বিচ্ছিন্নতাবাদির কবিতা

বিচ্ছিন্নতাবাদির কবিতা ১

বিচ্ছিন্নতাবাদিদের মুখ পরে আছি
লৌহতারকাদের বনে গুলি ফুটছে,
খা- খা সীমান্ত ছেনে রক্তপিপাসুর ক্যামেরা।
দুরে লাল দেখা যায়- ট্রিগার চেপে গোলাম হয়ে আছে
বন্ধুর রাইফেল!
আমি ফাঁদে আটকানো শিকার
হা করে আছে শত্রু কবলিত রণক্ষেত্র!
জমে বেয়নেট-মুখ, দলত্যাগীদের প্যারাসুট
পাড়া আর পড়শির হারেমে- দিল চমন অ্যান্টেনা।
ঠিকানা বদলাই- তিতির ও তন্দুরে রাখি পথ
তুমি নাম খোঁজো তুমি জামা খুলে
সিনামাতে দাও। বালির খাঁজ ধরে ওঠে আসে
সেই আসামির বাবেল।
দিকে দিকে হইসেল বাজে
নূপুর আর বাহুবন্ধের ঝিলিক শুনে
দৌড়ে যায় মাছ আর মক্ষিকা।
নদী সাঁতরিয়ে যাই
পুরনো নদী আর বিলের দেশে
কচ্ছপ হয়ে বাঁচি।
একদিন হাজির হবো একদিন পাথর কেটে গড়ব
স্বপ্নজীবীদের হ্রদ।

বিচ্ছিন্নতাবাদির কবিতা ২

সবাই একটা কবিতাই লিখছে-
ভাবতে ভাবতে কলম রাখলাম কবরে
আর ঝিম খাতায় বিছিয়ে ধরলাম
রাতের টেলিম্যাকাস।
হঠাৎ নেমে পড়লাম দেয়াল টপকিয়ে
শত্রুদের বাগানে।
ঝা ঝা গোলাপ জ্বলছে কাঠঘোড়ার পিঞ্জরে-
তাক করে দাঁড়িয়ে আছে- মৃত্যুখণ্ডের ব্লু-প্রিণ্ট।
কার ছায়ার দিকে তাকিয়ে থাকবো আমি?
কার বুকের দ্রাঘিমা ঘেঁষে বসিয়ে দেবো
আমার শেষ ভাবনার গ্রেনেড।
চিৎ প্রাণ- চিৎ নক্ষত্রসেনাদের গুমখুন
চাঁদ উঠছে- গ্রাম ধরে নেমে পড়ছে অলৌকিক
এক শেয়াল। তার থাবা-তন্তুতে নেমে আসছে
সন্ধ্যামালতির মোরগ। চি হি চি হি- শেষ রমণের হ্রেষাও
শুনতে পাচ্ছি পাশ বাড়িটার পাশে।
ছড়ানো দুর্বাঘাসে ঘন রিপুর বেহালা
পাই পাই করে ঘর ভরিয়ে তুলছে-
হলুদ রঙের শীতনিবাস।
এমন মুহূর্তে গাছ আর পাখি শিকার শুধু না করি,
বাঘবাজির সীমান্তে- ধরে রাখি
আমার গেরিলা অ্যাম্বুশ!