ফরাসি কবি আর্তুর র‌্যাঁবো’র দু’টি কবিতা

অশুভ

যখন রক্তমুখো মেশিনগানেরা ধ্বনি তোলে
প্রসারিত দিবসের আদিগন্ত, অবারিত বুকে;
যখন সৈনিক দল কর্তব্য শেষে যায় চলে
সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজায় কুর্ণিশরাশি ঠুকে,
এবং, যখন ছোটে জনতার উল্লসিত ভিড়,
হাজার হাজার লোক গড়ে তোলে ধুম্র পাহাড়-
আহা, কী আহম্মক! ম’রে ভূত! গ্রীষ্মঘাস নীড়,
প্রকৃতি বুকেই পাতে শেষ শয্যা! হাসি নেই আর।
সুবর্ণবলয় ঘেরা, সদা হাস্য, ‘ঈশ্বর’ নামের
আছেন একজন প্রভু। তিনি শুধু প্রার্থনা জপেন
আধো ঘুমে ঢুলু ঢুলু। বাতাসেরা সুগন্ধি সফেন।
মহা প্রভু ‘ঈশ্বর’ এর ঘোর কাটে সুখ-আরামের
মাত্র একটু ক্ষণ, শোকে আর্ত মায়েরা যখন
ফেলে তার দানবাক্সে ফুটোকড়ি, কেবলই তখন।

শৈলনিবাস

সুবর্ণ সকাল আর থরো থরো পড়ন্ত বিকেলে
হঠাৎ আবির্ভূত হলো আমাদের সেনাদল,
গাঁওগেরামের বিপরীতে শুয়ে থাকা উষ্ণ সাগরের বুকে।
আমাদের আশ্রয়-আর্ত হৃদয়ে ফুটে উঠলো
আশাভরসার বিস্তীর্ণ এক শৈলমালা–
এপিরাস, পেলোপনেসিয়া, জাপান কিংবা আরব ভূমির মতো।
সেখানে ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে গেল বক্তৃতায় ও তর্কে বিনির্মীত
আলো ঝলমল কতক তীর্থকেন্দ্র;
তারপর সেখানে গড়ে উঠলো আধুনিক প্রতিরক্ষাঋদ্ধ বালুকাবেলা,
যেখানে সহাস্য পুষ্পরাজি ও মদিরাসিক্ত আমুদেরা উৎসবমুখর।
কার্থেজের সাথে সংযোগ স্থাপিত হলো পয়ঃপ্রণালি দিয়ে,
ভেনিস অভিমুখে গড়ে উঠলো সু-উচ্চ বাঁধ;
মায়াময়ী এট্না দেবীর রহস্যঘেরা ঢুলু ঢুলু শরীর থেকে হঠাৎ ঘটতে থাকলো
আলোর উৎসরণ আর ভূস্তরের ফাটল থেকে টগ্বগ্ ফুটে উঠলো
পুষ্পদল, জলরাশী ও হৈমদ্যুতি।
এখন এখানে আছে এমন সব শৌচাগার
যেগুলো জার্মান পপ্লার গাছে ঘেরা, কিংবা রূপকথার দোলায়মান বনবীথিকা;
আরো আছে ‘রয়্যাল’ অথবা ‘গ্রান্ড’ আদলের চক্রাকার পাতাল ভবন
এবং উড়াল রেলপথ।
ইটালি, অ্যামেরিকা কিংবা এশিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে জৌলুশময়
আলিশান প্রাসাদের সাথেই মিল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে আমাদের এই শৈলনিবাসটির।
এর চাক্চিক্যময় দরোজা জানালাগুলোতে দোলা দিয়ে যায় বিলাসী হাওয়া।
শুধুমাত্র ব্যয়বহুল পানীয়ই পরিবেশন করা হয় এই শৈলনিবাসে।
এখানকার সবকিছুই পর্যটক-গ্রাহকদের
শৌখিন শিল্পবোধ এবং যুগ-চাহিদা মেটানোর জন্য নিবেদিত।
এসব নিয়েই আমাদের এ শৈলনিবাসের শোভন সুন্দর নামকরণ:
‘রয়্যাল প্রমোন্টরি ওটেল’।

অনুবাদ: মোস্তফা তোফায়েল