মি. অ্যান্ড মিসেস হান্ড্রেড পারসেন্ট

সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে, বাংলাদেশে নানা ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড গড়ার হিড়িক পড়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক দুটি রেকর্ড অবশ্যই বিশ্বদরবারে আমাদের মাথা উঁচু করেছে। এর একটি হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আকৃতির জাতীয় পতাকার প্রদর্শনী ও অপরটি সর্বাধিকসংখ্যক মানুষের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া। আমাদের বিজয়ের মাসে এ দুটি ঘটনা নিঃসন্দেহে আমাদের শ্লাঘার বিষয়, বড় রকমের অর্জন।

তবে এই অর্জনের পিঠেপিঠে আরেকটি ‘অর্জন’- তাও বিশ্বরেকর্ড বটে- আমাদের উঁচু মাথা নিচু করে দিয়েছে। ওই ঘটনাটিও কিনা ঘটল, আর সময় পেল না, এই বিজয়ের মাসেই। ৩০০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন ১৫৪ জন। মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি আসনে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছেন তাঁরা। ছোটবেলায় বাচ্চাদের ফুটবল টুর্নামেন্টে দেখতাম, যে দিন খেলা সে দিন কোনো দল নির্ধারিত সময়ে মাঠে না এলে রেফারি একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। তারপর ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়া দলকে বলতেন বাঁশি বাজলেই পায়ে পায়ে বল নিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের ফাঁকা গোলপোস্টে একটা প্রতীকি গোল করতে। এভাবে গোল হওয়ার পর রেফারি বাঁশিতে জোরে ফুঁ দিয়ে গোলের সংকেত দিতেন এবং আরো তিনটি ফুঁ দিয়ে খেলার সমাপ্তি ঘোষণা দিতেন। যে দল এভাবে গোল করত, তারা পূর্ণ পয়েন্ট পেত এবং বলা হতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তারা ওয়াকওভার পেয়েছে।

কিন্তু এবারের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘রেফারি’ একটি গোলে সন্তুষ্ট হলেন না; একে একে ১৫৪টি গোল দেখে তবেই তিনি সন্তুষ্ট হলেন, বললেন, হ্যাঁ, ‘আ দল জয়যুক্ত হয়েছে, আ দল জয়যুক্ত হয়েছে, আ দল জয়যুক্ত হয়েছে।’ আর বিশ্বজনমত সঙ্গে সঙ্গে তারস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠল, ‘হ্যাঁ, আ দল জয়যুক্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশ হেরেছে, বাংলাদেশ হেরেছে, বাংলাদেশ হেরেছে।’

বগুড়া জিলা স্কুলের আমাদের প্রিয় শিক্ষক, সৌম্যদর্শন, গুণী শিল্পী স্বর্গীয় সারদাকিঙ্কর মজুমদার মহাশয় তাঁর ভরাট গলায় একদিন একটি গান গেয়ে শুনিয়েছিলেন আমাদের। গানটির প্রথম দুটি চরণ ছিল এ রকম : পলাশী, পলাশী, হায় পলাশী/এঁকে দিলি তুই জননীর মুখে কলঙ্ক কালিমা রাশি। দারুণ মর্মস্পর্শী এই গানটি স্যারের কণ্ঠে শুনেছিলাম সেই কবে, ১৯৫২ সালে। কিন্তু আজও তা মননে অনুরণন তোলে। আর তারপর গত ৬০ বছরে কত উত্থান-পতন দেখলাম। কত ত্যাগ-তিতিক্ষা-আত্মবিসর্জনের ইতিহাস রচিত করে বাঙালি অনেক অর্জনের ফসল ঘরে তুলেছে, যার ভেতর সবচেয়ে বড় অর্জন, এক অনন্য সফলতা- ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। আর কলঙ্ক? হ্যাঁ, সব অর্জন ছাপিয়ে ২৩ জুন ১৭৫৭ সালের কলঙ্কতিলকের পাশাপাশি ললাটে আরো অনেক কলঙ্কের ফোঁটা লেগেছে যুগে যুগে। সর্বশেষ সংযোজন এই ১৫৪টি তিলক। অথচ এই ২৩ জুন তারিখেই জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগের। অবশ্যই পলাশীর কলঙ্ক-কালিমাই শুধু নয়, বাঙালির ললাট থেকে সব কলঙ্কের দাগ মুছে ফেলার প্রত্যয় নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই ঐতিহ্যবাহী দলটি নিশ্চয়ই সেই কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। কিন্তু হায়, আজ আমরা কী দেখছি? এই কি সেই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের নমুনা?

কথাবার্তাগুলো মনে হচ্ছে একটু বেশি ভারি হয়ে যাচ্ছে। পাঠক আসুন, এই কপালে তিলক কাটাসংক্রান্ত একটি পুরানো চুটকি শুনিয়ে আপনার মনটা একটু হাল্কা করি। কপালে তিলক কেটে, গলায় পৈতা ঝুলিয়ে কলকাতার রাস্তা দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে এক উড়ে বামুন গুনগুনিয়ে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছিল: ‘ভগলু কি বহিনিয়া, ভজুয়া কি বিটিয়া, ক্যাকরাসে সাদিয়া হো- ‘। পথে দেখা এক বাঙালি ফিচলে ছোকরার সঙ্গে। ছোকরা তাকে জিজ্ঞেস করল, নন্দুয়া, কপালে ওটা কী? নন্দুয়া জবাব দিল, তিলক কাটুচি। ওই ফাজিলটা শুধাল, তিলক কাটুচি, না কাক হাগুচি? উড়ে বামুন রেগে গিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, কাক হাগুচি না, তোর বাপ হাগুচি। বলেই সে ভাবল, দিয়েছি ব্যাটাকে একটা কড়া গাল শুনিয়ে। তারপর রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেল।… আওয়ামী লীগও কি এখন রাগে গজগজ করতে করতে রাস্তা মাপবে? নাকি, যার দুই কান কাটা সে রাস্তার যেদিক দিয়ে যায়, সেদিকে যাবে? আসলে সরকার জাতিকে এত বড় একটা লজ্জা না দিলেও পারত।

২.
বাংলা ভাষায় ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বলে একটা বহুল প্রচলিত বাগধারা আছে। ইদানীংকালের ফোলা আঙুলগুলোর স্ফীতি দেখে কলাগাছ নাকি ওই বাগধারা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করার আবেদন জানিয়েছে বাংলা একাডেমির কাছে : আমি অত ফোলা না, আমি যথেষ্ট স্লিম ওই হোঁদল কুতকুত আঙুলগুলোর তুলনায়। আগের কালে আমার সঙ্গে তাদের তুলনা করতেন, মানতাম, কিন্তু এখন তো তারা আমার চেয়ে এক শ গুণ মটকু। এখন আপনারা তালগাছ, বটগাছের সঙ্গে আলাপ করে তাদের আপত্তি না থাকলে আমার নাম কেটে ওখানে তাদের নাম বসাতে পারেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আজকালকার স্যারদের অঙ্গুলির সঙ্গে এই অধমের তুলনা করবেন না। বিশ্বাস না হয়, গত কয়েক দিনের প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার সচিত্র প্রতিবেদনগুলো পড়ুন। পাঁচ লাখ টাকা পাঁচ বছরে কী করে পাঁচ কোটি হয়, ২০ একর জমি পাঁচ বছরে বাড়তে বাড়তে কী করে দুই হাজার ৮৬৫ একর হয়, ১০ লাখ টাকার মোট সম্পদ কোন জাদুমন্ত্রে হয়ে যায় ১১ কোটি টাকার সম্পদ- এসব তেলেসমাতি কায়-কারবার দেখে এখনো বলবেন আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে? তাদের আঙুল দেখে তো তালগাছ-বটগাছ-পাকুড়গাছও লজ্জা পায়। তাই, প্লিজ, তারা ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে’ বলে আর আমার অপমান নষ্ট করবেন না।

কলাগাছের এই খেদোক্তির পর মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। বিষয়টি দিবালোকের মতো এমন স্পষ্ট যে এতে আর সাক্ষী-সাবুদের দরকার নেই। সংশ্লিষ্ট মহাজনরা (মহাজন শব্দটি দ্ব্যর্থক, আপনারা জানেন। এখানে যাঁদের ক্ষেত্রে এটা প্রয়োগ করা হয়েছে তাঁদের প্রকৃতই দ্বৈত ভূমিকায় দেখা যায় জীবনের সব ক্ষেত্রে।) নিজেরাই ‘কসম খেয়ে’ (নির্বাচন কমিশনের নিকট জমাকৃত তাঁদের নিজেদের সিল-ছাপ্পড় মারা হলফনামা ওয়েবসাইটে দেখা যেতে পারে।) তথ্যাবলি দিয়েছেন। অতএব, এগুলো যে বিরোধী দলের প্রপাগান্ডা, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং এগুলো এক ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বলতে পারেন। আদালতের কার্যবিধির ১৬৪ ধারার বয়ানের চেয়ে খুব একটা দূরে নয়।

অবশ্য এখন ফেঁসে গিয়ে তাঁরা জিকির তুলেছেন, এগুলো ওয়েবসাইটে দিয়ে পাবলিকলি তাঁদের বিবস্ত্র করার চেষ্টা করা মোটেই সমীচীন নয়। শুনে আমাদের পাড়ার কাউলা বলল, অত চিক্কর পাড়েন ক্যা? হাচাই যদি এই গুলান আপনার হক-হালালের মাল হইয়া থাকে, তয় বুকে থাবড়া মাইরা কন না ক্যা, এগুলার মইধ্যে কুনো দুর্গন্ধ নাই, এগুলান আমার রক্ত পানি করা হালাল কামাই।

কাউলা কী কইল না কইল, তাতে আমরা মাথা ঘামাই না, আমরা শুধু দেখতে চাই, দুদক নামক তথাকথিত দুষ্টের দমন কমিশন এবং (গণতন্ত্র) নির্বাসন কমিশন কী করে। আপাতত আসুন আজকের নিবন্ধের নামকরণের যথার্থতা প্রমাণের জন্য আমার একটা প্রিয় গল্প শোনাই। গল্পটির ভেতরে উল্লিখিত নাম-ধাম আপনারা যেমন খুশি তেমনভাবে বদলে নিতে পারেন।

ল্যাটিন আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশ। একটির নাম বি, আরেকটির নাম পি। দুটির অবস্থাই খুব মাজুল- দুর্নীতিতে ফোকলা বানিয়ে ফেলেছে দেশ দুটিকে সে দেশের মন্ত্রী-মিনিস্টাররা।

তা একবার পি দেশের যোগাযোগমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বি দেশের যোগাযোগমন্ত্রী গেলেন পি দেশ সফরে। দুই দিনের কর্মব্যস্ততার পর দেশে ফেরার আগে তিনি তাঁর হোস্টের বাড়িতে গেলেন দুপুরের খাবার খেতে। নিতান্ত ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ। তাঁদের ইচ্ছা, দুই বন্ধু একান্তে বসে সুখ-দুঃখের কথা বলবেন, আর চারটা ডালভাত খাবেন। বাড়িটা হোস্ট মন্ত্রীর নিজের।

কিন্তু বাড়ি দেখে তো মেহমানের চক্ষু চড়কগাছ! কী আলিশান প্রাসাদতুল্য বাড়ি, কী তার নির্মাণশৈলী, কী বিশাল লন, ফলমূলের বাগান! ঘরে ঢুকে তো তিনি আরো অবাক হয়ে গেলেন, মন্ত্রীর দামি সব আসবাব, কার্পেট, ঝাড়বাতি ও দুর্মূল্য পেইন্টিং ইত্যাদি দেখে। তিনি হোস্টকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্রাদার, শুনেছি মন্ত্রী হওয়ার আগে আপনি ছিলেন একজন দরিদ্র স্কুলমাস্টার। আপনার নাকি সংসার চলত টেনেটুনে। আর এই দুই বছরে এমন একটা বিশাল প্রাসাদের মালিক হলেন কী করে? মুচকি হেসে হোস্ট বললেন, জানতে চান? তাহলে আসুন আমার সঙ্গে। এই বলে তিনি গেস্টকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন সেই পাঁচতলা দালানের ছাদে। হাতে তাঁর একটা বাইনোকুলার। ওটা গেস্টের হাতে দিয়ে বললেন, এটা দিয়ে দেখুন তো বাড়ির সীমানা প্রাচীরের বাইরে কী দেখা যায়।

বি দেশের মন্ত্রী বাইনোকুলার চোখে লাগিয়ে বললেন, বাইরে তো দেখতে পাচ্ছি একটা রাজপথ- লোকজন, গাড়িঘোড়া যাচ্ছে সেই রাস্তা দিয়ে। হোস্ট বললেন, আরো দূরে দেখুন তো। এবার বলুন কী দেখছেন।

একটা বিরাট নদী, তার ওপর দিয়ে নৌকা-স্টিমার যাচ্ছে, গাঙচিল ওড়াউড়ি করছে, নদীতীরে পন্টুনে লোকজন ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে, বোধ হয় নৌকা-স্টিমারে উঠবে। এই তো।

আর কিছু দেখতে পাচ্ছেন না? একটা ব্রিজ? জানতে চাইলেন হোস্ট। একটু চোখ ঘুরিয়ে দেখে গেস্ট বললেন, আরে তাই তো। মাই গড। হাউ কুড্ আই মিস ইট! এ যে একটা বিশাল ব্রিজ। বোধ হয় সাউথ আমেরিকার বৃহত্তম ব্রিজ এটি।

‘টেন পারসেন্ট’ হাসতে হাসতে বললেন অত্যন্ত অমায়িক, মার্জিত রুচিসম্পন্ন হোস্ট। ‘রিয়েলি?’ বিস্ময়ে চোখ দুটো তখন ঠিকরে বেরিয়ে আসছে বি দেশের রীতিমতো হাবাগোবা যোগাযোগমন্ত্রী মহোদয়ের। অতি কষ্টে একটি উদ্গত দীর্ঘশ্বাস তিনি চাপলেন।

তারপর কেটে গেছে আরো দুই বছর। এবার পি দেশের সেই মন্ত্রী তাঁর বন্ধু বি দেশের মন্ত্রীর আমন্ত্রণে রিটার্ন ভিজিটে গেছেন বি দেশে। দুই বছর আগের প্রোগ্রামের মতোই এবারের প্রোগ্রামও সাজানো হয়েছে। ঠাসবুননি দুই দিনের প্রোগ্রামের শেষে হোস্টের বাড়িতে দুপুরবেলা বিদায়ভোজ। এবং যথারীতি একান্তে।

কিন্তু হোস্টের বাড়ি দেখে পি দেশের মন্ত্রীর তো বেহুঁশ হওয়ার অবস্থা। এত সুন্দর, এত বিশাল একটি বাড়ি তিনি বাপজন্মে কোনো দিন দেখেছেন বলে মনে পড়ল না তাঁর। ফলে সেই অবধারিত প্রশ্ন : ব্রাদার, এই চার বছর আগেও শুনেছি আপনি ছিলেন একজন অফিস সহকারী। দুই বছর আগে যখন পি-তে আমাদের দেখা তখনো আপনি কথায় কথায় আপনার দুঃখ-দারিদ্র্যের কাহিনী শুনিয়েছেন। এরপর এই আলাদিনের চেরাগ কোথায় পেলেন, একটু খুলে বলুন তো।

‘জানতে চান?’ হোস্ট বললেন, ‘আসুন তা হলে।’ বলে গেস্টকে নিয়ে তিনি গেলেন ছয়তলার ছাদে। হাতের বাইনোকুলার গেস্টকে দিয়ে বললেন, বাইরে তাকিয়ে দেখুন তো, কী দেখতে পাচ্ছেন?

গেস্ট সেই রাজপথ-জনপথ ইত্যাদির কথা বলার পর বললেন, হ্যাঁ, একটা প্রকাণ্ড নদী ও তার ওপর নৌকাটৌকা দেখতে পাচ্ছি। হোস্ট বললেন, নদীর ওপর ব্রিজটা আপনার চোখে পড়ছে না? লজ্জা পেয়ে গেস্ট আরেকটু ভালো করে দেখে বললেন, কই না, কোনো ব্রিজট্রিজ তো দেখছি না।

‘হান্ড্রেড পারসেন্ট!’ বললেন বি দেশের আঙুল ফুলে কলাগাছ, থুড়ি তালগাছ, না, না, বটগাছ হওয়া মন্ত্রী।

৩.
আসলে রবীন্দ্রনাথ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অতীন্দ্রিয় জগতের এত কিছু দেখেশুনে জেনেটেনে যে বলে গেছেন, ‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি’, এটাই একেবারে মোক্ষম কথা। আমাদের অমুক ভাই ও তমুক চাচাদের কতটুকু আমরা জানি। তাঁরা যখন ভোটের আগে জনতার উদ্দেশে কথার রসমালাই বিলানো ভাষণ মারেন, তখন পাবলিক দুই ঠোঁটের মাঝখানের ডাকবাক্স খুলে তা হাপুস-হুপুস করে গিলতে থাকে। আর চোখেমুখে তখন তাদের এমন একটা ভক্তিরসের সঞ্চার হয় যে মনে হয়, যেন তারা বেহেশতের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। তারপর পাঁচ বছর কেটে যায় খালি চমক আর ধমকের ভেতর দিয়ে। আবার আসে ভোট। আবার রসমালাই-ভাষণ!
তবে মাঝেমধ্যে ভাষণশিল্পীরা ও তাঁদের বেগম সাহেবরা ইষ্টিকুটুমসহ ধরা খেয়ে যান। যদিও হাতির দাঁতের মতো যেটুকু বেরিয়ে আসে, তা ভেতরে লুক্কায়িত অংশের হয়তো এক-দশমাংশও নয়। পাবলিক তখন জানতে পারে, এরা নিকৃষ্ট কিসিমের ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস হান্ড্রেড পারসেন্ট’। আরো জানতে পারে, পদ্মা সেতু নির্মাণের আগেই স্বপ্নের সেতুটি ভেসে গেছে।

লেখক: সাবেক সচিব, কবি ও কলামিস্ট