ভালবাসার সেকাল-একাল

অনেকেই আমাদের বাবা-মা এবং নানী-নানা, দাদী-দাদা’দের সম্পর্কের মধ্যকার ভালবাসার কথা বলেন; কীভাবে বুড়া হয়ে যাওয়ার পরও নানী নানার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে আনেন, অথবা বাবা বাইরে যাওয়ার সময় মা এখনো চশমা-মানিব্যাগ ইত্যাদি খুঁজে এনে এগিয়ে দেন। বাবা-মা বা তাদের আগের জেনারেশনের জামাই-বউ’র মধ্যকার সম্পর্ককে এভাবে রোমান্টিসাইজ করাটা শুনতে ভালই লাগে, মনের ভিতর কেমন ‘সত্যিকার’ ভালবাসা-ভালবাসা অনুভূতি জেগে উঠে, নিজেদের সময়ের ‘ভালবাসা’কে অনেক কৃত্রিম মনে হয়।

কিন্তু আমি বিষয়টাকে ভাবি অন্যরকম করে।

দাদী-দাদা, নানী-নানা তো অনেক দূরের জেনারেশন, আমাদের বাবা-মা’দের জেনারেশনের সাথে কথা বললেই দেখবেন, উনারা এই “ভালবাসা” “প্রেম” এসব শব্দের/কনসেপ্টের সাথে কখনোই সোশালাইজড হননি। যে ছেলে কোথাও চুরি করে ববিতার বাঁকা চোখের ধাক্কা খেয়ে পরিচিত কোন মেয়েকে মনে মনে ববিতা বানিয়ে একটু আধটু চিঠি দিতো, বা দূর থেকে রাজ্জাক স্টাইলে উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকতো আর বিড় বিড় করে বেসুরে গান গাইতে চেষ্টা করতো, অথবা যে মেয়ে শাবানা স্টাইলে পুকুর পারে বসে বসে পানিতে ঢিল ছুঁড়তো মন খারাপ করে, একটু ধরা খেলেই হতো, কানের নীচে মুরুব্বীদের সটান চটকানা খেয়ে একদম সিঁধে হয়ে যেতো জন্মের মত!

‘প্রেম’/ ‘ভালবাসা’ এসবের বদলে উনারা সোশালাইজড হয়েছিলেন বিয়েকে এবং বিয়ের পরে নিজের জামাই অথবা বউ’র দায়িত্ব-কর্তব্যকে জীবনের আর দশটা বাস্তবতার মত জেনে। অনেকের তো বিয়েই হয়েছে- স্কুল/কলেজ থেকে বাসায় ফিরেছেন, বাসায় বেশ হৈ চৈ, মেহমান আসছে, কী ঘটনা? এই মেয়ে এদিকে আয়, তোকে দেখতে আসছে! মেয়ে তখন কান্না-কাটি, না, আমি এখন বিয়ে করবোনা! না! না! -মেয়ের এই ‘না!’ ‘না!’ কান্নাকাটিও স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে হঠাৎ বৃষ্টির মত হঠাৎ বিয়ে! আর ছেলেরাও যে জেনে শুনে বিয়ে করতো এমনটা না। হঠাৎ টেলিগ্রাম আসতো, ‘ফাদার সিক, কাম সুন’। ছেলে নিজেও জানতো, এই ‘সিক’ মানে ফাদার তাকে বিয়ে দিতে চান। সে লাজুক লাজুক মুখে পরের ট্রেন/নৌকা ধরেই বাড়ি ফিরে আসতো। ফিরে এসে দেখতো পুরো বাড়ি ছোট ছোট করে কাটা লাল-নীল-সবুজ-হলুদ-বেগুনী কাগজ দিয়ে সাজানো। ঘটনা কী? ঘটনা-বিয়ে হবে, বাড়িতে ছেলের বউ আসবে! ‘সিক’ ফাদার কীসের সিক? রীতিমত হর্স-পাওয়ারে বিয়ের সরঞ্জাম আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন! ছেলে-মেয়ে কেউ কাউকে দেখেনই নি, মুরুব্বীরা এই বিয়ে ভাল মনে করেছেন, ব্যাস, আর কি চাই!

এবং জ্বী না, এই যে ত্রিশ বছর/চল্লিশ বছর/পঞ্জাশ বছর উনারা একসাথে ঘর-সংসার করে যাচ্ছেন, বা উনাদেরও আগে আমাদের দাদী-দাদা-নানী-নানা’রা ষাট/সত্তুর/আশি বছর, কবরে যাওয়া পর্যন্ত একসাথে ঘর-সংসার করে গিয়েছেন, কোনো ভালবাসার জোড়ে না, বরং এটাই তাদের জীবনের আর দশ/বিশটা স্বাভাবিক বিষয়ের মত জীবনের অংশ ছিলো। মেয়ে’র জামাই’র সাথে বনিবনা হচ্ছেনা? মুরুব্বীরা ঘাড় ধরে সটান আবার ফেরত পাঠিয়ে দিতেন, বলতেন, কোন বউটার জামাই’র সাথে বনিবনা হচ্ছে শুনি? তারা ঘর করেনা? মা আবার মেয়ের সাথে করে ফেরত পাঠানোর সময় পিঠাও বানিয়ে দিতেন, নতুন চাল দিয়ে দিতেন। তাছাড়া পুরো লাইফ-স্টাইলটাই ছিলো তখন ভিন্নরকম। জামাই-বউ একজন আরেকজনের সাথে দেখা হওয়ারইবা সময় কোথায় যে তারা ঝগড়া করবে? রাগারাগি করবে? ভালবাসা আছে কি নাই তা নিয়ে চিন্তা করবে?? দাদী-দাদা, নানী-নানা’দের সময়ে সবই তো ছিলো যৌথ পরিবার, এমনকি যৌথ না হলেও যৌথ, কারন দেখা যেতো কয়েকটা বাড়ি মিলে থাকতো একটা কম্যুনাল বড় উঠান, এতকিছুর মাঝখানে নতুন জামাই-বউ-ই দেখা পেতোনা একজন আরেকজনের, আর পুরানদের তো পুরাই বেইল নাই।

আমাদের বাবা-মাদের জেনারেশনেই তো বাবা-মা’রা নিরিবিলিতে একটু একলা সময় পেতেন হয়তো মধ্যরাতে, যদিও তখন তারা গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছেন, নিজেদেরই সংসার। কিন্তু তখনও সংসার মানে ছিলো আত্মীয়রা ক্যাজুয়ালি, পার্ট-টাইম বা অনেকে তো পারমানেন্টলি বাসায় থাকা। আত্মীয়-স্বজন, বাচ্চা-কাচ্চা, সারাদিনের সংসার সংসার যুদ্ধ শেষে ভালবাসা নিয়ে গুঁতাগুঁতি করার মত সময়/পরিবেশ/এনার্জি কিছুই থাকতো না বাবা-মা’দের। মা’রা অনেক সময়ই রাগ করতেন/অভিমান করতেন/নাকের পানি চোখের পানি এক করে শাড়ীর আঁচল ভিজিয়ে ফেলতেন, কিন্তু তাই নিয়ে বসে থাকার সময় কই? মা-বাবা দুইজনেই এক/দুই দিন গম্ভীর, কথা কম বলেন, কারণে অকারনে সামনে যাকে পান তাকে ধমক মারেন। ব্যাস, আবার ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। যেই লাউ সেই কদু।

আর বছরের পর বছর একসাথে থাকতে থাকতে, একজনের প্রতি আরেকজনের স্পন্টেনিয়াস কেয়ারিং-টা আসে প্রথম দিকে দায়িত্ববোধ থেকে, যেটা তারা ছোটবেলা থেকে দেখে এবং শিখে এসেছেন, সেইসাথে অবশ্যই বিয়ের প্রথম দিককার তরল মনের সরল প্রকাশ থেকে, তারপর আস্তে আস্তে এটাই হয়ে যায় অভ্যস্থতা, জীবন এবং জীবনের নিয়ম। দু’জনে মিললোনা তাই ধুর যাইগা- এই কনসেপ্ট উনারা দেখেনও নি, শুনেনও নি, জানেনও না। জামাই-বউ মানে হলো উনাদের কাছে না মিললেও মিলে ঝিলে থাকা। এজন্যেই দেখবেন একজন হয়তো আরেকজনকে সহ্যই করতে পারেন না, এবং সত্যি সত্যিই সহ্য করতে পারেন না (কাঁহাতক আসলে সহ্য করা যায়!), তারপরও একজনের সামান্য অসুখেও আরেকজন খুব মুষড়ে পড়া, বা সময়ে-অসময়ে চা বানিয়ে দেয়া (সাথে দুইটা ঝাড়িও দেয়া “বুড়ার জন্য খাটতে খাটতে আমার জীবন গেলো”!), বা বাইরে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিষ আগিয়ে দেয়া- এসবই তাদের জীবনের স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে উঠে।

কিন্তু সবকিছু হঠাৎ করেই বদলে গেছে আমাদের সময়ে এসে। আমরা ভালবাসা/প্রেম এসব কনসেপ্টের সাথে টিভি-মিডিয়া-ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে এতটাই ওভার-সোশালাইজড যে বিয়ে/সংসার/সম্পর্ক এসব আমাদের বেসিক ইমাজিনেশানে চরম রোমান্টিসাইজড কিছু কনসেপ্টস। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে এক্সপেক্টেশান্স থাকে তাই আকাশ-ছোঁয়া। আর লাইফ স্টাইল যেহেতু ধারনারও বাইরে দ্রুত চেইঞ্জ হচ্ছে, ছোট থেকে ছোট হতে হতে একদম দুইজনে এসে দাঁড়াচ্ছে, সেই সাথে আমাদের আভ্যন্তরীন জীবনে মুরুব্বীরা-সমাজও ক্ষমতা হারাচ্ছে, যেক্ষমতা আবার দখল করে নিচ্ছে মিডিয়া আর গ্লোবালাইজেশান, এইসব মিলিয়ে আমাদের জেনারেশন আর আমাদের বাবা-মা’দের জেনারেশনের মাঝখানের গ্যাপ হয়ে গেছে হাজার বছরের গ্যাপের সমান। মানুষ মাত্রেই তার জামাই বা বউ’র প্রতি যে স্বাভাবিক ভালবাসা, তা ঠিকই আছে, কিন্তু সংজ্ঞাটা বদলে গেছে চরম ভাবে। আমাদের সময়ে এসে ভালবাসার সংজ্ঞা হয়ে গেছে ভীষণ রকম সেনসিটিভ আর ইমোশনাল, হাম্বড়া এবং ইন্ডিভিজুয়ালিষ্টিক। এসবের ধাক্কায় আমরা তাই ভালবাসা নিয়ে, জামাই-বউ সম্পর্ক নিয়ে বারংবার খালি হোঁচট খাই আর খেঁই হারাই। আর আগের জেনারেশনের উদাহরন দিয়ে আফসোস করি।

আমার কাছে মনে হয়, আগের আর এখনের ভালবাসা’র মধ্যে পার্থক্য দু’টা- expectations আর expressions. এই দুই “e”-তেই যত সমস্যা।
এক্সপেক্টেশান্সের কথাই ধরি। আগের পর্বেই বলেছি, বাবা-মা’দের জেনারেশনের সাথে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, উনাদের কাছে ভালবাসার অর্থ অনেক অনেক রিয়েলিষ্টিক। ছোট্ট একটা কথোপকথন এখানে কোট করি।

-আন্টি, আপনি কি আংকল-কে ভালবাসেন?

-ছি! ছি! এটা কী ধরনের কথা! (প্রশ্নটা শোনার সাথে সাথে পাঁচ বাচ্চার মা ভদ্রমহিলার চেহারা পুরা লাল!)

-আমি আসলে বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করতেছি আন্টি। দেখেন না এখন নাটক-সিনেমায় খালি ভালবাসার কথা বলে।

-হ্যা তাতো ঠিক।

-আচ্ছা, আপনাকে মুখে বলতে হবেনা। কিন্তু আপনিতো নিশ্চয়ই আংকল কে ভালবাসেন। নাহলে এত বছর ধরে সংসার করছেন! বলেন তো, আপনার কাছে ভালবাসার মানে কী?

-ভালবাসার আবার কী মানে? এইতো একসাথে সংসার করা, বাচ্চা-কাচ্চা দেখাশোনা করা, এইগুলাইতো।

আপনি আমাদের বাবা-মা’র জেনারেশনের মানুষদের সাথে কথা বলে দেখুন, আমি নিশ্চিত, এই আন্টির মত প্রায় একই রকম উত্তর শুনবেন। উনাদের কাছে ভালবাসা মানে সংসার, একসাথে টিকে থাকা। এতটুকুই কিন্তু উনাদের এক্সপেক্টেশান্স একজন আরেকজনের কাছ থেকে।

আর আমাদের কাছে?

নাটক-সিনেমা-মিউজিক ভিডিউ এখন আমাদেরকে শিখিয়ে দেয় ‘ভালবাসা’ কী ও কেমন, যার কারনে আমাদের ‘ফিল্মী’ এক্সপেক্টেশান্সেরও কোনো শেষ নেই। বিভিন্ন এনিভার্সারি মনে রাখা, মনে রেখে সেই অনুযায়ী গিফট দেয়া, বাইরে ডেটিং এ নিয়ে যাওয়া, ক্যান্ডল লাইট ডিনার, হেন-তেন-কত কাহিনী। আর সেই এক্সপেক্টেশান্স অনুযায়ী একটু কম-বেশী হলেই, ‘তুমি আজকাল আমাকে আর ভালবাসোনা, ঠিক না?’

এহহেম!

ভালবাসা থেকে এক্সপেক্টেশান্স এখন যেমন আকাশ ছোঁয়া, এক্সপ্রেশানেও কমতি নেই। আমার সবচে’ হাসি পায় যখন বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড বা জামাই-বউ একজন আরেকজনকে ‘বেবস’/’বেবী’ ইত্যাদি ডাকে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যপার অবশ্যই, আপনার জামাই বা বউকে বেশী আদর লাগলে তাকে আপনার কাছে ছোটবাবু ছোটবাবু লাগতেই পারে, কিন্তু অন্যদের সামনে তাকে আ তু তু ছোট্টো বাবু উ লা লা তু তু এমন আদুরে ডাক আমার কাছে চরম অরুচিকর লাগে। গ্লোবালাইজেশানের এটা একটা খারাপ দিক, আজকে ‘বেবস’/’বেবী’ ডাকা নরমাল হয়ে গেছে, কালকে সবার সামনে চুমাচুমি, কোলে উঠে যাওয়াও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ভালবাসার এক্সপ্রেশান্সও এখন অনেক দামী। অনেকগুলো গোলাপ এনে দাও, আকাশে প্লেন দিয়ে কীভাবে যেনো ধোঁয়া দিয়ে নাম লিখে দাও, বা লিখো ‘প্লীজ ম্যারি মী, আই লাভ ইউ’, সবচে’ দামী ডায়মন্ডের আংটি দিয়ে প্রোপোজ করো, সবচে অভিজাত রেষ্টুরেন্টে নিয়ে যাও, ইত্যাদি ইত্যাদি কত রকমের যে অবস্থা!

এদিক থেকে আগের জেনারেশন অনেক আরামে ছিলো, তা বলাই বাহুল্য। একটু চোখের তাকানোতেই বুকটা ছেঁদা হয়ে যেতো একদম, কয়দিনের যে ঘুম হারাম হয়ে যেতো! আর একটু যদি হাসি দিতো, ওরে খোদা, বুকটা মনে হতো যেনো বুকের জায়গা থেকে উঠে এসে গলার কাছে আটকে যেতো, আত্মীয়-স্বজন টেনশানে পড়ে যেতো- ছেলেটার/মেয়েটার কোনো অসুখ হলো নাকি? এমন নাওয়া-খাওয়া ভুলে কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে! আর সবচে’ দামী এক্সপ্রেশান্স ছিলো খুব সম্ভবতঃ একটা এক/দুই/তিন লাইনের চিঠি, কত কসরত করে, কত রিষ্ক নিয়ে তা পৌঁছে দেয়া হতো!

এসব কিন্তু বেশীদিন আগের কথা না। আমার মনে আছে, আমাদের এক আত্মীয়ার নতুন বিয়ে হয়েছিলো, আমি তখন ক্লাস সিক্সে না সেভেনে পড়ি। বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন, নতুন জামাই-বউ একজন আরেকজনের সাথে যে একটু কথা বলবে, সে অবস্থাও নেই। আপু ইয়া লম্বা এক চিঠি লিখে আমার হাতে গুঁজে দিয়ে বলেছিলো, কেউ যেন না দেখে, তোমার ভাইয়াকে দিয়ে আসো!

মাত্র ষোল/সতের বছরেই সব কেমন বেমালুম চেইঞ্জ হয়ে গেছে। স্বীকার করতেই হবে, ভালবাসা থেকে এক্সপেক্টেশান্স আর এর এক্সপ্রেশান্স এখন অনেক কমার্শিয়াল। নাটক-সিনেমায়-মুভিতে-মিউজিক ভিডিউতে এখন দেখিয়ে দেয় কীভাবে ভালবাসতে হবে, আর ভালবাসলে কী করতে হবে। সবচে’ বড় কথা, পুরো ভালবাসা জিনিষটা একটা ফ্যাশনের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের জি-এফ/বি-এফ নিয়ে কথা বলাটা এক ধরনের ক্রেডিট যেনো, যার জি-এফ/বি-এফ নাই সে আন-কালচার্ড।

দুঃখজনক হলেও সত্য, ভালবাসা বিষয়টাতে সামাজিকভাবে আমরা খুব দ্রুত, ভয়ানকরকম দ্রুত গতিতে ওয়েষ্টার্ন/ইউরোপীয়ান দেশগুলোর কালচারকে এডপ্ট করে নিচ্ছি, যেখানে ভালবাসা একটা বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলারের কমার্শিয়াল ব্যবসা, যার পরিণতিতে ভালবাসা অনেকটাই, বলতে গেলে পুরোটাই শরীর আর সেক্স কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে।
বিষয়টা সত্যি দুঃখজনক।