী লীগেরও, নির্বাচন করেই ছাড়ল, কাউকেই পাত্তা দিলো না। এমনকি যাদের নিয়ে নির্বাচন, তাদেরকেও না।

সুতরাং বড় ঈশ্বর বনাম ছোট ঈশ্বরের মতার মতো, ছোট হওয়ার অভিশাপে বড় মহাজন তাকে ছারখার করে দিলো। গণতন্ত্রের দেশে এত সহজে জাতীয় নির্বাচন হাতিয়ে নেয়ার দৃষ্টান্ত একটাই, যা ইতিহাসে বাজে রেফারেন্স হয়ে গণতন্ত্রকে ভোগাবে। তাই মরিচের মতো পিষতে পিষতে এমন পিষে ফেলেছে যে, পার্লামেন্টের নাম পর্যন্ত ভুলিয়ে দিয়েছে। দাঁড়াতে দেয়নি রাস্তায়, বসতে দেয়নি পার্লামেন্টে, শুতে দেয়নি পার্টি অফিসে। সর্বণ পুলিশ লাগিয়ে খোঁচানি, ছিঁচকে চোরের মতো ছুতো বের করেই কারাগারে নিপে। এ কথাও শুনতে হলো, মির্জা ফখরুল নাকি গার্বেজ ট্রাকে আগুন দিয়েছেন! সব সম্ভবের দল আওয়ামী লীগ, সুবিধাবাদীদের জন্য স্বর্গীয় হালুয়া-রুটি। এখন বলছে, দশম পার্লামেন্টের জন্য দায়ী নাকি ভোটাররাই।

গোপন ভিডিও
প্রমাণ হলো, কিভাবে ছোট হলে তাকে ইতরের পাল্লায় দেখে বড় মহাজন। পার্লামেন্টে এবং বাইরে সবখানেই হাড়গোড় হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তালেবানদের মতো গোপন ভিডিও পাঠাতে শুরু করল ছোট মহাজন। তারপরও দোষ শুধু ছোট মহাজনেরই। কেউই জিজ্ঞেস করল না, বিরোধী দলকে কোন পর্যায়ে এসে ভিডিও বার্তা পাঠাতে হলো! তবে ইরাক-আফগানে মস্ত তিপূরণ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমারা বুঝল, শীতলযুদ্ধ কেন্দ্র করে তালেবানদের গোপন ভিডিও পাঠানোর কারিগর তারাই। আর এই ভূখণ্ডের গোপন ভিডিও বার্তার কারিগর আওয়ামী লীগ… দৃশ্যত গণতন্ত্রের মধ্যে মিলিটারিইজম ঢুকিয়ে দেয়ার অভিযোগ আসতে শুরু করেছে সারা বিশ্ব থেকে (ইকোনমিস্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমস…)। তাদের রাজনৈতিক কৌশল এমন যে, ভবিষ্যতে এ দেশে বিএনপি কেন, ভিন্নমত বলে কিছুই না থাকার সম্ভাবনা। এখন স্বপ্ন ১৫তম সংসদ ছাড়িয়ে। একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠরাই ‘সুখের’ অত্যাচার করে পৈশাচিক আনন্দ পায়; যারা সন্ত্রাস নয়, জোর করে কপালে এঁকে দেয় সন্ত্রাসের তিলক। যারা পার্লামেন্টে কথা বলবে, তাদেরকে পাঠায় কারাগারে। যারা প্রতিবাদ করবে, তাদের সুইচ অফ করে দেয়। কথায় বলে, ‘হাতি ভেদরে পড়লে মুষিকও লাথি মারে।’ আওয়ামী লীগের কাছে ছোট ঈশ্বরেরা ভ্যানিশ হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসঙ্কেত। বেবিট্যাক্সির ভয়ই সত্য হলো, ‘ছোট হলেই মানুষ তাকে মারে।’ আগেও বলেছি, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের কথা ভুলে যেতে হবে। আর গণতন্ত্র চাইলে উন্নয়নের কথিত ধারাবাহিকতাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।’ আমার বিতর্ক দুর্বোধ্য নয়।

ইরানি খপ্পরে নুরানি বাংলাদেশ
উন্নয়ন নাকি গণতন্ত্র, কোনটা ধুয়ে পানি খাবো! ইরানি শাহ আর আমাদের উন্নয়নের পদ্ধতি কোমর থেকে জোড়া অর্থাৎ সায়ামিজ টুইন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সৌজন্যে ইরানকে আমেরিকা বানানোর টোপ দিয়েছিলেন শাহ; সাদ্দাম হোসেন যেমন ইরাককে লন্ডন বানিয়েছিলেন। ইরানি জনগণ কী চেয়েছিল, কী চায়নি, অর্থাৎ তাদের মৌলিক অধিকার শাহের চোখে বিষ্ঠার সমান। অত্যাচার ভুলিয়ে দিতে কিছু দূরে দূরে কামান আর ঈশ্বর পোষাকে মূর্তি ও পোস্টারে ইতিহাসের নগ্ন সাী শাহেনশাহ। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ময়ূরের মাংস দিয়ে পশ্চিমাদের ভোজ। উন্নয়নের তলে তলে বন্দী হত্যায় ‘জারের’ সমতুল্য শাহ। উন্নয়নের সুবাতাস বইয়ে দিয়ে তলে তলে মৌলিক অধিকার হরণে দ্বিতীয় চেঙ্গিস খান। তবে ‘রাস্তখিজ’ দলটি বিপুল লাইমলাইটে এলেও বাকশাল কখনোই তেমন লাইমলাইট পায়নি। সাথে এ কথাও সত্য, উন্নয়ন অসুখে ভোগেননি মুজিব। কিন্তু এখন সে দাবি করতে পারে না তার দল। ‘শাহ-ক্যান্সার’ সারাতে না পারলে ভারতের অর্থনৈতিক উপনিবেশ হবে বাংলাদেশ। যখন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাচ্ছে রোগী, মস্তিষ্কবিহীন জাতির রাজনৈতিক ডাক্তারেরা তখনো প্যারাসিটামল খোঁজেন। দৃশ্যগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মধ্যরাতের টকশোতে। রোগী সামনে রেখে লাইভ মারামারিও করেন। এদের দিয়ে কিছু হবে না।

এত সমস্যা থাকতে এখন একটার পর একটা উন্নয়নের নতুন ফর্মুলায় কিসের আলামত! হঠাৎ এসব ফর্মুলার উদ্দেশ্য! বর্তমান সঙ্কট জিইয়ে রেখে ভবিষ্যতের আলোর উৎসবে আমাদের ভাগ্য বদলাবে না, বরং উল্টোটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বাস্তবে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের পর ২০৪১ সালে ধনী দেশের ফর্মুলায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভারত। এই আলামত স্থল-জল-বন্দর সর্বত্রই। কিছুতেই মগজ ফেরত দেবে না কংগ্রেস। এত কিছুর পরও মগজহীন আমজনতার উল্লাস দেখে উত্তর কোরিয়ার সে কথাই মনে হয়। ইতিহাসের দ্বিতীয় হিটলার কিম জং ইল মারা গেলে প্রায় পাঁচ লাখ কোরিয়ানকে সারি বেঁধে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কফিনের সামনে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে কান্নাকাটি করতে বাধ্য করেছিল পুত্র কিম জং উন। এ দৃশ্য টেলিভিশনে দেখেছি, মজাই লেগেছে। না এটা প্রাগৈতিহাসিক নয়, বরং দুই বছর আগের ঘটনা।

মানলাম, সব দোষই নন্দ ঘোষের। কিন্তু মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্রের চর্চা এসব হারিয়ে এখান থেকে কোথায় যেতে চাইছি আমরা? আমরা কি শাহ আমলের ইরানে ফিরে যাবো! পোস্ট- শাহ ইরানে! পোস্ট- কলোনিলিয়াজম ইন্ডিয়ার উপনিবেশে! গণতন্ত্রের এই চর্চাকে ওয়েস্টার্ন ফিলোসফিতে ‘হিজড়াইজম’ বলা যেতে পারে, অর্থাৎ যার কোনো পরিচয় নেই। এদের দিয়ে কিছু হবে না। নির্বাচন খোয়ালো, তবুও এদের বুদ্ধি বাড়ল না। সব হারিয়ে এখন তৃতীয় পথ কোনটা তাহলে? ১৫০ জন অনির্বাচিত এমপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করতে পারলে সিভিল রাইটসের কী হবে! কে যেন আমাদের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করছে, অন্যথায় এসব কথা তারা বলতেই পারে না। “…বাংলাদেশের বর্তমান সেনাপ্রধান পরবর্তী প্রজন্মের সেনাকর্মকর্তা, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে যার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, ভারতের প্রতি নমনীয় শেখ হাসিনার সরকার এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাথে পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের জন্য বর্তমান সময়টি সবচেয়ে আদর্শ সময় বলেই বিবেচিত হচ্ছে। শীর্ষ এক কর্মকর্তা মনে করেন, খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে, এটা আমাদের জন্য সোনালি সময়।”