হাউ মাউ খাউ, দেশপ্রেমিকের গন্ধ পাউ

হাউ মাউ খাউ, মানুষের গন্ধ পাউ!

এ ধরনের হালুম মালুম কথা বলেই রাক্ষস-খোক্ষসেরা মানুষের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সবাইকে খেয়ে ফেললেও কী কারণে যেন পরমা সুন্দরী এক রাজকন্যাকে বাঁচিয়ে রাখে। তাকে পাতালপুরীতে নিয়ে আটকে রাখে। তারপর এক রাজপুত্র অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে ও সাহস দেখিয়ে সেই রাজকন্যাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

রাজকন্যার মাথার কাছে সোনার কাঠি আর পায়ের কাছে রুপার কাঠি রাখলে রাজকন্যা জেগে ওঠে। আবার কাঠি দু’টির জায়গা অদল-বদল করলে রাজকন্যা ঘুমিয়ে পড়ে। রাজকন্যাকে ঘুম পাড়িয়ে রাক্ষসেরা শিকারের জন্য বের হয়। শিকার থেকে ফিরে এসে আবার তাকে জাগিয়ে তোলে। রাজকন্যা কৌশলে জেনে নেয় এই রাক্ষসদের আত্মা কোন কৌটায় রাখা আছে। তারপর লুকিয়ে থাকা রাজপুত্রকে সেই খবর জানিয়ে দিলে সে সব রাক্ষসকে মেরে ফেলে রাজকন্যাকে উদ্ধার করে।

এ দেশের মানুষ এ ধরনের রাক্ষস-খোক্ষসদের কবলে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে পড়েছে। তাদের মনের সেই অনুভূতি, হতাশা ও কষ্টগুলো এভাবে কেচ্ছা-কাহিনীর রূপকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই রাক্ষস-খোক্ষসেরা কখনো বর্গির বেশে, কখনো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রূপে, কখনো পাকিস্তানি জান্তারূপে আবার কখনো বা রক্ষীবাহিনী রূপে এসেছে। এখনো যৌথবাহিনী বা চাপাতি বাহিনী নামেও আসছে।

মাঝে মধ্যে এই রাক্ষস-খোক্ষসেরা একটু বোকা কিছিমের হয়। এদের কথা শুনলে মানুষ হাসতে হাসতে মরে যায়। পদ্মা সেতুর মতো সেতু এরা অনায়াসেই হজম করে ফেলতে পারে। হলমার্ক এদের কাছে পি-নাট। আগে চেটে খেলেও এখন গোগ্রাসে খায়। এদের পেট এত বড়, আর লোভ এত বেশি যে, প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ক্রেস্টের পরিবর্তে ক্যাশ চায়।

এদের কারণে পুরো জাতি আজ এক অতলপুরীতে আটকা পড়েছে। এবার সোনার কাঠিটি বানানো হয়েছে ‘স্বাধীনতার চেতনা’র রজ্জু দিয়ে। রুপার কাঠিটি বানানো হয়েছে কথিত জঙ্গিবাদের জুজু দিয়ে। এই সোনার কাঠি ও রুপার কাঠি ঘুরিয়ে পুরো জাতিকে অচেতন বানিয়ে ফেলা হয়েছে। একটু জেগে গেলেই প্রশ্ন করে, ‘হাউ মাউ খাউ, রাজাকারের গন্ধ পাউ।’

এই রাজাকার আবার সেই রাজাকার নয়। পরশপাথরের মতো এক চেতনার পাথর দিয়ে আরাফাতরা রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা বাছাই করেন। এই রাক্ষস-খোক্ষসেরা বুদ্ধিবৃত্তিক জগতেও তাদের বংশবিস্তার করে ফেলেছে। তারাও প্রতিপক্ষের ওপর একই ভঙ্গিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাকের ভাই যে, আসলেই বাকের ভাই, তা চিনতে আমাদের কয়েক যুগ লেগে গেছে। এই বাকের ভাইদের জন্য ভিন্ন মতের ও পথের লোকদের সর্বদা আতঙ্কে কাটাতে হয়। কারণ কখন রাজাকার খেতাবটি জুটে যায় আর কখন হাউ মাউ খাও পার্টি ঝাঁপিয়ে পড়ে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই।

কবি নজরুল তার ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ’ নামক প্রবন্ধের এক জায়গায় এ ধরনের একটি আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন। তার কথায়, ‘আমি একটা জিনিস কিছু দিন থেকে লক্ষ করে আসছি। সম্ভ্রান্ত হিন্দু বংশের অনেকেই পায়জামা-শেরওয়ানি-টুপি ব্যবহার করেন, এমনকি লুঙ্গিও বাদ যায় না। তাতে তাদের কেউ বিদ্রƒপ করে না, তাদের ড্রেসের নাম হয়ে যায় ‘ওরিয়েন্টাল’; কিন্তু ওইগুলোই মুসলমানেরা পরলে নাম হয়ে যায় ‘মিয়া সাহেব’। মৌলানা সাহেব আর নারদ মুনির দাড়ির প্রতিযোগিতা হলে কে যে হারবেন বলা মুশকিল; তবু ও নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপের অন্ত নেই।

আমি তো টুপি-পায়জামা-শেরওয়ানি-দাড়িকে বর্জন করে চলেছি শুধু ওই ‘মিয়া সাহেব’ বিদ্রƒপের ভয়েই, তবুও নিস্তার নেই।’

আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে কবি নজরুলের এই পর্যবেক্ষণ আরো নির্মমভাবে আমাদের উপলব্ধিতে ধরা পড়েছে। কাজেই একাত্তর সৃষ্ট ‘রাজাকার’ না থাকলেও অন্য কোনো-না-কোনো ‘বিদ্রƒপ’ এই ‘মিয়া সাহেব’দের জন্য মজুদ থাকত। যদি আমাদের এই হুঁশ এখনো না ফিরে তবে আজ থেকে ১০০ বছর পরও অন্য কোনো নজরুল ইসলামের অনুভূতি খুব একটা ভিন্ন হবে না।

রাজাকার তো রয়েছেই। এই ‘মিয়া সাহেব’দের উত্তরসূরিদের জন্য উপরি হিসেবে এসেছে লাদেন আর জঙ্গিবাদের বিদ্রƒপ। নজরুলের সময় ‘ওরিয়েন্টাল’ সাহেবরা এই বিদ্রƒপ করতেন। আজ এই মিয়া সাহেবদেরই ঔরসজাত কোনো কোনো সুসন্তান নব্য ‘ওরিয়েন্টাল’ সেজে অন্য মিয়া সাহেবদের সন্তানদের এই গালি দিচ্ছে।

একদা জাতির পিতাকে ‘জুতার ফিতা’ খেতাবদাতা নেতানেত্রীরা আজ খালেদা জিয়াকে খেতাব দিয়েছেন বড় লাদেন হিসেবে। তারেক রহমানকে ডাকছেন ছোট লাদেন হিসেবে। ১৯৭২ থেকে ২০১৪। এইসব খেতাব দিচ্ছেন সেই একই জায়গা থেকে আদিষ্ট হয়ে! এই দেশ ও রাষ্ট্রটিকে নতজানু বা বাফার স্টেট বানানোর কাজটি সেই গোড়া থেকেই শুরু হয়েছে। জীবিত বঙ্গবন্ধুকে যারা সহ্য করতে পারতেন না, তাদের কাছে তার ছবি আজ এত প্রিয় হয়ে উঠেছে!

নিশাতের এভারেস্ট জয়ের সাথে তুলনায় টেনে ১৬ ডিসেম্বর নিজের এভারেস্ট জয়ের কথা উল্লেখ করেছেন এক নেতা। তুলনাটি শ্রোতাদের কাছে তেমন যুৎসই লাগেনি। কলকাতার কোনো হোটেলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠা ছাড়া অথবা সমজাতীয় কোনো ঊর্ধ্বারোহণ ছাড়া এই ব্যক্তিরা ১৯৭১ সালে এ দেশের কোনো পাহাড়-টিলা ডিঙ্গাননি। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে ট্যাংকের ওপর উঠে এই ধরনের লোকেরা নাচানাচি করেছেন। এটাকে বরং এভারেস্ট জয়ের সাথে তুলনা করলে বেশ যুৎসই তুলনা মনে হতো।

জনগণের স্মৃতিশক্তি খুব দুর্বল বলে ১৯৭৫ সালে ট্যাংকের ওপর নাচানাচি করা এসব লোক আজ এই সরকার তথা জনগণের বুকে উঠে নাচানাচি করছে। এই নাচানাচি অনেকেরই ভালো লাগছে না। কয়েক দিন আগে আমাদের এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে কথা হলো। ভাইটির বাবা ছিলেন নিজেদের জেলায় আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের সভাপতি। বাবা গত হলেও মা এখনো জীবিত। ৫০ বছরের দাম্পত্য জীবনের স্বামীর রাজনৈতিক জীবনেরও একনিষ্ঠ সঙ্গিনী ছিলেন ভাইটির এই মা। সেই মা এবার হতাশায় বলছেন, এই আওয়ামী লীগকে আর ভোট দেবেন না। বড় ভাইটি এতে যারপরনাই অবাক হয়েছেন। তার কথায়, ‘আমাদের বাসার মুরগিটিও একসময় আওয়ামী লীগ করত। অথচ আজ এই পরিবর্তন দেখে নিজেই অবাক হচ্ছি। ’

এই পরিবর্তন যাদের চোখে পড়ার কথা, তাদের চোখে তা পড়ছে না। এটা পড়ছে না বলেই আজ তারা এত উল্লসিত। সেই উল্লাসেই নিজেকে ডিকেয়ার করেছেন ‘কপালি’ হিসেবে। আর প্রতিপক্ষকে অনবরত ‘গোলাপি’ ডেকে যাচ্ছেন; কিন্তু দেশের মানুষ কাতর চোখে দেখছে তিনি নিজে উঠে পড়েছেন ‘দিল্লি এক্সপ্রেসে’।

এই ‘দিল্লি এক্সপ্রেস’ তাকে কোথায় নিয়ে যাবে তা হয়তো কিছু দিন পর উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু কখনোই মেনে নেবে না। একটু অপেক্ষা করলে যার কপালে জনগণের প্রেম (হয়তো বা পাঁচ বছর পর) জুটতো, সেই তিনিই জনগণকে জোর করে বেইজ্জত করতে মত্ত হয়ে পড়েছেন। আওয়ামী পরিবারের আমাদের সিনিয়র ভাইটির ভাবনা ও বিশ্লেষণটি মোটামুটি এরকম।

আইয়ুব খান ক্ষমতায় আঁকড়ে ছিলেন প্রায় ১০ বছর। স্বৈরাচারী এরশাদ ছিলেন ৯ বছর। কাজেই আওয়ামী লীগ যদি পাঁচ বছর একইভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায় তবে তা তাদের জন্য মোটেও কঠিন হবে না। জীবনটাকে মনের মতো উপভোগ আর সতী নারীর দাবি একসাথে করা যায় না। তেমনি আইয়ুব খান কিংবা এরশাদের মতো ক্ষমতায় থেকে গণতন্ত্রের পরিচর্যার দাবিটি করা যাবে না। আওয়ামী লীগ এখানেই ভুলটি করছে।

এরশাদ তার বন্ধ্যা স্ত্রীকে রাতারাতি হসপিটালে ভর্তি করিয়ে আস্ত এক সন্তান পয়দা করে ফেলেছিলেন। তারপরও অপবাদটি দূর করতে পারেননি। বরং তখনই জুটেছিল বিশ্ববেহায়া খেতাবটি। মজার ব্যাপার হলো, সেই একই রওশনকে রাতারাতি বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়ে শেখ হাসিনা তার বন্ধ্যা সংসদটিকে ফলবতী বানাতে চাচ্ছেন। এ দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল; কিন্তু এত দুর্বল নয় যে, এই ইতিহাসগুলো ভুলে যাবে। বিরোধী দলগুলোর প্রতি আমার একটাই পরামর্শ, আপনারা অধৈর্য বা হতাশ হবেন না বরং ভয়ঙ্কর রাক্ষস-খোক্ষসদের করুণ পরিণতি দেখার জন্য অপেক্ষা করুন।

মাত্র কয়েকটি লাশ পড়তে দেখে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন শত শত লাশ পড়লেও বর্তমানের গ্র্যান্ড মার্শালের সামান্য বিকার দেখা যায় না। নিজের ফাঁসি চেয়ে এক ভক্ত জানিয়েছিলেন, ‘লাশ দেখলে তার ভাত খাওয়া বেড়ে যায়।’ সেই বইটি নিষিদ্ধ হলেও এই জাতীয় কথাগুলো মানুষের মগজ থেকে মুছে যায়নি; বরং সেসব কথা যাচাইয়ের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। দেশের শত শত মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়েছে। সেই তিনিই আবার একজন অগ্নিদগ্ধ মানুষের পাশে অপূর্ব ভঙ্গিমায় আহাজারি শুরু করেন। তখন মনে সন্দেহ জাগে, সেই একই হৃৎপিণ্ড তিনি সব জায়গায় বহন করছেন কি না। যত দক্ষ অভিনেত্রীই হন না কেন, ইতিহাসে এগুলো সবই খোদাই হয়ে থাকবে। কারণ মানুষের মন এক আজব জিনিস। কোনো স্বৈরাচারের চোখরাঙানি বা স্টিমরোলার সেই মনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার রায় দেয়া হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে যত প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে, তার চেয়েও আরো অনেক বেশি নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরাই যদি এই কাজে জড়িত থাকেন, তবে এগুলো ‘চালান’ না করে চোরাচালানি করতে গেলেন কেন?

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা জড়িত থাকলে তো সমুদ্রগামী জাহাজে করে এনে সাধারণ জেটিতেই তা খালাস করতে পারতেন। সহজ পদ্ধতিটি রেখে তারা কেন এই কঠিন কাজ করতে গেলেন? রাষ্ট্রের মেশিনারিজ ব্যবহার করা হলে এই অস্ত্রগুলো সেনাবাহিনীর জন্য, নাকি উলফাদের জন্য, তা মাল খালাসের সাথে সংযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা ঘুর্নাক্ষরেও টের পেতেন না।

কাজেই এটা অনেকটা স্পষ্ট, সর্বোচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে কাজটি করা হয়নি। তবে বিভিন্ন রঙের মোড়ল পরিবেষ্টিত গ্লোবাল এই ভিলেজে একজনের পেছন দিকে অন্যজনের চিমটি কাটার মতো কাজটি প্রচলিত রয়েছে। উদাহরণের জন্য খুব বেশি দূর যাওয়ার দরকার পড়বে না। আমাদের এক উপদেষ্টা ইন্ডিয়ার কাছ থেকে ট্রানজিট ফি চাইতেও লজ্জা পেয়েছিলেন; কিন্তু সেই ইন্ডিয়া আমাদের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী শান্তিবাহিনীকে প্রকাশ্যে সহায়তা দিতে একটুও লজ্জা পায়নি। শ্রীলঙ্কার সাথে তেমন বড় ধরনের কোনো শত্রুতা না থাকলেও তামিল টাইগারদেরও একই স্পিরিটে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। এই ভুল পলিসির কারণে একজন প্রধানমন্ত্রীকেও তাদের হারাতে হয়েছে।

ইন্ডিয়া সেই ভুল বুঝতে পারলে কিংবা কোনো দৈব কারণে সেই মানসিকতার পরিবর্তন হয়ে পড়লে আগের সেসব জঘন্য কাজের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের কখনোই এ ধরনের শাস্তি দেবে না। নিজেদের রাষ্ট্রীয় কাজে জড়িতদের শাস্তি দেয়া তো দূরের কথা, সামান্য তিরস্কারও করবে না। আমাদের ফেলানীকে কাঁটাতারে নির্মমভাবে আটকে থাকতে দেখে বিশ্বে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক ইন্ডিয়ান এই ফেলানীর জন্য আমাদের চোখের পানির সাথে ওদের চোখের দামি জলও যোগ করেছিল। সেই ফেলানীর ঘাতক বিএসএফের এক সদস্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হলেও ইন্ডিয়ার আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। কারণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেই বিএসএফ সদস্য গুলি ছুড়েছে।

আজকে আমাদের যে সুশীলগোষ্ঠী এবং তাদের সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল এই জঘন্য কাজের জন্য ‘ছি ছি’ করছে এবং ‘ উচিত বিচার হয়েছে’ বলে মুখের ফেনা তুলে ফেলছেন তারা ভুলেও ইন্ডিয়ার ওই কর্মকাণ্ডগুলো স্মরণ করবেন না। প্লাস্টিকের ফুলের মতো তাদের বিবেকটিও আজ প্লাস্টিক হয়ে পড়েছে। উনারাই আবার দেশপ্রেমিক। উনাদের দেশপ্রেম নিয়ে যারা সন্দেহ করবেন তারাই রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। ‘রাজাকার’ শব্দ দিয়ে কাজ না হলে জঙ্গির তকমা তো রয়েছেই।

বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিচারালয় কী ভূমিকা রাখছে, তাতো দেখাই যাচ্ছে। অন্যরা এখন সর্ববৃহৎ মানব পতাকা বানানোর মতো কাজে মনযোগ দিয়েছেন।

এখন বাকি শুধু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শেষ ভরসা বেগম খালেদা জিয়াকে সাইজ করার কাজটি। তার জন্য রয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাটি।

আওয়ামী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাগজ ও মিডিয়া দিয়ে এই কাজ সম্ভব হবে না। তাই নিরপেক্ষ কণ্ঠ বলে পরিচিতরা এগিয়ে এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে শিরোনাম হচ্ছে, ‘বিচারপতি এবার তোমার বিচার হবে’। পরের দিন একই পত্রিকা লিখছে, ‘খালেদা জিয়াকে যে প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে।’ আরো মজার ব্যাপার হলো, যে মুহূর্তে পত্রিকাটি এই সেবা দিচ্ছে তখন লন্ডন প্রবাসী একজন সাংবাদিক এবং প্রধানমন্ত্রীতনয় সংবাদপত্র দু’টিকে সরকারবিদ্বেষী বলে গালি দিচ্ছেন!

আমাদের সুশীলসমাজ জজ মিয়া নাটকের কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে; কিন্তু এই নাটকের পেছনের মহানাটকটি নিয়ে একবারও কেউ কোনো কথা বলছেন না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর তখনকার সরকার এফবিআই এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করতে চেয়েছিল; কিন্তু তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের অসহযোগিতার কারণে সেই তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। সে দিন আন্তর্জাতিক এই সংস্থা দিয়ে তদন্ত করতে দিলে জাতিকে আজ এই ভয়ঙ্কর অবস্থায় পড়তে হতো না।

কাজেই দেশটিকে নিয়ে যে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে এসবই সেই মহাপরিকল্পনার অংশ। বিবদমান দুই পক্ষের কেউ জানে না, কে তাদেরকে নিয়ে খেলছে? নিজেদের মধ্যকার ঘৃণা ও অবিশ্বাস এত চরম হয়ে পড়েছে যে, মাঝখানে তৃতীয় কারো ভূমিকা টের পাচ্ছে না। অর্থাৎ পেছনে চিমটি কাটছে একজন, পাকড়াও করছে গিয়ে অন্যজনকে। ভয়ঙ্কর এই কানামাছি খেলা চলছে এই জাতিকে নিয়ে। আমরা ভুলে যাচ্ছি, খেলাটি চলছে ১৬ কোটি আত্মা ও তাদের অনাগত সব প্রজন্মকে নিয়ে।

আগে উপদেশ আর টাকার থলিটি চোখের আড়ালে ছিল, আজ তা প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে।

সব কিছু দিবালোকের মতো স্পষ্ট হলেও এখনো যা জাগেনি, তা হলো আমাদের হুঁশ।

minarrashid@yahoo.com