পিলখানার সেই ট্রাজেডি

Mutiny that Shook the Nation

[বিদ্রোহের দিনের আগে বিদ্রোহীদের নেতাগণ একাধিক জায়গায় একাধিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। তারা গোপনীয়তার এবং আন্তরিকতার শপথ গ্রহণ করেছিলেন। তারা পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন কোন সময় বিদ্রোহী শুরু হবে, কীভাবে শুরু হবে এবং কী ধারাবাহিকতায় কাজ এগিয়ে যাবে। বিনা অনুমতিতে দরবার মঞ্চ যেখানে মেজর জেনারেল শাকিল বসেছিলেন সেখানে সশস্ত্র একজন সৈনিক ওঠা মাত্রই বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেই সৈনিকের নাম মইন।]

সিপাহী মইনকে মঞ্চে অস্ত্রসহ অতর্কিত প্রবেশ করানো হয়। মইন ডিজির দিকে অস্ত্র তাক করার পরপর একটি ফাকা গুলি করা হয়। সেটি ছিল বিদ্রোহ শুরুর একটি সিগনাল। সঙ্গে সঙ্গে দরবার হলে উপস্থিত কিছু বিদ্রোহী জাগো বলে চিৎকার করে উঠে এবং সব সৈনিককে দরবার ত্যাগের ইঙ্গিত দেয়। এর পরপর দরবার হলের বাইরের পিলখানার সর্বত্র এবং তারপর মোবাইল ও রেডিওর মাধ্যমে সর্বত্র সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সৈনিকদের চূড়ান্তভাবে উসকে দেয়ার জন্যে এ কথা ছড়িয়ে দেয়া হয় যে, দরবার হলে গুলি করে একজন সৈনিককে সেনা কর্মকর্তা মেরে ফেলেছে। পরে মিডিয়াতেও বিদ্রোহীদের এই দাবি করতে শুনা যায়। যা পরে কমিটিতে গুজব বলে প্রমাণিত হয়েছে।

দরবার হলের সিসি টিভির রেকর্ড থেকে পাওয়া তথ্য ও তদন্ত অনুসন্ধানে দেখা গেছে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা ২ মিনিটে পিলখানার দরবার হলে বিডিআর বার্ষিক দরবার শুরু হয়। দরবারে উপস্থিত ছিলেন ২৫৬০ জন। সকাল ৯টা২৬ মিনিটে ডিজি বক্তব্য দেয়ার সময় মঞ্চের বামদিক থেকে অস্ত্র হাতে দরবার হলে প্রবেশ করে সিপাহী মইন যে এখনো পলাতক। তার পিছু পিছু প্রবেশ করে সিপাহী কাজল আলী ও এবি সিদ্দিক। মইন অস্ত্র হাতে দরবার হলে প্রবেশ করে ডিজির দিকে অস্ত্র তাক করে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। ডিডিজি ব্রিগেডিয়ার এম এ বারী অপর কয়েকজন কর্মকর্তার সহায়তায় মইনকে নিরস্ত্র করেন। এর মধ্যে দরবার হল থেকে বের হয়ে যায় কাজল আলী ও এবি সিদ্দিক। তখন সিপাহীদের কেউ একজন জাগো বলে চিৎকার করে মুহূর্তের মধ্যে বিডিআর সদস্যরা অস্ত্র হাতে নিতে থাকে। আর এভাবেই শুরু সশস্ত্র বিদ্রোহের। সকাল সাড়ে ৯ টায় ডিজি মে. জে. সাকিল আহমেদ নিজে প্রধানমন্ত্রী ও সেনা প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট বাক্তিদের ফোন করে সেনা হস্তেেপর অনুরোধ জানায়, কিন্তু তার কথায় কেউ সাড়া দেননি। বিদ্রোহীরা অস্ত্রাগারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই কর্মকর্তাকে হত্যা করে অস্ত্রাগার লুট করে। সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্রোহীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে দরবার হলে প্রবেশ করেন এবং কর্মকর্তাদের বের হয়ে আসার নির্দেশ দেন ওই সময় ডিজিকে বৃত্তাকারে ঘিরে মানব প্রাচীর তৈরি করে কর্মকর্তারা মঞ্চের পেছন দিক থেকে বের হয়ে আসেন। আনুমানিক সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ডিজির নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের সারিবদ্ধভাবে দরবার হল থেকে বেরিয়ে কয়েক সিঁড়ি নামামাত্রই মুখোশ পরা কিছু ব্যাক্তি কর্মকর্তাদের ল্য করে ব্রাশফায়ার করেন। মুহূর্তেই ঢলে পড়েন ডিজিসহ কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা। ১১টায় বিদ্রোহীরা গোলা বারুদ সংগ্রহ করে। ১১টা নাগাদ সেনাবাহিনীর একটা দল বিডিআর ৪ নাম্বার গেটের কাছে অবস্থা নেয় এইসময় বিদ্রোহীরা প্রায় ১৬টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বাইরে থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখা যায়। দুপুর ১২টা১৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে লিফলেট ছুড়ে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান জানানো হয়। এই সময় বিদ্রোহীরা হেলিকপ্টার ল্য করে গুলি করে এবং হেলিকপ্টারটিতে ৬টি গুলি লাগে। দুপুর ১২টার দিকে বিদ্রোহীদের পে ৩ নাম্বার গেটে বিদ্রোহীদের পে একটি মিছিল বের হয়, এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী। তার ছেলে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী লেদার লিটনও বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত বলে বিভিন্ন তদন্ত ও স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। এই কারণে লেদার লিটনকেও হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে এর পর বিদ্রোহীরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে। বিদ্রোহীরা মাইকে ঘোষণা দেয়, আলোচনার জন্যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে একা পিলখানায় যেতে হবে।

বিদ্রোহের ঘটনা পর¤পরায় জানা গেছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর পে বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রকরণে প্রথম পদপে হিসেবে সাদা পতাকা নিয়ে ৪ নাম্বার গেটে যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সরকারি দলের হুইপ মির্জা আজম। বেলা ৩ টায় প্রতিমন্ত্রী নানক, এমপি ফজলে নূর তাপস ও হুইপ মির্জা আজমের সাথে ৪ নাম্বার ফটকে অবস্থান রত জওয়ানরা কথা বলতে রাজি হয়। বেলা ৩টা৪০ মিনিটে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে যান। যমুনার ওই বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন। ওইসময় পিলখানার ভিতরে জওয়ানরা ট্যাঙ্কে করে টহল ও মুহুমহু গুলি ছুড়ে। কিছুণ পর পর তারা গুলি ছুড়ে আতংক ও ভীতি ছড়ায়। বিদ্রোহ শুরুর পর কিছু ব্যক্তি সেনা কর্মকর্তাদের বাসভবনে হামলা, লুটপাত, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বহু নারীর শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তাণ্ডবলীলা চলতে থাকে দুইদিন ধরে। এর মধ্যে ভয়ে বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের খুজে খুজে বের করে হত্যা করতে থাকা। ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টায় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহীদের সাধারণ মা ঘোষণা করেছেন। সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিটে যমুনা থেকে বিদ্রোহীদের প্রতিনিধি দলকে নিয়ে পিলখানায় ফেরেন। সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্রোহীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে গেজেট আকারে প্রকাশ করার দাবি জানান এবং একইভাবে গুলি ছুড়ে ভীতি ছড়াতে থাকে। সন্ধার পরে পিলখানার ভিতরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গর্ত করে নিহত সেনাকর্মকর্তাদের লাশ মাটি চাপা দেয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পিলখানায় যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। রাত দেড়টায় বিদ্রোহীরা কিছু অস্ত্র সমর্পন করে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় চলতে থাকার পরেরদিন বেলা ১১:৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ৩ বাহিনীর প্রধানের সাথে বৈঠক করেন। দুপুর ২:৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। বিকেল সোয়া চারটায় এক ডজনের বেশি টাঙ্ক ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান নেয়। এই সময় পিলখানার আশেপাশে দুই কিলোমিটার এলাকা থেকে সব লোকজন সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। বিকেল ৫টায় বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং পিলখানা থেকে পালিয়ে যেতে থাকে। এসময় শত শত বিডিআর জওয়ান পিলখানা থেকে পালিয়ে যেতে থাকে। সন্ধ্যা ৭টায় সমর্পণ করা অস্ত্র বুঝে নিতে পিলখানায় পুলিশ প্রবেশ করে। পরদিন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নিহত ও নিখোঁজদের লাশের সন্ধান শুরু করে। পিলখানা হাসপাতালের মরচুয়ারির পূর্বে গণকবর থেকে একসঙ্গে বের করে আনা হয় ৩৮ সেনা কর্মকর্তার লাশ। সারি সারি লাশ দেখে শোকে স্তব্ধ হয়ে পরে দেশের মানুষ। স্বজন হারাদের আহাজারিতে তৈরি হয় হৃদয় বিদারক দৃশ্য। রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয় ৩ দিনের শোক।

মেজর জায়েদির বর্ণনায় বিদ্রোহ
বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মেজর জায়েদি স্যা দিতে যান বিশেষ আদালতে। ওই সময় তিনি বলেন, আমি ৪০ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে কর্মরত ছিলাম। দরবার উপলে পিলখানায় আসি, ২৫ ফেব্রুয়ারি দরবার হলে উপস্থিত ছিলাম। সকাল সারে ৯টার দিকে দরবার হলে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হলে ২০-৩০ জন অফিসার হলের মঞ্চের পর্দার পেছনে চলে যাই। বিদ্রোহীরা প্রবেশ করলে আমি ও সেন্ট্রাল সুবেদার মেজর নজরুল ইসলাম মঞ্চে দাড়িয়ে তাদের শান্ত হতে বলি। এইসময় বিদ্রোহীরা গুলি করতে শুরু করে। দেয়ালে করা গুলির ¯িপ্রন্টার আমার গায়ে লাগে। এসময় বাচার জন্যে আমি ক্রলিং করে সরে বেচে থাকি। এক পর্যায়ে দুই সৈনিক এসে আমাকে ও নজরুল ইসলামকে বাইরে নিয়ে যায়। এর আগেই এক সৈনিক আমার সরকারি মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়। অন্য এক সৈনিক বলেন বাঁচতে চাইলে আমাদের সঙ্গে আসেন। এ সময় ২৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী রমজান তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এক সৈনিক মশারী টানানোর রডের স্টান্ড নিয়ে আসে। আমাকে সহযোগিতা করার কারণে সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামকে পেটে আঘাত করে। লোহার স্ট্যান্ডটি তার পেটে ঢুকে ফিনকি দিয়ে রক্ত পরতে থাকে। এই সময় সৈনিকরা আমাকে একদিকে আর নুরুল ইসলামকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। কিছুদুরে কোয়াটারে সুবেদার মেজর গোফরানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দোতালায় নিয়ে গিয়ে একটি কে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বেশ কিছুণ পর গোফরান সশস্ত্র অবস্থায় বাসায় আসেন। তাকে দেখে আমি বলি স্যার আমি মেজর জায়েদি। আপনার পরিবারের লোকজন খুব ভালো। আমাকে বেশ সম্মান করছে। আমি বাচার জন্যে পরিবারের প্রশংসা করতে থাকি। বিভিন্ন ধরনের কথা বলার চেষ্টা করি। এসময় গোফরান আমাকে দেখে শুনে রাখার নির্দেশ দিয়ে চলে যান। আমাকে যে দেখাশুনা করছিল, প্রথমে ভেবেছিলাম সে গোফরানের ছেলে। পরে বুঝলাম, না, সে আসলে বিডিআর সৈনিক বরুন খান। সারাদিন কেটে যায় সেখানে। সন্ধায় কয়েকজন সৈনিক এসে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আমার সঙ্গে। রাতে সেখানেই বন্দি করে রাখা হয় আমাকে। পরেরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২ টার দিকে একটি পিকাপ আসে। গোফরান এসে আমাকে ড্রেস পরতে বলে। পরে ওই কে থাকা একটি শার্ট ও ট্রাওজার পরে পিকাপে উঠে দেখি কয়কজন সৈনিক আছে। তারা আমাকে কেন্দ্রীয় কোয়াটার গার্ডে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি, আরও অনেকে বন্দি হয়ে আছেন। পরে বিকেলে সংসদ সদস্য রেজা আমাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসেন।

মেজর কামরুলের বর্ণনায় ভয়াল সেই দিন
বিদ্রোহের মামলায় আদালতে স্যা দিতে গিয়ে মেজর কামরুল বলেন, আমি ২৫ ফেব্রুয়ারি দরবার হলে উপস্থিত ছিলাম। বিশৃঙ্খলার পর তৎকালীন ডিজির নির্দেশে নিজ ইউনিটে যাচ্ছিলাম, পথে বিদ্রোহীরা বাধা দিলে শঙ্খ ভবনের বাসায় চলে যাই। জীবন বাঁচানোর জন্যে টয়লেটের উপরের ফোকরে অনেক কষ্টে লুকিয়ে থাকি। পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় ২৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী মাঝারুল ইসলামসহ আরও চার-পাচ জন বাসার বেডরুমে ঢুকে আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। এক পর্যায়ে সেনা অফিসার কর্নেল সাইদুল কবিরকে বাসায় নিয়ে আসে। ওইসময় আমার স্ত্রীর আর্তনাদ শুনে ফোকর থেকে নিচে নেমে এলে বিদ্রোহীরা আমাকে দেখে ফেলে। তখন মাঝারুলসহ আরও দুইজন মারমুখি অবস্থায় বেয়নেট উচিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। আমি তখন বলি, ভাই, আমিতো তোমাদের কোনো তি করিনি। আমাকে স্ত্রী-বাচ্চাদের সামনে গুলি করোনা। আমি তোমাদের জিম্মায় থাকব। আমার পরিবারকে গেটের বাহিরে দিয়ে এসো, যাতে তারা চিকিৎসা সেবা পায়। কিন্তু এ অনুনয়ে কোনো ফল হয়নি, বরং বাসার বাইরে যেতেই যুদ্ধের ময়দানে আটক করা শত্র“র মতো তারা আমার ঘাড়ে ও পিঠে অস্ত্রের বাট দিয়ে সজোরে আঘাত করতে করতে তৃতীয় তলা পর্যন্ত নামিয়ে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে আমি বিদ্রোহীদের বলি যদি মেরেই ফেলতে চাও তাহলে আমার মাথায় গুলি কর যাতে আমি বুঝতে না পারি যে আমার সৈনিকরা আমাকে গুলি করেছে। আমাকে মারার দৃশ্য দেখে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান চিৎকার করে আমার কাছে আসতে চাইলে বিদ্রোহীরা তাদের জোর করে নিচে নামিয়ে নেয়। ওই সময় সিপাহী মাযহার বলেন, এখন মারার আদেশ নাই। নতুন ডিজি তৌহিদ (ডিএডি তৌহিদ) স্যারের আদেশ, তাদের গেট পর্যন্ত নামিয়ে দিয়ে আসতে হবে। নিচে নেমে দেখতে পাই, একটি ডাবল কেবিন পিকাপ গাড়িতে কর্নেল সাইয়েদুল কবিরের মাকে আটকে রাখা হয়েছে। গাড়ির চালক না থাকায় আমাদের অস্ত্রের মুখে হাঁটতে বলা হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর সিপাহী মশিউর একটি গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে অনুরোধ করলে সে আমাদের ডিজি অফিসের সামনে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে হেটে ৪ নাম্বার গেটদিয়ে পিলখানা থেকে বের হয়ে আসি।

ডিজির বক্তব্য
বিদ্রোহ-পরবর্তী অবস্থা প্রসঙ্গে বিজিবি মহা পরিচালক মে. জে. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিদ্রোহের পর বিডিআর আইন সংশোধন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিজিবিতে ফের নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বিজিবি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

আমার দেশ (শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২) রিপোর্ট করেছেন সাংবাদিক আলাউদ্দিন আরিফ