সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ

globe_2_by_celxa-d534n4m
ব্রিটেনে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ
ব্রিটেনে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের এখনও বর্ণবাদী হামলা বা কটূক্তির শিকার হতে হয়। কিন্তু স্কুল বা কলেজ ক্যাম্পাসে এশীয় বংশোদ্ভূত ছেলেমেয়েরা নিজেরাই পরস্পরের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী আচরণে জড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের বিদ্বেষমূলক হয়রানির ঘটনা পর্যবেক্ষণের কাজে জড়িত ফেইথ ম্যাটার্স নামে একটি বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠান বলছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের নিজেদের মধ্যে এ ধরনের বিদ্বেষের ঘটনাও প্রচুর।

এমইটি জুনিয়র স্কুলে নিজের ধর্মেরই অন্যদের কাছ থেকে হরহামেশাই এ ধরনের বুলিইং অর্থাৎ বিদ্বেষমূলক টিপ্পনির শিকার হতে হতো। আমি একজন মুসলমান। কিছু ছেলে আমাকে ক্রমাগত প্রশ্ন করতো আমি দিনে কতবার নামাজ পড়ি। তারা আমাকে ইসলাম নিয়ে নানা প্রশ্ন করতো। আমি যখন বলতাম এগুলো আমার জানা নেই বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, তারা আমাকে বলতো আমি প্রকৃত মুসলমান না। আমার খারাপ লাগতো, কারণ অন্য মানুষ আমাকে বলছে আমি যে পরিচয়ে জন্ম নিয়েছি আমি আসলে তা নই।

স্কুল ক্যাম্পাসে এ ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষের পেছনে ঐতিহাসিক নানা কারণও কাজ করছে। যেমন মুসলিমদের মধ্যে শিয়া সুন্নিদের মধ্যে বিরোধ বা হিন্দুদের মধ্যে জাতপাতের বিভেদ। এসব নিয়ে বিদ্বেষ ব্রিটিশ এশিয়ানদের সমাজ এবং পরিবার ছাড়িয়ে ক্লাসরুমেও ঢুকছে।

মুসলিম মেয়েদের একটি সেকেন্ডারি স্কুলে একজন পিই(ফিজিক্যাল এডুকেশন) শিক্ষক বলছেন এই ধরনের বিদ্বেষ বড় মাত্রার সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, এটা খুবই পরিচিত দৃশ্য যে জাতিগত পরিচয়ের বিবেচনায় একজন আরেকজনকে এড়িয়ে চলছে। অনেক সময় ভিন্ন কেউ যেন আড্ডায় ঘেসতে না পারে সেজন্য মেয়েরা নিজেদের ভাষায় কথা বলে। আমি একজন পিই শিক্ষক। ফলে আমার ক্লাসে অনেক গ্রুপ ওয়ার্ক করাতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কেউ কেউ অন্য কাউকে পছন্দ করেনা বলে দলে অংশ নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি আমি দেখেছি যে আমার ক্লাসে এরকম গ্রুপ ওয়ার্কে একটি মেয়ে আরেকটি মেয়ের ওপর চড়াও হয়ে, তাকে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দিচ্ছিল। ডজ বল খেলতে গিয়ে খেলার সুযোগে যাকে পছন্দ নয়, বল দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করছে।

ফেইথ ম্যাটার্স দাতব্য সংস্থাটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণের ওপর নজর রাখে। সংস্থাটি বলছে গত বছর এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে মুসলিমরাই অন্য মুসলিমদের ওপর বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। ফেইথ ম্যাটার্সের পরিচালক ফাইয়াজ মুঘল বলেন- জাতিগতভাবে, সামাজিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে মিল রয়েছে এ ধরনের মানুষের সাথেই আমরা সাধারণত নৈকট্য বোধ করি। কিন্তু তারা যখন আমার ওপর চড়াও হয় তখন সেটা বড় ধরনের আঘাত হয়ে দেখা দেয়। আমি কথা বলে দেখেছি এসব ক্ষেত্রে যারা এ ধরনের বিদ্বেষের শিকার হয় তারা প্রচন্ড মানসিক আঘাত পায়। এশীয় বংশোদ্ভূত স্কুল ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের মধ্যে বুলিইং নিয়ে ল্যাংকারশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণা চালিয়েছে সম্প্রতি এবং তারা বলছে এই সমস্যা একটি বড় সমস্যা। শুধু মুসলমানদের মধ্যেই নয় অনেক হিন্দু ছাত্রছাত্রী অভিযোগ করেছে তারাও জাতপাতের কারণে বিদ্বেষের শিকার হয়। গবেষণার লেখক মাইক এলসিø বলেন, আমরা দেখেছি ভারতের মুসলিমরা পাকি¯ত্মানের মুসলিমদের নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করছে। একইভাবে পাকি¯ত্মানি মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা ভারতীয় মুসলিমদের পাল্টা টিটকারি করছে। খাদ্যাভ্যাস নিয়েও হাসি তামাশা হয়। দেবদেবীর চেহারা কেন জীব জানোয়ারের মুখের আদলে তা নিয়ে হিন্দু ছেলেমেয়েদের টিটকারি করা হচ্ছে। উত্তর ভারত থেকে আসা পরিবারের ছেলেমেয়েরা দক্ষিণ ভারতের ছেলেমেয়েদের গায়ের রং নিয়ে হাসি তামাশা করছে। এরকম নানা ইস্যুতে একে অন্যকে ছোট করার চেষ্টা করছে।

কেন এই প্রবণতা? এই প্রশ্নে ওই স্কুলের পিই শিক্ষক বলেন, আসলে পরিবারের ভেতরে নিজস্ব সংস্কৃতি, জাতিগত পরিচয়, রাজনীতি নিয়ে এত কথাবার্তা হয় ছেলেমেয়েরা এতে প্রভাবিত হয়। তারা মনে করে তাদের বাবা মায়েরা এসব ভাবছে করছে সুতরাং তাদেরও তা করতে হবে। সমস্যা মূল পরিবারের ভেতরেই নিহিত।

হাতির দাঁতের জন্য নিষ্ঠুরতা!
যেভাবে হাতির দাঁতের বেআইনি বাণিজ্য হচ্ছে এবং এর জন্য হাতি শিকার করা হচ্ছে তাতে হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আফ্রিকার কোনও কোনও এলাকা থেকে হাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। হাতির দাঁতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি চীনে, যা হাতি শিকার ও চোরাচালানের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের বেইজিং এর ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলোতে নানা ধরনের পাথর ও কাপড়ের সাথে হাতির দাঁত বা আইভরিও দেখা যায়। দোকানটির কোনও কোনও অংশে আ¯ত্ম এক একটি হাতির দাঁতও রয়েছে, আবার দাঁত দিয়ে বানানো নানা জিনিসও রয়েছে।

এটি তাদের একটি বৈধ ব্যবসা বলে দাবি করলেন দোকানের মালিক। তিনি বলেন, আমাদের দোকানের লাইসেন্স আছে। হাতির দাঁত বিক্রির জন্য আমাদের আইনগত অনুমোদনও রয়েছে।চীনে এসব বৈধ লাইসেন্সধারী ১৫০ এর বেশি দোকানি রয়েছে। ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য এসব দোকানে আইভরি বিক্রি করা হয়। সরকার বলছে হাতির দাঁতে নকশা করা চীনের একটি প্রাচীন শিল্প এবং তারা এ শিল্পকে রক্ষা করতে চান। আর চীনের ধনীরা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি বা ধন সম্পদের প্রাচুর্য বোঝাতে এসব আইভরি সংগ্রহ করে থাকেন। ফলে এসব দোকানের ব্যবসা বাণিজ্য বেশ ভালই জমজমাট।

এক দোকানী বলেন, আমি এ ব্যবসায় ৪০ বছর ধরে রয়েছি। বেআইনি কোন কিছুর সাথেই আমি জড়িত নই। তবে হয়তো কিছু বেআইনি দোকান আছে, তাদের জন্যই আমাদের দুর্নাম হচ্ছে।৬ বছর আগে আফ্রিকা থেকে ৬০ টন হাতির দাঁত আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল চীনের সরকার। এরপরও আফ্রিকা থেকে চোরাচালান হয়ে আরো নতুন নতুন হাতির দাঁত চীনে এসেছে এবং অনেকটা ড্রাইভিং লাইসেন্স ধরনের অনুমতিপত্র দেখিয়ে এসব বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে এখন চীনের সরকারও সমস্যাটি মোকাবেলার চেষ্টা করছে। গত মাসে চীনের কাস্টমস্ কর্মকর্তারা বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ৬টন আইভরি বা হাতির দাঁত বাজেয়াপ্ত করেন।বিলুপ্তিপ্রায় প্রাণীর আšত্মর্জাতিক বানিজ্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান সিপিজের সদস্য সচিব জন ওস্কানলন বলছেন, আফ্রিকান হাতির ঝুঁকি দিনে দিনে আরো বাড়ছে। ২০১১ সালে আফ্রিকায় ২৫ হাজার হাতি বেআইনি হত্যার শিকার হয়েছে, গত বছর ছিল এই সংখ্যা ছিল ২২ হাজার। আপনারা বুঝতেই পারছেন গত ২ বছরে প্রায় ৫০ হাজার হাতি বেআইনিভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই আফ্রিকায় দিনে দিনে হাতি কমছে। হয়তো এমন এক সময় আসবে যখন মধ্য আফ্রিকার মত কোনও কোনও এলাকায় আর হাতি খুঁজেই পাওয়া যাবেনা।

কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে চীনের আইভরি ব্যবসায়ীরা এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা শুরু করেছেন। যদিও এটা বেআইনি। তবে অনেক নিলাম প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হাতির দাঁত বিক্রির মত বিজ্ঞাপন দেখা যায়। বেইজিং এর একটি হোটেলে ২২ ইঞ্চি দাঁতের একটি অংশ নিয়ে এসেছেন এরকম একজন বিক্রেতা বলেন, এখানে নানা ধরনের দাঁত রয়েছে সাদা হলুদ এবং রক্ত আইভরি। তার মধ্যে এই যে রক্ত আইভরি এটা সবচেয়ে ভাল।সরকারি অভিযান শুরু হলেও আইভরির চাহিদা কিন্তু কমেনি। বরং গোপনে বিক্রি হচ্ছে বলেই এর দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। চীনের আইভরির চাহিদা এরকম চোরাচালানের বড় কারণ। অনেকেই বলছেন এর একমাত্র সমাধান হতে পারে হাতির দাঁতের ব্যবসা একেবারেই বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া। তবে চীন সেটাতে ইচ্ছুক না। তাই এর সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যতদিন না হাতির দাঁত বিক্রি বন্ধ হবে, ততদিন হাতির দাঁতের চোরাচালান হবে। আফ্রিকায় হাতি শিকার হবে এবং এ প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাবে আর এক ধাপ

৬০ বছর পর মিলন
কোরীয় যুদ্ধে বিভক্ত দুই পরিবারের মধ্যে পুণর্মিলন হয়েছে ৬০ বছর পর। যুদ্ধের কারণে পঞ্চাশের দশকে দুই পরিবারের স্বজনরা পড়ে গেছেন দুই দেশে। দেশের সীমারেখায় দেহ আটকে থাকলেও মনের কোন সীমারেখা নেই। দুই দেশের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে বহু আলাপ আলোাচনার পর অবশেষে আসলো স্বজনদের মধ্যে আসল পুণর্মিলনের সুযোগ। কারা এই সুযোগ পাবেন তা ঠিক হয় লটারির মাধ্যমে। মাউন্ট কংগং রিসোর্টে প্রথম দফায় নির্বাচিত হয় ১শ’ জন। ২৫শে ফেব্রুয়ারি পর্যšত্ম চলবে এই পুণর্মিলনী।

প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি তারা । দীর্ঘদিন জাপানে উপনিবেশ হয়ে থাকা কোরিয়া ভাগ হয় যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার স্নায়ু যুদ্ধের জেরে। কোরিয়া যুদ্ধ সেই ঘটনারই ফল। প্রথমে দেশ ভাগ তারপর সীমাšেত্মর কাঁটাতারে পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। কোরীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার ৬০ বছর পেরিয়ে গেলেও অপর ভূখন্ডে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের সাথে মিলিত হতে পারেননি অনেকেই। জীবনের শেষ লগ্নে এসেও হারানো স্বজনদের দেখা মিলবার আশায় দিন গুনছেন তারা।

২০১০ সালে বিভক্ত পরিবার গুলোর নিয়মিত পুণর্মিলনীর সুযোগ দিতে একমত হয় বৈরী দুই দেশ। তবে মানবিক এই আশা, এই স্বপ্ন আজও রাজনীতির বেড়াজালে বন্দী। সীমাšত্ম সমস্যা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ায় প্রায় ভে¯েত্ম যেতে বসেছে এই পুণর্মিলনী

নিজের চেহারা ফিরে পাওয়ার আশায় ২৩ বছর!
আয়ান মোহামেদ সবসময়ই নেকাব পরে থাকেন। তবে তা যত না ধর্মীয় অনুভূতি থেকে, তার চাইতে অনেকখানি বেশি নিজের জীবনের নির্মম এক সত্যকে ঢেকে রাখতে।এ বিষয়ে সোমালিয় দ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ফার্স্ট লেডি এদনা আদান ইসমাইল বলেন, ‘তিনি তাঁর খুঁত ঢাকতেই নেকাব পরেন। কারণ এই দৃশ্য মানুষ সহ্য করতে পারে না, বাচ্চারা ভয়ে কান্নাকাটি করে।’

সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গোলার আঘাতে আয়ানের মুখ বিধ্ব¯ত্ম হয়। তখন তার বয়স মাত্র দুই। তার বয়স এখন পঁচিশ এবং তার ডান চোখ সে বন্ধ করতে পারে না। গালের গর্ত দিয়ে মুখে পোরা খাবার পড়ে যায়। মানুষ যখন তার মুখ নিয়ে প্রশ্ন করে তখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে তার বলে জানান আয়মান। আয়মানের দুই বছর বয়সের একটি মেয়ে আছে। তার নাম মারওয়া। বর্তমানে আয়মান সংসার-মেয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন চিকিৎসার জন্য।

ওযেসলি হাসপাতালের দাঁত ও মুখের শল্য চিকিৎসক ডাঃ জন আর্ভিয়ের জানান, আয়মানের মুখ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, এটা ঠিক করা সত্যিই কঠিন। এজন্য হাসপাতালে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।জন বলেন, ‘আয়মান তার চোখের নিচ থেকে মুখের মাঝ বরাবর বেশিরভাগ টিস্যু হারিয়েছেন্। এছাড়া দাঁতের গোড়ালির হাড় এবং মাংসও নেই।’তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম টিস্যু ব্যবহার করা হবে আয়মানের মুখ ঠিক করতে।’ আযমান জানান, এই অপারেশনের ব্যাপারে তিনি ভীত নন। যেকোনো মূল্যে তিনি তার সুন্দর মুখ ফিরে পেতে চান।