ওজন কমানোর সহজতম উপায়

probioslim
খুবই পরিচিত একটি সমস্যা–নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া করলেও বা ব্যায়াম করলেও অতিরিক্ত ওজন কমে না। তাহলে প্রশ্ন আসে মোটা হওয়া বা অতিরিক্ত ওজনের কারণ কী? বয়স, জিনগত সমস্যা বা অন্য কিছু?

এর পিছনের সত্যিকার কারণটি হলো পরিপাক পদ্ধতি বা ডাইজেস্টিভ সিস্টেম।

অনেক চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদ পাকস্থলী সংক্রান্ত সব সমস্যার পিছনে পুরোপুরি কার্যকর নয় অথবা আংশিক কার্যকর পরিপাক পদ্ধতির কথা বলেছেন। যদি পরিপাক পদ্ধতি ঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে পাকস্থলীতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। সেই ব্যাকটেরিয়াগুলি পেটব্যাথা, বাজে ধরনের গ্যাস, পেট ফোলা ইত্যাদি তৈরি করে।

পেট অতিরিক্ত বড় দেখানো বা কোমর বড় দেখানোর কারণ হতে পারে অকার্যকর পরিপাক পদ্ধতি।

সমাধান যেভাবে হবে
অনেক বছর ধরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন প্রো-বায়োটিক্স বা স্বাস্থ্যকর জৈব ব্যাকটেরিয়া কীভাবে পরিপাক পদ্ধতিতে সাহায্য করে। আবার ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়েছে প্রো-বায়োটিক্স বা জৈব ব্যাকটেরিয়া ওজনও কমিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু প্রো-বায়োটিক ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত গ্রহণ করলে ১২ সপ্তাহ পর শতকরা ৮ থেকে ৯ ভাগ ওজন কমে যায়। বিশেষ করে হৃৎপিণ্ড ও অন্যান্য অংশে যে ক্ষতিকর ফ্যাট জমা হয় তা চলে যায়। পেটের চর্বিও শতকরা ১ থেকে ৩ ভাগ কমে আসে।

আমাদের দেশে প্রো-বায়োটিক বা জৈব ব্যাকটেরিয়াসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে মানুষ দই বেশি খেয়ে থাকে। কিন্তু দইয়ে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি এবং চিনি থাকে যা ওজন আরো বাড়ায়।

বাইরের দেশগুলিতে প্রো-বায়োস্লিম নামে নতুন একটি পণ্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রো-বায়োস্লিম তৈরি করেছে ম্যাসাচুয়েটস নিউট্রেসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কাজ করা একদল বিজ্ঞানী। প্রো-বায়স্লিমের মূল উপাদান ল্যাক্টোস্পোর। একা একা বংশবিস্তার করতে পারে এমন একধরনের শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে এটা বানানো হয়েছে। এই উদ্ভিদটি শরীরের ভিতরের তাপমাত্রার সাথে এমনভাবে মানিয়ে যায় যে বাইরে থেকে আরো ব্যাকটেরিয়া শরীরের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে পরিপাক পদ্ধতিতে খুব দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে এটা।

ল্যাক্টোস্পোর হজমশক্তি বাড়ায়, গ্যাস থেকে বাঁচায়, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য আন্ত্রিক সমস্যা থেকে বাঁচায়। ল্যাক্টোস্পোর শরীরের পিএইচ(pH) এর ব্যালেন্স ঠিক রেখে ত্বক পরিষ্কার রাখে।

প্রো-বায়োস্লিম প্রস্তুতকারী গবেষকরা এর সাথে গ্রিন টি-এর নির্যাসও মিশিয়েছেন। যে উপাদানগুলি স্বাস্থ্যের জন্য টনিক হিসাবে কাজ করে, তার মধ্যে গ্রিন টি নিয়ে এ পর্যন্ত বেশি আলোচনা হয়েছে। গ্রিন টি-এর ভিতরে এমন একধরনের যৌগ থাকে যেটা শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি ধ্বংস করে। আর গ্রিন টি-এর ক্যাফেইন কর্মক্ষমতা বাড়ায় সেইসাথে ক্ষুধামন্দা দূর করে। এতে আরো কিছু ফলের নির্যাসও যোগ করা হয়েছে। ল্যাক্টোস্পোর শরীরে যে প্রো-বায়োটিকস তৈরি করবে এইসব ফলের নির্যাস তার কার্যকারিতা বাড়াবে। একইসাথে এটা ওজন কমাবে এবং পরিপাক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে।

ওজন কমানোর সাথে সাথে পেটের সমস্যার কারণে প্রায়ই অ্যান্টাসিড, ল্যাক্সাটিভস এবং আরো অনেক অজানা কেমিক্যাল সমৃদ্ধ ওষুধ খাওয়ার থেকে ভালো একটি অপশন হচ্ছে প্রো-বায়োস্লিম। প্রো-বায়োস্লিম প্রস্তুতকারীরা বলছেন ১৪ দিনেই প্রো-বায়োস্লিমের ফলাফল পাওয়া যাবে। প্রো-বায়োস্লিম গ্রহণ করলে ওজন কমা, অতিরিক্ত পেট কমে যাওয়া এবং পরিপাক পদ্ধতির কার্যকর হওয়া ছাড়া অন্য কোনো ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

প্রো-বায়োস্লিম কি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ?
প্রো-বায়োস্লিমের প্রস্তুতকারীরা বলেছেন কোনোভাবেই এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। প্রো-বায়োস্লিমে রাসায়নিক উপাদান, উত্তেজক পদার্থ, ক্ষতিকর উপকরণ, কোনো প্রাণীর শরীরের উপাদান এগুলির কোনোটিই নেই। এলার্জি তৈরি করে এমন কিছুও প্রো বায়োস্লিমে নেই। প্রস্তুতকারীরা আরো জানিয়েছেন শরীরে কোনো রোগ থাকলে প্রো-বায়োস্লিম সেবন করলে ক্ষতিকর কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য ওষুধ গ্রহণ করার সাথে প্রো-বায়োস্লিম গ্রহণ করলেও কোনো সমস্যা হবে না।

তবে প্রো-বায়োস্লিমের হার্বাল উপাদানগুলির কোনো কোনোটির আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। প্রো-বায়োস্লিমের উপাদানগুলি থেকে সাধারণত যেসব ছোটোখাটো ও ক্ষণস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে সেগুলি হলো: হজমের প্রক্রিয়াতে বিঘ্ন ঘটা, পাকস্থলীতে অস্বস্তি অথবা বি-ভিটামিন ও নিয়াসিনের কারণে মুখমণ্ডল লাল হয়ে যাওয়া।

যদিও ওজন কমানোর জন্য প্রো-বায়োস্লিম গ্রহণে স্বাস্থ্যঝুঁকির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি তবু প্রো-বায়োস্লিমের সাথে সাথে ব্যায়াম, ডায়েট রুটিনে পরিবর্তন ইত্যাদি করার আগে ডাক্তার বা ফিজিশিয়ানের সাথে আলোচনা করে নেওয়া ভালো। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য প্রো-বায়োস্লিম নিষেধ।