মৃত্যুভীতি জয় করতে পারেননি হুমায়ুন

কোন মৃত্যুই অকাল মৃত্যু নয়, ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে তো নয়ই। পাঠকনন্দিত লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যুকে তাই অকাল মৃত্যু বলে মনে করি না। মৃত্যুকে সাহসিকতার সাথে বরণ করতে পারেননি হুমায়ুন আহমেদ। মৃত্যুকে জয় করতে তিনি আমেরিকায় এসেছিলেন। কিন্তু হার মেনেছেন, নিজের অহমিকার কাছে, মৃত্যুর কাছেও। তার মৃত্যুকে ঘিরে এখন সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। কারণ আমেরিকায় বাংলাদেশীরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করে বলে স্বজাতির প্রতি সীমাহীন বিরক্তি প্রকাশ করে অমন পদ্ধতি অবলম্বন করে চিকিৎসা গ্রহণে নিজের বিবমিশা ব্যক্ত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের দম্ভের কাছে পরাজিত হয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগই তাকে নিতে হয়েছে অসত্য তথ্যের আশ্রয় নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী তাকে চিকিৎসার প্রয়োজনে সাহায্য করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি প্রথমে তার অনিচ্ছা ব্যক্ত করলেও পরে দশ হাজার ডলারের চেক নিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে চিকিৎসার জন্য দুই কোটি টাকা অনায়াসে খরচ করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে কত খরচ করেছেন, কেউ সঠিক জানে না। তবে আমেরিকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় যে অর্থ ব্যয় করা হয় সেই খাত থেকে হুমায়ুন আহমেদের জন্য বাংলাদেশী মুদ্রায় চার কোটি টাকার অধিক ব্যয় হয়ে গেছে। আমেরিকায় বসে যে লিখায় তিনি বলেছিলেন যে বাঙ্গালীরা বুকের ব্যথা হলে হাসপাতালে গিয়ে বিনা পয়সায় চিকিৎসা নেয় এবং হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে না, তাদের সিংহভাগই বৈধ উপায়েই সে সুযোগ নেন। উপরন্তু তারা খ্যাতিমান কেউ নন। কঠোর পরিশ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী মানুষ, যারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লব্ধ কোন ডিগ্রি তাদের নেই। তাদের নুহাস পল্লী, রাজধানী ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, ব্যাংক ব্যালান্স, নিজ গ্রামে অজ্ঞাত আয়তনের আবাদী জমি, ডজন খানেক চলচ্চিত্র, বহু নাটক ও সাড়ে তিন শতাধিক গ্রন্থের রয়্যালটির নিশ্চয়তা নেই। স্লোয়ান ক্যাটারিং মেমোরিয়াল ক্যান্সার সেন্টারে দু’টি কেমোথেরাপি নিয়ে বাসায় ফিরে আসার পর তার সাথে সাক্ষাত করতে আসা গুণগ্রাহীদের সাথে আলাপচারিতার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত্যুর জন্য তার প্রস্তুতির কথা। তিনি বলছিলেন, “সুরা বনি ইসরাইলের একটি আয়াত আমার খুব পছন্দ, ‘তোমাদের প্রত্যেকের ভাগ্য গলার হাড়ের মতো ঝুলাইয়া দিয়াছি। ইহা আমার পক্ষে সম্ভব’।” কথাটি তিনি দু’বার উচ্চারণ করেন। যদিও আয়াতটির প্রকৃত বাংলা অনুবাদ হচ্ছে: “আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গলার সাথে বেঁধে দিয়েছি। কেয়ামতের দিন তা বের করে দেখাব একটি গ্রন্থ, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।” অর্থের পার্থক্য হতেই পারে, ধর্ম তার নিয়মিত চর্চার বিষয় ছিল না। ভীতি ও মুমূর্ষু অবস্থায় মানুষ এমনকি ধর্মে যাদের বিশ্বাস নেই, তারাও সৃষ্টিকর্তাকে বেশী বেশী স্মরণ করে, আর তার সেবায় নিয়োজিতদের একটি অংশ সারাক্ষণ খেয়াল রাখে যে কার অগোচরে কে তার বিত্ত ভান্ডারের চাবিটি আগে হস্তগত করতে পারবে। হুমায়ুন আহমেদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পত্রিকান্তরে এখন খবর বের হচ্ছে কে তার সম্পত্তির কতটুকু আত্মসাত করতে পারবে ইতোমধ্যে সেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এসব দেখে হুমায়ুন আহমেদ হয়তো কবরে পাশ ফিরে শুয়েছেন। সাহসিকতার সাথে মৃত্যুকে বরণ করার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে নেই, এমন নয়। বর্নাঢ্য জীবনের অধিকারী, প্রবাদতূল্য সাংবাদিক, রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী এজেডএম এনায়েতউল্লাহ খান প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কানাডায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা যখন তাকে জানান যে কতদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব, তখন তিনি প্রতি মুূহূর্তে মৃত্যুর অনুভব থেকে তাকে নিস্কৃতি দেয়ার জন্য চিকিৎসকদের কাছে তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিদায় নেন। সুফীরা হয়তো এমন অবস্থাকেই বলেছেন, “মৃত্যু হচ্ছে পোশাক বদলের মতো ঘটনা।”

হুমায়ুন আহমেদের মত প্রতিথযশা মানুষের মৃত্যুর পর তার অনুরাগী, এমনকি পেশাদার শোকগাঁথা লেখকদের লিখার কথা তার জীবন সম্পর্কে, তার অর্জন, অবদান ইত্যাদি সম্পর্কে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে তার মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পরও দেশে ও প্রবাসে তার মৃত্যু নিয়েই অধিক লিখা ও আলোচনা হচ্ছে। তার সাড়ে তিন দশকের অর্জন বুদবুদের মতো মিলিয়ে গেছে এরই মধ্যে। বাংলাদেশে বাংলা সাহিত্যের কলকাতামুখী পাঠককে ঢাকামুখী করার একক কৃতিত্ব তার একার। বই পাঠে তরুণদের মাঝে যে নিরাশক্তির সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে তরুণদের বইমুখী ও করেছেন তিনি। তবে তারা শুধু তার রচিত বইয়ের পাঠক হয়েছে। তার পাঠকরা অন্য কোন সাহিত্যিকের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। সাহিত্য বোদ্ধারা তো বটেই, সাধারণ সাহিত্য প্রেমিকরাও এমন একপেশে পাঠক হন না। বাংলা একাডেমীর বইমেলাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রেও তার অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু তার সুৃুিষ্টতে বাংলার জীবনচিত্র কতটা ফুটে উঠেছে তা নিয়ে মতানৈক্য আছে। সমাজ, রাজনীতির সমসাময়িকতা তার রচনায় অনুপস্থিত। ব্যক্তি জীবনের বৈপরীত্য তার গ্রন্থাদিতেও সুষ্পষ্ট। রাজনীতিকে তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে চলেছেন, কিন্তু যেদিক থেকে তার উপর সমালোচনার তীর বর্ষিত হবে না, তেমন দুর্বল প্রতিপক্ষকে এক হাত দেখে নিতে ছাড়েননি। নাটকে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তিনি সমাজের একটি শ্রেণীর বিরুদ্ধে আরেক শ্রেণীকে ক্ষেপিয়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। যেহেতু রাজনীতির সাথে তার সং¯্রব ছিল না, সেজন্য ইতিহাস নির্ভর ফরমায়েসী উপন্যাস ‘দেয়াল’ রচনা করতে গিয়ে শুরুতেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। যাদের খুশী করতে তার এ প্রয়াস ছিল তারাই তার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়েছে তার মরণ ব্যাধির কথা সমবেদনার সাথে বিবেচনা না করেই। আদালতে গড়িয়েছে বিষয়টি এবং সরকার অনুগত আদালত সঠিকভাবে উপন্যাস লিখতে দস্তাবেজ পাঠিয়েছে লেখকের কাছে যাতে তিনি সেগুলো গলধ:করণ করে ‘দেয়াল’ এর ভিতকে মজবুত করেন। এতো গ্রন্থ প্রণেতা হয়েও তিনি প্রমাণ করেছেন যে অনেক কিছু শেখার বাকি ছিল তার। তিনি ‘দেয়াল’ সংশোধিত আকারে রচনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে নিজের লেখক সত্ত্বাকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন। গোষ্ঠী বিশেষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন অবলীলায়। ভারতের জাতির পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর যৌনজীবন নিয়ে লিখা ইতিহাস ও উপন্যাস দুইই আছে। যেখানে গান্ধীর মুখ দিয়ে বলানো হয়েছে যে, বার্ধক্যে উপনীত হয়ে যৌন অবদমনের জন্য তিনি দুই তরুণীকে দু’পাশে নগ্ন অবস্থায় রেখে ভূমি শয্যা গ্রহণ করতেন। কিন্তু যৌন চেতনাকে অবদমন করতে ব্যর্থ হওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন এই বলে যে, এতো সাধ্য সাধনার পরও তার বিশেষ অঙ্গ উৎক্ষিত হতো। এসব লেখালেখির কারণে তার জাতির পিতার আসন নড়বড়ে হয়ে যায়নি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহরুর নারী সংসর্গ নিয়ে অনেক রচনা আছে। এমনকি ঘটনার ধারাবাহিকতায় বাত্যয় না ঘটিয়ে শুধু ইন্দিরা গান্ধীর নাম পরিবর্তন করে লন্ডনে তার পাঠকালীন সময়ে তাকে শয্যাগত করার কাহিনী পর্যন্ত উপন্যাসে তুলে আনা হয়েছে। বাংলাদেশের একজন সেরা লেখক জাতির পিতাকে নিয়ে কোন কেলেঙ্কারীর দিকে যাননি, ইতিহাসের বিচ্যুতি তার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি কেবল শুরু করেছিলেন। পুরো উপন্যাস লিখা হয়নি, হুমায়ুন মরে বেঁচেছেন।

বিশ্ব সাহিত্যে ইতিহাস নির্ভর বহু উপন্যাস আছে। সেগুলোতে ইতিহাসের কাঠামো, স্থান, কাল ঠিক রেখে উপন্যাসের স্বার্থে ইতিহাসের পাত্রপাত্রীকে লেখক তার ইচ্ছামত চিত্রিত করেছেন। তারা ইতিহাস রচনা করেননি। কিন্তু তাদের তুলে ধরা কাহিনী ইতিহাসের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোমারের ইলিয়াড, ওডেসি ইতিহাস নয়, নিরেট সাহিত্য। কিন্তু গ্রীক ইতিহাসের উপজীব্যই হলো হোমারের রচনা। ইতিহাস শাসকের সৃষ্টি। শাসক পরিবর্তনের সাথে যুগে যুগে সব দেশে ইতিহাস পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু সাহিত্যের পরিবর্তন নেই। সাহিত্য স্থান ও কালোত্তীর্ণ। কিন্তু ইতিহাসের গন্ডি ভোগোলিক সীমারেখার মধ্যে। সে কারণে কোন লেখকের কবিতা, উপন্যাস ও নাটকে সমসাময়িকতা উঠে না এলে সরকারি ফরমান জারি করে তাকে দিয়ে ইতিহাস রচনা করানো যায় না। হুমায়ুন তার লিখার বছরগুলোতে লিখেই গেছেন। নাটক, চলচ্চিত্র নির্মাণে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছেন। পড়াশুনা করার সময় পাননি। বিশ্ব সাহিত্য সম্পর্কে তার ধারণা নিয়ে আমার সংশয় ছিল এবং এখনো আছে। ব্যাপারটি অহমিকার বা নিজের ঢোল নিজে পেটানোর মতো মনে হতে পারে। কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞজন বলেছেন, ‘নিজের ঢোল নিজে না পেটালে অন্যে তোমার ঢোল পেটাবে না। পারলে পিটিয়ে ঢোল ফাটিয়ে ফেল।” আমার তা করার ইচ্ছা নেই। শুধু বিনয়ের সাথে বলতে চাই যে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী পাঁচজন লেখকের সেরা গ্রন্থসহ বিভিন্ন ভাষাভাষী সাহিত্যিকের অর্ধশতাধিক গ্রন্থ অনুবাদের দুস্কর্ম করেছি, যেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১ সহ¯্রাধিক। এসবের মধ্যে ইতিহাশ্রয়ী কিছু উপন্যাসও আছে। সাবলীল অনবদ্য রচনা। কারণ তারা স্বাধীনভাবে লিখেছেন। কারো ফরমায়েশ বা আদালতের নির্দেশনায় নয়। হুমায়ু আহমেদকে স্বাধীনভাবে উপন্যাস লিখতে দিলেই তার ফরমায়েশদাতারা তাদের রাজনীতির অনুকূলে একটি সহায়ক গ্রন্থ পেতে পারতেন।

হুমায়ুন আহমেদ তার ত্রিশ বছরের সংসার ভেঙ্গে কন্যার বান্ধবীকে বিয়ে করায় অনেকে বিষয়টিকে অন্যায় বলে বিবেচনা করছেন। ইসলাম কি এটাকে অন্যায় বলে? বিয়ে করার সম্পর্ক হতে পারে এমন কাউকে তিনি বিয়ে করতেই পারেন। এটা অনৈতিক নয়, বরং বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রাখলে তা অপরাধের মধ্যে গণ্য হতো। সামাজিকতা বজায় রাখতে তিনি তার প্রায় তিন দশকের স্ত্রীর সম্মতি ও সন্তানদের মতামত নিতে পারতেন। তার মত জননন্দিত ব্যক্তিত্ব নিজ গৃহে নিন্দনীয় হবেন এটা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। নৈতিক দিক থেকেও বিষয়টিকে মানা কঠিণ যে মেয়ের বান্ধবীকেই কেন বিয়ে করতে হবে? তার জন্য জান দিতে কত নাবালিকা সাবালিকা প্রস্তুত থাকার কথা। শয্যাসঙ্গিনী পেতে কন্যার সাহায্য নিতে হবে কেন? সত্তরের দশকে ভারতের তামিলনাড়–র মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন তামিল ছায়াছবিতে ‘এমজিআর’ খ্যাত নায়ক এমজি রামাচন্দ্রণ। ১৯৮৭ সালে তিনি ৭০ বছর বয়সে যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তার মৃত্যু শোকে ৬ তরুণী আত্মহত্যা করেছিল। তার ভক্তরা এমন উন্মত্ত হয়েছিল যে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে হুড়োহুড়িতে নিহত হয়েছিল আরো ২৩ জন। হুমায়ুনের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া অস্বাভাবিক ছিল না। অবশ্য সময় পাল্টেছে এবং সময়ের সাথে সবকিছুতে পরিবর্তন এসেছে। পাশ্চাত্যের ছোঁয়া বাংলাদেশে লাগতে এখন আর বেশী সময় লাগে না। ১৯৮৮-৮৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় এক আমেরিকান পরিবারের সাথে আমার ঘনিষ্টতা হয়। স্বামী বিল, স্ত্রী লিন্ডা এল আরিলাগা। লিন্ডার মা মারা গেছেন, বাবা নি:সঙ্গ। আমেরিকান ষ্ট্যান্ডার্ডে বিত্তবান এবং কিছু খ্যাতিও ছিল বৃদ্ধের। লিন্ডা তার ঘনিষ্ট এক বান্ধবীকে প্রস্তাব দেয় ওর বাবাকে বিয়ে করতে। বান্ধবী সম্মত হয় এবং লিন্ডার বৃদ্ধ বাবাকে বিয়ে করে। এ সংস্কৃতি যেহেতু বাংলাদেশে চালু হয়নি, সে কারণে হুমায়ুন আহমেদের প্রথমা স্ত্রী গুলতেকিন ও তার সন্তান এবং হুমায়ুনের বহু ভক্তের কাছেও কন্যার বান্ধবীর পাণি গ্রহণের ঘটনাটি সুখকর ঠেকেনি। মানতেও পারেননি তারা। কিন্তু পাশ্চাত্যের ধ্যানধারণা আমাদেরকে যেভাবে গ্রাস করছে তাতে ‘হুমায়ুন সিনড্রোম’ খুব দীর্ঘসময় পর্যন্ত নিন্দনীয় বা অনৈতিক থাকবে বলে মনে হয় না।