ফেলানি হত্যার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন

ফেলানি

ভারতের সীমান্ত বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরি ফেলানি খাতুনের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন ফেলানির বাবা নূর ইসলাম ও জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকার আর বিএসএফের কাছে ওই বিষয়ে জবাব চেয়েছে।

ফেলানির বাবা নূর ইসলাম, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের কাছে যে আবেদন করেছেন, তাতে যে বিএসএফ সদস্যের গুলিতে মারা যান ফেলানি, সেই অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্তেরও আবেদন করা হয়েছে। এ বিষযে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। বিবিসি বাংলার অনলাইন সংস্করণে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ফেলানির বাবার হয়ে যে আইনজীবী রিট আবেদন করেছেন, সেই অপর্ণা ভাট বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘ফেলানির বাবা তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণের যে আবেদন জানিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে যে, বিএসএফ অন্যায়ভাবে ফেলানিকে গুলি করে মেরে ফেলেছেন। আন্তর্জাতিক কিছু আইনের উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে গুলি চালাতে হলে কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতেই হবে। যে কোনো ব্যক্তিকেই গুলি করা যায় না।’

মিজ ভাটের ভাষায়, ‘কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করে, তাহলে তাকে সতর্ক করতে হবে। একটা প্রোটোকল মেনে চলতে হবে। আর ফেলানি তো একজন নিরস্ত্র কিশোরি, গুলি করার কোনো কারণই থাকতে পারে না।’

সম্প্রতি ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ভারত, বাংলাদেশ সীমান্তে গুলিচালনাসহ বেশ কিছু অন্যায় কাজের জন্য বিএসএফকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। তবে ফেলানিকে যিনি গুলি চালিয়েছিলেন, সেই কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেছেন বিএসএফের নিজস্ব আদালত, ‘জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট’। ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর উচ্চতম পর্যায়ের নির্দেশে সেই রায়ের পুনর্বিচার, রিভিশন ট্রায়াল করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ঘোষণার পরে দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু পুনর্বিচার এখনো শুরু হয়নি।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে নিজের দেশ, বাংলাদেশে আসছিলেন কিশোরি ফেলানি। দুটি কাঁটাতারের বেড়ায় পোষাক আটকে যাওয়ায় ফেলানি চিৎকার করেন। তাতেই সচকিত হয়ে গুলি চালান কনস্টেবল অমিয় ঘোষ। বেড়াতেই ঝুলে ছিল ফেলানির মৃতদেহ। ওই ঘটনায় বিএসএফের নিজস্ব আদালতে কনস্টেবল ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করায় শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতের ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বিএসএফের ব্যাপক সমালোচনা করেছে।