ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি জেলায় উন্নত মসজিদ নির্মাণ করবে

একটি পদ্মা সেতু তৈরীতে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগের রেশ এখনো কাটেনি, কিন্তু আগামী পাঁচ বছরে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় কাটিয়ে দেশে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটিয়ে এখন রূপকল্প ২০২১ এর স্বপ্ন দেখানোর ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আউড়ালেও আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে সরকার গঠণ করে দেশের প্রতি জেলা উপজেলায় একটি করে উন্নত মানের মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’- এই স্লোগানে রচিত হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ভিশন- ’২১-এর পর আগামী পাঁচ বছরে সরকারের ভিশন- নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ‘রূপকল্প- ২০৪১’ উপহার দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও প্রচার নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্রকারীদেরও বিচারের প্রতিশ্রুতি স্থান পেয়েছে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণ, প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়া, প্রতি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পৃথক বেতন স্কেল ও স্থায়ী বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগকে আরেকবার দেশসেবার সুযোগ দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের অন্ধকার ঘুচিয়ে বাংলাদেশ এখন আলোকোজ্জ্বল সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে পা বাড়িয়েছে। শুরু হয়েছে দারিদ্র্য ও পশ্চাৎপদতা হতে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ঐতিহাসিক কালপর্ব। আমরা সবাই আলোর পথযাত্রী। অতীতের মতো এবারও আমরা আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থন চাই। আপনাদের ভোটে আরেকবার দেশসেবার সুযোগ চাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং ‘হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্র্দীর প্রতীক, স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক নৌকা। আসুন, আমরা বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে শান্তি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই। হত্যা, সন্ত্রাস ও হানাহানি সংঘাত-রক্তপাতের চির অবসান ঘটাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনারবাংলা গড়ে তুলি। দেশ গড়ার এই সংগ্রামে জনগণের জয়- বাংলাদেশের জয় অনিবার্য। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতিকে আমরা উপহার দেব আমাদের ভিশন- নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ‘রূপকল্প- ২০৪১’।

নির্বাচনের মাত্র আটদিন আগে শনিবার বিকেলে কানায় কানায় পরিপূর্ণ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী দশম জাতীয় নির্বাচনের এই ইশতেহার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ইশতেহারের শিরোনাম ছিল – ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূরের সঞ্চালনায় বিকেল সোয়া ৩টায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানপর্ব শুরু হয়। বড় বড় ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় নাগরিকগণ, বুদ্ধিজীবী, আমলা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার ঘোষণার সময় মুহর্মুহু করতালি আর ‘নৌকা’ মার্কার দলীয় নির্বাচনী স্লোগানে মাঝে মধ্যেই প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের ১৭ দিন আগে ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। সে সময় ‘দিনবদলের সনদ’ নাম দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা করা আওয়ামী লীগের ইশতেহার তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। আর তরুণ প্রজন্মের অকণ্ঠ সমর্থনে নবম জাতীয় সংসদে ইতিহাসের রেকর্ড করা চার-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দশম জাতীয় নির্বাচন। ঘোষিত ইশতেহারে অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও কার্যকর এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার দৃপ্ত ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামের ঘোষিত ইশতেহারটি নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা যেসব অঙ্গীকার করেছিলাম তা পালন করেছি। সঙ্কট মোচন করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার যে কর্মসূচী দিয়েছিলাম, অত্যন্ত সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমরা তা বাস্তবায়িত করেছি। কোন কোন ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক সাফল্যে অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়ন, অগ্রগতির যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পথ রচনা করেছি, সে পথ থেকে কোন অপশক্তি আমাদের বিচ্যুত করতে পারবে না।

উন্নয়ন ও অগ্রগতির অগ্রধারা ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দেশকে শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগকে আরেকবার দেশ সেবার সুযোগ দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্ধৃত্ত হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, নিরক্ষরতা দূর হবে, শিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, শিল্প-সভ্যতার ভিত্তি রচিত হবে, প্রতি ঘরে বিদ্যুত পৌঁছবে, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে, পরিকল্পিত নগর-জনপদ গড়ে উঠবে, রাজধানী ঢাকা যানজটমুক্ত তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ সমৃদ্ধির সোপানে পা রাখবে। রাজনীতি থেকে হিংসা, হানাহানি, সংঘাতের অবসান হবে, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের ধারা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসবে। গড়ে উঠবে একটি সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।

আগামী পাঁচ বছরে দেশ কী পাবে: ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতিকে উপহার দেব আমাদের ভিশন- নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প- ২০৪১। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের পর্যায় পেরিয়ে এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ। সুশাসন, জনগণের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়নই হবে এই অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র। এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হবে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অর্থায়নের কৌশল নির্ধারণ হবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে। আর এর বাস্তবায়নের দায়িত পালন করবে মূলত স্থানীয় সরকার। এ জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হবে প্রতিসংক্রম এবং স্থানীয় প্রশাসন হবে মূল নির্বাহী শক্তি। নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, শিক্ষার প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হবে এই অগ্রযাত্রার নিয়ামক উপাদান।

তিনি বলেন, সরকারী বাজেটের সিংহভাগই বাস্তবায়িত হবে স্থানীয় স্তরে, এ দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় প্রশাসন। এই বিবর্তনের নিশ্চয়তা দেবে গণতান্ত্রিক আচরণ, পরমতসহিষ্ণুতা, সমঝোতা এবং একনিষ্ঠভাবে জনকল্যাণে নিবেদন। দেশমাতৃকার ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে নতুন প্রজন্ম- প্রাণ প্রাচুর্যভরা সৃষ্টি সুখের উল্লাসে টগবগে বাংলাদেশের যুব সমাজ। আমরা হাতে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই ইশতেহার। জানা গেছে, আজ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারের মাধ্যমে ‘রূপকল্প-২০২১’-এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী ভিশন- ২০৫০ এর পরিকল্পনাও ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। লক্ষ্য হিসেবে ইশতেহারে বলা হবে, আওয়ামী লীগ ভিশন নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প-২০৫০ প্রণয়ন করবে যদি আরেকবার নির্বাচিত হয়। ২০২১ সালের বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের পর্যায় পেরিয়ে এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ। সুশাসন, জনগণের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন হবে এই অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র। এর মধ্যেই সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হবে তিনস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অর্থায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে। আর এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে মূলত স্থানীয় সরকার। এ জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হবে প্রতিসংক্রম এবং স্থানীয় প্রশাসন হবে মূল নির্বাহী শক্তি। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম সারির উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে উন্নীত করা।

সূত্র মতে, ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশবাসী সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্ধৃত্ত হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অপুষ্টির অভিশাপ দূর। দারিদ্র্যের লজ্জা ঘুচে যাবে, নিরক্ষরতা দূর হবে, শিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, শিল্প-সভ্যতার ভিত্তি রচিত হবে। প্রতি ঘরে বিদ্যুত পৌঁছবে, বেকারত্বের অবসান ও কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে, পরিকল্পিত নগর-জনপদ গড়ে উঠবে, রাজধানী ঢাকা যানজটমুক্ত তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ সমৃদ্ধির সোপানে পা রাখবে। রাজনীতি থেকে হিংসা, হানাহানি, সংঘাতের অবসান হবে, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের ধারা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসবে। গড়ে উঠবে একটি সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।

সূত্র জানায়, ইশতেহারের ভূমিকা পর্বে বলা হয়েছে, আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। শুরু হয়েছে দারিদ্র্য ও পশ্চাৎপদতা হতে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ঐতিহাসিক কালপর্ব। এই পথ ধরেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশবাসী সংঘাত নয় শান্তি চায়। তারা অসাংবিধানিক পথে বা স্বৈরশাসনে ফিরে যেতে চায় না। তারা চায় সহিষ্ণু গণতন্ত্রের আলোকোজ্জ্বল অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে। দেশবাসী চায় স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, কর্মচঞ্চল, সুখী সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খা রূপায়ণ সর্বোপরি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আমরা ‘জাতীয় সনদ ও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ কর্মসূচী ঘোষণা করছি।

এ ছাড়া সমাপনী বক্তব্যে থাকছে নবম জাতীয় সংসদের আগে জনগণকে দেয়া নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার পূরণের সর্বস্তারের বর্ণনা। এতে বলা হয়েছে, জনগণকে দেয়া কথা রেখেছে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা যেসব অঙ্গীকার করেছিলাম তা পালন করেছি। সঙ্কটমোচন করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার যে কর্মসূচী দিয়েছিলাম, অত্যন্ত সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমরা তা বাস্তবায়িত করেছি। কোন কোন ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমরা জানি, আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন, তাঁদের অক্লান্ত শ্রম-ঘাম, মেধা এবং দেশ গঠনে আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই গত পাঁচ বছরের সাফল্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আত্মত্যাগ ও উৎসর্গ ছাড়া মহৎ কিছু অর্জন করা যে সম্ভব নয়, আপনারা তাও প্রমাণ করেছেন। আমরা তাই আমাদের প্রিয় দেশবাসী আপনাদের অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাই আমাদের কষ্টসহিষ্ণু, সাহসী এবং প্রাণপ্রাচুর্যে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এবারের ৩০ পৃষ্ঠার ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃপ্ত ঘোষণার পাশাপাশি গত ৫ বছরে সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যে, বিএনপি-জামায়াত জোটের দেশ ধ্বংসবিরোধী কর্মকা-, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাইনাস টু ফর্মুলাসহ বিরাজনীতিকরণের প্রচেষ্টা, অসাংবিধানিক ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা বিলুপ্তির পটভূমি ও যৌক্তিকতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঘোষিত ভিশন- ২০২১ এর বাস্তবায়ন এবং সর্বশেষ দুই নেত্রীর ফোনালাপ, সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি-জামায়াত জোটের দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মকা-, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার কথাও উল্লেখ থাকছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দৃঢ় অবস্থানের কথাও উল্লেখ থাকছে ইশতেহারে। সূত্র জানায়, ইশতেহারে উল্লেখ থাকছে- নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সর্বদলীয় সরকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি-জামায়াত জোট উপর্যুপরি হরতালের নামে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের প্রেক্ষিতে বিএনপিই এখন জামায়াতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানকে যেমন অস্বীকার করছে, তেমনি গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়নের ধারা সূচনা করেছে তা বানচালের জন্য সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে। বাংলাদেশকে তারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদী তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং মধ্যযুগীয় অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে চাইছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী একটি অবাধ শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এ দেশের মানুষ এই অপশক্তির সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে। বাংলাদেশের মানুষ এ দেশকে সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদী দেশে পরিণত হতে দেবে না। এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় নাশকতা সৃষ্টিকারীদেরও বিচারের অঙ্গীকার থাকছে এবারের ইশতেহারে। এতে উল্লেখ থাকছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসম্পন্ন এবং শাস্তি কার্যকর করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে গিয়ে আন্দোলনের নামে হত্যা, সন্ত্রাস, পবিত্র কোরান শরীফে অগ্নিসংযোগ, শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ, রেলওয়ের ফিশপ্লেট উপড়ে ফেলা, সড়ক কাটাসহ রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পদের ধ্বংসসাধন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, উপাসনালয় ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও বৃক্ষ নিধনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচার করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানাসহ অর্থনীতির পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান এবং নাশকতার ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গীবাদ: সুনির্দিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্য ও ঘোষণা দিয়ে ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বলেছে, আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আর্থ-সামাজিক মুক্তি এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। সংবিধান সুরক্ষা, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করা। সংসদের ভেতর ও বাইরে সংসদ সদস্যদের সামষ্টিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ বিধি-বিধান করা হবে। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত এবং নিরবিচ্ছিন্ন উন্নয়ন নিশ্চিত করার মতো মৌলিক প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণী ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সিভিল সমাজসহ দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইশতেহারে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও শান্তি কার্যকর করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে গিয়ে আন্দোলনের নামে হত্যা, সন্ত্রাস, পবিত্র কোরান শরীফে অগ্নিসংযোগ, শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ, রেলওয়ের ফিশপ্লেট উপড়ে ফেলা, সড়ক কাটাসহ রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পদ ধ্বংসসাধন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, উপসনালয় ধ্বংস ও বৃক্ষ নিধনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদেরও বিচার করা হবে।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানাসহ অর্থনীতির পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান এবং নাশকতার ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। সকল নাগরিকের স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ধর্ম, বর্ণ, নৃ-পরিচয়, লিঙ্গ এবং সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্রের চোখে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

জাতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত: ঘোষিত ইশতেহারে বাঙালীর সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে আওয়ামী লীগের সরকারের অনুসৃত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে। জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। কোরান ও সুন্নাহ পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন করা হবে না। সকল ধর্মের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে। প্রতি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণ করা হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার ও উন্নত করা হবে।

তবে যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদ নির্মূল করা হবে। সকল ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতিকে দৃঢ় করার জন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইনগত রক্ষা কবচের ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হবে। সম্প্রদায়িক রাজনীতি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হবে এবং একটি বিজ্ঞানমনস্ক উদার মানবিক সমাজ গড়ে তোলা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জমি, বসতভিটা, বনাঞ্চল, জলাভূমি ও অন্যান্য সম্পদের সুরক্ষা করা হবে।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জঙ্গীবাদ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কোন শক্তিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবেলায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এ সকল ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।

যমুনা ও পদ্মা সেতু নির্মাণ: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বহুল আলোচিত দ্বিতীয় যমুনা ও পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহারে এই ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা-কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও মংলা বিমানবন্দরের কাজ নতুন করে শুরু করা হবে। ঢাকার অদূরে আন্তঃমহাদেশীয় যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তাবিত সর্বাধুনিক বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণ এবং নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

এ ছাড়া রাজধানীতে যানজট নিরসনে পরিকল্পিত মেট্রোরেল, মনোরেল, সার্কুলার রেলের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে। এ ছাড়া আরও ছোট-বড় উড়াল সেতু, ট্যানেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েও নির্মাণ করা হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংরক্ষণের অঙ্গীকার করে বলা হয়, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘোষিত অষ্টম মজুরি বোর্ড বাস্তবায়ন করা হবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ: প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনী, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা আরও বাড়ানো হবে। ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপী, টেন্ডারবাজি ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিজেদের সম্পদ, আয়-রোজগার সম্পর্কে সর্বস্তরের নাগরিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া জনগণের জীবনযাত্রার ক্রমাগত মানোন্নয়ন, তাদের আয়-রোজগার বৃদ্ধি এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখা হবে। ভোক্তাদের সহায়তায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট মোকাবেলা করা হবে। বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির যে কোন প্রচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সরকারের ঘাটতি ব্যয় পরিমিত পর্যায়ে রাখা হবে, মুদ্রাবিনিময় নীতি হবে নমনীয়।

আগামী পাঁচ বছরে ঘরে ঘরে বিদ্যুত: ক্ষমতায় আসলে আগামী পাঁচ বছরে ঘরে ঘরে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহারে বলা হয়, বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত ও আরও দ্রুততর করা হবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ২০১৬ নাগাদ বিদ্যুত উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার মেগাওয়াট নির্ধারণ করা হয়েছে। রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদনের হিস্যা হবে প্রায় ৫০ শতাংশ।

বিরোধীদলের অসহযোগিতা ও ধ্বংসের রাজনীতি: ঘোষিত ইশতেহারের মুখোবন্ধে বিএনপি-জামায়াত জোটের অসহযোগিতা, ধ্বংস ও সংঘাতের রাজনীতি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের গণরায় মেনে নিতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত। সে কারণে প্রথম দিন থেকেই তারা অসহযোগিতা, ষড়যন্ত্র ও সংঘাতের পথ গ্রহণ করে। বিডিআর বিদ্রোহকে ব্যবহার করে সেনাবাহিনীকে উস্কানি প্রদান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাতের জন্য তারা একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্নে সমঝোতার টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় তিনি রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ রুদ্ধ করে দেয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের প্রেক্ষিতে বিএনপিই এখন জামায়াতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানকে যেমন অস্বীকার করছে, তেমনি গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের যে উন্নয়নের ধারা সূচনা করেছে তা বানচালের জন্য সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে। বাংলাদেশকে তারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদী তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং মধ্যযুগীয় অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে চাইছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী একটি অবাধ শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এ দেশের মানুষ এই অপশক্তির সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে। বাংলাদেশের মানুষ এ দেশকে সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদী দেশে পরিণত হতে দেবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সকল নির্বাচনে নিশ্চিত করা হয়েছে জনগণের ভোটাধিকার। প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।
দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ॥ দারিদ্র্য নিরসনে আওয়ামী লীগ সরকারের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের লক্ষ্য ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের দারিদ্র্যের অনুপাত ১৫ শতাংশের নিচে অর্থাৎ ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। ইতোমধ্যে বার্ষিক দারিদ্র্যে হ্রাসের হার নির্ধারিত ১.৭ থেকে ২.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নির্ধারিত হার ছাপিয়ে অর্জিত হার বজায় থাকলে ২০২১ সালের আগেই অর্থাৎ আগামী ৫ বছরে দারিদ্র্যের অনুপাত ১৫ শতাংশে নেমে আসবে।

এ ছাড়া বর্তমান অভিজ্ঞতার নিরিখে বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ শুরু করা হবে ২০১৮ সালে এবং ২০২১ সালে সকলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে। দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য নানা সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা এবং সেই সঞ্চয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যবহার করার জন্য ইতোমধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক স্থাপন করা হবে। দেশবাসীর জন্য ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষার স্তর পুনর্বিন্যাস: ক্ষমতায় আসলে ঘোষিত শিক্ষানীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষার স্তর পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত করা এবং অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পৃথক বেতন স্কেল ও স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন করা হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়া রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং ভর্তি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, অপরাজনীতি, দলীয়করণ ও সেশনজট দূর করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একইসঙ্গে শিক্ষকদের দলাদলির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশগুলো পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে আইটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও কম্পিউটার শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার করা হবে। দেশজুড়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা যেমন থ্রিজি চালু হয়েছে। ফোরজিও চালু করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা হবে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আকাক্সক্ষা ছিল সাবেক সেনা প্রধানের: ঘোষিত ইশতেহারে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আমলে তৎকালীন সেনা প্রধানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা ছিল। যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক ধারাকেই বিপন্ন করে তোলে।

ইশতেহারে বলা হয়, বিরাজনীতিকরণের রাজনীতি ও মাইনাস টু’র অপপ্রয়াসে সেনাসমর্থিত নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার জরুরী অবস্থার সুযোগে ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন ও নির্যাতনের পথ গ্রহণ করে। শুরু হয় বিরাজনীতিকরণের নামে প্রচ্ছন্ন সামরিক শাসন। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল নিষিদ্ধ। কেবল রাজনীতিবিদই নয়, দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, এমনকি সাধারণ ফেরিওয়ালা পর্যন্ত নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সাংবিধানিক ধারা অক্ষুণœœ, রাজনৈতিক কর্মকা-ের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবিতে সারাদেশে জনমত গড়ে ওঠে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক পর্যায়ে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। আমরা সংবিধান সংশোধন করেছি। এখন আর অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের কোন সুযোগ নেই।