মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মিল-অমিল

Mount-Rushmore-v2

দু’জনের মধ্যে তেমন কোনো মিলই নেই। একজন ছোটবেলা থেকে পিতৃহীন; অন্যজন আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। একজন ঠাণ্ডা মেজাজের, প্রখর বিশ্লেষণী ক্ষমতাসম্পন্ন; অন্যজন সহজাত বুদ্ধির অধিকারী, সাহসী, একবার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে পেছনে ফিরতে অনভ্যস্ত। ইতিহাসের এক অমোঘ বিধানের মতো ২০১২ সালের জুন মাসের কোনো এক দিন হোয়াইট হাউজের ইস্ট র“মে তাদের দেখা হলো। এ দু’জন হলেন, বারাক হোসেন ওবামা ও জর্জ ওয়াকার বুশ।

ওই দিন হোয়াইট হাউজে বুশ ও লরা বুশের পোর্টেট উন্মোচন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, ‘বলা হয়, তারা ওই ডেস্কের পেছনে বসার আগে প্রেসিডেন্ট পদকে সত্যিকারভাবে কেউ উপলব্ধি করেননি। সাড়ে তিন বছর ধরে এ পদে থেকে আমি বুঝতে পারছি আমার আগে যারা এখানে এসেছেন তাদেরকে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনকালে সহজে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। প্রত্যেক সিদ্ধান্তের জন্য মূল্য দিতে হবে। আপনি যতই চেষ্টা কর“ন না কেন সবাইকে খুশি করতে পারবেন না। আমি মনে করি, এ কথাগুলো আমি ও প্রেসিডেন্ট বুশ দু’জনেই খুব দ্র“ত বুঝেছিলাম।’

কিছুটা শ্লেষের স্বরে বুশ যেন ওবামার বক্তব্য পাশ কাটাতে চাইলেন। বললেন, ‘আমি অভিভূত মিস্টার প্রেসিডেন্ট। আপনি যখন কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এই হলের মধ্যে উদ্দেশ্যহীনভাবে পায়চারি করবেন, তখন ওই পোট্রেটকে জিজ্ঞেস করবেন, জর্জ তখন কী করতেন?’

প্রেসিডেন্টরা তাদের পূর্বসূরিদের নিয়ে ভাবছেন, আলোচনা করছেন, তাদের ব্যর্থতা ও সফলতা থেকে উদ্বুদ্ধ কিংবা সতর্ক হতে চাইছেন এমন কাহিনী ইতিহাসে ভরপুর। সব প্রেসিডেন্ট একটি পরিবারের মতো। এরা সবাই বিশালত্বের অধিকারী। অসাধারণ অভিজ্ঞতা, সর্বময় ক্ষমতা বা সর্বাত্মক দায়িত্বের অধিকারী হওয়ার অনুভূতি শত্রুতার উত্তাপ কমে গেলে তাদের মধ্যে অদ্ভুত যোগাযোগ ও মিত্রতা সৃষ্টি করতে পারে।

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ভোটাররা যার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্টরা তারই প্রশংসায় পঞ্চমুখ : যেসব নেতার ভাবনা বড়, যারা উদ্যোগ গ্রহণে চৌকস; তারা দায়িত্বের সমাপ্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন বেশি। প্রেসিডেন্টদের বেলায় ইতিহাস সব সময় ক্ষণস্থায়ী, সব সময় শর্তাধীন। জেফারসন, জ্যাকসন, লিঙ্কন, রুজভেল্ট, কেনেডি, রিগ্যানের মতো মহান নেতারা দেশকে শক্তিশালী ও অধিকতর নিরাপদ করতে অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

তাই একজন প্রেসিডেন্ট আরেক প্রেসিডেন্টকে কিভাবে বিচার করেছেন তা একটি বড় বিবেচনার বিষয়। এ ব্যাপারে দু’টি মত আছে। প্রথমত, তারা প্রায়ই নিজেদের বর্তমান নীতির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে পূর্বসূরিদের উদাহরণ খোঁজ করেন। সাধারণভাবে প্রচলিত দ্বিতীয় মতটি হলো, প্রেসিডেন্ট বুঝতে চেষ্টা করেন তিনি কী হতে চান। প্রেসিডেন্ট নিজের সম্পর্কে কী ভাবছেন তা বোঝার একটি কৌশল হলো তিনি পূর্বসূরিদের নিয়ে কী ভাবছেন।

থমাস জেফারসন ও জর্জ ওয়াশিংটন ছিলেন দীর্ঘদেহী, ধনী ও ভার্জিনিয়ার বিপ্লবী। কিন্তু‘ প্রজাতন্ত্রের প্রথম বছরগুলোতে তাদের এই মিলগুলো ধূসর হয়ে আসে। শিশু আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে সে সময় ফ্রান্সে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনকারী জেফারসনকে ডেকে পাঠালেন দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন। ১৭৭০ সালে দেশের রাজধানী নিউইয়র্ক ফিরে জেফারসন নিজেকে এমন এক শহর ও রাজনৈতিক পরিবেশে আবিষ্কার করলেন, যা তাকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতি অতিমাত্রায় সহানুভূতিশীল করে ফেলে। বিপ্লবের প্রথম দিককার বিষাক্ত পরিবেশ থেকে তখন ফ্রান্স মুক্ত। সেখান থেকে ফেরা জেফারসন ওয়াশিংটনের প্রশাসনে বিরাজমান সংস্কৃতির সাথে পরিচিত ছিলেন না। এই সংস্কৃতি চালু করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আলেকজান্ডার হ্যামিলটন।

হ্যামিলটনের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হলেন জেফারসন। তিনি হয়ে উঠলেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে সবচেয়ে উচ্চকিত কণ্ঠস্বর। ওয়াশিংটনের আমলজুড়ে এই দ্বন্দ্ব চলে। জেফারসন স্বীকার করেছেন, তিনি ও হ্যামিলটন প্রতিদিন একে অন্যকে ঝামেলায় ফেলার চেষ্টা করতেন। ঠিক মোরগ লড়াইয়ের মতো। তাদের ডেকে এসব মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিতেন জর্জ ওয়াশিংটন।

জেফারসন ও ওয়াশিংটন দু’জনই দৃশ্যপট থেকে বিদায় নিলেন। মাত্র কয়েক বছর বাদে ১৮১৪ সালে জেফারসন ওয়াশিংটন সম্পর্কে লিখেন : ‘সম্ভবত তার চরিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য হলো বিচক্ষণতা। কোনো ভণিতা ছিল না। সব পরিস্থিতি, সব বিবেচনায় তার পরিপক্বতা ছিল ওজনদার। কোথাও সংশয় থাকলে তিনি সে কাজ থেকে বিরত থাকতেন। কিন্তু একবার সিদ্ধান্ত নিলে যত বাধাই আসুক কিছুতেই পিছু হটতেন না। তার সততা ছিল নিখাদ। আমার জানা মতে, তার বিচার ছিল সবচেয়ে অনমনীয়। তিনি ছিলেন প্রতিটি বাক্যে নিখুঁত, জ্ঞানী, ভালো ও মহান ব্যক্তি। মেজাজ ছিল স্বাভাবিকভাবে চড়া। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। কখনো মেজাজ বিগড়ে গেলে অসম্ভব ক্রোধ প্রকাশ পেত।’ জেফারসনের মতে, কেবল একান্ত জীবনেই ওয়াশিংটনের চড়া মেজাজ দেখা গেছে। যা তাকে একজন মানবিক বীরে পরিণত করেছে।

জেফারসনের ওয়াশিংটন ছিলেন সত্যিকারের একজন মানুষ। যিনি আসল কাজগুলো করেছেন। তিনি এমন এক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি বড় কিছু করার জন্য নিজের ভুলগুলো উতরে যেতে পেরেছেন। আর জেফারসনও তাকে এমনটাই দেখতে চেয়েছিলেন।

এর বেশ কয়েক দশক পর জেফারসনের চিন্তাচেতনা থেকে ভিন্ন ধরনের এক রিপাবলিকান প্রার্থী হলেন আব্রাহাম লিঙ্কন। ১৮৫৯ সালের এপ্রিলে ইলিনয়ের স্প্রিংফিল্ড থেকে বোস্টনের একটি দলকে তিনি চিঠি লিখে নিজের জন্মদিনের এক উৎসবে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনা ইউনিয়নের জন্য বিপজ্জনক এক সময়ে লিঙ্কনকে স্বাধীনতার জন্য জেফাসনের প্রভাব কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। লিঙ্কন বলেন, ‘জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের সীমাহীন চাপের মধ্যে একটিমাত্র অবিচল ব্যক্তি ছিলেন জেফারসন। কর্তৃত্বপরায়ণ, শান্ত, ভবিষ্যৎদ্রষ্টা এবং বিপ্লবের দলিল রচয়িতা সব কিছু আমেরিকার প্রতীক হয়ে আছে।’ জেফারসনকে এভাবে মূল্যায়ন করে পূর্বসূরিকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন লিঙ্কন। তিনি একজন মৃত দাস-মালিককে ব্যবহার করেছিলেন ইউনিয়নের স্বার্থে।

এন্ডু জ্যাকসনকেও একইভাবে তুলে ধরেছিলেন লিঙ্কনের মতো ঝানু রাজনীতিবিদ। ১৮৯১ সালের শুরর দিকে স্প্রিংফিল্ডে সিক্সথ অ্যান্ড অ্যাডামস কর্নারের কাছে ভগ্নিপতির দোকানের ওপর তলায় বসে লিঙ্কন তার প্রথম ভাষণের খসড়া তৈরির কাজ করেছিলেন। সেখানে নিজ হাতে লিঙ্কন যেসব দলিল রচনা করেছিলেন সেগুলো থেকেই সংবিধান রচিত হয়। যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে ইউনিয়নে অধিক বিশ্বাসী ছিলেন জ্যাকসন। এর আংশিক কারণ ছিল ব্যক্তিগত। তিনি বিপ্লবের কারণে মা-বাবাকে হারান। তরণ বয়সে ব্রিটিশদের যুদ্ধবন্দী ছিলেন তিনি। তিনি আমেরিকাকে একটি বড় পরিবারের মতো দেখতে পেরেছিলেন। তার পরিবারের রক্ত ইউনিয়নের জন্য উৎসর্গ হয়েছিল। তাই ইউনিয়নের বির“দ্ধে কোনো কিছুই সহ্য করতে প্রস্তুত ছিলেন না তিনি।

জ্যাকসনের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন লিঙ্কন। তিনি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যখন চূড়ান্ত লক্ষ্যটি অর্জিত হচ্ছিলো কখনো ধীরে, কখনো পরোক্ষভাবে। শেষ পর্যন্ত তা অর্জিত হয়। ১৮৬০ সালের শেষের দিকে এক ভাষণে লিঙ্কন বলেছিলেন, ‘কোনো রাষ্ট্রের বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার খোলামেলা বা বিতর্কের বিষয় নয়। এগুলো নিয়ে জ্যাকসনের আমলেই পুরোপুরি আলোচনা হয়েছে। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হলো আইন কার্যকর করা এবং বিদ্যমান সরকার পরিচালনা। রাষ্ট্র ভেঙে দেয়া বা সদস্যচ্যুত করার কোনো প্রস্তাব বিবেচনায় নিতে পারেন না তিনি।

ইউনিয়নের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি জ্যাকসন ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় নিউ অর্লিন্সে সামরিক আইন জারি করে আমেরিকান গণতন্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিজের চূড়ান্ত সাফল্য নিশ্চিত করতে অসাধারণ সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে লিঙ্কনকেও গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সম্পর্কে পরবর্তীকালে ফ্রাঙ্কলিন রজভেল্ট মন্তব্য করেছিলেন, ‘লিঙ্কন ছিলেন একজন দুঃখী মানুষ। কারণ তিনি সব কিছু একসাথে পাননি। কেউই তা পায় না।’ রজভেল্ট ঠিকই বলেছেন। কিন্তু‘ ইতিহাসের ট্র্যাজেডি ও বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলেন লিঙ্কন। তিনি জানতেন, তার জাতি সন্ধ্যালোক অতিবাহিত করছে। এর কোনো কিছুই না নিখুঁত, না নিখুঁত করা সম্ভব।
ছোটবেলায় ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টকে একদিন হোয়াইট হাউজে নিয়ে গিয়েছিলেন বাবা জেমস রজভেল্ট। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন কিভল্যান্ড। তিনি বালক ফ্রাঙ্কলিনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন তিনি ছেলেটির জন্য আশীর্বাদ করছেন, নিয়তি যেন ছেলেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট করে দেয়। আমরা যত দূর জানি, কোনো প্রেসিডেন্টের এমন কোনো আশীর্বাদ নেই, যা নিয়ে আলোচনা হয়নি। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ছিলেন ইতিহাসের এক মহান ছাত্র। তিনি সেই আশীর্বাদ মনে রেখেছিলেন। তিনি হোয়াইট হাউজকে পারিবারিক সম্পত্তির মতো দেখতেন। এটা কোনো হাইড পার্ক নয়। তার আগে সেখানে যাওয়া অনেকের পক্ষেই এমন ভাবনা ছিল স্বাভাবিক। অন্য প্রেসিডেন্টদের মতো রজভেল্টও আশা করতেন বিশ্ব তাকে দেখুক। তিনি মনে করতেন, মন্দা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার সংগ্রাম ছিল স্বাধীনতার ও সাম্যের জন্য জেফারসন ও জ্যাকসনের লড়াইয়ের মতো।

জ্যাকসন সম্পর্কে রুজভেল্ট বলতেন, ‘আমরা তার বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব উপলব্ধি করি, আমরা তার সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা করি। কারণ তাকে যেসব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যেসব শত্রুর মোকাবেলা করতে হয়েছে, তাকে যেসব পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যেসব জয় ছিনিয়ে এনেছেনÑ তার সব কিছুই ছিল সংগ্রামের অংশ। যুদ্ধের সময় বিশ্বে যখন ঘোর অমানিশা তখন জেফারসনের কর্মকাণ্ড রুজভেল্টকে উদ্দীপ্ত করেছিল। তিনি ১৯৪৩ সালের ১৩ এপ্রিল টাইডাল বেসিনে জেফারসন মেমোরিয়াল সফর করেন। তিনি সেখানে গিয়ে জেফারসন এবং নিজের মধ্যে তুলনা করতে লজ্জা বোধ করেননি।

একই রকম সরল খোলামেলা বিরল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন হ্যারি ট্রুম্যান। হোয়াইট হাউজে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার কিংবা ব্যক্তিগত লেখনীতে তিনি পূর্বসূরিদের চরিত্র বিশ্লেষণ, মানব প্রকৃতি সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদটির ব্যাপারে অসাধারণ সব লেখা লিখে গেছেন। একান্তভাবে তিনি ওয়াশিংটন, জেফারসন, জ্যাকসন, লিঙ্কন, পোল্ক, উইলসন ও ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের উচ্ছসিত প্রসংশা করতেন। তিনি ছিলেন রজভেল্টের দারুণ ভক্ত।

য্ক্তুরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৪ সালের বসন্তে রিচার্ড নিক্সনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ছাড়া তিনি হলেন একমাত্র মানুষ যিনি বিংশ শতাব্দীতে দেশটির নেতৃত্ব দেয়া পাঁচজন রাষ্ট্রনায়ককে একত্র করতে পেরেছিলেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির যুগে রাজনীতিতে যার হাতে খড়ি সেই বিল কিনটন সাবেক প্রেসিডেন্টদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সেখানে আরো উপস্থিত হয়েছিলেন জেরাল্ড ফোর্ড, জিমি কার্টার, রোনাল্ড রিগ্যান ও জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। এই অনুষ্ঠানে কিনটন নিজেকে দেখতে পেলেন নিক্সনের জায়গায়। নিক্সন দেশের জন্য যা করতে চেয়েছিলেন তিনিও তা করতে চেয়েছেন। কিনটন বলেন, ‘তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দেশে ক্যান্সার গবেষণা থেকে শুরু করে পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। তিনি ফেডারেল সরকারের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করেন। অতীতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা যা অবহেলা করেছে। তিনি আমাদের ইতিহাসে এমন এক সময় প্রেসিডেন্ট পদে বসেছিলেন যখন আমেরিকাবাসী বলতে শুর“ করেছে বিশ্বের জন্য আমাদের আরো কিছু করতে হবে। পুরনো বন্ধু ও শত্রু সবার কাছেই পৌঁছেছিলেন তিনি। আমেরিকা বিশ্বকে পরিত্যাগ করেছে, এমনটা তিনি হতে দেননি।’

আমরা রিগ্যান ও কেনেডিকে সাধারণত একই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি না। কিন্তু কেনেডি সম্পর্কে রিগ্যানের মনোভাব বেশ চমৎকার। রিগ্যান নিজেই বলেছেন, ‘অনেকেই মহান। কিন্তু, খুব কম জনই পারেন সময়ের চেতনা ও কল্পনাকে ধারণ করতে। তারাই চির স্মরণীয় হয়ে আছেন।’

ইস্ট রমের সেই অনুষ্ঠানে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্টদের সম্পর্কে চিরন্তন সত্যটি উচারণ করেনÑ ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু‘প্রেসিডেন্সি এসবের ঊর্ধ্বে। আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। অন্তত এই একটি কথায় আমরা সবাই একমত হবো।’