সংসদ নির্বাচন ২০১৪

যা হলো তা মুখ রক্ষার নির্বাচন

অনেক বিরোধিতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেল। নির্বাচনের পরদিন এটাই বলার আছে যে অপারেশন সাকসেসফুল, বাট পেশেন্ট ইজ ডেড। নির্বাচনের নামে গণতন্ত্রের দেহে যে অস্ত্রোপচার হলো, তা আইনত ঠিক থাকলেও গণতন্ত্র নামক রোগীর জীবন আরও বিপন্নই হলো। বিএনপির বর্জনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় খালি মাঠে গোল দেওয়ার সুবাদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীরা প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ১৫৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ছিল না। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার নামে এ নির্বাচন করা হলো। এর মাধ্যমে আসলেই কি সংবিধান সমুন্নত থাকবে? এই নির্বাচন কি আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত করবে, নাকি আরও সংকটে ফেলে দেবে?

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে, অবশ্যই আমাদের সংসদ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিন সময়সীমার মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন নির্বাচনের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত করা। সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র’। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনের সূচনা হয়। তবে যেনতেনভাবে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে গণতন্ত্র কায়েম হয় না। এটি হতে হবে মানসম্মত ও সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য। আর মানসম্পন্ন নির্বাচন মানেই, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ভাষায় ‘প্রত্যক্ষ’, অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক তথা ‘জেনুইন’ বা সঠিক নির্বাচন। অর্থাৎ আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার হলো সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা।

আমরা নিজেরাও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইন অনুযায়ী সত্যিকার নির্বাচন করতে বাধ্য। উদাহরণস্বরূপ, ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসের নামের যে চুক্তি বাংলাদেশ ২০০০ সালে স্বাক্ষর করেছিল, তাতে প্রত্যেক নাগরিকের ‘ভোট প্রদানের ও নির্ধারিত সময়ের পর সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার’ অধিকার প্রদানে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ (ধারা ২৫)। একইভাবে সর্বজনীন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের ২১ ধারা অনুযায়ীও আমরা সত্যিকার নির্বাচন করতে বাধ্য। আর ভোটারদের সম্পৃক্ততা ও প্রধান দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালিত হলেই সেই নির্বাচনকে সঠিক বলা যাবে। এবং সেই নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করবে।

আমাদের সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাংসদদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আর এ নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তথা মানসম্মত। আর মানসম্মত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে ‘রিজার্ভয়্যার অব পাওয়ার’ অর্থাৎ অগাধ ক্ষমতা দিয়েছে। (সূত্র: আফজাল হোসেন বনাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ডিএলআর ৪৫)। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১১৯ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমনকি আইনি বিধানের সঙ্গে সংযোজন করার—যে ক্ষমতা সাধারণত নির্বাচিত সংসদের জন্য নির্ধারিত—‘ইনহেরেন্ট’ বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে (আলতাফ হোসেন বনাম আবুল কাশেম, ৪৫ ডিএলআর)। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠানই নয়, বরং সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।

দুর্ভাগ্যবশত, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোটার নির্বাচনের দিনের আগেই তাঁদের ভোট প্রয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ১৫৩ প্রার্থী জনগণের ভোট ছাড়াই ‘জনপ্রতিনিধি’ নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৪৭টি আসনে মাত্র ৩৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এমনকি ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও প্রার্থী সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এবারকার নির্বাচনে আমাদের ৪১টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে মাত্র ১২টি দল অংশ নিয়েছে।

সার্বিকভাবে বলতে গেলে আমাদের সাংবিধানিক মূল চেতনা তো কেবল নির্বাচন করা নয়, একটা মানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং এই নির্বাচনে যা মোটেই অর্জিত হয়েছে বলে বলা যায় না। তাই, আমাদের নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এই নির্বাচনকে সংবিধান রক্ষার নির্বাচন না বলে, মুখরক্ষার নির্বাচন বলাই শ্রেয়। আমাদের আশঙ্কা, যে সহিংসতা শুরু হয়েছে বা অব্যাহত আছে, তা ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।

এটা সুস্পষ্ট যে অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদের অবস্থান হবে অত্যন্ত দুর্বল। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। একটি হলো, বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া এবং সমঝোতার ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে একাদশ সংসদের জন্য নির্বাচন করা। অন্য বিকল্প হলো, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো; যার জন্য প্রয়োজন হবে বল প্রয়োগের।

জাল ভোট, কলঙ্কিত নির্বাচন

প্রথমে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তারপর খালেদা জিয়া। এবার শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার তৃতীয়বারের মতো একতরফা নির্বাচন দেখল বাংলাদেশ।

সব একতরফা নির্বাচনের যা চরিত্র, গতকালের নির্বাচনটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। একতরফা নির্বাচনের কলঙ্কিত সব অনুষঙ্গই ছিল গতকালের ভোটে। ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ফাঁকা কেন্দ্রে জাল ভোট দিয়েছেন সরকারি দলের কর্মীরা। ছিল কেন্দ্র দখল করে সিল মারার মতো গর্হিত ঘটনা।

নির্বাচন প্রতিরোধকারী বিএনপি-জামায়াতের দিক থেকে ছিল সহিংসতা, কেন্দ্র পোড়ানো, কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই, ভাঙচুর, নির্বাচনী কর্মকর্তা হত্যা, মারধর এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা। গতকালই সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন। ভোটের দিনে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।

এই একতরফা নির্বাচনেও হেরে গেছেন সরকারি দলের পরিচিত-প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। এর মধ্যে আছে সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ আর সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। শত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও জনগণ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন।

আর বিএনপির দাবি, একদলীয় নির্বাচন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বর্জন করেছেন, ঘৃণাভরে ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নির্বাচন হয়ে গেলেও বিরোধী জোটের কর্মসূচি বন্ধ হয়নি। গতকাল ছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা ষষ্ঠ দফায় ২৭তম দিনের অবরোধ, সঙ্গে হরতাল। অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির সঙ্গে আজ সোমবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল যোগ করেছে তারা।

সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতিতে ১১ জেলায় সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে ১৫ জনই মারা গেছেন পুলিশের গুলিতে। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে মারা গেছেন ১২৩ জন।

ভোটের দিন এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এর আগে দেখা যায়নি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একতরফা নির্বাচনের দিন সারা দেশে ১২ জন মারা যান, সংঘর্ষ-সহিংসতায় আহত হন প্রায় পাঁচ শতাধিক। আর অষ্টম সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন ২০০১ সালের ১ অক্টোবর তিন জেলায় পাঁচজন নিহত হন। সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট হয় ২০০৮ সালে। ২৯ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনের দিনটি কোনো রক্তপাত ছাড়াই শেষ হয়।

এবারের ভোটের আগের দিন শুরু হওয়া সহিংসতা গতকাল ভোট গ্রহণের পুরো সময়জুড়ে বজায় ছিল। আগের দিন আগুনে পুড়েছে ১১১টি ভোটকেন্দ্র। নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই হয়েছে, কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নির্বাচনী কর্মকর্তাকে। ভোটের দিনও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা হয়েছে ৬৯৭ কেন্দ্রে। ৩৬টি আসনের ৫৩৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও প্রায় আড়াই হাজার কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করতে হয়েছিল।

আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান ১৫৩ জন। ৫৯ জেলায় বাকি ১৪৭ আসনে যে চার কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই ভোট দিতে যাননি। দেশের ৩৯টি কেন্দ্রে একটিও ভোট পড়েনি। শুধু লালমনিরহাট-৩ আসনের ২৭টিতে কোনো ভোট পড়েনি। ১৬টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ থেকে ৬৩টি।

খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচনে সব কারচুপির পরও ভোটার উপস্থিতি দেখানো গিয়েছিল ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। নির্বাচনে কত ভোটার ভোট দিয়েছে, তার হিসাব গত রাত একটা পর্যন্ত দেয়নি নির্বাচন কমিশন। তবে ঢাকা বিভাগে ৪৪.৫১ এবং ঢাকা মহানগরে ২২.১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে বেসরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

একতরফা নির্বাচনে চট্টগ্রামে ভোটার উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। আর উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভোটার ছিল সবচেয়ে কম। অর্ধেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণই হয়নি। রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ফেনী ও ঢাকার কয়েকটি আসনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল।

এর মধ্যেও প্রাপ্ত হিসেবে দেখা গেছে, মিনিটে ১৮ ভোট পড়েছে ঢাকা-১৮ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে। আবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ও তাড়াইল এবং সিরাজগঞ্জ-৫, রাজশাহী-৬, লক্ষ্মীপুর-৪ প্রভৃতি আসনের কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক জাল ভোট দেওয়ার পরও ভোটার উপস্থিতি খুব বেশি দেখানো যায়নি।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে এই যে নির্বাচন হলো, সেটাকে আমি ঠিক নির্বাচন বলতে চাই না। যারা এই নির্বাচন আমাদের ওপর চাপিয়ে দিল, আর যারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে সহিংসতা চালাল, তাদের দুই পক্ষের মধ্যে আমরা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি নির্লজ্জ, সহিংস, নৃশংস চিত্র দেখলাম। এই নির্বাচনে কেউ জেতেনি, সবাই পরাজিত হয়েছে। যদি কেউ জিতে থাকে, তা হলো একটি ক্রমবর্ধমান উগ্র ধর্মান্ধ শক্তি, যারা সারা দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আরও বলবান হওয়ার সুযোগ পেল।’

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সরকারপ্রধানের ভাষাতেই বলতে হয়, ক্ষমতাসীন দল খালি মাঠে গোল দিল। এই নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট চাওয়া হয়নি, জনগণের ম্যান্ডেট তারা অর্জনও করেনি।