জীবজন্তর প্রতি মানবিক আচরণ

পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য জীবজন্তুর বিচরণ ও অবস্থান খুবই জরুরি। এ জন্য মহান আল্লাহ মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই পরিমিত জীবজন্তু সৃষ্টি করে ভূপৃষ্ঠে ছেড়ে দিয়েছেন। জীবজন্তু না থাকলে মানুষের বেঁচে থাকা দুরূহ হয়ে পড়ত। অথবা আমরা হয়তো বাঁচতেই পারতাম না। আমাদের খাদ্যসহ জীবনধারণের অনেক উপকরণ আমরা প্রাণীদের কাছ থেকেই পেয়ে থাকি।বিভিন্ন জীবের অল্প অল্প ভূমিকার ফলে আমাদের পরিবেশ সমৃদ্ধ হয়। এরা আমাদের এ ধরাকে বাসযোগ্য রাখার জন্য অনবরত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ কেঁচোর কথা উল্লেখ করা যায়। কেঁচোর বিচরণ ও বেঁচে থাকার ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য কেঁচোকে বলা হয় প্রাকৃতিক লাঙল। কারণ সে সর্বদা মাটি চষে বেড়াচ্ছে। কেঁচো মাটির মধ্যে নাইট্রোজেন প্রবেশে সাহায্য করে। যা না থাকলে মাটিতে ইউরিয়া দিতে হয়। কেঁচো জমি খোঁড়াখুঁড়ি করে বলে তা নরম ও উর্বর হয়। এতে ফলন বহুগুণে বেড়ে যায়। এজন্য দেখা যায়, যেসব এলাকায় কেঁচো বেশি থাকে সেসব এলাকার মাটি অপেক্ষাকৃত উর্বর হয়, চাষ করতে কষ্ট কম হয়, সর্বোপরি ফসল বেশি হয়। আবার কেঁচোদের খেয়ে বিভিন্ন মাছ ও পাখি জীবনধারণ করে থাকে। এ-তো ক্ষুদ্র কেঁচোর কথা। এমনিভাবে প্রত্যেকটি প্রাণী পরিবেশে ভূমিকা পালন করে।

ইসলাম যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো জীবে দয়া করা। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ কোমল, তিনি সব কাজে কোমলতা পছন্দ করেন। মহানবী (সা.) আরও বলেছেনÑ তোমাদের সহজ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা আরোপের জন্য পাঠানো হয়নি। দয়ার নবী আরও বলেনÑ তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। (সহিহ বোখারি)।দয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষ ও জীবজন্তুকে একই চোখে দেখেছেন। মহান আল্লাহ তাঁর নবীর ব্যাপারে তাই বলেছেন আমি তো তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি। (আল কোরআন: ২১:১০৭)। বিশ্বজগতের প্রতি, কথাটি বলে এ আয়াতে বোঝানো হয়েছে, জীববৈচিত্র্যও তাঁর রহমতের আওতাধীন। রাসূল (সা.) কে শুধু মুসলিম বা মানুষের জন্য পাঠানো হয়নি। তিনি সর্বজগতের সব প্রাণীর নবী। তিনি তাঁর আচরণের মাধ্যমে এ আয়াতের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন।অপরিণত জীবজন্তু ও জাটকা মাছ শিকার করা কয়েকটি কারণে ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যেমন(ক) ইসলামে এর পক্ষে অনুমোদন নেই।(খ) এটি মানুষের রিজিকে অবৈধ হস্তক্ষেপ(গ) এটি জীবজন্তু, মাছ বা পাখির প্রতি অন্যায় আচরণ। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি জুলুম।(ঘ) এটি হক্কুল এবাদ নষ্টের শামিল, প্রয়োজন ব্যতিরেকে কারও জীবনহরণের অধিকার কারও নেই।যারা প্রাণীদের প্রতি দয়ার আচরণ করে তাদের ব্যাপারে রাসূল (সা.) বলেছেন (রহমান) দয়াময় শুধু দয়াবানদের প্রতিই দয়া করে থাকেন। (আবু দাউদ)। মহানবী (সা.) আরও বলেনÑ তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (মুয়াত্তা মালিক)। দয়ার নবী আরও বলেনÑ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে তাদেরই দয়া করেন, যারা পরস্পর দয়া প্রদর্শন করে। (সহিহ বোখারি)।সর্বোপরি পরিবেশের স্বার্থেই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। আর এটি ঈমানেরই একটি অংশ। জীবজন্তুর সঙ্গে আচরণের মাধ্যমেই আমাদের পরকাল রচিত হবে।