ভারত ও চীনের ‘গ্রেট গেম’-এর খপ্পরে বাংলাদেশ: বার্টিন লিন্টনার

Bertil Lintner

পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিগত বিষয়ে চার দশকের অভিজ্ঞ, বিশেষতঃ সংঘবদ্ধ অপরাধ, জাতিগত ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, সাংবাদিক ও লেখক বার্টিন লিন্টনার রচিত বই: ‘গ্রেট গেম ইস্ট: ইন্ডিয়া, চায়না অ্যান্ড দ্য স্ট্রাগল ফর এশিয়াজ মোস্ট ভোলাটাইল ফ্রন্টিয়ার’ প্রকাশ করেছে ২০১২ সালে নয়াদিল্লির হার্পার কলিন্স প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

ওই বইয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বে সাড়া জাগানো ২০০৪ সালে বাংলাদেশে আটক দশ ট্রাক অস্ত্রের ইতিবৃত্তটি আছে, যে মামলাটির রায় গত ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের একটি আদালত দিয়েছে। এতে ভারতের আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট বা সংক্ষেপে উলফার সামরিক প্রধান পরেশ বরুয়াসহ মোট ১৪ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় এবং তা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সবিশেষ গুরুত্ব পায়।

অথচ এই মামলার রায় প্রদানের দু’বছর আগেই বার্টিন লিন্টনার তার বইটিতে সেই সাড়া জাগানো দশ ট্রাক অস্ত্রের ইতিবৃত্তটি সরেজমিন অভিজ্ঞতায় তুলে ধরেন। নিজে ১৯৯৬ সালে ঢাকায় উলফার আস্তানায় পরেশ বরুয়াসহ ডিজিএফআইয়ের দুই কর্মকর্তাকে স্বচক্ষে দেখাসহ ২০০২ সালে আবারও চট্টগ্রামে উলফার পররাষ্ট্র সচিব শশধর চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করলেও ডিজিএফআইয়ের কারণে মিলিত হতে ব্যর্থ হন। তবু তার দাবি যে, ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে ঢাকায় সেই নিরাপদ আশ্রয়স্থলটি ঘুরে আসার পর ডিজিএফআই চায়নি কোনো বিদেশি সাংবাদিকের কাছে বাংলাদেশে উলফার গোপন আস্তানার বিষয়টি ফাঁস হোক। একইভাবে তার দাবি- এ সত্যটি প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্ষম হয়েছেন যে চট্টগ্রামে উলফার শক্ত ঘাটি রয়েছে, যে বন্দর নগরীতে বিদেশ থেকে অস্ত্রের চালান পৌঁছবে। এই কথাগুলো সেই বইয়ে বিবৃত। তারই প্রেক্ষাপটে দেখিয়েছেন- ভিক্টোরিয়ান ব্রিটেনে ও জারের রাশিয়ায় ‘গ্রেট গেম’-এর কারণে যেভাবে ঔপনিবেশিক রাজনীতির শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত, তেমনি সম্ভাবনায় একবিংশ শতাব্দীতে এশিয়ার জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদকে ঘিরে পাশ্চাত্য বিশ্বের সঙ্গে ভারত ও চীনের ‘গ্রেট গেম’টি নতুন ধারায় বিকশিত। সেটাই এখন বিশ্ব-রাজনীতির মুখ্য প্রতিপাদ্য। তাতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বেশ কিছু দেশ যথাক্রমে চীন ও ভারতের সংক্ষুব্ধ তিব্বত, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো ছাড়াও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের (বার্মা) প্রতি তীক্ষè দৃষ্টি রেখেছে।

গত সপ্তাহে আলোচ্য বইটি প্রসঙ্গে লেখক বার্টিন লিন্টনারের সঙ্গে এই প্রতিবেদক তার বর্তমান বাসস্থান থাইল্যান্ডের চেয়াং মাইয়ে যোগাযোগ করলে একটি সাক্ষাতকার দেন। সেগুলো এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো।

প্র: ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটেন ও রাশিয়ার ‘গ্রেট গেম’টি বর্তমানে নতুন ধারায় তিব্বতের অবরোধ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অশান্ত পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনে উদ্ভূত হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বার্মার অস্ত্রের জঙ্গীপণা, সেটাই কী আপনার বইয়ের মুখ্য প্রতিপাদ্য?

উ: হ্যাঁ, ঊনবিংশ শতাব্দীতে একটি ‘গ্রেট গেম’ ছিল। এখন সে ধরনের ‘গ্রেট গেম’ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, তিব্বত, বাংলাদেশ ও বার্মার ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের পারস্পরিক বিদ্বেষে অবমুক্ত হয়েছে। ‘পুরনো গ্রেট গেম’টি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রধানত ব্রিটেন শাসিত ভারত এবং রাশিয়ায়। এশিয়ায় এখন সেটা এশিয়ার দুই ক্ষমতাধরের মাঝে বিদ্যমান।

প্র: চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যে অস্ত্রের সংঘাত এশিয়ার দুই ক্ষমতাধর ধারন করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা দৃষ্টি রেখেছে, বিশেষ করে চীন যেখানে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও বার্মায় সমুদ্র বন্দর আধুনিকায়নে নিয়োজিত, আপনি সেটির বর্তমান ও ভবিষ্যত কী দেখেন?

উ: এ অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পরিবর্তে ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত পন্থার শাসন ব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যা এখন ওবামার ‘এশিয়া নীতি’ তা এশিয়া ও প্যাসিফিকে চীনের প্রভাব সম্প্রসারনে সহায়ক হয়েছে, সর্বদা আমি সে ধারণাতেই বদ্ধমূল থেকেছি।

প্র: বিচ্ছিন্নতাবাদের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে এই অঞ্চলের রাজনীতির গূঢ়তত্ত্ব ও গোয়েন্দা তৎপরতা আপনার বইয়ে বিশ্লেষিত, আপনি কী মনে করেন উলফার অভয়ারণ্য ও অস্ত্র পাচারের ক্ষেত্রে সরকারের শীর্ষ প্রশাসন অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ডিজিএফআই জড়িত?

উ: বর্তমান না ভবিষ্যত? এটা বাংলাদেশে কোন সরকার ক্ষমতায় তার উপর নির্ভরশীল বলে প্রতীয়মান। যখন বিএনপি ক্ষমতায়, উলফা ও অন্যরা তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে নির্বিঘেœ থাকতে ও অপতৎপরতা চালাতে পারে। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উলফা ও অন্যদের জন্য তা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়। ২০০৯ পরবর্তী উলফা নেতাদের গ্রেপ্তার ও বহিস্কার এবং এখন বাংলাদেশে পরেশ বরুয়ার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদন্ডের বিষয়টি সে কথার সদুত্তর দেয়। বলাবাহুল্য, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে উলফা ও ডিজিএফআইয়ের সংযোগ ঘনিষ্ট হয়।

প্র: ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বরের লন্ডনের সানডে টাইমসের উদ্ধৃতি টেনে আপনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে (ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা) র-এর সর্বোত্তম সফলতা রয়েছে’। পাশাপাশি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বন্ধু থেকে শত্র“তে পরিণত হলে ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্বশাসনের জন্য মরিয়া গেরিলাদের স্বতঃপ্রণোদিত সহযোগি হিসেবে পায়’, তা হলে ১৯৭৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত শান্তি চুক্তি ভন্ডুল হওয়ার প্রতি সংশয় প্রকাশ করেছেন কেন?

উ: ‘ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়’-এর মতো ঢাকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উলফা ও অন্যদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিলে ভারতও শান্তি বাহিনীর জন্য অভয়ারণ্য হয়। কিন্তু আমি মনে করি তেমন বৈরিতা আবারও দানা বাঁধাটা দুস্কর। পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্পাদিত ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তিটি কার্যকর থাকবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

প্র: আপনার সরাসরি পর্যবেক্ষণে ভূটান, বার্মা অথবা চীনের পরিবর্তে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট বা উলফার শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসাহিত কেন?

উ: আসাম থেকে ভারতীয় সেনারা উলফাদের তাড়িয়ে দিলে তারা ভূটান ও বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধান করে। সেটাই হচ্ছে সাধারণ গেরিলা চর্চা। ১৯৮৫ থেকেই বার্মায় উলফারা ছিল, প্রথম অখন্ড এনএসসিএন-এর ইসাক চিষি সু, থুয়িংগেলেং মুইভা ও এস এস খাপলেংয়ের নেতৃত্বে এবং পরে ১৯৮৮ সালে এনএসসিএন বিভক্তির পর এস এস খাপলেংয়ের নেতৃত্বে। সেটা এখনও বিদ্যমান। ভারতীয় সেনাদের নাগালের বাইরে থাকায় উলফারা সেখানে নিরাপদ, বার্মা সীমান্তে বার্মিজ সেনারা তা নিয়ে বিব্রত নয়। বার্মিজ সেনাদের অন্যত্র অগ্রাধিকার রয়েছে, যেমন বার্মায় অপরাপর জাতিগত প্রতিরোধ বাহিনী ছাড়াও কাচিন মুক্তিযোদ্ধাদের দমন।

প্র: আপনার বই অনুসারে, ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল অতি প্রত্যুষে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী পোর্টে ১০টি ট্রাকে অস্ত্র তোলার তদারকিরই পরেশ বরুয়ার প্রথম ঘটনা নয়, বরং ২০১১ সালের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে তৈরি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র চীন থেকে বার্মার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পাচারের তদারকিটিও করেছেন। আপনি কী জানেন সেই অস্ত্রের গন্তব্য কোথায় ছিল?

উ: স্বাভাবিকভাবেই আমার বিশ্বাস, ২০০৪ সালের অস্ত্রগুলোর গন্তব্য ছিল উলফা, পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অপরাপর জাতিগত বিদ্রোহী সেনাদের জন্য, যেমন এনএসসিএন (আইএম) এবং কিছু বডো ও মনিপুরি গোষ্ঠীর জন্য। আর ২০১১ সালের চালানটি উলফা ও তাদের মনিপুরি সঙ্গী (পিএলএ)-এর জন্য ছিল।

প্র: আপনার বইয়ে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলে নেশা জাতীয় ড্রাগ থেকে অস্ত্র চোরাচালান, জঙ্গীপণা থেকে আইন প্রয়োগের অনুপস্থিতি, পাশাপাশি বার্মাকে চীন ও ভারত জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের উন্মুক্ত পথ হিসেবে দেখছে, সেখানে ভবিষ্যত এশিয়ান হাইওয়ের নিরিখে বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব, শান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে কী ধরনের গুরুত্ববহ ভূমিকা নিতে পারে?

উ: সেটা সুদূর পরাহত, এশিয়ান হাইওয়ের মাধ্যমে আমি তেমন কোনো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত দেখি না।

প্র: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল যখন গভীর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মাধ্যমে সংক্রমিত এবং একই সময়ে আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল একাত্তরে বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে স্পর্শকাতর মন-কষাকষিতে জড়িত, তখন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নে কী পদক্ষেপ থাকা চাই?

উ: বাংলাদেশের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়, তা আমার বলার বিষয় নয়। সেটা নিরূপণ করবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাংলাদেশ যদি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, যেটা আমিও প্রত্যাশা করি, তা হলে স্বাভাবিকভাবেই উভয় দেশকেই নিরাপত্তার প্রশ্নে একত্রে কাজ করতে হবে।

প্র: আপনি কী মনে করেন, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য স্থাপনের মূখ্য দিকটি হচ্ছে ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে বেইজিংয়ের নীতির প্রতি অনুরক্ত করা?

উ: এখানে অবশ্যই বৈরিতা রয়েছে। চীন স্বাভাবিকভাবেই ওয়াশিংটনের পরিবর্তে বেইজিংয়ের প্রতি একীভূত হতে তুলনামূলক ক্ষুদ্র দেশগুলোকে কাছে টানছে । একইভাবে ওয়াশিংটনও চীনের বিরুদ্ধে সেই সব দেশকে একীভূত করতে চাইছে।

প্র: আপনি আগে বলেছেন, “ওবামার ‘এশিয়া নীতি’ তা এশিয়া ও প্যাসিফিকে চীনের প্রভাব সম্প্রসারনে সহায়ক হয়েছে”, এখন বলছেন, “একইভাবে ওয়াশিংটনও চীনের বিরুদ্ধে সেই সব দেশকে একীভূত করতে চাইছে” – সেটা কীভাবে সম্ভব?

উ: বিষয়টি অর্থপূর্ণ নয় কী? কার্যতঃ এশিয়া নীতিটি চীনকে ঘিরে, সে কারণে ওই দেশগুলো যেন চীনের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রমুখী হোক, তা যুক্তরাষ্ট্র চায়।

প্র: উলফা নেতা পরেশ বরুয়া তার জীবনের অধিকাংশ সময় চীনের ইউনান প্রদেশে কাটিয়েছেন, যেখানে সব ‘কালো’ অস্ত্রের বাজার রয়েছে, আপনি কী মনে করেন বর্তমানে তিনি সেখানে বসবাস করছেন?

উ: আমি মনে করি পরেশ বরুয়া তার জীবনের অধিকাংশ সময়ই চীনে কাটিয়েছেন। বাস্তবে, তার সহযোগীরা আমাকে বলেছেন যে, চীনই একমাত্র দেশ যেখানে তিনি নিরাপদ। আমি মনে করি, সেখানেই তিনি আছেন। আমি মনে করি না তিনি বাংলাদেশে ফেরার দুঃসাহস দেখাবেন, এমনকি নতুন কোনো সরকার এলেও আর নয়।

প্র: আপনি বার্মার সুনামধন্য ইরাওয়ার্দি ম্যাগজিনের ২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারি সংখ্যায় মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ও বিশিষ্ট মুসলিম লেখক যিনি অং সান সুকিকে ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট রেঙ্গুন জেনারেল হসপিটালের সন্মুখে প্রথম জনসভায় ভাষন প্রদানে উৎসাহিত করেছেন, সেই মং থো কা (নূর মারমেদ) প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনমুলক ফিচার লিখেছেন, তা হলে কেন বার্মার নিষ্পেষিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সেই নেত্রীকে কিছু বলছেন না?

উ: সর্বশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরে বার্মার নতুন রাজধানী নেপিটোতে অং সান সুকির সঙ্গে আমার দেখা হয়। সে সময় অন্য আলোচনার মধ্যে জাতিগত ইস্যুটি প্রাধান্য পায়। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বার্মার জাতিগত সমস্যা নিয়ে এমনকি কাচিন রাজ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনায় তিনি আগ্রহী হননি।

প্র: মনিপুর, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড এবং উত্তর বার্মার স্বাধীনতাকামী মানুষের আন্দোলনকে আপনি কী দৃষ্টিতে মূল্যায়ণ করেন?

উ: বার্মার তুলনায় ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলো তুলনামূলকভাবে ব্যাপক স্বায়ত্বশাসন ভোগ করছে। সে বিবেচনায় বার্মার সংবিধানে সুসংহত সংশোধন ছাড়া দেশটির জাতিগত সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, সরকার তথাকথিত ‘মিয়ানমার পিস সেন্টার’-এর মাধ্যমে একমাত্র ‘দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি চুক্তি’র আহবান জানিয়েছে, যা কোনোক্রমেই সমস্যাটির সমাধান দেবে না। সমস্যাটি রাজনৈতিক, সে জন্য রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যা শুধুমাত্র বিশাল কাগজের দলিলে কিছু স্বাক্ষরের বিনিময়ে সম্ভব নয়।