স্বপ্নহীন

বিশ্বাসের ভাঙ্গা হাঁতুড়ি দিয়ে ওরা প্রতিনিয়রত আঘাত করে
আমার শিল্পবোধে, ফেটে চৌচির হয় বিবেকের ফুলগুলো,
যন্ত্রণায় কাঁতরাতে কাঁতরাতে হয়ে উঠে অন্ধ.
ফিরে আসে, হয়তো আবার মেলতে চায় পাখা নীলাকাশে।

গতরাতে গভীর মানবিকতায় ডুব দিয়েছিলাম—
আচানক মাথায় আঘাত পেয়ে চোখ খুলে দেখি,
মেছতা পড়া মুখে ডলছে বিবর্ণ তৈলাক্ত ক্রিম,
আর রঙ্গিন কৌটার প্রাফিউমের গন্ধ শরীরে।
পাশের বিশাল আলমারিটি মোহিত হতে থাকে—
মরচেরা আরো হয় ঘন।
ফ্লোরেসেন্ট আলোয় বসে
বিজ্ঞানের মুখে, দল বেঁধে, অমাবশ্যা দেখা দেয়;
নুয়ে পড়তে পড়তে গাছের শুকনো ডালের মত বেমানান মনে হয় নিজেকে।

কঠিণ রুক্ষ্মতায় প্রশ্ন ছোঁড়ে
আর কে আছে তোদের দলে?
নাকি তুই একা?
আমাদের আবার সংঘ!
চেপেচুপে কারো মুখই মনে আসেনি,
আমরা যে থাকতে পারি না জোট বেঁধে
ভেড়ারা যেমন থাকে,
একাই বেড়াই ঘুরে—হঠাৎ হয়তো কারো সাথে দেখা হয় স্বপ্নের কিনারে।

মুখে মহুয়া বঙ্কিম হাসি, বেলের মতন গোল স্তন, সিগারেটের মতন সরু কটি,
ঘোড়ার লেজের মত রাশি রাশি চুল ক্লিপের অসংখ্য মারপ্যাঁচে বাঁধা –
রক্তের জারক কণাগুলোয় বাড়তে থাকে অস্থিরতা।
ধেয়ে যাই – যদিও অনেক দিনের জমানো পচা গন্ধ!
চামড়া কঠিণতর স্বচ্ছ — ভেতরের নাড়ি ভুঁড়ি, নগ্ন আনাগোনা
থেতলানো মুখ গোধুলির রক্তাভ বিচ্ছিন্ন আকাশে ফেরাই।
মাছের পোনার মত দাপিয়ে বেড়ায় আঁটসাট সমস্ত শরীর জুড়ে,
পিছনের দিকে ঘাড় ফুঁড়ে বের হয় আরেকটি মাথা
সামনের দাঁত নেই – বাকীদের গায়ে রাশি রাশি ময়লার স্তর।
সুন্দর, কুৎসিত মিলেমিশে তৈরি করে ফ্যাকাসে পিচ্ছিল শ্যাওলা।

বড় ঘুম পায়, অনেক অনেক ঘুম –
যেনো তরল পানীয়;
সামান্য ঘৃণাও জাগে।
তাড়া খেয়ে ফিরে যায় কষ্টার্জিত আমার স্বপ্নেরা।